ads

মার্কিন জায়ান্টদের টেক্কা দিতে আসছে চীনের কিমি কে৩

চরচা ডেস্ক
চরচা ডেস্ক
মার্কিন জায়ান্টদের টেক্কা দিতে আসছে চীনের কিমি কে৩
দেশীয় প্রযুক্তি জায়ান্ট আলিবাবা ও টেনসেন্টের বড় ধরনের অর্থায়নে সমৃদ্ধ মুনশট খুব দ্রুতই চীনের জেনারেটিভ এআই ইকোসিস্টেমের শীর্ষস্থানে উঠে এসেছে। ছবি: রয়টার্স

চীনের এআই স্টার্টআপ মুনশট একটি বিশাল আকারের নতুন কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা মডেল উন্মোচন করেছে। নতুন মডেলটি যুক্তরাষ্ট্রের শীর্ষস্থানীয় এআই প্রতিষ্ঠানগুলোর সাথে টেক্কা দিতে সক্ষম বলে দাবি করছে সংস্থাটি। সম্প্রতি সাংহাইয়ে অনুষ্ঠিত ‘ওয়ার্ল্ড আর্টিফিশিয়াল ইন্টেলিজেন্স কনফারেন্স’-এ মুনশট এআই তাদের ‘কিমি কে৩’ (Kimi K3) মডেলটি প্রদর্শন করে।

এআই সিস্টেমটির সক্ষমতা ও প্রসেসিং পাওয়ারের পরিমাপ হিসেবে এতে ২.৮ ট্রিলিয়ন প্যারামিটার যুক্ত করা হয়েছে। আগামী ২৭ জুলাই মডেলটি ওপেন-সোর্স হিসেবে চালু হবে। তখন এর কোডিং, তথ্যানুসন্ধান ও যৌক্তিক বিশ্লেষণের (রিজনিং) পূর্ণাঙ্গ সক্ষমতা সম্পর্কে বিস্তারিত জানা যাবে।

Advertisement

এ সম্পর্কে প্রতিবেদন প্রকাশ করে বিবিসি বলছে, এই আচমকা অগ্রগতি ইঙ্গিত দেয় যে, চীনের প্রযুক্তির দক্ষতা দ্রুত দুই দেশের (চীন ও যুক্তরাষ্ট্র) সক্ষমতার ব্যবধান কমিয়ে আনছে। এটি পশ্চিমাদের দীর্ঘদিনের সেই ধারণাকে বদলে দিচ্ছে, যেখানে মনে করা হতো চীনা ডেভেলপাররা তাদের মার্কিন প্রতিদ্বন্দ্বীদের চেয়ে পিছিয়ে রয়েছে। এই মাসের শেষের দিকে কিমি কে৩ উন্মুক্ত হলে ৩-ট্রিলিয়ন প্যারামিটার ক্লাসে বিশ্বের প্রথম ওপেন-সোর্স মডেল হিসেবে পরিগণিত হবে, যা বাইরের যেকোনো ডেভেলপার বিনামূল্যে ডাউনলোড, পরিচালনা ও কাস্টমাইজ করতে পারবেন।

বিশ্ব প্রযুক্তি খাতের এক অত্যন্ত সংবেদনশীল মুহূর্তে এই মডেলটির আগমন ঘটল। এর মাত্র কয়েক সপ্তাহ আগেই সাইবার নিরাপত্তার গুরুতর আশঙ্কার কারণে মার্কিন সরকার দেশটির এআই ডেভেলপার সংস্থা অ্যানথ্রপিককে তাদের ফ্ল্যাগশিপ ‘ফ্যাবল’ (Fable) এবং ‘মিথোস’ (Mythos) মডেলগুলো সাময়িকভাবে তুলে নিতে বাধ্য করে। ওয়াশিংটন পরবর্তীতে সেই নিষেধাজ্ঞা তুলে নিলেও, এই প্রাথমিক পদক্ষেপটি স্পষ্ট করে দেয় যে মার্কিন সরকার এখন উন্নত এআই সফটওয়্যারকে গুরুত্বপূর্ণ জাতীয় অবকাঠামো হিসেবে দেখে এবং এসব ফ্রন্টিয়ার মডেলগুলোকে কঠোর রফতানি নিয়ন্ত্রণের অধীনে জাতীয় নিরাপত্তা সম্পদ হিসেবে বিবেচনা করছে। তবে, কিমি কে৩-এর দ্রুত আগমন দেখে মনে হচ্ছে হার্ডওয়্যার বিক্রিতে মার্কিন নিষেধাজ্ঞা থাকা সত্ত্বেও চীনা প্রতিষ্ঠানগুলো সফলভাবে এই বাধাগুলো অতিক্রম করে স্বাধীনভাবে এগিয়ে যাচ্ছে।

