Chaarcha Logo
Chaarcha logo
সর্বশেষবিশেষএক্সপ্লেইনারবিশ্লেষণভাবনাভিডিওশর্টসজীবনচরচাম্যাগাজিনপ্রবাস
১০ সেপ্টেম্বর, ২০২৬
১০ সেপ্টেম্বর, ২০২৬
Chaarcha logo
সংক্ষেপেকানেক্টম্যাগাজিন

আমরা

আমাদের সম্পর্কেযোগাযোগবিধিনিষেধ ও শর্তাবলিগোপনীয়তার নীতি
Chaarcha logo
সর্বশেষবিশেষএক্সপ্লেইনারবিশ্লেষণভাবনাভিডিওশর্টসজীবনচরচাম্যাগাজিনপ্রবাস
১০ সেপ্টেম্বর, ২০২৬
১০ সেপ্টেম্বর, ২০২৬
সর্বশেষবিশেষএক্সপ্লেইনারবিশ্লেষণভাবনাভিডিওশর্টসজীবনচরচাম্যাগাজিনপ্রবাস
Chaarcha logo
সর্বশেষএক্সপ্লেইনারবিশ্লেষণভাবনাভিডিওশর্টসজীবনচরচাম্যাগাজিনপ্রবাস
আমরা
  • আমাদের সম্পর্কে
  • যোগাযোগ
  • বিধিনিষেধ ও শর্তাবলি
  • গোপনীয়তার নীতি
এক্সপ্লেইনারবিশ্লেষণ

সম্পাদক: সোহরাব হাসান, প্রিন্টার্স বিল্ডিং (লেভেল–১৪), ৫ রাজউক অ্যাভিনিউ, মতিঝিল বাণিজ্যিক এলাকা, ঢাকা–১০০০, বাংলাদেশ

|

স্বত্ব © চরচা

Chaarcha Logo
Advertisement
Advertisement
> বিশ্লেষণ

এআই: মার্কিন শ্রেষ্ঠত্বে টান দিচ্ছে চীন

চরচা ডেস্ক

চরচা ডেস্ক

প্রকাশ : ২২ জুলাই ২০২৬, ০৮: ১৮
এআই: মার্কিন শ্রেষ্ঠত্বে টান দিচ্ছে চীন

কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা বা এআই প্রযুক্তিতে বিশ্বব্যাপী আধিপত্য বিস্তারের লড়াইয়ে চীন ও যুক্তরাষ্ট্রের প্রতিদ্বন্দ্বিতা এক নতুন এবং অত্যন্ত সংবেদনশীল মোড়ে এসে পৌঁছেছে। চীনের উদীয়মান স্টার্টআপ ‘মুনশট এআই’ তাদের তৈরি নতুন এআই মডেল ‘কিমি কে৩’ উন্মোচন করার মাধ্যমে যুক্তরাষ্ট্রের বহু অর্থায়নে পরিচালিত শীর্ষস্থানীয় প্রযুক্তি প্রতিষ্ঠানগুলোর সঙ্গে সক্ষমতার ব্যবধান উল্লেখযোগ্যভাবে কমিয়ে এনেছে।

Advertisement
Advertisement
Advertisement

দ্য নিউইয়র্ক টাইমসে প্রকাশিত এক অনুসন্ধানী প্রতিবেদনে উঠে এসেছে, কীভাবে চীনের এই সাম্প্রতিক প্রযুক্তিগত অগ্রগতি সিলিকন ভ্যালি তথা পুরো যুক্তরাষ্ট্রের একচ্ছত্র প্রযুক্তির নেতৃত্বকে সরাসরি চ্যালেঞ্জের মুখে ফেলেছে। চীনের সাংহাইয়ে অনুষ্ঠিত ‘ওয়ার্ল্ড আর্টিফিশিয়াল ইন্টেলিজেন্স কনফারেন্স’-এ মুনশট এআই ঘোষণা দেয় যে, কিমি কে৩ হলো বিশ্বের বৃহত্তম ওপেন-সোর্স এআই সিস্টেম। এর অর্থ হলো, বিশ্বের যে কেউ এই মডেলটি সম্পূর্ণ বিনামূল্যে ব্যবহার করতে, নিজের মতো করে পরিবর্তন করতে এবং এর ওপর ভিত্তি করে নতুন প্রযুক্তি তৈরি করতে পারবে। সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হলো, মুনশট দাবি করেছে যে, কিছু মৌলিক ও জটিল কাজে এই কিমি কে৩ মডেলটি যুক্তরাষ্ট্রের ওপেনএআই ও অ্যানথ্রপিক-এর মতো বাজারের শীর্ষস্থানীয় মডেলগুলোর সমকক্ষ কর্মক্ষমতা প্রদর্শন করতে সক্ষম।

