
গাজা উপত্যকায় ইসরায়েলি বিমান হামলায় অন্তত ছয় ফিলিস্তিনি নিহত হয়েছেন। গাজার সিভিল ডিফেন্সের বরাত দিয়ে আল জাজিরা জানিয়েছে গতকাল বৃহস্পতিবার মধ্য গাজার নুসেইরাত শরণার্থী শিবিরে ইসরায়েলি ড্রোন হামলায় দুজন নিহত এবং বেশ কয়েকজন আহত হয়েছেন।

প্রায় দুই দশক ধরে গাজা পরিচালনার দায়িত্ব পালন করার পর ক্ষমতা হস্তান্তরের ঘোষণা দিয়েছে ফিলিস্তিনের সশস্ত্র গোষ্ঠী হামাস। সেই সঙ্গে উপত্যকাটির পরিচালনায় যুক্তরাষ্ট্র-সমর্থিত একটি অন্তর্বর্তী প্রশাসনকেও স্বাগত জানিয়েছে হামাস।

ইসরায়েলের প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহু এবং দেশটির কট্টর ডানপন্থী অর্থমন্ত্রী বেজালেল স্মোট্রিচ সম্প্রতি এমন ইঙ্গিত দিয়েছেন যে, প্রায় তিন বছরের যুদ্ধের পর গাজা উপত্যকার অবশিষ্ট অংশে নতুন ইহুদি বসতি স্থাপনের বিষয়টি তারা বিবেচনা করছেন।

হাজার হাজার ভক্ত সংহতির প্রতীক হিসেবে ফিলিস্তিনের পতাকা উত্তোলন করেছেন এবং বিশ্বকাপকে রাজনৈতিক অভিব্যক্তির এমন এক মঞ্চে রূপান্তরিত করেছেন যা ফিফা নিজে এড়াতে চেয়েছিল।

গত দুই বছরে প্রায় সব আন্তর্জাতিক মঞ্চেই ইসরায়েলকে গাজায় গণহত্যার দায়ে অভিযুক্ত করা হয়েছে। এর মধ্যে মিত্র অনেক দেশও আছে, যারা অতীতে সংঘাত ও সংকটের সময়ে ইসরায়েলের পাশে দাঁড়িয়েছে।

বাস্তবতা হলো, এই সামগ্রিক যুদ্ধে ইসরায়েলই সবচেয়ে বড় পরাজিত পক্ষ। গাজা, লেবানন, ইয়েমেন, পশ্চিম তীর, সিরিয়া, ইরাক এবং সর্বোপরি ইরানের মতো সাতটি ভিন্ন ফ্রন্টে একযোগে সামরিক শক্তি প্রয়োগ করে হুমকি নির্মূল করার যে নতুন ইসরায়েলি কৌশল নেওয়া হয়েছে, তা দেশটিকে কোনো নিরাপত্তা বা স্থিতিশীলতা দিতে পারছে না।

দক্ষিণ লেবানন, উত্তর ইসরায়েল, গাজা কিংবা কুয়েত- মানচিত্রের নামগুলো ভিন্ন হলেও চলতি সপ্তাহে তাদের ভাগ্যটা একই সুতোয় গাঁথা ছিল। আর তা হলো আকাশ থেকে ধেয়ে আসা অবিরাম বোমাবর্ষণ আর সাইরেনের আর্তনাদ। অথচ কাগজে-কলমে এই প্রতিটি অঞ্চলেই আমেরিকার মধ্যস্থতায় তথাকথিত ‘যুদ্ধবিরতি’ কার্যকর থাকার কথা!

বাদশা আবদুল্লাহর সামনে এখন এক ঐতিহাসিক ও অস্তিত্বের লড়াই: হয় নেতানিয়াহু-কুশনারের পরিকল্পনার কাছে নতি স্বীকার করা, অথবা নিজের জীবন ও সিংহাসন বাজি রেখে ইসলামের পবিত্রতম স্থান রক্ষায় প্রতিরোধ গড়ে তোলা।

ধ্বংসস্তূপের মাঝেই গাজা সিটির ফিলিস্তিনিরা ঈদের নামাজ আদায় করেছেন। এরপর কেউ কেউ ছুটে গেছেন প্রিয়জনদের কবর জিয়ারত করতে। তবে তাদের কারোরই আল্লাহর সন্তুষ্টি লাভের আশায় আর কোরবানি দেওয়া হয়নি।

ফিলিস্তিনের গাজা উপত্যকায় এবারের ঈদুল আজহা কোনো আনন্দের বার্তা নিয়ে আসেনি, বরং তা রূপ নিয়েছে যুদ্ধের ফেলে যাওয়া এক নির্মম যন্ত্রণায়। ২০২৫ সালের চুক্তির পরও ইসরায়েলের কঠোর অবরোধ বহাল থাকায় গাজায় গবাদিপশুর বাজারে তীব্র সংকট তৈরি হয়েছে, যার ফলে সাধারণ পশুর দাম বেড়ে দাঁড়িয়েছে ৭ হাজার ডলারে।

যদিও ২০২৫ সালের অক্টোবর মাসে হামাস ও ইসরায়েলের মধ্যে একটি যুদ্ধবিরতি চুক্তি স্বাক্ষরিত হয়েছিল, তা সত্ত্বেও ইসরায়েলি প্রশাসন এই উপত্যকার ওপর কঠোর অবরোধ ও নিষেধাজ্ঞা বহাল রেখেছে। এর ফলে গাজায় যেকোনো ধরনের পণ্য সরবরাহ ব্যবস্থা মারাত্মকভাবে ভেঙে পড়েছে।

২০২৩ সালের ৭ অক্টোবর ইসরায়েলে হামলায় জড়িত ফিলিস্তিনিদের মৃত্যুদণ্ড প্রদান এবং তাদের প্রকাশ্য বিচার নিশ্চিত করতে একটি বিল পেশ করেছেন ইসরায়েলের বিচারমন্ত্রী ইয়ারিভ লেভিন।

বড় বিপদ তাৎক্ষণিক যুদ্ধ নয়। বরং দুই দেশ ধীরে ধীরে একে অপরকে দীর্ঘমেয়াদী হুমকি হিসেবে দেখছে। একবার এই ধারণা তৈরি হলে, বক্তব্য ও রাজনীতি মানুষকে সংঘাতের জন্য প্রস্তুত করে। তখন ভবিষ্যতের যুদ্ধকে স্বাভাবিক মনে হতে শুরু করে।

নেতানিয়াহু নিজেই বলেছেন, কখনও ফিলিস্তিনি রাষ্ট্র হবে না। অর্থমন্ত্রী বেজালেল স্মোতরিচ গর্ব করে বলেছেন, ওয়েস্ট ব্যাংকে নতুন বসতি নির্মাণ ফিলিস্তিনি রাষ্ট্রের ধারণাকে কবর দেবে

নেতানিয়াহু নিজেই বলেছেন, কখনও ফিলিস্তিনি রাষ্ট্র হবে না। অর্থমন্ত্রী বেজালেল স্মোতরিচ গর্ব করে বলেছেন, ওয়েস্ট ব্যাংকে নতুন বসতি নির্মাণ ফিলিস্তিনি রাষ্ট্রের ধারণাকে কবর দেবে