
এসএসসিতে ১৯ বছরে সর্বনিম্ন পাস, মাদরাসা ও কারিগরিতেই বড় ধাক্কা
২০২৬ সালে এসএসসি ও সমমান পরীক্ষায় পাসের হার ৬২.২৫ শতাংশ, যা গত ১৯ বছরের মধ্যে সর্বনিম্ন! তবে সামগ্রিক ফলাফলের চেয়েও উদ্বেগজনক চিত্র পাওয়া যাচ্ছে মাদরাসা ও কারিগরি শিক্ষায়।

বিশ্ব রাজনীতিতে একটি দেশের শক্তি বলতে এত দিন মূলত সামরিক সক্ষমতা, অর্থনৈতিক সামর্থ্য ও সাংস্কৃতিক প্রভাবকেই বোঝানো হয়। কিন্তু একবিংশ শতাব্দীর ভূরাজনীতিতে ক্ষমতার আরেকটি গুরুত্বপূর্ণ ক্ষেত্র দ্রুত সামনে আসছে—আইন। কোনো রাষ্ট্র তার নিজস্ব আইন, বিচারিক এখতিয়ার, নিষেধাজ্ঞা, বাণিজ্যিক বিধি ও আন্তর্জাতিক আইনি কাঠামো কতটা কার্যকরভাবে ব্যবহার করতে পারে, সেটিও এখন বৈশ্বিক ক্ষমতার গুরুত্বপূর্ণ মাপকাঠি। এই নতুন বাস্তবতায় চীন নীরবে কিন্তু পরিকল্পিতভাবে নিজের আইনি শক্তির ভিত্তি গড়ে তুলছে।
এর সাম্প্রতিক উদাহরণ বেশ তাৎপর্যপূর্ণ। মে মাসে চীনের বাণিজ্য মন্ত্রণালয় মার্কিন নিষেধাজ্ঞা উপেক্ষা করে ইরানি অপরিশোধিত তেল প্রক্রিয়াজাতকারী পাঁচটি শোধনাগারকে স্বাভাবিক কার্যক্রম চালিয়ে যাওয়ার নির্দেশ দেয়। এর কয়েক সপ্তাহ পর চীনের বিচার মন্ত্রণালয় একটি চীনা নিরাপত্তা প্রতিষ্ঠানের বিরুদ্ধে ইউরোপীয় ইউনিয়নের ভর্তুকিবিরোধী তদন্তকে অবৈধ ও অন্যায্য বিদেশি বিচারিক এখতিয়ারের প্রয়োগ হিসেবে অভিহিত করে। বাইরে থেকে এসব পদক্ষেপকে যুক্তরাষ্ট্র ও পশ্চিমা বিশ্বের অর্থনৈতিক চাপের সাধারণ পাল্টা ব্যবস্থা মনে হতে পারে। কিন্তু এর তাৎপর্য আরও গভীর।
চীন আসলে এমন একটি সক্ষমতা গড়ে তুলছে, যার মাধ্যমে ভবিষ্যতে শুধু অর্থনীতি বা সামরিক শক্তি দিয়ে নয়, আইন দিয়েও আন্তর্জাতিক প্রতিপক্ষকে মোকাবিলা করা যাবে। এটি একদিনে তৈরি হয়নি। গত এক দশকে চীনা সরকার, আদালত, আইন শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান ও আইনজীবী সংগঠনগুলোকে একটি অভিন্ন লক্ষ্য সামনে রেখে এগিয়ে নেওয়া হয়েছে—চীনের স্বার্থ রক্ষায় দেশের সীমানার বাইরেও আইনকে কার্যকর হাতিয়ার হিসেবে প্রতিষ্ঠা করা।
দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের পর আন্তর্জাতিক আইন ও প্রতিষ্ঠানগুলোর কাঠামো তৈরিতে যুক্তরাষ্ট্র যে ভূমিকা নিয়েছিল, তার সুফল ওয়াশিংটন বহু দশক ধরে পেয়েছে। জাতিসংঘ, জিএটিটি এবং ব্রেটন উডস ব্যবস্থার মতো আন্তর্জাতিক কাঠামো গড়ে তোলার পাশাপাশি যুক্তরাষ্ট্র নিজের অভ্যন্তরীণ আইনি কাঠামোকেও এমনভাবে শক্তিশালী করেছে, যা পরে আন্তর্জাতিক ক্ষমতার উৎসে পরিণত হয়।
