চীনের এআই ডেভেলপারদের বিরুদ্ধে মেধাস্বত্ত্ব চুরির অভিযোগ তুলেছে যুক্তরাষ্ট্র। এর সঙ্গে যোগ হয়েছে রপ্তানি নিয়ন্ত্রণ আইন ভাঙার অভিযোগও। দুটি মিলিয়ে চীনের এআই ডেভেলপারদের ওপর নিষেধাজ্ঞা দেওয়ার হুমকিও দিয়েছে মার্কিন প্রশাসন।
কিন্তু এই হুমকির সময়টা বেশ উদ্বেগজনক। দিনে দিনে আরও শক্তিশালী এআই মডেল উদ্ভাবিত হচ্ছে, তাতে একদিকে গুরুতর নিরাপত্তাঝুঁকি তৈরি হচ্ছে। এআই-বিষয়ক নিরাপত্তা নিয়ে সেপ্টেম্বরে চীন ও যুক্তরাষ্ট্রের দ্বিপক্ষীয় বৈঠক হওয়ার কথা ছিল। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, এমন মুহূর্তে চীনা কোম্পানিগুলোর ওপর মার্কিন এই হুমকির কারণে বৈঠকটির উদ্যোগই ঝুঁকিতে পড়ে যাচ্ছে।
গত বুধবার মার্কিন কর্মকর্তারা চীনা এআই ল্যাব মুনশটের বিরুদ্ধে অভিযোগ তুলেছেন যে, মুনশট তাদের ‘কিমি কে৩’ এআই মডেলটি বানিয়েছে ক্লড-এর নির্মাতা মার্কিন প্রতিষ্ঠান অ্যানথ্রপিক-এর অত্যাধুনিক ‘ফ্যাবল ৫’ মডেল থেকে ‘ডিস্টিল’ করে! এই অভিযোগের পরিপ্রেক্ষিতেই মার্কিন ট্রেজারি সেক্রেটারি স্কট বেসেন্ট মুনশট-এর ওপর সম্ভাব্য নিষেধাজ্ঞার হুঁশিয়ারিও দিয়েছেন।
এআই উন্নয়ন কার্যক্রমে ডিস্টিলেশন হলো এম এক প্রক্রিয়া, যেখানে একটি আধুনিক এআই মডেলের আউটপুটকে কাজে লাগিয়ে নতুন একটি এআই মডেলকে শিখিয়ে-পড়িয়ে নেওয়া যায়। উদ্দেশ্য–নতুন শক্তিশালী এআই টুল বানানোর খরচ কমিয়ে আনা।
মুনশটের মতো চীনা প্রতিষ্ঠানগুলো তাদের এআই মডেলকে ‘ট্রেইন’ করার ক্ষেত্রে যুক্তরাষ্ট্রের অত্যাধুনিক চিপও অবৈধভাবে কাজে লাগাচ্ছে কি না, সেটাও খতিয়ে দেখছে যুক্তরাষ্ট্রের বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ের ‘ব্যুরো অব ইন্ডাস্ট্রি অ্যান্ড সিকিউরিটি’। মুনশটের মুখপাত্র এ ব্যাপারে রয়টার্সের দিক থেকে মন্তব্যের আহ্বানে সাড়া দেননি।
যুক্তরাষ্ট্র ও চীনের মধ্যে এআই নিয়ে যে তীব্র প্রতিদ্বন্দ্বিতা চলছে, সেটাই সামনে নিয়ে আসছে এই বিরোধ। দুই পক্ষই যত দিন যাচ্ছে, ততই ফ্রন্টিয়ার এআই বা সবচেয়ে অত্যাধুনিক ও শক্তিশালী এআই মডেলগুলোকে একদিকে কৌশলগত একটা সম্পদ হিসেবে দেখছে, একইভাবে দেখছে নিরাপত্তা ঝুঁকি হিসেবেও। বিশেষজ্ঞদের মতে, শক্তিশালী এসব মডেল সাইবার হামলা ও অন্যান্য ক্ষতিকর কাজে ব্যবহৃত হওয়ার ঝুঁকি যেহেতু বাড়ছে, তাই নিরাপত্তার মানদণ্ড ঠিক করার ব্যাপারে দুই পক্ষের সমন্বিত উদ্যোগ আরও বেশি গুরুত্বপূর্ণ হয়ে পড়েছে।
