
এবার বিপিএল হবে তো?
তার মানে হলো, তামিম নামকাওয়াস্তে বিপিএল না করতে চাইলেও সব পক্ষই বিপিএলে এক বছরের বিরতি চান না। সেই চাওয়া এতটাই জোরদার যে, আরেকটি বিতর্কিত বিপিএলেও আপত্তি নেই তাদের।

কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা বা এআই শুধু প্রযুক্তির প্রতিযোগিতাই নয়, ভবিষ্যতে এটি যুক্তরাষ্ট্র ও চীনের শাসনব্যবস্থারও একটি বড় পরীক্ষা হবে। যে দেশ ভালো এআই মডেল তৈরি করতে পারবে এবং দ্রুত মানুষের কাজ ও ব্যবসাতে ব্যবহার করতে পারবে, সেই দেশই এগিয়ে থাকবে। আর এটি অনেকটাই নির্ভর করবে দুই দেশ কীভাবে তাদের সমাজ ও রাষ্ট্র পরিচালনা করে তার ওপর।
ব্রিটিশ সাময়িকী দ্য ইকোনমিস্টের এক প্রতিবেদনে এই বিষয়টি উঠে এসেছে।
প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, এআই খাত খুব দ্রুত বদলাচ্ছে। তাই এই প্রতিযোগিতার চূড়ান্ত ফল জানতে হয়তো আরও কয়েক বছর লাগবে। তবে চীনে এখনই দ্রুতগতিতে এআই ব্যবহার বাড়ছে। একই সঙ্গে দেশটির সরকার এআইয়ের কারণে আসন্ন বড় অর্থনৈতিক ও সামাজিক পরিবর্তনের জন্যও প্রস্তুতি নিচ্ছে।
বিশ্লেষকরা বলছেন, একদলীয় শাসনব্যবস্থা হওয়ায় এআই ব্যবহারে চীনের কিছু সুবিধা আছে। তবে তাদের সামনে বড় ধরনের চ্যালেঞ্জও রয়েছে।

প্রথমেই আসা যাক চীনের এআই মডেলের মানের বিষয়ে। অনেকের ধারণা, চীনের মডেলগুলো তুলনামূলক সস্তা হলেও সেগুলো এখনো যুক্তরাষ্ট্রের সেরা মডেলগুলোর চেয়ে পিছিয়ে। কিন্তু বাস্তবে দুই দেশের এআই প্রযুক্তির ব্যবধান দ্রুত কমে আসছে। চীনের নতুন এআই মডেলগুলো আগের চেয়ে অনেক বড়, শক্তিশালী ও বুদ্ধিমান হচ্ছে।
দ্য ইকোনমিস্ট বলছে, গত কয়েক সপ্তাহেই চীনের গবেষণাগারগুলো কুইয়েন ৩.৮-ম্যাক্স ও কিমি কে৩ নামে নতুন দুটি মডেল সামনে এসেছে। এগুলোর সক্ষমতা যুক্তরাষ্ট্রের অ্যানথ্রোপিকের উন্নত ফ্যাবল ৫ মডেলের কাছাকাছি পৌঁছে গেছে। ফলে ভবিষ্যতে চীনের এআইও যুক্তরাষ্ট্রের এআইয়ের মতোই নিয়ন্ত্রণের বাইরে চলে যাওয়ার ঝুঁকি তৈরি করতে পারে বলে মনে করছেন বিশেষজ্ঞরা।
চীনের এআই মডেলগুলো সাধারণত কম খরচে পাওয়া যায়। তবে দামের তুলনায় কর্মক্ষমতা বিবেচনায় অনেক ক্ষেত্রেই যুক্তরাষ্ট্রের মডেলগুলো বেশি সুবিধাজনক। যুক্তরাষ্ট্রের গবেষণা প্রতিষ্ঠান আর্টিফিশিয়াল অ্যানালাইসিসের মতে, খরচ ও সক্ষমতার ভারসাম্য বিবেচনা করলে বেশির ভাগ ক্ষেত্রে মার্কিন এআই মডেলগুলো চীনের মডেলের চেয়ে ভালো ফল দেয়।
তবে দুই দেশের এআই সক্ষমতার এই ব্যবধান ভবিষ্যতে আরও কমবে বলেই ধারণা করা হচ্ছে। বর্তমানে চীন যুক্তরাষ্ট্রের তুলনায় মাত্র প্রায় ১০ ভাগ ডেটা সেন্টার নির্মাণ করছে। তবে এই পিছিয়ে থাকা দীর্ঘদিন থাকবে না। কারণ, পরিকল্পিত অর্থনীতির কারণে চীন খুব দ্রুত বড় অবকাঠামো গড়ে তুলতে পারে।

