
ট্রাম্পের নতুন পদক্ষেপ কি পারবে ‘বার্থ ট্যুরিজম’ ঠেকাতে?
জুনে সুপ্রিম কোর্ট ট্রাম্পের আগের নির্বাহী আদেশ বাতিল করে। যদিও তার প্রশাসন যুক্তি দিয়েছিল, জন্মসূত্রে স্বয়ংক্রিয় নাগরিকত্ব অবৈধ অভিবাসন এবং জন্ম পর্যটনকে উৎসাহিত করে।

ইসরায়েল ও হামাসের মধ্যে যুদ্ধবিরতি হয়েছে ১০ মাস আগে। কিন্তু গাজায় এখনো শেষ হয়নি মৃত্যুর হিসাব। এখনো ধ্বংসস্তূপের নিচ থেকে মরদেহ উদ্ধার হচ্ছে, এখনো চলছে দাফন।
গত ৪ আগস্ট গাজা সিটির সাবরা এলাকায় ১১২ জনের জানাজা ও দাফন হয়। ২০২৩ সালের নভেম্বরে ইসরায়েলি বিমান হামলায় তারা নিহত হয়েছিলেন। এখনো হাজারো মানুষ নিখোঁজ।
ধ্বংসস্তূপ সরিয়ে মরদেহ উদ্ধারের জন্য প্রয়োজনীয় ভারী যন্ত্রপাতি এখনো গাজায় ঢুকতে দিচ্ছে না ইসরায়েল। একই কারণে গাজার পুনর্গঠনও শুরু করা যাচ্ছে না। ধ্বংসস্তূপের নিচ থেকে মরদেহ উদ্ধারের ধীরগতিই যেন দেখিয়ে দিচ্ছে, যুদ্ধবিরতি হলেও গাজায় বাস্তবে কতটা পরিবর্তন এসেছে।
তবে এর মধ্যেই নতুন আশার কথা শোনা যায় ডোনাল্ড ট্রাম্পের কাছ থেকে।
গত ৩০ জুলাই মার্কিন প্রেসিডেন্ট ঘোষণা করেন, গাজায় হামাস ও অন্যান্য সব সশস্ত্র গোষ্ঠীকে সম্পূর্ণ নিরস্ত্রীকরণের জন্য একটি ‘ঐতিহাসিক চুক্তি’ হয়েছে। তার ভাষায়, এটি ‘দীর্ঘস্থায়ী শান্তি ও নিরাপত্তার পথে একটি গুরুত্বপূর্ণ পদক্ষেপ’।
জানুয়ারিতে যুদ্ধবিরতি বাস্তবায়নের তদারকির জন্য ট্রাম্প ‘বোর্ড অব পিস’ গঠন করেছিলেন। বোর্ডের পরিকল্পনাতেও এই চুক্তির কথা উঠে এসেছে।
পরিকল্পনায় হামাসকে নিরস্ত্র করার পাশাপাশি গাজা থেকে ইসরায়েলি বাহিনী পুরোপুরি সরিয়ে নেওয়ার কথা রয়েছে। হামাসের কাছ থেকে নতুন একটি ফিলিস্তিনি প্রশাসনের কাছে ক্ষমতা হস্তান্তর এবং যুদ্ধবিধ্বস্ত গাজা পুনর্গঠনের পরিবেশ তৈরির কথাও বলা হয়েছে।
কিন্তু এখান থেকে ওঠে নতুন প্রশ্ন।
হামাসের এক জ্যেষ্ঠ নেতা স্পষ্ট করে বলেন, তারা অস্ত্র ছাড়বে না। ফিলিস্তিনিদের তত্ত্বাবধানে গাজার ভেতরেই অস্ত্র সংরক্ষণ করা হবে।
ইসরায়েলের প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহুও চুক্তিটি মেনে নেওয়ার কথা বলেননি। ট্রাম্পের ঘোষণার পাঁচ দিন পর তিনি শুধু জানান, তার সরকার বিষয়টি ‘পর্যালোচনা করছে’।
এর মধ্যেই ইসরায়েলি কর্মকর্তারা নাম প্রকাশ না করে জানান, হামাসের সামরিক সক্ষমতা পুরোপুরি ধ্বংস না হওয়া পর্যন্ত গাজায় অভিযান বন্ধ বা সেনা প্রত্যাহারের পরিকল্পনা নেই।
এরপর গাজায় একের পর এক বিমান হামলা চালায় ইসরায়েল। মাত্র ২৪ ঘণ্টায় এসব হামলায় ১৯ জন নিহত হন। দুই পক্ষই কয়েক মাস ধরে নানা দিক থেকে চাপের মধ্যে রয়েছে। ইসরায়েলের ওপর চাপ দিচ্ছে যুক্তরাষ্ট্র। আর হামাসের ওপর চাপ দিচ্ছে মিশর। ইসরায়েলের সঙ্গে মিশরও গাজায় প্রবেশের পথ নিয়ন্ত্রণ করে। পাশাপাশি হামাসের সমর্থক কাতার ও তুরস্কও চাপ দিচ্ছে।
তবে দুই পক্ষই যেন চাইছে, শেষ পর্যন্ত অন্য পক্ষ চুক্তিটি ভেস্তে দিক।
ইসরায়েলের এক কর্মকর্তা বলেন, “কেউই খুব বেশি আশাবাদী নয়। আমরা বিশ্বাস করি না, হামাস স্বেচ্ছায় কখনো অস্ত্র ছাড়বে।”
চুক্তির অনেক বিষয় এখনো পরিষ্কার নয়। ‘বোর্ড অব পিস’ বলেছে, ১৪ দিনের মধ্যে হামাসের নিরস্ত্রীকরণের সময়সূচি ঠিক করা হবে। কিন্তু এই ১৪ দিন কবে থেকে শুরু হবে, তা জানানো হয়নি। প্রয়োজনে সময়সীমা বাড়ানোও হতে পারে।
হামাসের অস্ত্র কীভাবে সরানো হবে, সেটিও অজানা। নতুন আন্তর্জাতিক যাচাই কমিটিতে কারা থাকবেন, তা-ও জানা যায়নি। নিরস্ত্রীকরণ আগে হবে, নাকি ইসরায়েলি সেনা প্রত্যাহার—সেটিও পরিষ্কার নয়।
আরেকটি বড় প্রশ্ন হলো, হামাসের বর্তমান সরকারের কাছ থেকে গাজা পরিচালনার নতুন ‘ন্যাশনাল কমিটি ফর অ্যাডমিনিস্ট্রেশন অব গাজা’ বা এনসিএজির কাছে কীভাবে ক্ষমতা যাবে।
যুক্তরাষ্ট্রের চাপে ২৬ জুলাই ইসরায়েলের মন্ত্রিসভা গাজায় এনসিএজির ১৫ সদস্যকে প্রবেশের অনুমতি দেয়। একই সঙ্গে ‘ইন্টারন্যাশনাল স্ট্যাবিলাইজেশন ফোর্স’ বা আইএসএফের প্রথম দলকেও গাজায় পাঠানোর অনুমতি দেওয়া হয়।
কিন্তু এনসিএজি কবে গাজায় যাবে, তা এখনো ঠিক হয়নি। তারা সেখানে গিয়ে কীভাবে কাজ করবে, সেটিও পরিষ্কার নয়।
আইএসএফের প্রথম ২০০ শান্তিরক্ষীর ক্ষেত্রেও একই অবস্থা। মরক্কো ও উগান্ডা থেকে তাদের আসার কথা রয়েছে। এর মধ্যেই ইসরায়েল বলছে, আইএসএফ কোনো এলাকার দায়িত্ব নিলেও সেখানে ইসরায়েলি সেনারা অভিযান চালাতে পারবে।
২০২৫ সালের অক্টোবরে ট্রাম্প গাজা যুদ্ধ বন্ধের পরিকল্পনা প্রকাশ করার পর থেকেই ইসরায়েল সরকারের পক্ষ থেকে নানা বাধা দেওয়ার ঘটনা ঘটছে। ওই যুদ্ধে ৭৩ হাজারের বেশি মানুষ নিহত হয়েছেন। নিহতদের বেশির ভাগই বেসামরিক।

