চীনের এআই মডেলগুলোর সঙ্গে প্রতিযোগিতায় যুক্তরাষ্ট্রের সক্ষমতা বাড়াতে ওপেন-সোর্স বা ওপেন-ওয়েট এআই মডেলের ওপর থাকা বিধিনিষেধ কমানোর আহ্বান জানিয়েছেন মেটার প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা মার্ক জাকারবার্গ। স্থানীয় সময় গতকাল সোমবার নতুন একটি ওপেন-ওয়েট এআই মডেল প্রকাশের সময় তিনি এ কথা বলেন।
মেটার নতুন মডেলটির নাম ‘মিউজ গ্লিমার’। এটি অন্যান্য শীর্ষস্থানীয় এআই মডেলের তুলনায় আকারে অনেক ছোট। মূলত এজেন্টিক কাজের জন্য তৈরি করা মডেলটি একটি মাত্র গ্রাফিকস কার্ড ব্যবহার করে ম্যাক বা পিসিতেও চালানো যাবে। বার্তা সংস্থা রয়টার্স এ খবর জানিয়েছে।
ব্যবহারকারীদের নিজস্ব ডিভাইসে সরাসরি চালানো যায় এমন এআই ব্যবস্থার চাহিদা বাড়ছে। সেই বাজার ধরতেই মেটার নতুন মডেলটি তৈরি করা হয়েছে বলে ধারণা করা হচ্ছে।
এআই প্রতিযোগিতায় নিজেদের অবস্থান শক্ত করতে মেটা গত বছর বিপুল ব্যয়ে একটি নতুন ‘সুপারইন্টেলিজেন্স’ দল গঠন করে। নতুন মডেল প্রকাশকে সেই প্রচেষ্টারই অংশ হিসেবে দেখা হচ্ছে। বর্তমানে চীনের ডিপসিক, মুনশট ও আলিবাবার মতো কোম্পানিগুলোও কম খরচে ব্যবহার করা যায় এমন উন্মুক্ত এআই মডেল তৈরি করছে। এতে এআই ব্যবহারের জন্য অর্থ নেওয়া মার্কিন কোম্পানিগুলোর ওপর চাপ বাড়ছে। চীনের মুনশট এআইয়ের ‘কিমি কে৩’-এর মতো উন্মুক্ত এআই মডেল এখন যুক্তরাষ্ট্রের বড় এআই কোম্পানিগুলোর নিজস্ব মডেলের জন্য নতুন চ্যালেঞ্জ তৈরি করছে।
মার্কিন সংবাদমাধ্যম ব্লুমবার্গের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, কিছু মার্কিন নীতিনির্ধারক চীনের উন্মুক্ত এআই মডেলের ওপর নিষেধাজ্ঞা দেওয়ার কথা ভাবছেন। তবে বিদেশি ওপেন-সোর্স এআই মডেলে প্রবেশাধিকার সীমিত করা কার্যকর সমাধান নয় বলে মন্তব্য করেন জাকারবার্গ।
এদিকে ট্রাম্প প্রশাসনের কর্মকর্তারা গত সপ্তাহে যুক্তরাষ্ট্রের বড় প্রযুক্তি কোম্পানিগুলোকে জানিয়েছে, নতুন এআই নিরাপত্তা কাঠামোর অধীনে আপাতত উন্মুক্ত মডেলগুলোকে সরকারি পরীক্ষার আওতায় আনা হবে না।
এই কর্মসূচির আওতায় কোম্পানিগুলো চাইলে নতুন ও অত্যাধুনিক এআই মডেল বাজারে ছাড়ার আগে ৩০ দিনের মধ্যে নিরাপত্তা পরীক্ষার জন্য জমা দিতে পারবে।
তবে এসব কঠোর প্রক্রিয়া ও নির্দিষ্ট সময়সূচির ওপর অতিরিক্ত নির্ভর না করার পরামর্শ দিয়েছেন জাকারবার্গ। তার মতে, যুক্তরাষ্ট্রের এআই খাতে নেতৃত্ব ধরে রাখতে সরকার ও বেসরকারি কোম্পানিগুলোর আরও ঘনিষ্ঠভাবে কাজ করা উচিত এবং দ্রুত নতুন মার্কিন এআই মডেল বাজারে আনা দরকার।