এই প্রযুক্তির উন্মোচন কেবল একটি সাধারণ বাণিজ্যিক বা কারিগরি সাফল্য নয়, বরং এর পেছনে রয়েছে এক গভীর ভূ-রাজনৈতিক প্রেক্ষাপট। এই মডেল উন্মোচনের দিনটিতেই চীনের প্রেসিডেন্ট সি চিনপিং এক সম্মেলনে ভাষণ দেন। সেখানে তিনি এআই উন্নয়নের জন্য একটি আন্তর্জাতিক ও উন্মুক্ত দৃষ্টিভঙ্গি তুলে ধরেন। তিনি চীনকে এই উন্মুক্ত এআই আন্দোলনের প্রধান পৃষ্ঠপোষক হিসেবে উপস্থাপন করেন। সি চিনপিং তার ভাষণে উল্লেখ করেন যে, কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার বিকাশ কোনো একক দেশের একক অভিনয়ের বিষয় হওয়া উচিত নয়, বরং এটি হওয়া উচিত আন্তর্জাতিক সহযোগিতার একটি সম্মিলিত সুর। তিনি আরও বলেন যে, এআই প্রযুক্তির এই বিশাল সম্ভাবনাকে কাজে লাগাতে চীন বিশ্বের সকল পক্ষের সঙ্গে একসঙ্গে কাজ করতে পুরোপুরি প্রস্তুত।

চীনের রাষ্ট্রপ্রধানের এই সুর এবং মুনশটের এই উন্মুক্ত মডেলের আগমন বৈশ্বিক প্রযুক্তির বাজারে তাৎক্ষণিক প্রতিক্রিয়া সৃষ্টি করে। যুক্তরাষ্ট্রের পুঁজিবাজারে এর প্রভাব এতটাই তীব্র ছিল যে সংবাদটি প্রকাশের সাথে সাথেই প্রযুক্তি শেয়ার সূচক নাসডাক প্রায় এক শতাংশ কমে যায়। বিশেষ করে যেসব মার্কিন প্রতিষ্ঠান এআই পরিচালনায় ব্যবহৃত চিপ তৈরি করে, যেমন এনভিডিয়া এবং ইনটেল, সেগুলোর শেয়ার বিনিয়োগকারীরা ব্যাপকভাবে বিক্রি করতে শুরু করেন।

Advertisement
Advertisement
Advertisement
মার্কিন জায়ান্টদের টেক্কা দিতে আসছে চীনের কিমি কে৩kimik3