এদিকে যুক্তরাষ্ট্রে অনেকেই নতুন ডেটা সেন্টার নির্মাণের বিরোধিতা করছেন। বিপরীতে, দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়ার বিভিন্ন দেশে চীনের বড় বড় ডেটা সেন্টার তৈরি হচ্ছে। আবার চীনের ওপেন-ওয়েট এআই মডেল যেকোনো প্রতিষ্ঠানের সার্ভারে চালানো যায়। তাই কম্পিউটিং সক্ষমতার ঘাটতি সংখ্যায় যতটা বড় মনে হয়, বাস্তবে ততটা সমস্যা নয়।
এ ছাড়া বিদ্যুৎ উৎপাদনেও চীন অনেক এগিয়ে। দেশটির বিদ্যুৎ উৎপাদন সক্ষমতা যুক্তরাষ্ট্রের প্রায় তিন গুণ, আর এই ব্যবধান আরও বাড়ছে।
দ্য ইকোনমিস্টের তথ্য বলছে, যুক্তরাষ্ট্রের নিষেধাজ্ঞার সঙ্গেও চীন ধীরে ধীরে মানিয়ে নিচ্ছে। তারা বিভিন্ন উপায়ে এনভিডিয়ার উন্নত চিপ দেশে আনছে এবং বিদেশের ডেটা সেন্টার থেকে সেগুলো ভাড়া নিয়ে ব্যবহার করছে। একই সঙ্গে চীনের শীর্ষ চিপ নির্মাতা হুয়াওয়ে নিজস্ব চিপের উৎপাদন দ্রুত বাড়াচ্ছে। যদিও এসব চিপ এখনো এনভিডিয়ার সেরা চিপের মতো শক্তিশালী নয়। এছাড়া চীনে তৈরি লিথোগ্রাফি যন্ত্র এখন ‘ডিপ ইউভি’ প্রযুক্তি দিয়ে চিপ তৈরি করতে পারছে। তবে সবচেয়ে উন্নত এক্সট্রিম ইউভি প্রযুক্তি এখনো তাদের নাগালের বাইরে।
বিশেষজ্ঞদের পরামর্শ, তবে শুধু ভালো এআই মডেল বানালেই হবে না। অর্থনীতিতে বড় পরিবর্তন আনতে হলে সেই এআইকে ব্যাপকভাবে ব্যবহারও করতে হবে। আর এ বিষয়টিতেই সবচেয়ে বেশি গুরুত্ব দিচ্ছে চীনের সরকার।
চীন যখন এআই মডেল তৈরিতে যুক্তরাষ্ট্রের চেয়ে পিছিয়ে ছিল, তখন দেশটির নেতারা মনে করেছিলেন, বেশি বেশি এআই ব্যবহারই প্রতিযোগিতায় টিকে থাকার সবচেয়ে ভালো উপায়। তাদের ধারণা, বিদ্যুতের মতো বড় প্রযুক্তির ক্ষেত্রে শুধু আবিষ্কার নয়, বরং ব্যাপক ব্যবহারই বেশি লাভ এনে দেয়।
আরেকটি বড় কারণ হলো জনসংখ্যা। ২০৫০ সালের মধ্যে চীনের কর্মক্ষম মানুষের সংখ্যা প্রায় ২৫ শতাংশ কমে যেতে পারে। তাই মানুষের জায়গায় যন্ত্রকে কাজ করাতে হলে এআইয়ের ব্যবহার দ্রুত ছড়িয়ে দিতে হবে।