কিন্তু হচ্ছে তার উল্টো। চীনের বিরুদ্ধে এসব অভিযোগ এনেই ক্ষান্ত হচ্ছে না যুক্তরাষ্ট্র। বিভিন্ন সংবাদমাধ্যমের প্রতিবেদন জানাচ্ছে, চীনের তৈরি ‘ওপেন-ওয়েট’ এআই মডেলের (যে মডেলের ট্রেনিং শেষ হওয়ার পরের চূড়ান্ত প্যারামিটার বা ওয়েটগুলো জনসম্মুখে প্রকাশ করে দেওয়া হয়, যে প্যারামিটারকে চাইলে ডাউনলোড ও কাস্টমাইজ করা যায়; তবে ট্রেনিং চলার সময়ের কোড ও ডেটা প্রকাশ করা হয় না) ওপরও নিষেধাজ্ঞা দিতে যাচ্ছে ওয়াশিংটন। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, সেটা হলে চীনের দিক থেকেও পাল্টা ব্যবস্থা আসার আশঙ্কা থেকে যায়। আর সেটা হলে সেপ্টেম্বরে চীন-যুক্তরাষ্ট্রের এআই ডায়ালগও ভেস্তে যেতে পারে।
ক্রমেই বাড়তে থাকা এই উত্তেজনা একেবারে সাম্প্রতিক কোনো ঘটনার কারণেও হচ্ছে না। চীন যাতে উন্নত ও সর্বাধুনিক চিপ হাতে না পায়, সেই লক্ষ্য থেকে অনেক বছর ধরেই চীনে সেমিকন্ডাকটর চিপ রপ্তানির ক্ষেত্রে অনেক নিয়ন্ত্রণমূলক ব্যবস্থা জারি করেছে যুক্তরাষ্ট্র। এই রপ্তানি নিয়ন্ত্রণ ব্যবস্থা কতটা জোরদার থাকবে কিংবা থাকবে না, সেটাই দুই পক্ষের বাণিজ্য চুক্তির আলোচনাতে সাম্প্রতিক সময়ে অনেক বড় একটা ইস্যু হয়ে উঠেছে।
বিশ্ব বাণিজ্যে কৌশলগত পরামর্শদাতা প্রতিষ্ঠান ডিজিএ-অলব্রাইট স্টোনব্রিজ গ্রুপের অংশীদারদের একজন পল ট্রিয়োলো রয়টার্সকে চীন ও যুক্তরাষ্ট্রের এআই নিয়ে এই দ্বন্দ্বের সম্ভাব্য ঝুঁকি নিয়ে বলেছেন, “চীনের কতগুলো প্রতিষ্ঠানকে টার্গেট করা হয়েছে, এবং তাদের বিরুদ্ধে কী ধরনের শাস্তিমূলক ব্যবস্থা নেওয়া হয়, তার ওপর নির্ভর করবে অনেক কিছু। তবে (দুটিই বেশি হয়ে গেলে চীনের দিক থেকে) পাল্টা প্রতিশোধমূলক ব্যবস্থা এমন হতে পারে, যা শুধু এআই ডায়ালগই নয়, ২৪ সেপ্টেম্বর প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প ও শি-র বৈঠকের পরিকল্পনাও ভেস্তে দিতে পারে।”
রয়টার্স এরই মধ্যে এক প্রতিবেদনে জানিয়েছে, বেইজিং প্রতিশোধমূলক ব্যবস্থা হিসেবে এরই মধ্যে এটা ভাবতে শুরু করে দিয়েছে যে, তাদের এআই মডেলগুলো ব্যবহারের সুবিধা বিদেশিদের জন্য আর রাখবে কি না।
আমেরিকার ‘ক্লোজড’ মডেল বনাম চীনের ‘ওপেন’ মডেল
এআই জগতে গত সপ্তাহে ঘটে গেছে এক ভীষণ উদ্বেগজনক ঘটনা। চ্যাটজিপিটির নির্মাতা প্রতিষ্ঠান ওপেনএআই-এর এক এআই এজেন্ট প্রোগ্রামের পরীক্ষা-নিরীক্ষা চলার সময়ে প্রোগ্রামটি নিজে নিজেই নিউইয়র্কভিত্তিক প্রযুক্তি প্রতিষ্ঠান হাগিং ফেসের সিস্টেম হ্যাক করে। হাগিং ফেস পরে জানিয়েছে, তারা হ্যাকার প্রোগ্রামটিকে টেক্কা দিয়েছে চীনের ‘উন্মুক্ত’ এআই মডেল কাজে লাগিয়ে। জেড ডট এআই-এর জিএলএম ৫.২ মডেলটি কাজে লাগিয়েছে হাগিং ফেস।
কেন? কারণ হিসেবে হাগিং ফেস জানিয়েছে, যুক্তরাষ্ট্রের মডেলগুলো ‘ক্লোজড’; অর্থাৎ, এই মডেলগুলোর ট্রেনিং শেষ হওয়ার পরের প্যারামিটার সবার জন্য উন্মুক্ত করে দেওয়া হয় না। এদিকে মার্কিন মডেলগুলোর নিরাপত্তাসংক্রান্ত সুরক্ষার কোড অনেক শক্তিশালী বলে জানিয়েছে হাগিং ফেইস, যা হাস্যকর মনে হতে পারে।
