
‘রিভার্স ভ্যাকেশন’ কেন দরকার
দূরের কোনো গ্রাম। পাহাড়ের সাধারণ কোনো হোমস্টে। শহরের বাইরে ছোট কোনো কেবিন। মূলত, বিলাসিতা নয়, শুধু প্রয়োজনীয় সুবিধা আছে, এমন কোনো জায়গা বেছে নেওয়া।

ডায়াবেটিসের দুইটি ধরন সম্পর্কে আমরা পরিচিত। টাইপ-১ ও টাইপ-২। এছাড়া গর্ভকালীন অবস্থায় গেস্টেশনাল ডায়াবেটিস হয়ে থাকে অনেকের। তবে নতুন করে আলোচনায় এসেছে এই রোগের আরেকটি ধরন। টাইপ-৫ ডায়াবেটিস।
টাইপ-৫ ডায়াবেটিস কী
২০২৫ সালের এপ্রিলে অনুষ্ঠিত ‘ওয়ার্ল্ড ডায়াবেটিস কংগ্রেস’-এ ইন্টারন্যাশনাল ডায়াবেটিস ফেডারেশন (আইডিএফ) পুষ্টিহীনতাজনিত ডায়াবেটিসকে ‘টাইপ-৫ ডায়াবেটিস’ হিসেবে শ্রেণিবদ্ধ করার প্রস্তাব দেয়। ওই একই বছরের নভেম্বরে দ্য ল্যানসেট আঞ্চলিক স্বাস্থ্য:আমেরিকা-এ প্রকাশিত একটি ইতিহাসবিষয়ক গবেষণাপত্র অনুযায়ী, ১৯৫৫ সালে জামাইকায় প্রথম এই রোগটিকে শনাক্ত হয়। শুরুতেই এটি ‘জে-টাইপ ডায়াবেটিস’ নামে পরিচিত ছিল। এর ত্রিশ বছর পর, ১৯৮৫ সালে বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা (ডব্লিউএইচও) পুষ্টিহীনতাজনিত ডায়াবেটিসকে একটি স্বতন্ত্র রোগ হিসেবে স্বীকৃতি দেয়। তবে ১৯৯৯ সালে সংস্থাটি তাদের ডায়াবেটিসের শ্রেণিবিন্যাস তালিকা থেকে এই রোগটিকে বাদ দেওয়ার সিদ্ধান্ত নেয়।
কেন হয় টাইপ-৫ ডায়াবেটিস
দ্য ল্যানসেট গ্লোবাল হেলথ-এ প্রকাশিত একটি প্রতিবেদন অনুযায়ী, টাইপ-৫ ডায়াবেটিস হলো এমন এক ধরনের ডায়াবেটিস যা শৈশব বা কৈশোরের শুরুতেই অপুষ্টি কিংবা পর্যাপ্ত পুষ্টির অভাবে হয়ে থাকে। এ ধরনের রোগীরা সাধারণত খুব রোগা হন এবং শরীরে চর্বির পরিমাণও কম থাকে।
টাইপ-২ ডায়াবেটিসের তুলনায় টাইপ-৫ ডায়াবেটিসে আক্রান্ত ব্যক্তিদের ইনসুলিন নিঃসরণে অধিক মাত্রায় ত্রুটি দেখা যায়। তবে ওই প্রতিবেদন অনুসারে, টাইপ-১ ডায়াবেটিসে আক্রান্তদের তুলনায় টাইপ-৫ ডায়াবেটিসে আক্রান্ত প্রাপ্তবয়স্কদের বিটা-সেলের (ইনসুলিন উৎপাদনকারী কোষ) কার্যক্ষমতা কিছুটা হলেও ভালো থাকে।
অর্থাৎ, এটি টাইপ-১ ডায়াবেটিসের মতো অটোইমিউন রোগ নয় এবং টাইপ-২ ডায়াবেটিসের মতো স্থূলতা বা ইনসুলিন রেজিস্ট্যান্সও এর প্রধান কারণ নয়। গবেষণায় জানা যায়, পর্যাপ্ত প্রোটিন ও ক্যালরির অভাবে অগ্ন্যাশয়ের স্বাভাবিক বৃদ্ধি ও কার্যকারিতা ব্যাহত হতে পারে। ফলে ইনসুলিন উৎপাদনের ক্ষমতা কমে যায়।
কারা বেশি ঝুঁকিতে
টাইপ-৫ ডায়াবেটিস প্রধানত নিম্ন ও মধ্যম আয়ের দেশগুলোতে বেশি দেখা যেতে পারে। যেখানে শৈশবের অপুষ্টি এখনো একটি বড় জনস্বাস্থ্য–সমস্যা। বাংলাদেশ, ভারত, নেপাল এবং আফ্রিকার অনেক দেশে এ ধরনের রোগী থাকতে পারে।
বিবিসির এক প্রতিবেদন থেকে জানা যায়, ২০২৩ সালে ‘ডায়াবেটিস কেয়ার’-এ প্রকাশিত একটি গবেষণায়, যুক্তরাষ্ট্রের ২৬ লাখেরও বেশি প্রাপ্তবয়স্ক মানুষের কাছ থেকে পাওয়া তথ্যের ভিত্তিতে দেখা যায়, স্থূল নয় এমন মানুষের মধ্যে তথাকথিত ‘লিন ডায়াবেটিস’, যাকে বলা যেতে পারে অপুষ্টির কারণে ডায়াবেটিস, এর হার বাড়ছে।
আমাদের দেশে অনেক রোগা ও তরুণ ডায়াবেটিস রোগীকে ভুল করে টাইপ-১ বা টাইপ-২ ডায়াবেটিস হিসেবে চিকিৎসা দেওয়া হয়। ফলে চিকিৎসার ফল আশানুরূপ হয় না।
লক্ষণ কী
এর লক্ষণ অন্যান্য ডায়াবেটিসের মতোই। টাইপ-৫ এর সাধারণ লক্ষণগুলোর মধ্যে রয়েছে— অতিরিক্ত পিপাসা, বারবার প্রস্রাব, ওজন কমে যাওয়া, দুর্বলতা, ক্লান্তি, মুখে দুর্গন্ধ ও ঝাপসা দেখা। এর কিছু দীর্ঘমেয়াদি লক্ষণ রয়েছে। যেমন— সারতে না চাওয়া ক্ষত, বারবার হতে থাকা অনেকদিনের পুরনো ইনফেকশন, হৃদপিণ্ড ও কিডনির সংক্রমণ, স্নায়ুজনিত রোগ, দুর্বল রক্ত সঞ্চালন, ঘা বা আলসার, অন্ধত্ব ইত্যাদি।
তবে রোগীর শারীরিক গঠন, অপুষ্টির ইতিহাস এবং কিছু পরীক্ষার মাধ্যমে চিকিৎসক টাইপ-৫ ডায়াবেটিসের সম্ভাবনা বিবেচনা করতে পারেন।
চিকিৎসার বিশেষত্ব
টাইপ-৫ ডায়াবেটিসের চিকিৎসা শুধু রক্তে শর্করা কমানো নয়; পুষ্টির ঘাটতি পূরণ এবং সুষম খাদ্য নিশ্চিত করা চিকিৎসার একটি গুরুত্বপূর্ণ অংশ। অনেক ক্ষেত্রে মুখে খাওয়ার ওষুধ কার্যকর হতে পারে, আবার কারও ইনসুলিনেরও প্রয়োজন হতে পারে। তাই রোগভেদে ব্যক্তিকেন্দ্রিক চিকিৎসা অত্যন্ত জরুরি।