যুদ্ধবিরতির পরও ইসরায়েল গাজায় বিমান হামলা চালিয়ে যাচ্ছে। যুদ্ধের সময়ের তুলনায় হামলা কম হলেও যুদ্ধবিরতির পর ইসরায়েলি হামলায় ১২০০ জনের বেশি গাজাবাসী নিহত হয়েছেন।
ইসরায়েলি বাহিনী ‘ইয়েলো লাইন’ নামের সীমারেখার বাইরেও ধীরে ধীরে নিজেদের নিয়ন্ত্রণ বাড়িয়েছে। এই রেখাটি গাজার হামাস-নিয়ন্ত্রিত এলাকা ও ইসরায়েল-অধিকৃত এলাকাকে আলাদা করেছে।
ফলে গাজার ২১ লাখ মানুষ এখন পুরো ভূখণ্ডের মাত্র এক-তৃতীয়াংশ এলাকায় গাদাগাদি করে বসবাস করছেন। প্রায় ৭৫ শতাংশ মানুষ বাস্তুচ্যুত। তাদের বাড়িঘর হয় ধ্বংস হয়ে গেছে, নয়তো ইসরায়েলি নিয়ন্ত্রিত এলাকায় রয়েছে।
গাজায় প্রয়োজনীয় সরবরাহ প্রবেশে ইসরায়েলের বিধিনিষেধের কারণে এখনো বড় ধরনের পুনর্গঠন শুরু করা যায়নি।
তবু আশার একটি জায়গা আছে। ইসরায়েলে যুদ্ধবিরতি চালু রাখা হবে কি না, তা নিয়ে বিতর্ক আপাতত থেমে গেছে।
সাম্প্রতিক মাসগুলোতে ইসরায়েলি কর্মকর্তারা হামাসকে নিরস্ত্র করতে গাজায় আবার বড় ধরনের সামরিক অভিযান চালানোর কথা বলেছিলেন। তবে ট্রাম্প নতুন করে উদ্যোগ নেওয়ায় আপাতত সেই আলোচনা থেমে আছে।
আলোচনায় থাকা এক কূটনীতিক বলেন, যেকোনো অগ্রগতি খুব ধীরে হবে। তবে যুদ্ধ আবার শুরু হওয়ার চেয়ে সেটি ভালো।
তবে বড় কোনো পরিবর্তনের জন্য সম্ভবত অপেক্ষা করতে হবে ২৭ অক্টোবরের ইসরায়েলি নির্বাচন পর্যন্ত।
প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহু নিজের সরকারের কট্টর ডানপন্থী মন্ত্রীদের চাপের মধ্যে রয়েছেন। তারা চান, তিনি প্রকাশ্যে ট্রাম্পের পরিকল্পনা প্রত্যাখ্যান করুন।
অন্যদিকে, নেতানিয়াহুর বিরোধীরাও তার সমালোচনা করছেন। তাদের অভিযোগ, হামাসের বিরুদ্ধে তিনি যে ‘সম্পূর্ণ বিজয়ের’ প্রতিশ্রুতি দিয়েছিলেন, তা তিনি অর্জন করতে পারেননি।
সব মিলিয়ে ইসরায়েলের রাজনীতির টানাপোড়েনে গাজার মানুষ এখনো অনিশ্চয়তার মধ্যে রয়েছেন। যুদ্ধবিরতি চলছে, শান্তির কথা হচ্ছে—কিন্তু গাজার মানুষ এখনো স্বজনদের মরদেহ দাফন করছেন। আর অপেক্ষা করছেন পরিস্থিতি সত্যিই বদলাবে কি না, সেই দিনের।
(লেখাটি দ্য ইকোনমিস্ট থেকে অনূদিত।)