চীন ও যুক্তরাষ্ট্রের ফ্রন্টিয়ার মডেলগুলো দিনে দিনে রিকার্সিভ সেলফ ইম্প্রুভমেন্টের (আরএসআই) দিকে এগিয়ে যাচ্ছে। আরএসআই কী? যেখানে মডেলগুলো মানুষের সহায়তা ছাড়া স্বয়ংক্রিয়ভাবেই নিজের ক্ষমতা বাড়িয়ে ফেলতে পারে! এ কারণেই বিশেষজ্ঞরা বলছেন, আরও বড় কোনো দুর্ঘটনা ঘটে যাওয়ার আগেই, যৌথভাবে নিরাপত্তাসংক্রান্ত মানদণ্ড ঠিক করার ব্যাপারে দুই পক্ষেরই গরজ এখন আরও বেশি থাকা উচিত।
ওপেনএআইয়ের বানানো এক এআই এজেন্ট নিজে নিজেই হ্যাক করেছে হাগিং ফেসে, যা এআইয়ের ঝুঁকি নিয়ে উদ্বেগ বাড়িয়ে দিয়েছে। ছবি: এআই দিয়ে তৈরি
এআই ইন্ডাস্ট্রির বিশেষজ্ঞরা ওপেন-ওয়েট মডেলের কারণে যে ঝুঁকি বাড়ছে, সেটিও বারবার সামনে নিয়ে আসছেন। ওপেন-ওয়েট মডেল চাইলেই ডাউনলোড করে নিজের মতো করে মডিফাই করা যায়। এই মডিফায়েড মডেলটিকেই ছড়িয়ে দেওয়ার ক্ষেত্রেও খুব বেশি নজরদারি থাকে না, সে কারণে সফটওয়্যারভিত্তিক ‘এক্সপোর্ট কন্ট্রোল সিস্টেম’ দিয়ে এগুলোকে নিয়ন্ত্রণে রাখা কঠিন।
‘গডফাদার অব এআই’-খ্যাত ইয়োশুয়া বেনজিও গত সপ্তাহে চীনের অন্যতম প্রধান এআই সম্মেলনে হুঁশিয়ারি দিয়েছেন এই বলে যে, ওপেন-ওয়েট মডেল একবার বাজারে ছেড়ে দিলে সেটাকে আর ফিরিয়ে নেওয়া যায় না। ফলে এই মডেলগুলোর নিরাপত্তা ব্যবস্থাও কোনো দুর্জন প্রোগ্রামার চাইলে সহজেই সরিয়ে নেওয়ার ঝুঁকি থাকে। “সবচেয়ে যৌক্তিক কাজ হবে এই মডেলগুলোর ঝুঁকির মাত্রা খুব ভালোভাবে পরীক্ষা-নিরীক্ষা করা। যে মডেলগুলো খুব একটা ঝুঁকিপূর্ণ নয়, সেগুলো উন্মুক্ত করে দেওয়া। আর যেগুলো ঝুঁকির নির্ধারিত মাত্রার মধ্যে থাকবে না, সেগুলোকে উন্মুক্ত না করা”, বলেছেন বেনজি।
ভূরাজনীতির হিসাব আছে এখানেও
চীনের এআই মডেলগুলো বাজারে ছাড়ার আগে সেগুলোকে সরকার-নির্ধারিত নিরাপত্তা ও কন্টেন্ট রিভিউর মধ্য দিয়ে যেতে হয়। যদিও বাজারে ছাড়ার পর সেগুলোকে কে কীভাবে মডিফাই করতে পারবে, সে নিয়ে বিধিনিষেধ বর্তমান আইনে নেই।
ইন্ডাস্ট্রির পর্যবেক্ষকদের বিশ্লেষণ, এআই মডেলকে নিরাপত্তাসংক্রান্ত নিয়মকানুন প্রশিক্ষণ দেওয়ার ক্ষেত্রে যে কম্পিউটিং রিসোর্স যুক্তরাষ্ট্রের ওপেনএআই ও অ্যানথ্রপিকের মতো বড় বড় প্রতিষ্ঠানের আছে, সেটা চীনের অধিকাংশ এআই ল্যাবের নেই। ফলে চীনা ল্যাবগুলো বেশি নজর দেয় এআই মডেলের সক্ষমতা বাড়ানোর দিকে। ক্যালিফোর্নিয়াভিত্তিক গবেষণা প্রতিষ্ঠান এমএটিএস-এর রিসার্চ ফেলো ক্রিস্টি লোক গবেষণা করেন চীনের এআই নীতিমালা নিয়ে। তার বিশ্লেষণ, “এমন হতে পারে যে, চীন হয়তো ভবিষ্যতে ফ্রন্টিয়ার মডেলগুলো ওপেন-ওয়েট পদ্ধতিতে বাজারে ছাড়ার ব্যাপারটি পুনর্বিবেচনা করবে। তবে সেটা করতে গেলেও অনেক বড় বাধার মুখে পড়তে হবে।”