এই পুরো ঘটনাটি বিশ্ব জুড়ে এক নম্বর প্রযুক্তির স্থানটি ধরে রাখার ক্ষেত্রে যুক্তরাষ্ট্র ও চীনের রাজনৈতিক ও কৌশলগত যুদ্ধকে নতুন করে দৃশ্যমান করেছে। বর্তমান মার্কিন প্রশাসন এবং প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প একাধিকবার জোর দিয়ে বলেছেন যে, আমেরিকার অর্থনৈতিক ও জাতীয় নিরাপত্তা অক্ষুণ্ণ রাখতে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তায় দেশের নেতৃত্ব বজায় রাখা এক অপরিহার্য ও কৌশলগত প্রয়োজন। এআই এমন একটি মূল ভিত্তিগত প্রযুক্তিতে পরিণত হয়েছে যার অর্থনৈতিক প্রভাবের পাশাপাশি সুদূরপ্রসারী সামরিক গুরুত্বও রয়েছে। আর এই কারণেই যুক্তরাষ্ট্র চীনা প্রতিষ্ঠানগুলোর অগ্রগতি রুখে দিতে দীর্ঘ দিন ধরে চেষ্টা চালিয়ে আসছে। বিশেষ করে, অত্যাধুনিক এআই সিস্টেমগুলোকে প্রশিক্ষণ দেওয়ার জন্য যে উচ্চমানের চিপ প্রয়োজন হয়, চীনের কাছে সেগুলোর রপ্তানি ও প্রবেশাধিকার সীমিত করতে কঠোর মার্কিন নিয়ন্ত্রণ আরোপ করা হয়েছিল।

তবে মার্কিন নিষেধাজ্ঞার মধ্যেও চীন যেভাবে একটি সম্পূর্ণ বিনামূল্যে ব্যবহারযোগ্য এবং ওপেন-সোর্স এআই মডেল তৈরি করেছে–যা সিলিকন ভ্যালির বিপুল খরচসাপেক্ষ এবং প্রসেসিং ক্ষমতানির্ভর মডেলগুলোর সাথে টেক্কা দিতে পারে–তা মার্কিন বিশ্লেষকদের ফের ভাবতে বাধ্য করেছে। মার্কিন কোম্পানিগুলো যখন ডেটা সেন্টার তৈরিতে বিলিয়ন বিলিয়ন ডলারের পাহাড়প্রমাণ অর্থ ব্যয় করছে, তখন কম খরচে চীনের এই উদ্ভাবন সেই বিশাল বিনিয়োগের যৌক্তিকতা নিয়েই নতুন করে বড় প্রশ্ন তুলে দিয়েছে।

ai (1)
কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা। ছবি: রয়টার্স

বিগত ১৮ মাস ধরে চীনের প্রযুক্তি কোম্পানিগুলো ধারাবাহিকভাবে একাধিক ওপেন-সোর্স এআই মডেল বাজারে নিয়ে এসেছে। এসব মডেল আমেরিকান প্রতিদ্বন্দ্বীদের সমান কর্মক্ষমতা দেখানোর পাশাপাশি অনেক কম কম্পিউটিং সম্পদ বা চিপ শক্তি ব্যবহার করার দাবি করে আসছে। চমৎকার দক্ষতা এবং অত্যন্ত কম খরচের এই যুগলবন্দী চীনা এআই সিস্টেমগুলোকে বিশ্বজুড়ে অনেক সফটওয়্যার ডেভেলপারদের কাছে প্রথম পছন্দ বানিয়ে তুলেছে। মুনশটের এই সর্বশেষ মডেল কিমি কে৩ সেই গতিকে আরও ত্বরান্বিত করেছে এবং এই সম্ভাবনাকে বাস্তব রূপ দিচ্ছে যে, অতি শিগগিরই হয়তো কোনো চীনা কোম্পানি মার্কিন শীর্ষ এআই প্রতিষ্ঠানগুলোর তৈরি সবচেয়ে শক্তিশালী মডেলগুলোকেও ছাড়িয়ে যাবে।

যুক্তরাষ্ট্রের প্রতিষ্ঠানগুলো যেখানে তাদের প্রোপাইটারি ও অতি ব্যয়বহুল মডেল তৈরির জন্য শত শত কোটি ডলার বিনিয়োগ করেছে, সেখানে চীন একেবারে বিপরীত পথ ধরে এগোচ্ছে। এআই মডেল মূল্যায়নে বিশেষজ্ঞ স্বাধীন গবেষণা প্রতিষ্ঠান ‘ভালস এআই’-এর পরিচালিত বেঞ্চমার্ক পরীক্ষায় দেখা গেছে যে, কিমি কে৩ মডেলটি অ্যানথ্রপিকের সবচেয়ে আধুনিক মডেল ‘ফ্যাবল ৫’-এর থেকে সামান্য নিচে হলেও এটি ওপেনএআই-এর ফ্ল্যাগশিপ ‘জিপিটি-৫.৬ সল’ মডেলকে পেছনে ফেলে দিয়েছে।

