
হুতিদের ঠেকাতে সৌদিকে সামরিক সহায়তা দেবে তুরস্ক?
ইয়েমেনের হুতি বাহিনীর সঙ্গে সংঘাতে সৌদি আরবের সামরিক প্রয়োজন মেটাতে সহায়তা করতে প্রস্তুত বলে জানিয়েছে তুরস্ক। এর ফলে সম্প্রতি সই হওয়া মক্কা প্রতিরক্ষা চুক্তি প্রথম বড় পরীক্ষার মুখে পড়তে পারে।
চরচা ডেস্ক

চীনের প্রেসিডেন্ট সি চিনপিংয়ের সঙ্গে চলতি সপ্তাহে বৈঠকের আগে সাধারণ সময়ের তুলনায় যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পকে কম সংঘাতমুখী অবস্থান নিতে দেখা যাচ্ছে। চীনা বিষয়ক বিশেষজ্ঞদের মতে, গুরুত্বপূর্ণ খনিজের ওপর নিয়ন্ত্রণের কারণে বেইজিংয়ের প্রভাব বাড়ার এটি একটি লক্ষণ।
ট্রাম্প প্রশাসন এখন পর্যন্ত চীনা পণ্যের ওপর বড় ধরনের শুল্ক আরোপের হুমকি দেয়নি বা চীনে আমেরিকান প্রযুক্তি রপ্তানি নিষিদ্ধ করার কথাও বলেনি। আগের শীর্ষ বৈঠকগুলোর আগে নেওয়া আক্রমণাত্মক অবস্থানের তুলনায় এটি ব্যতিক্রম।
বার্তা সংস্থা রয়টার্স এক প্রতিবেদনে এই তথ্য জানিয়েছে।
বিশেষজ্ঞদের মতে, এর প্রধান কারণ বিরল খনিজের ওপর চীনের প্রায় পূর্ণ নিয়ন্ত্রণ। প্রযুক্তি ও গাড়ি উৎপাদনে এসব খনিজ গুরুত্বপূর্ণ কাঁচামাল হিসেবে ব্যবহৃত হয়। গত বছর ট্রাম্পের শুল্কের পাল্টা ব্যবস্থা হিসেবে চীন বিরল খনিজ রপ্তানিতে বিধিনিষেধ আরোপ করলে বিশ্ববাজারে বড় ধরনের অস্থিরতা তৈরি হয়।
বিশেষজ্ঞরা বলছেন, এর ফলে বেইজিংকে হুমকি দেওয়ার ক্ষেত্রে ওয়াশিংটনের সক্ষমতা কার্যত সীমিত এবং যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে চীনের দীর্ঘদিনের প্রযুক্তি যুদ্ধে বেইজিংয়ের অবস্থান শক্তিশালী হয়েছে।
সেন্টার ফর এ নিউ আমেরিকান সিকিউরিটির গবেষক এবং সাবেক বাণিজ্য কর্মকর্তা এমিলি কিলক্রিজ বলেন, “চীনের ক্ষেত্রে যুক্তরাষ্ট্র ও ট্রাম্প প্রশাসন এখন মৌলিকভাবেই ভিন্ন অবস্থানে আছে। চীনের বিরল খনিজ রপ্তানি নিয়ন্ত্রণের কারণে তারা অতিরিক্ত চাপ সৃষ্টি বা সীমা ছাড়িয়ে যাওয়ার কৌশল নিতে পারছে না। কারণ তারা জানে পরে কিছুটা পিছু হটতে হবে।”
হোয়াইট হাউস, বাণিজ্য বিভাগ, যুক্তরাষ্ট্রের বাণিজ্য প্রতিনিধি এবং ওয়াশিংটনে চীনা দূতাবাস রয়টার্সের মন্তব্যের অনুরোধে তাৎক্ষণিকভাবে সাড়া দেয়নি।
পরামর্শক প্রতিষ্ঠান অ্যালিক্সপার্টনার্সের তথ্য অনুযায়ী, বিশ্বের বিরল খনিজের খননকাজের ৭০ শতাংশ পর্যন্ত, পরিশোধন সক্ষমতার ৮৫ শতাংশ এবং বিরল খনিজের ধাতব শংকর ও চুম্বক উৎপাদনের প্রায় ৯০ শতাংশ চীনের নিয়ন্ত্রণে।
ইট্রিয়াম ও ডিসপ্রোসিয়ামের মতো বিরল খনিজ গাড়ি, চিপ ও প্রতিরক্ষা শিল্পের মতো কৌশলগত খাতের জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। সরবরাহব্যবস্থায় এগুলো একটি গুরুত্বপূর্ণ নিয়ন্ত্রণবিন্দু হিসেবে কাজ করে।
আগামী বৃহস্পতিবার হোয়াইট হাউসে ট্রাম্প ও সির বৈঠক হওয়ার কথা। এরপর গুরুত্বপূর্ণ কর্মকর্তা ও প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তাদের অংশগ্রহণে রাষ্ট্রীয় নৈশভোজ অনুষ্ঠিত হবে।
ট্রাম্প প্রশাসন সম্প্রতি চীনের বিরুদ্ধে কিছু পদক্ষেপ নিয়েছে। তবে বিশেষজ্ঞরা বলছেন, আগের হুমকিগুলোর তুলনায় এসব পদক্ষেপ কম আক্রমণাত্মক ছিল এবং শীর্ষ বৈঠকের কয়েক মাস আগেই এগুলো ঘোষণা করা হয়। সম্ভবত বেইজিংকে ক্ষুব্ধ করা এড়াতেই এমনটি করা হয়েছে।