দূরের কোনো গ্রাম। পাহাড়ের সাধারণ কোনো হোমস্টে। শহরের বাইরে ছোট কোনো কেবিন। মূলত, বিলাসিতা নয়, শুধু প্রয়োজনীয় সুবিধা আছে, এমন কোনো জায়গা বেছে নেওয়া।

হঠাৎ তীব্র মাথাব্যথা শুরু হলে সবাই চায় এর থেকে নিরাময় পেতে। ব্যথা বেড়ে যন্ত্রণাদায়ক পর্যায়ে গেলে অনেক সময় আমাদের গুরুত্বপূর্ণ কাজ বাদ দিয়ে দিতে হয়।
সব মিষ্টি খাবার শরীরের জন্য সমান ক্ষতিকর নয়। তবে পরিশোধিত চিনি দিয়ে তৈরি ক্যান্ডি, কোমল পানীয় ও অতিরিক্ত প্রক্রিয়াজাত খাবার যতটা সম্ভব এড়িয়ে চলা ভালো।

পরিবারের বাইরে আমাদের জীবনে যার গুরুত্ব সবচেয়ে বেশি, তাকে আমরা বন্ধু বলি। মনের কথা প্রকাশের জন্য আমাদের সবচেয়ে বড় নির্ভরতার নাম বন্ধু। ভালো বা খারাপে, সুখে কিংবা দুঃখে, আনন্দে বা বিষণ্নতায় যার কথা সবার আগে মাথায় আসে, সে আমাদের বন্ধু।