নতুন বৈশ্বিক এআই ব্যবস্থা নিয়ে যুক্তরাষ্ট্রকে কী বার্তা দিলেন সি?Chinese President Xi Jinping–Reuters

বর্তমানে এআই প্রযুক্তির শক্তি ও ক্ষমতার সীমানা এতটাই বিস্তৃত হয়েছে যে তা বিভিন্ন দেশের সরকারের জন্য দুশ্চিন্তার কারণ হয়ে দাঁড়াচ্ছে। উদাহরণস্বরূপ, অ্যানথ্রপিকের সর্বাধুনিক এআই মডেলগুলো এতটাই শক্তিশালী হয়ে উঠেছে যে এগুলো ব্যাংকিং নেটওয়ার্ক এবং বিদ্যুৎ গ্রিডের মতো অতি গুরুত্বপূর্ণ জাতীয় অবকাঠামোর সাইবার দুর্বলতা চিহ্নিত করতে পারে। মার্কিন মডেলগুলোর এই ধরনের অতি-ক্ষমতা বিশ্বজুড়ে সাইবার নিরাপত্তা নিয়ে উদ্বেগ বাড়িয়ে দিয়েছে।

স্ট্যানফোর্ড বিশ্ববিদ্যালয়ের অধ্যাপক গ্রাহাম ওয়েবস্টার, যিনি চীনের ওপেন-সোর্স এআই ব্যবস্থা নিয়ে গবেষণা করেন, তিনি বিষয়টিকে একটু ভিন্ন দৃষ্টিকোণ থেকে ব্যাখ্যা করেছেন। তার মতে, কোনো একটি নির্দিষ্ট মডেল প্রযুক্তির একদম শেষ সীমানায় রয়েছে কি না তা এখন আর মূল বিচার্য বিষয় নয়, কারণ মার্কিন ও চীনা মডেলগুলোর মধ্যে দক্ষতার যে ব্যবধান আগে অনেক বেশি ছিল, তা এখন অত্যন্ত সংকুচিত হয়ে এসেছে। বিশেষজ্ঞদের ধারণায় চীন যুক্তরাষ্ট্রের চেয়ে কত মাস পিছিয়ে আছে তা নিয়ে মতভেদ থাকলেও বেশির ভাগের মতেই এই ব্যবধান বড়জোর ছয় মাসের মতো। আর কোনো প্রযুক্তির ক্ষেত্রে ছয় মাসের ব্যবধানকে খুব বড় কোনো অগ্রগতি বা লিড বলা চলে না।

চলতি বছরের শুরুর দিকে চীনের আরেকটি এআই স্টার্টআপ ‘জেড.এআই’ ‘জিএলএম-৫.২’ নামে একটি মডেল প্রকাশ করে, যা মার্কিন ক্ষমতার শীর্ষ মডেল ফ্যাবল ৫-এর প্রায় কাছাকাছি শক্তিশালী ছিল। ফ্যাবল ৫ যেখানে বন্ধ ও বাণিজ্যিক মডেল, সেখানে চীনা মডেলটি ছিল যে কারও ব্যবহারের জন্য উন্মুক্ত। এর ফলে সিলিকন ভ্যালির অনেক সফটওয়্যার ডেভেলপার এবং উদীয়মান স্টার্টআপ দ্রুত চীনা এই মডেল ব্যবহার করা শুরু করে। কারণ মার্কিন মডেলে যে পরিমাণ খরচ হতো তার একটি ক্ষুদ্র অংশ দিয়ে এটি ব্যবহার করা সম্ভব হচ্ছিল।