দ্য ইকোনমিস্ট এখন পর্যন্ত এআই ব্যবহারের প্রভাব যুক্তরাষ্ট্র বা চীনের জাতীয় অর্থনৈতিক পরিসংখ্যানে স্পষ্টভাবে দেখা যায়নি। তবে কিছু খাতে ইতোমধ্যেই বড় পরিবর্তন শুরু হয়েছে। উদাহরণ হিসেবে, একটি বড় পরিবহন প্রতিষ্ঠানের অভিজ্ঞতা বলছে, এআই ব্যবহারের ফলে ট্রাক পরিচালনায় চালকের প্রয়োজন প্রায় ৩০ শতাংশ কমে গেছে। আগে যেখানে একটি ট্রাকে দুইজন চালক লাগত, এখন একজনেই কাজ হচ্ছে। আবার চারজনের দলও কমে তিনজনে নেমে এসেছে।
এ ছাড়া চীনে চলতি বছরের প্রথম তিন মাসে সম্প্রচারিত ১ লাখ ২৮ হাজার জনপ্রিয় এক থেকে দুই মিনিটের মাইক্রোড্রামার প্রায় ৯৫ শতাংশই এআই দিয়ে তৈরি করা হয়েছে। এর ফলে অনেক অভিনেতা ও চলচ্চিত্র নির্মাণ-সংশ্লিষ্ট কর্মীর কাজ কমে গেছে।
চীনে রোবটের ব্যবহারও দ্রুত বাড়ছে। জুন মাসে দেশটির নেতারা স্থানীয় সরকার ও রাষ্ট্রীয় প্রতিষ্ঠানগুলোকে নির্দেশ দিয়েছেন, চলতি বছরের শেষ নাগাদ ১০ হাজার হিউম্যানয়েড রোবটকে বাস্তব কাজে লাগাতে হবে।
বিনিয়োগ ব্যাংক মরগ্যান স্ট্যানলির পূর্বাভাস অনুযায়ী, ২০৩০ সালের মধ্যে চীনে হিউম্যানয়েড রোবটের বিক্রি ৪ লাখ ৪৬ হাজারে পৌঁছাতে পারে, যা এ বছরের তুলনায় প্রায় ৯ গুণ বেশি। বিশাল গুদামঘরে কর্মীরা বারবার কাপড় ভাঁজ করা, জিনিসপত্র বাছাই ও সাজানোর কাজ করে রোবটকে প্রশিক্ষণ দিচ্ছেন।
যুক্তরাষ্ট্রের তুলনায় চীনে অফিসভিত্তিক (হোয়াইট-কলার) কর্মীর সংখ্যা কম। তাই এআইয়ের সবচেয়ে বেশি প্রভাব পড়তে পারে ভোক্তা বাজার ও শ্রমনির্ভর (ব্লু-কলার) কাজে। এতে মানুষের অসন্তোষও বাড়তে পারে। বর্তমানে চীনে তরুণদের বেকারত্ব প্রায় ১৫ শতাংশ। এছাড়া ৩০ কোটির বেশি মানুষ গিগ অর্থনীতিতে কাজ করেন। ফলে চাকরি হারানোর গতি জনসংখ্যা কমার চেয়েও দ্রুত হতে পারে।
বিশেষজ্ঞদের মতে, চীনের কোম্পানিগুলো দ্রুত এআই চালু করতে চাইলেও সরকার সামাজিক স্থিতিশীলতা বজায় রাখতে খুব সতর্ক থাকবে। দ্য ইকোনমিস্ট বলছে, এ কারণেই এআই চীনের রাজনৈতিক ব্যবস্থার জন্য একটি বড় পরীক্ষা হয়ে উঠতে পারে। অনেকেই শ্রমিকদের নতুন দক্ষতা শেখানোর কথা বলছেন। কিন্তু বাস্তবে কর্মীদের পুনঃপ্রশিক্ষণের সাফল্যের রেকর্ড খুব ভালো নয়। ডেনমার্ক ও সিঙ্গাপুরের মতো সফল দেশগুলোও মানুষকে সম্পূর্ণ নতুন পেশার জন্য প্রস্তুত করতে হিমশিম খাচ্ছে। চীনের ক্ষেত্রেও এর ব্যতিক্রম হওয়ার কারণ নেই, বিশেষ করে দেশটিতে ইতোমধ্যে উচ্চশিক্ষিত তরুণের সংখ্যা অনেক বেশি।
কিছু অর্থনীতিবিদ ও সরকারি উপদেষ্টা প্রস্তাব দিয়েছেন, এআই কোম্পানির ওপর কর আরোপ করা বা সবার জন্য ন্যূনতম আয় (ইউনিভার্সাল বেসিক ইনকাম) চালুর মতো পদক্ষেপ নেওয়া যেতে পারে। এসব ধারণা সরকারদলীয় সাময়িকীতেও প্রকাশিত হয়েছে, ফলে এ বিষয়ে সরকারের আগ্রহ রয়েছে বলে ইঙ্গিত পাওয়া যাচ্ছে। তবে প্রেসিডেন্ট সি চিনপিং দীর্ঘদিন ধরেই সরাসরি আর্থিক সহায়তার বিরোধী। তার মতে, এতে মানুষ অলস হয়ে যেতে পারে।
রাজনৈতিক নেতারা কোম্পানিগুলোকে কর্মী ছাঁটাই না করে অন্য কাজে নিয়োগ দিতে উৎসাহ দিচ্ছেন। রাষ্ট্রায়ত্ত প্রতিষ্ঠানগুলোকে অতিরিক্ত শ্রমশক্তি নিয়োগের দায়িত্বও দেওয়া হতে পারে। কিন্তু এতে এআই দ্রুত ব্যবহারের যে অর্থনৈতিক সুবিধা পাওয়া যেত, তার কিছুটা কমে যেতে পারে। বিশেষ করে এমন সময়ে, যখন চীনের অভ্যন্তরীণ অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধি আগেই দুর্বল।
বিশ্লেষকদের ধারণা, চীনের সরকার হয়তো পরিস্থিতি অনুযায়ী সিদ্ধান্ত নেবে–এআইয়ের ব্যবহার চলতে দেবে, কিন্তু সমস্যা দেখা দিলে হস্তক্ষেপ করবে। অতীতে কোচিং ও অনলাইন গেমিং খাতেও এমনটি ঘটেছে। সরকার ক্ষতির আশঙ্কা দেখিয়ে হঠাৎ কঠোর পদক্ষেপ নেওয়ায় ওই শিল্পগুলো বড় ধাক্কা খেয়েছিল। সম্প্রতি উহানে ১০০টির বেশি রোবোট্যাক্সি বিকল হয়ে যাত্রীদের ভোগান্তির কারণ হওয়ায় কর্মকর্তারা রোবোট্যাক্সি পরীক্ষাও ধীর করে দিয়েছেন। তবে এভাবে বারবার থামানো ও চালু করার নীতি নতুন উদ্ভাবনের গতি কমিয়ে দিতে পারে।
দ্য ইকোনমিস্ট বলছে, চীনের নেতাদের সামনে বড় চ্যালেঞ্জ হলো–একদিকে সামাজিক অস্থিরতার ঝুঁকি, অন্যদিকে যুক্তরাষ্ট্রের চেয়ে পিছিয়ে পড়ার আশঙ্কা। এআই যুক্তরাষ্ট্র ও চীন–এই দুই দেশের জন্যই একই ধরনের চ্যালেঞ্জ তৈরি করছে। উভয় দেশকেই নিজেদের সমাজ ও অর্থনীতিকে নতুনভাবে গড়ে তুলতে হবে। আর ইতিহাস বলছে, গণতান্ত্রিক দেশগুলো সাধারণত এই ধরনের পরিবর্তনের সঙ্গে স্বৈরশাসনের তুলনায় সহজে মানিয়ে নিতে পারে।

