
প্রায় দুই দশক ধরে গাজা পরিচালনার দায়িত্ব পালন করার পর ক্ষমতা হস্তান্তরের ঘোষণা দিয়েছে ফিলিস্তিনের সশস্ত্র গোষ্ঠী হামাস। সেই সঙ্গে উপত্যকাটির পরিচালনায় যুক্তরাষ্ট্র-সমর্থিত একটি অন্তর্বর্তী প্রশাসনকেও স্বাগত জানিয়েছে হামাস।

যদিও ২০২৫ সালের অক্টোবর মাসে হামাস ও ইসরায়েলের মধ্যে একটি যুদ্ধবিরতি চুক্তি স্বাক্ষরিত হয়েছিল, তা সত্ত্বেও ইসরায়েলি প্রশাসন এই উপত্যকার ওপর কঠোর অবরোধ ও নিষেধাজ্ঞা বহাল রেখেছে। এর ফলে গাজায় যেকোনো ধরনের পণ্য সরবরাহ ব্যবস্থা মারাত্মকভাবে ভেঙে পড়েছে।

বিশ্লেষকদের মতে, ট্রাম্পের বক্তব্য একদিকে ইসরায়েলকে সমর্থন দিচ্ছে, অন্যদিকে ইরান ও হামাসের ওপর চাপ বাড়ানোর কৌশল। তবে এতে মধ্যপ্রাচ্যে নতুন করে উত্তেজনা বাড়াতে পারে বলেও আশঙ্কা করছেন তারা।

পর্ব-২
২০২৫ সালের জুন মাসে ইরান যখন এমন এক পর্যায়ে পৌঁছায় যে, তারা দ্রুতই অল্প সংখ্যক অপরিশোধিত পারমাণবিক অস্ত্র তৈরি করতে সক্ষম, ঠিক তখনই ইসরায়েল ‘অপারেশন রাইজিং লায়ন’ শুরু করে।

ফ্লোরিডায় নেতানিয়াহুর সঙ্গে বৈঠকের পর গাজা, হামাস ও ইরানকে ঘিরে কড়া হুঁশিয়ারি দিয়েছেন ডোনাল্ড ট্রাম্প। নিরস্ত্রীকরণে ব্যর্থ হলে হামাসকে এবং পরমাণু কর্মসূচি পুনর্গঠনে গেলে ইরানকে ভয়াবহ পরিণতির মুখে পড়তে হবে বলে সতর্ক করেন তিনি। মধ্যপ্রাচ্যে শান্তি বজায় রাখতে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের কঠোর অবস্থানের

রুবিও জানান যে, টেকনোক্র্যাট গ্রুপে যোগ দেওয়ার জন্য ফিলিস্তিনিদের শনাক্ত করার ক্ষেত্রে সম্প্রতি অগ্রগতি হয়েছে। কোনো নির্দিষ্ট সময়সীমা উল্লেখ না করলেও তিনি বলেন, ওয়াশিংটন খুব শিগগিরই এই শাসনকাঠামো কার্যকর করার লক্ষ্য নিয়ে কাজ করছে।

যুক্তরাষ্ট্রের জাতীয় গোয়েন্দা সংস্থার পরিচালককে এ ব্যাপারে জিজ্ঞাসা করা হলে তিনি কোনো মন্তব্য করেননি।

হামাস বলেছে, তারা গাজায় আটক থাকা সব ইসরায়েলি জিম্মিদের মুক্তি দিতে প্রস্তুত। ট্রাম্প তার ২০ দফা পরিকল্পনা মেনে নিতে হামাস ও ইসরায়েলকে বলছেন। ইসরায়েলকে ফিলিস্তিনিদের ভূখণ্ডে বোমা হামলা বন্ধ করারও দাবি জানান ট্রাম্প। প্রশ্ন একটিই, এ সব কিছুর পর কি গাজায় শান্তি ফিরবে?

তুর্কি পররাষ্ট্রমন্ত্রী ফিদান জানালেন, গাজা যুদ্ধবিরতি পরবর্তী ধাপে না যাওয়া বিশ্বব্যাপী ব্যর্থতা হবে। তিনি বলেন, হামাস প্রশাসন ছাড়তে প্রস্তুত এবং নতুন বেসামরিক কর্তৃপক্ষ ও পুলিশ গঠনের প্রয়োজন।

মোসাদের দাবি
ফিলিস্তিনের সশস্ত্র সংগঠন হামাস ইউরোপজুড়ে গোপন সেল তৈরি করে ‘অন-কমান্ড’ হামলার প্রস্তুতি নিচ্ছিল বলে অভিযোগ তুলেছে ইসরায়েলের গোয়েন্দা সংস্থা মোসাদ। আজ রবিবার ভারতীয় সংবাদমাধ্যম এনডিটিভির এক প্রতিবেদনে এই তথ্য জানানো হয়।

লেবাননের দক্ষিণাঞ্চলের ভূমধ্যসাগরীয় উপকূলীয় শহর সিডনে এক ফিলিস্তিনি শরণার্থী শিবিরে ইসরায়েলি বাহিনীর হামলায় ১৩ জন নিহত ও আরও বেশ কয়েকজন আহত হয়েছেন।

ইসরায়েলি বসতি স্থাপনকারীদের হামলার ২৪ ঘণ্টার মধ্যেই মসজিদ পরিষ্কার করে সেখানে জুমার নামাজ আদায় করেছেন পশ্চিম তীরের গ্রামবাসীরা। ভাঙচুর, আগুন ও অবমাননাকর গ্রাফিতির পরও তারা ঐক্যের বার্তা দিতে জমায়েত হন। জাতিসংঘ জানিয়েছে, এই অঞ্চলে হামলার ঘটনা বাড়ছে।

গাজায় যুদ্ধবিরতির পর পরিস্থিতি আবারও জটিল রূপ নিয়েছে। স্থানীয়দের অভিযোগ—ইসরায়েলি বাহিনী সরে যাওয়ার পর ধীরে ধীরে বিভিন্ন এলাকায় নিয়ন্ত্রণ প্রতিষ্ঠা করছে হামাস। এ অবস্থায় গাজা নিয়ে আন্তর্জাতিক পরিকল্পনাগুলোও পড়ছে বড় চ্যালেঞ্জে।

গাজার স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের মহাপরিচালক ডা. মুনির আল-বুর্শ এবং খান ইউনিসের নাসের হাসপাতালের এক মুখপাত্র জানান, প্রত্যেকটি মরদেহের ব্যাগের ভেতরে পাওয়া নথিতে উল্লেখ ছিল যে মরদেহগুলো সেদে তেইমান কারাগার থেকে এসেছে।

গাজার স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের মহাপরিচালক ডা. মুনির আল-বুর্শ এবং খান ইউনিসের নাসের হাসপাতালের এক মুখপাত্র জানান, প্রত্যেকটি মরদেহের ব্যাগের ভেতরে পাওয়া নথিতে উল্লেখ ছিল যে মরদেহগুলো সেদে তেইমান কারাগার থেকে এসেছে।