ai job
ছবি: ফ্রিপিক

এমন এক সময়ে সিলিকন ভ্যালিতে এই চীনা মডেলের ব্যবহার বাড়ে যখন যুক্তরাষ্ট্রের ব্যবসায়িক প্রতিষ্ঠানগুলো এআই খাতে তাদের অতিরিক্ত খরচ কমানোর পথ খুঁজছিল। আর এখন মুনশটের কিমি কে৩ সেই জিএলএম-৫.২ মডেলের চেয়েও অনেক বেশি শক্তিশালী বলে প্রমাণিত হয়েছে। এই টেকসই ও উন্মুক্ত চীনা অগ্রগতি এমন এক সময়ে বাজারে এলো যখন ট্রাম্প প্রশাসন এআই প্রযুক্তির ওপর নতুন করে সরকারি নিয়ন্ত্রণ বা নীতিমালার কথা ভাবছে। মজার বিষয় হলো, সিলিকন ভ্যালির অনেক নির্বাহী কর্মকর্তাও এখন এই ধরনের সরকারি নিয়ন্ত্রণকে সমর্থন করতে শুরু করেছেন। তাদের যুক্তি হলো, প্রযুক্তির এই অনিয়ন্ত্রিত অগ্রগতি বড় ধরনের সাইবার হামলা কিংবা জৈব অস্ত্র তৈরির মতো ভয়াবহ কাজে অপব্যবহৃত হতে পারে।

অবশ্য ২০২৩ সালে বেইজিংয়ে প্রতিষ্ঠিত হওয়ার পর থেকেই মুনশটের তৈরি এআই চীনে অত্যন্ত জনপ্রিয়তা অর্জন করেছে। চীনের প্রায় সকল প্রধান এআই মডেলই ওপেন-সোর্স বা উন্মুক্ত হওয়ায় তারা খুব দ্রুত বিশ্বব্যাপী ব্যবহারকারী সংগ্রহ করতে পেরেছে। তবে সিলিকন ভ্যালির মতো বন্ধ ও ফি-ভিত্তিক ব্যবস্থা না থাকায় চীনা মডেলগুলো থেকে সরাসরি অর্থ উপার্জন বা মুনাফা করা বেশ কঠিন হয়ে দাঁড়িয়েছে। বৈশ্বিক গ্রহণযোগ্যতাকে কীভাবে একটি লাভজনক ব্যবসায়ে রূপান্তর করা যায়, তা নিয়ে চীনের শীর্ষস্থানীয় এআই গবেষণাগারগুলোর মধ্যে দ্বন্দ্ব তৈরি হচ্ছে, যার প্রভাব এমনকি আলিবাবার মতো চীনা ইন্টারনেট জায়ান্টের ওপরও পড়ছে।

এআই-এর দিন শেষ হতে যাচ্ছে?ai vs quantam computing

মুনাফা অর্জনের এই চ্যালেঞ্জ সামলাতে না পেরে অনেক ল্যাব এখন পুনর্গঠনের মধ্য দিয়ে যাচ্ছে। এছাড়া, চীনের এআই গবেষকরা নিয়মিত স্বীকার করেন যে মার্কিন রপ্তানি নিষেধাজ্ঞার কারণে চিপ বা প্রসেসিং ক্ষমতার অভাবই এই শিল্পে তাদের সবচেয়ে বড় বাধা। এই কম্পিউটিং চাহিদা মেটাতে অতি চড়া দামে চিপ সংগ্রহ করতে গিয়ে প্রতিষ্ঠানগুলোর বিপুল অর্থ খরচ হচ্ছে। এই অর্থনৈতিক চাপ সামলাতে মিনিম্যাক্স এবং জেড.এআই-এর মতো কোম্পানিগুলো শেয়ারবাজারে গিয়ে সাধারণ বিনিয়োগকারীদের কাছ থেকে তহবিল সংগ্রহ করছে। আবার আলিবাবাও তাদের পেড বা ফি-ভিত্তিক মডেলের দিকে গ্রাহকদের উৎসাহিত করছে।