বিশ্ব অর্থনীতিতে ডলারের আধিপত্য এই ক্ষমতাকে আরও শক্তিশালী করেছে। কোনো লেনদেন মার্কিন ডলারে হলে, কোনো পণ্যে মার্কিন প্রযুক্তি বা যন্ত্রাংশ থাকলে কিংবা কোনো প্রতিষ্ঠান মার্কিন বাজারে ব্যবসা করলে অনেক ক্ষেত্রেই সেটি মার্কিন আইনি ব্যবস্থার আওতায় চলে আসে। ফলে ওয়াশিংটন তার নিষেধাজ্ঞা, রপ্তানি নিয়ন্ত্রণ, দুর্নীতিবিরোধী আইন, প্রতিযোগিতা আইন ও সন্ত্রাসে অর্থায়নবিরোধী বিধির মাধ্যমে বিশ্বের বহু প্রতিষ্ঠানের ওপর প্রভাব বিস্তার করতে পেরেছে।
ইরানের ক্ষেত্রেও এর কার্যকর উদাহরণ দেখা গেছে। যুক্তরাষ্ট্র আর্থিক ও আইনি ক্ষমতা ব্যবহার করে ইরানকে আন্তর্জাতিক তেলবাজার ও বৈশ্বিক ব্যাংকিং ব্যবস্থা থেকে বিচ্ছিন্ন করার চেষ্টা করেছে। অর্থাৎ, যুদ্ধ না করেও আইন ও অর্থনৈতিক ব্যবস্থাকে অস্ত্র হিসেবে ব্যবহার করে একটি রাষ্ট্রকে কূটনৈতিক সমঝোতার দিকে ঠেলে দেওয়া সম্ভব—ওয়াশিংটনের এই অভিজ্ঞতা বেইজিং খুব কাছ থেকে পর্যবেক্ষণ করেছে। চীন এখন সেই অভিজ্ঞতা থেকেই শিক্ষা নিচ্ছে।
হুয়াওয়ে ও জেডটিইর মতো চীনা প্রযুক্তি প্রতিষ্ঠানের বিরুদ্ধে মার্কিন নিষেধাজ্ঞা ও বিচারিক পদক্ষেপ বেইজিংকে আরও স্পষ্টভাবে বুঝিয়েছে যে, আন্তর্জাতিক রাজনীতিতে শক্তিশালী অর্থনীতি থাকাটাই যথেষ্ট নয়। নিজের স্বার্থ রক্ষার জন্য শক্তিশালী আইনি অবকাঠামোও প্রয়োজন। সে কারণেই ২০১০-এর দশকের শুরু থেকে চীন ‘বিদেশ-সংক্রান্ত আইনি কাজ’-এর ওপর বিশেষ গুরুত্ব দিতে শুরু করে। পরে এটি রাষ্ট্র পরিচালনা আধুনিকীকরণের অংশে পরিণত হয়। সি জিনপিংও আইনি সক্ষমতা বৃদ্ধিকে জাতীয় পুনর্জাগরণের দীর্ঘমেয়াদি প্রয়োজন হিসেবে চিহ্নিত করেছেন।
এই পরিকল্পনার একটি গুরুত্বপূর্ণ অংশ হলো দক্ষ আইনজীবী ও আন্তর্জাতিক আইন বিশেষজ্ঞ তৈরি করা। চীনের আইন শিক্ষায় বিদেশি আইন, আন্তর্জাতিক আইন ও আন্তর্জাতিক বিচারব্যবস্থার ওপর গুরুত্ব বাড়ানো হয়েছে। বিশ্ববিদ্যালয়, আদালত, সরকারি প্রতিষ্ঠান ও সালিসি সংস্থার মধ্যে সমন্বয় করে এমন একটি কাঠামো গড়ে তোলার চেষ্টা চলছে, যা চীনা প্রতিষ্ঠানগুলোকে বিদেশি আদালত ও আন্তর্জাতিক ট্রাইব্যুনালে আরও কার্যকরভাবে লড়তে সক্ষম করবে।
একই সঙ্গে চীন নিজের প্রতিষ্ঠানগুলোকেও আন্তর্জাতিক পর্যায়ে প্রতিষ্ঠিত করতে চাইছে। চায়না ইন্টারন্যাশনাল কমার্শিয়াল কোর্ট প্রতিষ্ঠা করা হয়েছে। আন্তর্জাতিক বাণিজ্যিক বিরোধে চীনা আদালতের ভূমিকা বাড়ানো হচ্ছে। পাশাপাশি রপ্তানি নিয়ন্ত্রণ, সাইবার নিরাপত্তা, জাতীয় নিরাপত্তা পর্যালোচনা, ‘এন্টারপ্রাইজ লিস্ট’ এবং ব্লকিং রুলসের মতো আইনি অস্ত্রও তৈরি করা হয়েছে। এর অর্থ হলো, চীন এখন শুধু অন্য দেশের আইন মোকাবিলা করছে না; বরং নিজের আইনকেও আন্তর্জাতিক প্রভাব বিস্তারের উপযোগী করে তুলছে।
