মাধ্যমিক স্কুল সার্টিফিকেট (এসএসসি) পরীক্ষায় যশোর শিক্ষা বোর্ডের অধীনে চলতি বছর খুলনাঞ্চলের ১১টি বিদ্যালয় থেকে কোনো শিক্ষার্থী পাশ করতে পারেনি। আজ সোমবার যশোর মাধ্যমিক ও উচ্চ মাধ্যমিক শিক্ষা বোর্ড সূত্রে এই তথ্য জানা গেছে।
সূত্রটি জানায়, খুলনার ডুমুরিয়া উপজেলার কাটেঙ্গা মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের চারজন ছাত্র এবারের এসএসসি পরীক্ষায় অংশ নিয়ে ফেল করেছে। এর কারণ হিসেবে ভারপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষক আব্দুল হালিম সরদার বলেন, “তারা লেখাপড়ায় অমনোযোগী ছিল এবং তাদের অভিভাবকরাও উদাসীন। শত চেষ্টা করেও তাদের পাশ করানো যায়নি।”
এছাড়া, বাগেরহাটের শরণখোলার ডি এন একতা গার্লস হাই স্কুল থেকে দুজন পরীক্ষায় অংশ নিয়ে পাশ করতে পারেনি। খুলনা মহানগরীর খালিশপুরের আসমা সরোয়ার ইসলামিক হাই স্কুল থেকে চারজন ও ডুমুরিয়া উপজেলার কাটেঙ্গা মাধ্যমিক বিদ্যালয় থেকে চারজন পরীক্ষায় অংশগ্রহণ করে সবাই ফেল করেছে।
যশোর বোর্ডের তথ্য অনুযায়ী, চলতি বছরের এসএসসি পরীক্ষায় সাতক্ষীরা নাইশা মাধ্যমিক স্কুল থেকে সাত জন অংশ নিয়েছিল, তারা সবাই ফেল করেছে। এছাড়া, আশাশুনির গোদাড়া মাধ্যমিক বিদ্যালয় থেকে চারজন, শ্যামনগরের সাহেবখালি সিদ্দিক গাজী মাধ্যমিক বিদ্যালয় থেকে চারজন, দেবহাটার বাবুরাবাদ ধাপুখালি মাধ্যমিক বিদ্যালয় থেকে চারজন অংশ নিয়ে শতভাগ অকৃতকার্য হয়েছে।
এদিকে, যশোরের মণিরামপুর চাঁনদুয়া সমাসকাটি গার্লস হাই স্কুল থেকে তিনজন, হেলাঞ্চি কৃষ্ণবাটি মাধ্যমিক গার্লস স্কুল থেকে একজন, শার্শার সারাতলা জুনিয়র গার্লস হাই স্কুল থেকে দুজন ও মুক্তিযোদ্ধা জি কে জি এস মাধ্যমিক বালিকা বিদ্যালয় থেকে একজন পরীক্ষায় অংশ নিলেও কেউ পাস করেনি।
শূন্য পাসের বিষয়ে যশোর মাধ্যমিক ও উচ্চ মাধ্যমিক শিক্ষা বোর্ডের পরীক্ষা নিয়ন্ত্রক অধ্যাপক এস এম হোসেন আলী চরচাকে বলেন, “যশোর বোর্ডের অধীনে খুলনাঞ্চলের ১১টি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের কোনো পরীক্ষার্থী পাশ করেনি। এর মধ্যে যশোরে চার, সাতক্ষীরায় চার, খুলনায় দুই ও বাগেরহাটে একটি স্কুল রয়েছে।”
তিনি বলেন, “বিষয়টি গুরুত্বের সঙ্গে দেখছে শিক্ষা বোর্ড। শূন্য পাস করা ১১টি প্রতিষ্ঠানকে আগামী ২৪ ঘণ্টার মধ্যে কারণ দর্শানোর নোটিশ দেওয়া হবে। শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানগুলোর একাডেমিক দুর্বলতা কিংবা শিক্ষকদের গাফিলতির প্রমাণ পাওয়া গেলে বিধি অনুযায়ী ব্যবস্থা নেওয়া হবে। প্রয়োজনে সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠানের স্বীকৃতি বাতিলের বিষয়টিও বিবেচনা করা হবে।”