তহবিল সংগ্রহের প্রতিযোগিতায় চীনা কোম্পানিগুলো তাদের মার্কিন প্রতিদ্বন্দ্বীদের তুলনায় এখনো অনেক পিছিয়ে রয়েছে। উদাহরণস্বরূপ, রাষ্ট্রায়ত্ত টেলিকম কোম্পানি চায়না মোবাইল এবং খাদ্য সরবরাহকারী জায়ান্ট মেটুয়ানের বিনিয়োগ শাখা থেকে মুনশট দুই বিলিয়ন ডলারের তহবিল সংগ্রহ করতে পেরেছিল। অথচ ঠিক একই সময়ে মার্কিন প্রতিষ্ঠান অ্যানথ্রপিক এক দফাতেই ৬৫ বিলিয়ন ডলারের তহবিল পায়। অর্থের এই বিশাল বৈষম্য সত্ত্বেও চীনা এআই উদ্ভাবকরা হতাশ না হয়ে নিজেদের সীমিত কম্পিউটিং সম্পদ বা চিপের সর্বাত্তম ব্যবহার নিশ্চিত করার দিকে নজর দিয়েছেন। চলতি বছর দাভোসে অনুষ্ঠিত ওয়ার্ল্ড ইকোনমিক ফোরামে বক্তব্য দেওয়ার সময় মুনশট এআই-এর প্রেসিডেন্ট ইউটং ঝাং জানান যে, শুরু থেকেই তাদের জন্য কার্যক্ষমতা বাড়ানো একটি বাধ্যবাধকতা ছিল। পর্যাপ্ত তহবিল ও প্রসেসিং চিপ না থাকায় যুক্তরাষ্ট্রের মতো ইচ্ছেমতো চিপের সংখ্যা বাড়িয়ে প্রসেসিং ক্ষমতা বাড়ানোর মতো বিলাসিতা করার সুযোগ চীনা কোম্পানিগুলোর ছিল না।

আগে মার্কিন প্রতিষ্ঠান ওপেনএআই এবং অ্যানথ্রপিক একাধিকবার অভিযোগ তুলেছিল যে, চীনা কোম্পানিগুলো তাদের উন্নত মডেল দ্রুত তৈরি করতে মার্কিন এআই সিস্টেম থেকে অবৈধভাবে তথ্য ও উপাত্ত চুরি বা ‘ডিস্টিলেশন’ করছে। কিন্তু নিরপেক্ষ বিশেষজ্ঞরা বলছেন যে, মুনশট বা জেড.এআই-এর এই সাফল্য কেবল মার্কিন মডেল কপি করার মাধ্যমে অর্জিত হয়নি। বছরের পর বছর ধরে কঠোর মার্কিন রপ্তানি নিষেধাজ্ঞার মধ্যে কাজ করার ফলে চীনা কোম্পানিগুলো সীমিত কম্পিউটিং ক্ষমতার ভেতরেই নিত্যনতুন পথ বের করতে ও প্রযুক্তিগত উদ্ভাবন ঘটাতে বাধ্য হয়েছে।

স্ট্যানফোর্ড বিশ্ববিদ্যালয়ের অধ্যাপক ওয়েবস্টারের ভাষায়, কেবল তথ্য চুরির মাধ্যমে চীনা মডেলগুলো আজকের এই চমৎকার জায়গায় পৌঁছায়নি। বরং সীমিত সম্পদের সর্বোচ্চ ব্যবহারের মাধ্যমে সেখানে একটি সত্যিকারের প্রযুক্তিগত উদ্ভাবন ঘটছে। সামগ্রিকভাবে, মুনশটের কিমি কে৩ মডেলের উদ্ভাবন শুধু যে চ্যাটজিপিটি বা ক্লডের মতো মার্কিন মডেলগুলোর জন্য ব্যবসায়িক হুমকি তৈরি করেছে তা নয়, বরং এটি প্রমাণ করেছে যে মার্কিন নিষেধাজ্ঞা সত্ত্বেও চীন কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার মতো বিশ্ব-নিয়ন্ত্রণকারী প্রযুক্তিতে দ্রুততম সময়ে সমান শক্তিতে ঘুরে দাঁড়াতে পারে।

