
হামাস পুরোপুরি নিরস্ত্র না হওয়া পর্যন্ত ইসরায়েল গাজা থেকে সেনা প্রত্যাহার করবে না বলে আজ রোববার জানিয়েছেন দেশটির প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহু।

ইরানকে ঘিরে যুদ্ধ আবারও তীব্র আকার ধারণ করায় উপসাগরীয় আরব দেশগুলো এখন ওয়াশিংটনের পরিবর্তে বেইজিংয়ের দিকে তাকিয়ে আছে। তাদের আশা, ইরানের ওপর অর্থনৈতিক প্রভাব কাজে লাগিয়ে চীন তেহরানকে হরমুজ প্রণালি ও লোহিত সাগরের গুরুত্বপূর্ণ নৌপথ খুলে দিতে রাজি করাতে পারবে। এতে বোঝা যাবে, ইরানের ওপর চাপ প্রয়োগে

হোয়াইট হাউসের এক কর্মকর্তা জানান, ট্রাম্প বৈঠকে ইরান সংঘাত ছাড়াও ইসরায়েল-লেবানন উত্তেজনা নিয়ে আলোচনা করবেন। গত সপ্তাহেই তিনি লেবাননের প্রেসিডেন্টকে হোয়াইট হাউসে আতিথ্য দিয়েছিলেন।

পশ্চিম তীরে বসতি স্থাপনকারীদের সহিংসতার প্রতিবাদে তেল আবিবে বিক্ষোভে নামলেন ইসরায়েলি মানবাধিকার কর্মীরা। সংঘর্ষে নিহ*ত হয়েছেন ফিলিস্তিনি ও ইসরায়েলি সেনাসদস্যরা। এদিকে নতুন বসতি নির্মাণ ত্বরান্বিত করার ঘোষণা দিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহু, যা নতুন করে বিতর্ক উসকে দিয়েছে।

নেতানিয়াহুর কার্যালয় জানিয়েছে, তিনি সোমবার ওয়াশিংটনের উদ্দেশে রওনা হবেন এবং মঙ্গলবার ট্রাম্পের সঙ্গে বৈঠক করবেন। এ ছাড়া, তিনি যুক্তরাষ্ট্রের প্রয়াত সিনেটর লিন্ডসে গ্রাহামের অন্ত্যেষ্টিক্রিয়াতেও অংশ নেবেন বলে জানানো হয়েছে।

ইসরায়েলের প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহুকে গ্রেপ্তার করতে মার্কিন সরকারের প্রতি আহ্বান জানিয়েছেন নিউইয়র্ক সিটির মেয়র জোহরান মামদানি। আইসিসির পরোয়ানা বাস্তবায়নে ওয়াশিংটনকে কার্যকর পদক্ষেপ নেওয়ার জোর দাবি জানান তিনি।

ইসরায়েলি প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহুকে গ্রেপ্তারের জন্য যুক্তরাষ্ট্রের সরকারের প্রতি আহ্বান জানিয়েছেন নিউইয়র্কের মেয়র জোহরান মামদানি।

ট্রাম্প সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে সোমবার এক পোস্টে লিখেছেন, “যুক্তরাষ্ট্রে অবস্থানকালে বেনিয়ামিন নেতানিয়াহুকে কোনোভাবেই, কোনো পরিস্থিতিতেই গ্রেপ্তার করা হবে না।” তবে ওই পোস্টে তিনি মেয়রের মন্তব্যের কোনো উল্লেখ করেননি।

দীর্ঘদিন ধরেই তুরস্ক ও ইসরায়েলের শীর্ষ কর্মকর্তাদের মধ্যে পারস্পরিক হুমকি ও কাদা ছোড়াছুড়ি চলছে। তবে ২০২৩ সালে গাজা যুদ্ধ শুরু হওয়ার পর থেকে এই বৈরিতা চরম রূপ ধারণ করেছে, যা বর্তমানে প্রায় নিয়ন্ত্রণের বাইরে। ইসরায়েলের রাজনৈতিক মহলে এখন তুরস্ককে ইরানের সমপর্যায়ের প্রতিপক্ষ হিসেবে বিবেচনা করা হচ্ছে।

ইসরায়েলের প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহু এবং দেশটির কট্টর ডানপন্থী অর্থমন্ত্রী বেজালেল স্মোট্রিচ সম্প্রতি এমন ইঙ্গিত দিয়েছেন যে, প্রায় তিন বছরের যুদ্ধের পর গাজা উপত্যকার অবশিষ্ট অংশে নতুন ইহুদি বসতি স্থাপনের বিষয়টি তারা বিবেচনা করছেন।