উদাহরণ হিসেবে, জুনে পেন্টাগন আলিবাবা, বিওয়াইডিসহ কয়েকটি কোম্পানির বিরুদ্ধে চীনা সামরিক বাহিনীকে সহায়তার অভিযোগ তোলে। জুলাইয়ে ট্রেজারি সেক্রেটারি স্কট বেসেন্ট আমেরিকান কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার মডেল নকল করে এমন চীনা এআই কোম্পানির বিরুদ্ধে নিষেধাজ্ঞার হুমকি দেন। একই মাসে কথিত মানবাধিকার লঙ্ঘনের অভিযোগে ৪৩টি চীনা কোম্পানির পণ্য আমদানি নিষিদ্ধ করে যুক্তরাষ্ট্র। চীনকে লক্ষ্য করে নতুন বিদেশি রোবট ও পাওয়ার ইনভার্টার আমদানির ওপরও নিষেধাজ্ঞা আরোপ করা হয়।
সাবেক প্রেসিডেন্ট জো বাইডেনের সময় হোয়াইট হাউসের কর্মকর্তা হিসেবে দায়িত্ব পালন করা পিটার হ্যারেল বলেন, “তারা পরিস্থিতি এমন পর্যায়ে নিয়ন্ত্রণে রাখছে, যাতে চীন বড় ধরনের পাল্টা পদক্ষেপ না নেয়।”
তার ভাষায়, “বিরল খনিজ নিয়ে বড় ধরনের সংকটের” পর ট্রাম্প প্রশাসন “চীনের চাপ প্রয়োগের কাছে নিজেদের ঝুঁকিপূর্ণ মনে করছে” এবং গুরুত্বপূর্ণ খনিজের স্থিতিশীলতা ও নিরাপদ সরবরাহ নিশ্চিত করতে চাইছে।
বাণিজ্য ও প্রযুক্তি যুদ্ধ
ট্রাম্প প্রথমবার প্রেসিডেন্ট হওয়ার সময় থেকেই যুক্তরাষ্ট্র ও চীন বাণিজ্য ও প্রযুক্তি নিয়ে বিরোধে জড়িয়ে আছে। দুই দেশের শীর্ষ বৈঠকের আগে প্রায়ই উত্তেজনা বাড়ে এবং বৈঠকের পর তা দ্রুত কমে আসে।
এর একটি প্রাথমিক উদাহরণ ২০১৯ সালে জাপানের ওসাকায় সির সঙ্গে ট্রাম্পের বৈঠকের সময় দেখা যায়। চীন যুক্তরাষ্ট্রের কৃষিপণ্য কেনার বিষয়ে একটি অনির্দিষ্ট পরিমাণের প্রতিশ্রুতি দেওয়ার পর ট্রাম্প ৩০ হাজার কোটি ডলারের চীনা পণ্যের ওপর শুল্ক আরোপের হুমকি থেকে সরে আসেন এবং চীনা টেলিকম জায়ান্ট হুয়াওয়ের ওপর রপ্তানি বিধিনিষেধও কিছুটা শিথিল করেন।
প্রায় এক বছর আগে, ২০২৫ সালের অক্টোবরে দক্ষিণ কোরিয়ার বুসানে বৈঠকে সি বিরল খনিজের ওপর নিয়ন্ত্রণ স্থগিত এবং যুক্তরাষ্ট্র থেকে সয়াবিন কেনা পুনরায় শুরুর বিষয়ে সম্মত হন। এর বিনিময়ে ট্রাম্প শুল্ক ১০ শতাংশ কমান এবং হাজার হাজার চীনা কোম্পানির ওপর রপ্তানি নিয়ন্ত্রণ স্থগিত রাখেন। দুই পক্ষই ওই শীর্ষ বৈঠককে সফল বলে ঘোষণা করে।
তবে চলতি বছরের মে মাসে বেইজিংয়ে সির সঙ্গে বৈঠকের আগে ট্রাম্প আবারও বড় ধরনের বাণিজ্য হুমকি দেন। বেইজিং ইরানকে নতুন বিমান প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা দেওয়ার পরিকল্পনা করছে—এমন একটি প্রতিবেদনের পর তিনি চীনের ওপর নতুন করে ৫০ শতাংশ শুল্ক আরোপের কথা বলেন।
হাউস অব রিপ্রেজেন্টেটিভসের চায়না সিলেক্ট কমিটির চেয়ারম্যান জন মুলেনারের মতো রিপাবলিকান আইনপ্রণেতারা আগামী সপ্তাহের বৈঠকের আগে ওয়াশিংটনের সাম্প্রতিক পদক্ষেপের প্রশংসা করেছেন। রয়টার্সকে দেওয়া এক বিবৃতিতে তিনি বলেন, “প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প শক্তিশালী অবস্থান থেকে এই শীর্ষ বৈঠকে যাচ্ছেন।”
তবে ক্রাউডস্ট্রাইকের সহপ্রতিষ্ঠাতা এবং ওয়াশিংটনভিত্তিক ভূরাজনৈতিক গবেষণাপ্রতিষ্ঠান সিলভারাডো পলিসি অ্যাক্সেলারেটরের সহপ্রতিষ্ঠাতা দিমিত্রি আলপেরোভিচ মনে করেন, গুরুত্বপূর্ণ খনিজের বিকল্প সরবরাহ নিশ্চিত না হওয়া পর্যন্ত ওয়াশিংটন থেকে কম আক্রমণাত্মক পদক্ষেপই দেখা যেতে পারে।
যুক্তরাষ্ট্র-চীন প্রতিযোগিতা নিয়ে গত সপ্তাহের এক অনুষ্ঠানে তিনি বলেন, “গত বছর বুসানের পর থেকে একটি অস্বস্তিকর যুদ্ধবিরতি চলছে, যা আমার ধারণা বজায় থাকবে।”