দেশীয় প্রযুক্তি জায়ান্ট আলিবাবা ও টেনসেন্টের বড় ধরনের অর্থায়নে সমৃদ্ধ মুনশট খুব দ্রুতই চীনের জেনারেটিভ এআই ইকোসিস্টেমের শীর্ষস্থানে উঠে এসেছে। এক বিবৃতিতে প্রতিষ্ঠানটি জানিয়েছে যে, কে৩ এ পর্যন্ত মুনশট এআই-এর তৈরি ‘সবচেয়ে সক্ষম ফ্ল্যাগশিপ মডেল’। ওপেনএআই বা অ্যানথ্রপিকের বদ্ধ ও বাণিজ্যিক সিস্টেমের বিপরীত, কিমি কে৩-এর উন্মুক্ত বৈশিষ্ট্যের কারণে বিশ্বজুড়ে ব্যবহারকারীরা এটিকে জটিল সফটওয়্যার ডেভেলপমেন্ট ও উন্নত রিজনিং কাজের জন্য পরিবর্তন করে ব্যবহার করতে পারবেন। মুনশট এআই উল্লেখ করেছে যে, ইঞ্জিনিয়ারিং ও কোডিংয়ের মতো কাজগুলো টানা চালিয়ে নিতে এই সিস্টেমটি বিশেষভাবে ‘ন্যূনতম মানবিক তত্ত্বাবধানে’ পরিচালনা করার উপযোগী করে তৈরি করা হয়েছে।

‘আর্টিফিশিয়াল অ্যানালিসিস’ এবং ‘অ্যারেনা.এআই’-এর মতো তৃতীয় পক্ষের স্বাধীন মূল্যায়নে দেখা গেছে যে, এটি ওপেনএআই-এর জিপিটি এবং অ্যানথ্রপিকের ক্লডের মতো যুক্তরাষ্ট্রের শীর্ষস্থানীয় মডেলগুলোর সমকক্ষ পারফর্ম করছে। এসব বেঞ্চমার্কে কিমি কে৩ ওয়েব ইন্টারফেস ইঞ্জিনিয়ারিংয়ে প্রথম স্থান অধিকার করেছে এবং মানুষের পছন্দভিত্তিক পরীক্ষায় অ্যানথ্রপিকের ফ্যাবল সিস্টেমকেও পেছনে ফেলেছে। যদিও এই বিশাল আকারের সিস্টেমটি স্থানীয়ভাবে চালাতে প্রচুর কম্পিউটিং যন্ত্রপাতির প্রয়োজন হবে। তবুও এটিকে ওপেন-সোর্স হিসেবে উন্মুক্ত করা সিলিকন ভ্যালির বাণিজ্যিক মডেলগুলোকে ব্যাপকভাবে বিঘ্নিত করতে পারে। এই ঘোষণার পরপরই মুনশটের স্থানীয় প্রতিদ্বন্দ্বী ‘ঝিপু’ এবং ‘মিনিম্যাক্স’-এর শেয়ারে তাৎক্ষণিক প্রভাব পড়ে এবং হংকং শেয়ারবাজারে তাদের শেয়ারের দাম যথাক্রমে প্রায় ২৭% এবং ১৬% কমে যায়।

সম্পর্কিত