কয়েক মাস আগেও ওয়াশিংটন ও তেল আবিব নিজেদেরকে অত্যন্ত শক্তিশালী অবস্থানে দেখতে অভ্যস্ত ছিল। ইউক্রেন যুদ্ধ, গাজা সংকট এবং ইরানের ওপর কঠোর নিষেধাজ্ঞার প্রেক্ষাপটে মনে হচ্ছিল, পশ্চিমা জোট এখনো আন্তর্জাতিক রাজনীতির প্রধান নিয়ন্ত্রক শক্তি। ইরানকে কেন্দ্র করে শুরু হওয়া সাম্প্রতিক সংঘাতের পর সেই চিত্র।

গত দুই বছরে প্রায় সব আন্তর্জাতিক মঞ্চেই ইসরায়েলকে গাজায় গণহত্যার দায়ে অভিযুক্ত করা হয়েছে। এর মধ্যে মিত্র অনেক দেশও আছে, যারা অতীতে সংঘাত ও সংকটের সময়ে ইসরায়েলের পাশে দাঁড়িয়েছে।

যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যস্ততায় হিজবুল্লাহর সঙ্গে যুদ্ধবিরতি কার্যকর হওয়ার কয়েকঘণ্টা পরই লেবাননে ফের হামলা চালিয়েছে ইসরায়েল। হামলায় অন্তত পাঁচজন নিহত হয়েছেন। বার্তা সংস্থা রয়টার্স এই খবর জানিয়েছে।

মধ্যপ্রাচ্য সত্যিই পরিবর্তিত হয়েছে, কিন্তু নেতানিয়াহু যেভাবে চেয়েছিলেন সেভাবে নয়। ইরানের ওপর এই ব্যর্থ হামলার ফলস্বরূপ গত এক শতাব্দীর এক চতুর্থাংশের মধ্যে ইসরায়েল সম্পর্কের দিক দিয়ে তার সবচেয়ে বড় মিত্র যুক্তরাষ্ট্রের সাথে প্রথম বড় ধরনের কৌশলগত ফাটলের মুখোমুখি হলো।

বাস্তবতা হলো, এই সামগ্রিক যুদ্ধে ইসরায়েলই সবচেয়ে বড় পরাজিত পক্ষ। গাজা, লেবানন, ইয়েমেন, পশ্চিম তীর, সিরিয়া, ইরাক এবং সর্বোপরি ইরানের মতো সাতটি ভিন্ন ফ্রন্টে একযোগে সামরিক শক্তি প্রয়োগ করে হুমকি নির্মূল করার যে নতুন ইসরায়েলি কৌশল নেওয়া হয়েছে, তা দেশটিকে কোনো নিরাপত্তা বা স্থিতিশীলতা দিতে পারছে না।

ইরানকে গুঁড়িয়ে দেওয়ার হুঙ্কার দিলেও শেষমেশ মার্কিন-ইরান সমঝোতায় কোণঠাসা হয়ে পড়েছেন ইসরায়েলি প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহু। হোয়াইট হাউসের ঘনিষ্ঠ বন্ধু ডোনাল্ড ট্রাম্পের এই আকস্মিক পদক্ষেপে মধ্যপ্রাচ্যের একক পরাশক্তি হওয়ার স্বপ্ন এখন বড় ধাক্কার মুখে।

‘আমি এক কথার মানুষ’—ইসরায়েলের প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহুর রাজনৈতিক চরিত্রের সঙ্গে এই বাক্যটি একেবারেই খাপ খায় না। তবে ইরান ইস্যুতে এবার তিনি নিজের কথার ফাঁদেই নিজে আটকা পড়েছেন।

দীর্ঘদিনের বৈরি সম্পর্ক কাটিয়ে ইরান ও যুক্তরাষ্ট্র একটি ঐতিহাসিক শান্তি চুক্তির দিকে এগোচ্ছে। পাকিস্তানের মধ্যস্থতায় দুই দেশের মধ্যে এই আলোচনা চলছে। তবে চুক্তিটি চূড়ান্ত হওয়ার আগেই শর্ত ফাঁসের অভিযোগ, ট্রাম্পের অসন্তোষ এবং ইসরায়েলের কঠোর অবস্থানের কারণে পুরো বিষয়টি বেশ জটিল রূপ নিয়েছে।

ইরানের সঙ্গে ফের যুদ্ধে জড়িয়ে পড়লে একাই পরিস্থিতি মোকাবিলা করতে হতে পারে বলে ইসরায়েলের প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহুকে সতর্ক করেছেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প।

ইরানের ক্ষেপণাস্ত্র নিক্ষেপের জবাবে পাল্টা হামলা না চালাতে ইসরায়েলি প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহুকে আহ্বান জানিয়েছিলেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। ইরানের হামলার পর নেতানিয়াহুর সঙ্গে ফোনে কথা বলেন ট্রাম্প।