ads

সৌদি আরবের বিরুদ্ধে নৌ অবরোধের ঘোষণা ইয়েমেনের হুথিদের

চরচা ডেস্ক
চরচা ডেস্ক
সৌদি আরবের বিরুদ্ধে নৌ অবরোধের ঘোষণা ইয়েমেনের হুথিদের
ইয়েমেনের বাব আল-মান্দেব প্রণালির উপকূলবর্তী জলসীমায় চলাচল করছে নৌযান। ২ এপ্রিল ২০২৬। ছবি: রয়টার্স

ইরান-সমর্থিত ইয়েমেনের হুথি বিদ্রোহীরা সৌদি আরবের বিরুদ্ধে আজ সোমবার নৌ অবরোধের ঘোষণা দিয়েছে। এ পদক্ষেপকে ইরানের বিরুদ্ধে চলমান যুদ্ধে যুক্তরাষ্ট্রের বিপক্ষে নতুন একটি ফ্রন্ট খোলা এবং উপসাগরীয় অঞ্চলের বাইরে বৈশ্বিক জ্বালানি সরবরাহ ও বাণিজ্যের জন্য হুমকি হিসেবে দেখা হচ্ছে।

বার্তা সংস্থা রয়টার্স এক প্রতিবেদনে এই তথ্য জানিয়েছে।

Advertisement

যুক্তরাষ্ট্র যদি ইরানের বিদ্যুৎ ও জ্বালানি অবকাঠামোতে হামলা অব্যাহত রাখে, তাহলে লোহিত সাগরের প্রবেশদ্বার বাব আল-মান্দেব প্রণালি বন্ধ করে দেওয়ার জন্য হুথিদের ওপর চাপ দিয়েছিল তেহরান।

এক বিবৃতিতে হুথিদের সশস্ত্র বাহিনী জানায়, ‘চোখের বদলে চোখ’ নীতির ভিত্তিতে তারা ‘অপরাধী সৌদি শত্রুর বিরুদ্ধে সামুদ্রিক অবরোধ’ ঘোষণা করছে, যা তাৎক্ষণিকভাবে কার্যকর হবে।

তারা দাবি করে, সৌদি আরব ইয়েমেনের ওপর যে ‘অন্যায় ও নিপীড়নমূলক অবরোধ’ আরোপ করেছে, তার জবাব হিসেবেই এই সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।

এ বিষয়ে সৌদি আরবের পক্ষ থেকে তাৎক্ষণিক কোনো প্রতিক্রিয়া পাওয়া যায়নি।

বিশ্লেষকদের মতে, বাব আল-মান্দেব প্রণালি পুরোপুরি বন্ধ হয়ে গেলে বিশ্বের মোট তেল সরবরাহ প্রায় ৭ শতাংশ কমে যেতে পারে। কারণ এতে সৌদি আরবের অধিকাংশ তেল রপ্তানি অঞ্চল ছেড়ে বাইরে যেতে পারবে না। এতে উপসাগরীয় যুদ্ধের কারণে ইতিমধ্যে বৈশ্বিক তেল সরবরাহে যে ১০ শতাংশ হ্রাস ঘটেছে, তার সঙ্গে আরও বড় ধরনের চাপ যুক্ত হবে।

যুদ্ধবিরতি পুনরুদ্ধারে কূটনৈতিক তৎপরতা

হুথিদের এই ঘোষণার আগে ইরান ও যুক্তরাষ্ট্র-দুই পক্ষ থেকেই হামলা-পাল্টা হামলার ক্রমবর্ধমান চক্র থামাতে কূটনৈতিক প্রচেষ্টা পুনরায় শুরুর ইঙ্গিত পাওয়া যায়। গত মাসে স্বাক্ষরিত একটি নাজুক অন্তর্বর্তী সমঝোতা প্রায় ভেঙে পড়ার মুখে রয়েছে।

ইরানের এক জ্যেষ্ঠ কর্মকর্তা সোমবার রয়টার্সকে জানান, মধ্যস্থতাকারীরা ১০ দিনের যুদ্ধবিরতির একটি প্রস্তাব তেহরানের কাছে পৌঁছে দিয়েছেন। এর উদ্দেশ্য গত মাসের অন্তর্বর্তী চুক্তিটি টিকিয়ে রাখা এবং ২৮ ফেব্রুয়ারি যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের ইরানবিরোধী হামলার মধ্য দিয়ে শুরু হওয়া যুদ্ধের স্থায়ী সমাধানের পথ তৈরি করা।

তবে ইরানের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় কিংবা রয়টার্সের সঙ্গে কথা বলা ওই কর্মকর্তা সম্ভাব্য যুদ্ধবিরতি নিয়ে আলোচনার বিষয়ে আর কোনো বিস্তারিত তথ্য দেননি।

অন্যদিকে পাকিস্তান সরকারের দুটি সূত্র জানিয়েছে, এক সপ্তাহেরও কম সময়ের মধ্যে দ্বিতীয়বারের মতো ইসলামাবাদ সফরে গিয়ে ইরানের স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী এসকান্দার মোমেনি যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে ইরানের সংঘাত নিরসনে মধ্যস্থতাকারী হিসেবে পাকিস্তানকে আবারও সক্রিয় ভূমিকা পালনের অনুরোধ জানিয়েছেন।

সম্পর্কিত