বিষয়: তথ্যপ্রযুক্তিপ্রযুক্তিএআইযুক্তরাষ্ট্রচীন
সর্বশেষ
  • ১

    রাজধানীর ধানমন্ডিতে ভবনে আগুন

  • ২

    হংকংয়ের বিনিয়োগ আকর্ষণে বিশেষ সুবিধার প্রস্তাব বাংলাদেশের

  • ৩

    মেঘের শারীরিক অবস্থা এখনো ‘অস্থিতিশীল’, মেডিকেল বোর্ড গঠন

  • ৪

    সম্মিলিত ইসলামী ব্যাংক: তিন দিনে ২৬ হাজার গ্রাহক তুললেন কত টাকা

  • ৫

    ফিলিপাইনে যাত্রীবাহী ফেরিতে আগুনে নিহত ৫, নিখোঁজ ৮০ জনের বেশি

সম্পর্কিত
  • বিএনপি ক্ষমতায় সাত মাস : সরকার তো চলছে, দলের কী অবস্থা?

    বিএনপি ক্ষমতায় সাত মাস : সরকার তো চলছে, দলের কী অবস্থা?

    ১৭ বছরের বেশি সময় ক্ষমতার বাইরে থেকে আন্দোলন-সংগ্রাম, মামলা-গ্রেপ্তার আর রাজনৈতিক চাপ সামলে এখন সরকারে বিএনপি। গত ফেব্রুয়ারির সংসদ নির্বাচনে দুই-তৃতীয়াংশ সংখ্যাগরিষ্ঠতা নিয়ে সরকার গঠনের পর দলের শীর্ষ নেতাদের বড় একটি অংশ এখন সরকারের দায়িত্বে ব্যস্ত। মন্ত্রিসভা, সংসদ, প্রশাসন, অর্থনীতি ও আইনশৃঙ্

  • কমেডিও কাঠগড়ায়! চীনে বাকস্বাধীনতা কি ডিপ ফ্রিজে?

    কমেডিও কাঠগড়ায়! চীনে বাকস্বাধীনতা কি ডিপ ফ্রিজে?

    চীনের সরকার আসলে কী কী বন্ধ করে দেয় – শুধুই কি বিদেশি ওয়েবসাইট বন্ধ করে দেয়, নাকি দেশের ভেতরে থাকা সমালোচকদের ওপরও এই নিষেধাজ্ঞা আছে, এমন চিন্তাটা আসা খুবই স্বাভাবিক। তবে এখানে সরকারের লক্ষ্য এর চেয়েও বড়।

  • ইরান যুদ্ধ কি বদলে দিল বিশ্ব তেলের বাজার?

    ইরান যুদ্ধ কি বদলে দিল বিশ্ব তেলের বাজার?

    ইরান যুদ্ধের ছয় মাস পেরিয়েছে। এই যুদ্ধ শুরুর পর থেকে বিভিন্ন খাতে বিশেষ করে তেলের বাজার তীব্রভাবে প্রভাবিত হয়েছে। স্বাভাবিকভাবেই সবচেয়ে বেশি প্রভাব পড়েছে আমেরিকানদের ওপর। গ্যাসের দাম কয়েক সপ্তাহ ধরে ৪ ডলারের বেশি। বন্ধকী ঋণের সুদের হারও বেড়ে প্রায় ৭ শতাংশের দিকে যাচ্ছে। আবার ডিজেলের রেকর্ড

  • বিশ্বজুড়ে ফিরেছে মূল্যস্ফীতি?

    বিশ্বজুড়ে ফিরেছে মূল্যস্ফীতি?

    ‘সফট ল্যান্ডিং’-এর কথা মনে আছে? আগে বলে নেওয়া দরকার সফট ল্যান্ডিং কী? ‘সফট ল্যান্ডিং’ বলতে বোঝায়, অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধির গতি নিয়ন্ত্রিত ও ধীরে ধীরে কমিয়ে আনা, যাতে মূল্যস্ফীতি কমে আসে, কিন্তু অর্থনীতিতে মন্দা দেখা না দেয় বা বিপুলসংখ্যক মানুষ চাকরি না হারান।