তার মানে হলো, তামিম নামকাওয়াস্তে বিপিএল না করতে চাইলেও সব পক্ষই বিপিএলে এক বছরের বিরতি চান না। সেই চাওয়া এতটাই জোরদার যে, আরেকটি বিতর্কিত বিপিএলেও আপত্তি নেই তাদের।

এমনকি যারা কর্মসংস্থানে রয়েছেন, তাদের কাজের গুণমান নিয়েও বড় ধরনের দুশ্চিন্তা রয়ে গেছে। ভারতের পর্যায়ক্রমিক শ্রমশক্তি জরিপের একটি বিশ্লেষণ ঘেটে দেখা যায়, প্রতি ১০০ জন স্নাতকের মধ্যে মাত্র ২৬ জনের নিয়মিত বেতনভুক্ত চাকরি রয়েছে।

তুরস্কে নতুন রাজনৈতিক দল গঠনের ঘোষণা দিয়েছেন দেশটির সবচেয়ে প্রভাবশালী বিরোধী নেতা ওজগুর ওজেল। গত ২৪ জুলাই ঘোষিত দলের নাম রাখা হয়েছে নিউ পার্টি (ওয়াইপি)। ব্রিটিশ সাময়িকী ইকোনমিস্টের এক প্রতিবেদনে বলা হয়, তুরস্কের প্রেসিডেন্ট রিসেপ তাইয়েপ এরদোয়ানের ইচ্ছা যেন বাস্তবে রূপ নিল।

আবদেররহিম ফকির আসলে কে ছিলেন এবং কী কারণে তিনি এত মানসিক চাপে ছিলেন। সমাজবিজ্ঞানী ও শরণার্থী সংস্থাগুলোর মতে, এই প্রবণতা ইউরোপের অভিবাসন বিতর্ককে এমন এক সরলীকৃত চিত্রে পরিণত করছে, যা বাস্তবসম্মত ও মানবিক সমাধানের পথকে বাধাগ্রস্ত করছে।