২০২১ সালে চীন ব্লকিং রুলস চালু করে। পরবর্তী সময়ে বিদেশি ‘অন্যায্য’ আইন মেনে চলা থেকে চীনা প্রতিষ্ঠানকে বিরত রাখার জন্য আরও বিধান তৈরি করা হয়। একই সঙ্গে বেইজিং তার বিচারিক এখতিয়ারও বিস্তৃত করছে। ফলে কোনো বিদেশি রাষ্ট্র চীনা কোম্পানির বিরুদ্ধে আইনি ব্যবস্থা নিলে তার পাল্টা প্রতিক্রিয়া জানানোর জন্য চীনের হাতেও এখন আগের তুলনায় অনেক বেশি আইনি অস্ত্র রয়েছে।
বিশ্বের বিভিন্ন ক্ষেত্রে নিয়ম তৈরির ক্ষেত্রেও চীনের সক্রিয়তা বেড়েছে। সাইবারস্পেস, গভীর সমুদ্র, মেরু অঞ্চল, মহাকাশ, জলবায়ু পরিবর্তন ও আন্তর্জাতিক অর্থায়নের মতো ক্ষেত্রগুলোতে চীন নিয়ম প্রণয়নে প্রভাব বাড়ানোর চেষ্টা করছে। বিশ্ব বাণিজ্য সংস্থায় সক্রিয় আইনি লড়াইয়ের পাশাপাশি এশিয়ান ইনফ্রাস্ট্রাকচার ইনভেস্টমেন্ট ব্যাংকের মতো প্রতিষ্ঠান গড়ে তোলার মাধ্যমে পশ্চিমা নেতৃত্বাধীন কাঠামোর পাশাপাশি বিকল্প প্রতিষ্ঠানও দাঁড় করাচ্ছে।
তবে চীনের এই আইনি উত্থানের সীমাবদ্ধতাও কম নয়। সবচেয়ে বড় প্রশ্ন হলো বিচারিক স্বাধীনতা। চীনের আন্তর্জাতিক বাণিজ্যিক আদালত সুপ্রিম পিপলস কোর্টের অধীন। ফলে পশ্চিমা আদালতের মতো এর স্বাধীনতা ও নিরপেক্ষতা নিয়ে আন্তর্জাতিক ব্যবসায়ীদের মধ্যে প্রশ্ন থেকেই যায়। চীনা রাষ্ট্র প্রয়োজনে আইনি ব্যবস্থাকে রাজনৈতিক উদ্দেশ্যে ব্যবহার করতে পারে—এমন ধারণাও পুরোপুরি দূর হয়নি।
এখানেই চীনের সবচেয়ে বড় দুর্বলতা। আইনি শক্তি শুধু আইন তৈরি করলেই আসে না; এর সঙ্গে বিশ্বাসযোগ্যতা, পূর্বানুমেয়তা ও বিচারিক স্বাধীনতাও প্রয়োজন। কোনো বিদেশি বিনিয়োগকারী যদি মনে করেন যে রাজনৈতিক প্রয়োজনে আইন পরিবর্তিত হতে পারে বা আদালত রাষ্ট্রীয় নির্দেশনার বাইরে স্বাধীনভাবে কাজ করতে পারবে না, তাহলে সেই আইনি ব্যবস্থার আন্তর্জাতিক গ্রহণযোগ্যতা সীমিত থাকবে।
অর্থনৈতিক ক্ষেত্রেও যুক্তরাষ্ট্র এখনো অনেক এগিয়ে। ডলারের বৈশ্বিক আধিপত্য, মার্কিন বাজারের বিশাল আকার এবং প্রযুক্তিগত নেতৃত্ব ওয়াশিংটনের আইনি ক্ষমতাকে অনন্য সুবিধা দিয়েছে। চীন রেনমিনবির আন্তর্জাতিক ব্যবহার বাড়াতে এবং বিকল্প পেমেন্ট ব্যবস্থা গড়ে তুলতে চেষ্টা করলেও বৈশ্বিক আর্থিক ব্যবস্থায় ডলারের অবস্থানের সঙ্গে এখনো তার বড় ব্যবধান রয়েছে।
তারপরও চীনের উত্থানকে হালকাভাবে দেখার সুযোগ নেই। কারণ পরিবর্তনটি শুধু চীনের শক্তি বৃদ্ধিতে নয়, যুক্তরাষ্ট্রের নিজের অবস্থানেও ঘটছে। মার্কিন বিচারক ও সরকারি আইন বিশেষজ্ঞদের ওপর রাজনৈতিক চাপ, আন্তর্জাতিক প্রতিষ্ঠান থেকে সরে আসা এবং প্রযুক্তি ও আর্থিক নেটওয়ার্ককে অতিরিক্ত মাত্রায় রাজনৈতিক অস্ত্র হিসেবে ব্যবহারের কারণে অনেক দেশ নিজেদের ঝুঁকি কমাতে বিকল্প ব্যবস্থা খুঁজছে।
