বাংলাদেশ ব্যাংক এবং বিভিন্ন বাণিজ্যিক ব্যাংক যৌথভাবে আরও ৪২টি শীর্ষ ঋণখেলাপির বিদেশে পাচার করা অর্থ উদ্ধারে কার্যক্রম শুরু করেছে।
পূর্বে চিহ্নিত অগ্রাধিকারপ্রাপ্ত ১১টি শিল্প গ্রুপের পর এবার এই ৪২টি প্রতিষ্ঠানকে লক্ষ্য করে কার্যক্রম চালানো হবে। দ্বিতীয় ধাপে বাংলাদেশ ব্যাংকের সিআইবি ডাটাবেজ থেকে ২০০ কোটি টাকার বেশি খেলাপি ঋণ থাকা এই ৪২টি প্রতিষ্ঠানকে চিহ্নিত করে কাজ শুরু হচ্ছে। বাংলাদেশ ব্যাংক সূত্রে এসব তথ্য জানা গেছে।
জানা গেছে, গোপন অর্থ ও সম্পদ খুঁজে বের করতে বিশ্বের খ্যাতনামা ৮টি আন্তর্জাতিক আইনি ও পরামর্শক প্রতিষ্ঠানের সঙ্গে চুক্তি করা হয়েছে, যার মধ্যে গ্র্যান্ট থর্নটন, বেকার ম্যাকেঞ্জি, পিডব্লিউসি, ডেলয়েট এবং ডিএলএ পাইপারের মতো প্রতিষ্ঠান রয়েছে।
আজ রোববার বাংলাদেশ ব্যাংকের মুখপাত্র আরিফ হোসেন খান চরচাকে বলেন, “২০০ কোটি টাকার বেশি খেলাপি ঋণের অর্থ বিদেশে পাচার হওয়ার আশঙ্কায় সংশ্লিষ্টদের বিদেশি সম্পদ শনাক্ত ও উদ্ধারের উদ্যোগ নিয়েছে বাংলাদেশ ব্যাংক। কিছু খেলাপি ঋণগ্রহীতার খোঁজ দেশে না পাওয়ায় ব্যাংকগুলোর সহায়তায় বিদেশে থাকা তাদের সম্পদ চিহ্নিত করে ঋণ আদায়ের প্রক্রিয়া শুরু হয়েছে।”
উদ্ধার অভিযান পরিচালিত হচ্ছে ‘নো উইন, নো পে’ নীতিতে, যেখানে ব্যাংকগুলোকে কোনো অগ্রিম অর্থ দিতে হবে না। বিদেশি প্রতিষ্ঠানগুলো সম্পূর্ণ নিজস্ব খরচে গোপন সম্পদ অনুসন্ধান করবে এবং উদ্ধার হওয়া সম্পদের একটি নির্ধারিত অংশ পারিশ্রমিক হিসেবে নিয়ে নিবে।
অভিযানের মূল লক্ষ্য হিসেবে যুক্তরাজ্য, যুক্তরাষ্ট্র, সংযুক্ত আরব আমিরাত, কানাডা, সিঙ্গাপুর ও মালয়েশিয়াসহ ১২টি দেশকে চিহ্নিত করা হয়েছে।
এর আগে অন্তর্বর্তী সরকারের গঠিত যৌথ তদন্ত দলের মাধ্যমে সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার পরিবার, এস আলম, বেক্সিমকো, সামিট ও বসুন্ধরাসহ আলোচিত ১০টি শিল্প গ্রুপের প্রায় ৭৬ হাজার কোটি টাকার দেশি-বিদেশি সম্পদ জব্দ করা হয়েছে। দুর্নীতি দমন কমিশন, সিআইডি এবং এনবিআরের কেন্দ্রীয় গোয়েন্দা সেল যৌথভাবে এই আন্তর্জাতিক আইনি সংস্থাগুলোর সহায়তা নিয়ে পাচারকৃত অর্থ পুনরুদ্ধারের কাজ চালিয়ে যাচ্ছে।