জুনে সুপ্রিম কোর্ট ট্রাম্পের আগের নির্বাহী আদেশ বাতিল করে। যদিও তার প্রশাসন যুক্তি দিয়েছিল, জন্মসূত্রে স্বয়ংক্রিয় নাগরিকত্ব অবৈধ অভিবাসন এবং জন্ম পর্যটনকে উৎসাহিত করে।

দেশের বাস্তবতা ও আন্তর্জাতিক বাজারের অস্থিরতার মধ্যেই জ্বালানি তেল আমদানি, মজুত, পরিবহন, বিতরণ ও বিপণনে চার দশকের বেশি সময় ধরে চলা বাংলাদেশ পেট্রোলিয়াম করপোরেশনের (বিপিসি) একচেটিয়া নিয়ন্ত্রণ থেকে সরে আসতে চাইছে সরকার। তবে গুরুত্বপূর্ণ এ খাতের বেসরকারিকরণে তড়িঘড়ি করে নীতিমালা তৈরির এ উদ্যোগ নিয়ে

জামায়াতে ইসলামী নেতৃত্বাধীন ১১ দলীয় জোট আসন্ন রাষ্ট্রপতি নির্বাচনে লিবারেল ডেমোক্রেটিক পার্টির (এলডিপি) চেয়ারম্যান কর্নেল (অব.) অলি আহমদ বীর বিক্রমকে প্রার্থী করার সিদ্ধান্ত নিয়েছে। কেন একজন মুক্তিযোদ্ধাকে প্রার্থী হিসেবে বেছে নিল ১১ দলীয় জোট, এর পেছনে উদ্দেশ্য কী? আর কারও নাম বিবেচনায় ছিল তাদের?

মার্কিন রাজনীতিতে নির্বাচনের দিন যত এগিয়ে আসে, রাজনৈতিক সমীকরণ ততই জটিল হয়ে উঠছে। শেষ মুহূর্তের কোনো ঘটনা, কোনো প্রার্থীর বিতর্কিত বক্তব্য কিংবা কোনো অপ্রত্যাশিত রাজনৈতিক পরিবর্তন মুহূর্তেই বদলে দিতে পারে নির্বাচনের হিসাব। ২০২৬ সালের মধ্যবর্তী নির্বাচনও তার ব্যতিক্রম নয়। বরং এবার নির্বাচন ঘিরে অনিশ