এখানেই ভবিষ্যতের বড় প্রশ্নটি তৈরি হচ্ছে। যুক্তরাষ্ট্র যদি নিজের আইনি ও প্রাতিষ্ঠানিক শক্তির ভিত্তি দুর্বল করে, তাহলে চীন সেই শূন্যস্থান পূরণের সুযোগ পাবে। চীনের আইনি ব্যবস্থা পশ্চিমা ধাঁচের উদার গণতান্ত্রিক আইনব্যবস্থার মতো না হলেও, বৈশ্বিক ক্ষমতার জন্য সেটি হওয়া আবশ্যক নয়। আন্তর্জাতিক বাণিজ্য, প্রযুক্তি, অর্থনীতি ও ভূ-রাজনীতিতে যদি চীন তার আইনকে কার্যকরভাবে প্রয়োগ করতে পারে এবং একই সঙ্গে বিকল্প প্রতিষ্ঠান ও নিয়ম তৈরিতে সফল হয়, তাহলে ভবিষ্যতের বিশ্বব্যবস্থায় আইনের ক্ষেত্রেও একটি নতুন শক্তির ভারসাম্য তৈরি হতে পারে।
সুতরাং, চীনের বর্তমান আইনি উদ্যোগকে বিচ্ছিন্ন কিছু প্রশাসনিক পদক্ষেপ হিসেবে দেখলে ভুল হবে। এটি দীর্ঘমেয়াদি রাষ্ট্রীয় কৌশলের অংশ। সামরিক শক্তির পাশাপাশি অর্থনীতি, প্রযুক্তি ও কূটনীতির সঙ্গে আইনকেও ক্ষমতার একটি স্বতন্ত্র স্তম্ভে পরিণত করতে চাইছে বেইজিং। যুক্তরাষ্ট্র এখনো এই প্রতিযোগিতায় অনেক এগিয়ে। কিন্তু প্রতিযোগিতার সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ পরিবর্তনটি ইতিমধ্যেই ঘটে গেছে—চীন বুঝে গেছে, ভবিষ্যতের বিশ্বে আইন শুধু ন্যায়বিচারের মাধ্যম নয়; এটি রাষ্ট্রীয় শক্তিরও একটি গুরুত্বপূর্ণ অস্ত্র।
(আন্তর্জাতিক সাময়িকী ফরেন অ্যাফেয়ার্সের তথ্যের ভিত্তিতে লেখাটি প্রকাশিত হয়েছে)

২০২৬ সালে এসএসসি ও সমমান পরীক্ষায় পাসের হার ৬২.২৫ শতাংশ, যা গত ১৯ বছরের মধ্যে সর্বনিম্ন! তবে সামগ্রিক ফলাফলের চেয়েও উদ্বেগজনক চিত্র পাওয়া যাচ্ছে মাদরাসা ও কারিগরি শিক্ষায়।

ইনফান্তিনো বিশ্ব ফুটবলে প্রকাশ্য বিদ্রোহের মুখে পড়েছেন। তিনি বিশ্বকাপের বাণিজ্যিক স্বত্ব আলাদা করে এর ২০ শতাংশ বেসরকারি বিনিয়োগকারীদের কাছে বিক্রি করে প্রায় ৪২০ কোটি ডলার সংগ্রহের পরিকল্পনা প্রস্তাব করেছিলেন। পরে সেই পরিকল্পনা প্রত্যাহার করে নেন।

শেষ পর্যন্ত পুরো সংকটটি গিয়ে ঠেকছে আস্থার প্রশ্নে। ইরান বিশ্বাস করে না যে যুক্তরাষ্ট্র প্রতিশ্রুতি দিলে তা অবশ্যই পালন করবে। অন্যদিকে ওয়াশিংটনের বড় অংশ মনে করে, ইরান কৌশলগত সুবিধা পেলেই আবার আগের অবস্থানে ফিরে যেতে পারে।

ইসরায়েল ও হামাসের মধ্যে যুদ্ধবিরতি হয়েছে ১০ মাস আগে। কিন্তু গাজায় এখনো শেষ হয়নি মৃত্যুর হিসাব। এখনো ধ্বংসস্তূপের নিচ থেকে মরদেহ উদ্ধার হচ্ছে, এখনো চলছে দাফন।