ইয়েমেনের বিদ্রোহী হুতিরা সৌদি আরবের আরামকোর জাজান তেল শোধনাগারে হামলা চালানোর দাবি করেছে। আজ রোববার এই হামলা চালানো হয় বলে জানিয়েছে বিদ্রোহী গোষ্ঠীটি। তুরস্ক ও পাকিস্তানের সঙ্গে সৌদি আরব একটি প্রতিরক্ষা চুক্তি স্বাক্ষর করার দুই দিনের মধ্যেই এ হামলার দাবি করল হুতিরা।
সৌদি আরবের জ্বালানি মন্ত্রণালয় জানিয়েছে, শোধনাগারটিতে আগুন লেগেছিল এবং পরে তা নিভিয়ে ফেলা হয়েছে। তবে আগুন লাগার কারণ সম্পর্কে মন্ত্রণালয় কিছু জানায়নি। সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ ঘটনাটি মোকাবিলায় প্রয়োজনীয় কার্যক্রম সম্পন্ন করছে বলেও জানানো হয়েছে।
বার্তা সংস্থা রয়টার্স এক প্রতিবেদনে এই তথ্য জানিয়েছে।
সৌদি আরবের দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চলে অবস্থিত এই শোধনাগারটি প্রতিদিন ৪ লাখ ব্যারেল অপরিশোধিত তেল প্রক্রিয়াজাত করতে পারে। আগুনের ঘটনায় কেউ আহত হয়নি বলে মন্ত্রণালয় জানিয়েছে।
হুতিদের সামরিক মুখপাত্র ইয়াহিয়া সারি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্সে এক পোস্টে বলেছেন, তারা একটি ড্রোন দিয়ে শোধনাগারটিতে হামলা চালিয়েছে। এর আগে জাজান ও লোহিত সাগরের তীরবর্তী ইয়ানবুতেও আরামকোর স্থাপনায় হামলা চালিয়েছিল হুতিরা।
২৮ ফেব্রুয়ারি যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েল ইরানে হামলা চালানোর পর আঞ্চলিক উত্তেজনা ব্যাপকভাবে বেড়ে যায়। এরপর থেকে ইরান ও তার মিত্র শিয়া মুসলিম সশস্ত্র গোষ্ঠীগুলো সৌদি আরবসহ উপসাগরীয় দেশগুলোতে হামলা এবং এসব দেশের জ্বালানি পরিবহন বাধাগ্রস্ত করে আসছে।
বিশ্বের শীর্ষ তেল রপ্তানিকারক প্রতিষ্ঠান আরামকোর প্রধান নির্বাহী আমিন নাসের গত সপ্তাহে বলেছিলেন, সাম্প্রতিক হামলায় কোম্পানিটির কয়েকটি স্থাপনায় উৎপাদন কিছুটা ব্যাহত হয়েছে। তবে দ্রুত কার্যক্রম স্বাভাবিক করা সম্ভব হবে বলে তিনি আশাবাদী। তার ভাষ্য, এসব হামলার কারণে কোম্পানির কার্যক্রম বা আর্থিক অবস্থায় উল্লেখযোগ্য কোনো প্রভাব পড়েনি।
বিশ্বজুড়ে জ্বালানি সরবরাহে বিঘ্ন এবং বৈশ্বিক অর্থনীতিতে অস্থিরতা সৃষ্টি করা এসব হামলার পর সৌদি আরব শুক্রবার যুক্তরাষ্ট্রের মিত্র দুই সুন্নি মুসলিম দেশ তুরস্ক ও পাকিস্তানের সঙ্গে একটি জোট গঠন করে।
চুক্তিটির লক্ষ্য যেকোনো ধরনের আগ্রাসনের বিরুদ্ধে সম্মিলিত প্রতিরোধ ব্যবস্থা শক্তিশালী করা। এতে বলা হয়েছে, তিন দেশের যেকোনো একটির ওপর সশস্ত্র হামলা হলে সেটিকে তিন দেশের সবার ওপর হামলা হিসেবে বিবেচনা করা হবে।
গত মাসে লোহিত সাগরে সৌদি আরবের বিরুদ্ধে নৌ অবরোধের ঘোষণা দেয় হুতিরা। ইয়েমেনের ওপর সৌদি অবরোধের অভিযোগ তুলে তারা এ পদক্ষেপ নেয়। তবে রিয়াদ এ অভিযোগ অস্বীকার করেছে।