হুতিদের ঠেকাতে সৌদিকে সামরিক সহায়তা দেবে তুরস্ক?
ইয়েমেনের হুতি বাহিনীর সঙ্গে সংঘাতে সৌদি আরবের সামরিক প্রয়োজন মেটাতে সহায়তা করতে প্রস্তুত বলে জানিয়েছে তুরস্ক। এর ফলে সম্প্রতি সই হওয়া মক্কা প্রতিরক্ষা চুক্তি প্রথম বড় পরীক্ষার মুখে পড়তে পারে।

ফের বাড়ল তেলের দাম, চাপে সাধারণ মানুষ
দেশে জ্বালানি তেলের দাম একলাফে সবচেয়ে বেশি বাড়ানো হয়েছিল ২০২২ সালের আগস্টে। তৎকালীন আওয়ামী লীগ সরকার ওই বছর ডিজেলের দাম লিটারপ্রতি ৩৪ টাকা বাড়িয়ে ১১৪ টাকা নির্ধারণ করেছিল। পরে সমালোচনার মুখে ৫ টাকা কমানো হয়। এরপর থেকে জ্বালানি তেলের দাম নানা কারণে ঊর্ধ্বমুখী।

মক্কা চুক্তির প্রথম পরীক্ষা
ইয়েমেন সংকট বর্তমানে দেশটির সীমানা ছাড়িয়ে বৃহত্তর আঞ্চলিক নিরাপত্তাহীনতা তৈরি করেছে। হুতিদের আগ্রাসনের জবাবে সৌদি আরব পাঁচ দিনে প্রায় তিন শ বিমান হামলা চালিয়েছে এবং নিজ ভৌগোলিক ভূখণ্ডে যেকোনো আঘাতের বিরুদ্ধে কঠোর পদক্ষেপ নেওয়ার প্রতিশ্রুতি দিয়েছে।

চিরনিদ্রায় অপ্রতিম: অনেক প্রশ্নের জবাব মেলেনি
শুক্রবার রাতটি ছিল কুমিল্লা বিশ্ববিদ্যালয়ের বাংলা বিভাগের সহযোগী অধ্যাপক ড. নাহিদা বেগম ও মোবাইল ফোন যন্ত্রাংশ ব্যবসায়ী ইয়েসটেকের স্বত্বাধিকারী কে এম ফিরোজ শাহরিয়ারের দম্পতির জন্য আকুতির, উৎকণ্ঠার। শনিবার সকালের পর যতই বেলা বাড়ছিল, তা হয়ে উঠল ওদের জন্য বিবর্ণ। দুপুরের দিকে তা রূপ নিল আর্তন