
হুতিদের সামরিক মুখপাত্র ইয়াহিয়া সারি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্সে এক পোস্টে বলেছেন, তারা একটি ড্রোন দিয়ে শোধনাগারটিতে হামলা চালিয়েছে। এর আগে জাজান ও লোহিত সাগরের তীরবর্তী ইয়ানবুতেও আরামকোর স্থাপনায় হামলা চালিয়েছিল হুতিরা।

যুক্তরাষ্ট্রের কর্মকর্তারা বারবার বলেছেন, জ্বালানি সরবরাহের জন্য বিশ্বের সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ বাণিজ্যপথে প্রবেশাধিকার নিয়ন্ত্রণের ক্ষমতা ইরানকে দেওয়ার বিষয়ে তারা কখনোই সম্মত হবেন না। তবে প্রস্তাবিত চুক্তির শর্তগুলো পরিবর্তনের জন্য তারা কোনো উদ্যোগ নিয়েছেন কি না, তা স্পষ্ট নয়।

বেশ কয়েক বছর ধরে একটা কথা শোনা গিয়েছিল যে, ইরান পারমাণবিক অস্ত্র তৈরির চেষ্টা করছে। কিন্তু গত পাঁচ মাসের যুদ্ধ দেশটির শাসকদের বুঝিয়ে দিয়েছে, তাদের হাতে এরই মধ্যে একটি শক্তিশালী অস্ত্র আছে। সেটি হলো ভৌগোলিক অবস্থান। ইরানের অবস্থান ও সামরিক শক্তির কারণে দেশটি হরমুজ প্রণালির ওপর কার্যত নিয়ন্ত্রণ প

ইয়েমেনের বিদ্রোহী গোষ্ঠী হুতির নেতা আব্দুল-মালিক আল-হুতি তার বক্তব্যের ক্ষেত্রে কোনো রাখঢাক রাখেন না। গত ১৬ জুলাই, উত্তর-পশ্চিম ইয়েমেনের বেশিরভাগ অংশ নিয়ন্ত্রণকারী শিয়া মিলিশিয়া গোষ্ঠী 'হুতি'-র নেতা তার দীর্ঘদিনের শত্রু সৌদি আরবের বিরুদ্ধে এক অভিযানের প্রতিশ্রুতি দেন

লোহিত সাগরে জাহাজ চলাচলের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে নতুন একটি আন্তর্জাতিক জোট গঠনের উদ্যোগ নিয়েছে সৌদি আরব। ইতোমধ্যে বাংলাদেশসহ ১৩টি দেশ এতে যোগ দিতে সম্মত হয়েছে। কিন্তু কেন হঠাৎ এই জোট? কেন লোহিত সাগর এখন বিশ্ব বাণিজ্য ও জ্বালানি নিরাপত্তার জন্য এত গুরুত্বপূর্ণ?

লোহিত সাগরে জাহাজে চলাচলে নিরাপত্তা নিশ্চিতে একটি একটি আন্তর্জাতিক জোট গঠনের উদ্যোগ নিয়েছে সৌদি আরব। এই নৌপথে ইয়েমেনের ইরান-সমর্থিত হুতিদের হামলা ঠেকানোর জন্য করা জোটে যোগ দেওয়ার জন্য অনেক দেশকে আমন্ত্রণ হয়। স্থানীয় সময় বৃহস্পতিবার রাতে সৌদি জানায়, ইতোমধ্যে ১৩টি দেশ এতে যোগ দিতে সম্মত হয়েছে।

ওয়াশিংটন ইনস্টিটিউটের চীনবিষয়ক বিশেষজ্ঞ হেনরি টুগেনডহাট রয়টার্সকে বলেন, বেইজিংয়ের প্রধান লক্ষ্য হলো অঞ্চলের সব পক্ষের সঙ্গে সম্পর্ক বজায় রাখা। কোনো এক পক্ষের প্রকাশ্য সমর্থন দিয়ে কূটনৈতিক ক্ষতির ঝুঁকি নিতে চায় না তারা।

নৌপথের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে বাংলাদেশসহ ১৩টি দেশের সঙ্গে একটি বহুজাতিক সামুদ্রিক সামরিক জোট গঠন করেছে সৌদি আরব। বাব এল-মান্দেব প্রণালি, লোহিত সাগর ও এডেন উপসাগরে নৌচলাচলের স্বাধীনতা নিশ্চিত করতে এ জোট গঠন করা হয়েছে।

গত সপ্তাহে হুতিরা লোহিত সাগর ছেড়ে যাওয়া অন্তত দুটি সৌদি তেলবাহী জাহাজে হামলা চালিয়েছে। এ সপ্তাহে তারা সৌদি আরবের তেল স্থাপনাতেও হামলা করেছে। ফলে বাব এল-মান্দেব প্রণালি দিয়ে চলাচলকারী জাহাজের সংখ্যা কয়েক মাসের মধ্যে সর্বনিম্ন পর্যায়ে নেমে এসেছে।

হুতি বিদ্রোহীরা মঙ্গলবার জাহাজ মালিকদের কাছে পাঠানো এক চিঠিতে হুঁশিয়ারি দিয়ে বলেছে, সৌদি তেল বোঝাই বা খালাস করে, এমন যেকোনো জাহাজে তারা হামলা চালাবে।

এক বিবৃতিতে হুথিদের সশস্ত্র বাহিনী জানায়, ‘চোখের বদলে চোখ’ নীতির ভিত্তিতে তারা ‘অপরাধী সৌদি শত্রুর বিরুদ্ধে সামুদ্রিক অবরোধ’ ঘোষণা করছে, যা তাৎক্ষণিকভাবে কার্যকর হবে।

যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে যুদ্ধের শুরু থেকেই হরমুজ প্রণালির নিয়ন্ত্রণ নিজেদের হাতে রেখেছে ইরান। ইরান ও যুক্তরাষ্ট্রের পাল্টাপাল্টি অবরোধে প্রণালিটি দিয়ে জাহাজ চলাচল কার্যত আটকে রয়েছে। সম্প্রতি দুই দেশের মধ্যে উত্তেজনা আবার বাড়ার পর ইরান এখন তাদের সবচেয়ে বিপজ্জনক চালটি চালার ইঙ্গিত দিচ্ছে।

ইরানের সমর্থনে ইয়েমেন থেকে ইসরায়েলে ক্ষেপণাস্ত্র হামলা চালানোর পর হুতি সামরিক শাখা থেকে এ ঘোষণা এল।

একই বছরের মে মাসে ইউরোপীয় ইউনিয়নের ‘অপারেশন অ্যাসপাইডস’ নামের নৌ অভিযানে জাহাজ ও সরঞ্জামের ঘাটতির কারণে কার্যত ব্যর্থতা দেখা দেয়। কর্মকর্তারা তখন সতর্ক করেছিলেন যে তারা আর বাব আল-মান্দাব প্রণালির নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে পারছেন না।

ইরান ও আমেরিকা-ইসরায়েল দ্বন্দ্বে উত্তাল মধ্যপ্রাচ্যের প্রভাব এখন বিশ্ব বাণিজ্যের গণ্ডি ছাড়িয়ে সাধারণ ব্যবসায়ীদের দোরগোড়ায়। লোহিত সাগর ও হরমুজ প্রণালীতে জাহাজ জটের কারণে জাপান ও দক্ষিণ কোরিয়ার বিলিয়ন ডলারের গাড়ি রপ্তানি খাত মুখ থুবড়ে পড়েছে।