এআই নিরাপত্তা নিয়ে গবেষণা করা অনেক বিশ্লেষক বলছেন, যুক্তরাষ্ট্র ও চীন দুই দেশেরই ফ্রন্টিয়ার মডেলগুলোকে বাজারে ছাড়ার আগে আরও কঠোর পরীক্ষা-নিরীক্ষার মধ্য দিয়ে নিয়ে যাওয়া উচিত এবং স্বাধীন তৃতীয় কোনো পক্ষের মূল্যায়নের ব্যবস্থা রাখা উচিত।
ক্রিস্টি লোক বলছেন, “পৃথিবীটা আদর্শ হলে এখানে দুই দেশই আরও নিরাপদ মডেল তৈরির ব্যাপারে একসঙ্গে কাজ করত। বাজারে ছাড়ার আগের পরীক্ষা-নিরীক্ষার ক্ষেত্রে সাধারণ মানদণ্ড ঠিক করা ও সবচেয়ে অত্যাধুনিক মডেলগুলোর ক্ষেত্রে কিছু রেড লাইন ঠিক করার ব্যাপারে একমত হতো।”
যুক্তরাষ্ট্রে এআই মডেল বানানো প্রতিষ্ঠানগুলো চাইলে তাদের বানানো কোনো মডেলকে পরীক্ষা-নিরীক্ষার জন্য সরকারি অর্থায়নে পরিচালিত ‘সেন্টার ফর এআই স্ট্যান্ডার্ড অ্যান্ড ইনোভেশন’ (সিএআইসিআই)-এ জমা দিতে পারে। তবে ব্যাপারটা ঐচ্ছিক। আইনপ্রণেতাদের অনেকেই বলছেন, সরকারি পুনঃমূল্যায়নের ব্যাপারটাকে বাধ্যতামূলক করা উচিত।
চীনা এআই মডেল নিয়েই যুক্তরাষ্ট্রে রায় দুই রকম
ওপেনরাউটার প্ল্যাটফর্মে যুক্তরাষ্ট্রের প্রতিষ্ঠানগুলো যে এআই মডেল ব্যবহার করে, তার ৬০ শতাংশই চীনের তৈরি। যুক্তরাষ্ট্রের সরকারি কর্মকর্তা ও এআই ইন্ডাস্ট্রির কর্মকর্তাদের অনেকে তাই চীনা মডেলগুলোকে নিয়ে কী করা উচিত, তা নিয়ে দ্বিধাবিভক্ত।
ওপেনএআই ও অ্যানথ্রপিকের মতো প্রতিষ্ঠান ওয়াশিংটনের কাছে ধরনা দিচ্ছে, যাতে মার্কিন প্রশাসন কম খরুচে চীনা মডেলগুলোর ব্যাপারে কঠোর হয়। তাদের যুক্তি, চীনা ওই মডেলগুলোর কারণে তাদের ব্যবসায়িক মডেলগুলো যথাযথ দাম পাবে না। ওপেনএআই-এর প্রধান স্ট্র্যাটেজিস্ট ডিন বল সামাজিক যোগাযোগের মাধ্যম এক্স-এ লিখেছেন, “মার্কিন প্রতিষ্ঠানগুলো যাতে চীনা মডেল ব্যবহার কমাতে বাধ্য হয়, সেটা নিশ্চিত করতে হলে ট্রাম্প প্রশাসনের উচিত ওপেন-ওয়েট চীনা মডেলগুলোর ব্যবহারের ক্ষেত্রে নিয়ন্ত্রণকারী সংস্থার দিক থেকে অনেক বেশি পরিমাণে ঝুঁকি বাড়িয়ে দেওয়া।”
হোয়াইট হাউসের এআইবিষয়ক উপদেষ্টা ডেভিড স্যাকস অবশ্য এর সঙ্গে একমত নন। তার মতে, “প্রধান মার্কিন এআই ল্যাবগুলো চায়, সরকার যাতে তাদের হয়ে ওপেন-সোর্স প্রতিদ্বন্দ্বিতা শেষ করে দেয়।” তবে স্যাকসের কথা, প্রতিদ্বন্দ্বিতাটা ন্যায্য হওয়াই উচিত। অন্য এক পোস্টে স্যাকস লিখেছেন, “(চীনা মডেল) কিমি নিয়ে এই প্যানিক বন্ধ হওয়া দরকার।” স্যাকসের বিশ্লেষণ, “যতদিন পর্যন্ত আমরা অপ্রয়োজনীয় নিয়ম জারি করে নিজেদেরই ক্ষতি না করছি, যুক্তরাষ্ট্র জিততেই থাকবে।”