বছরের শুরুতে ভারতের বাংলাদেশ সফর প্রায় বাতিল হওয়ার পথে ছিল। তবে জাতীয় নির্বাচনের পর ক্রমেই দুই দেশের ক্রিকেট বোর্ড আশাবাদী হচ্ছিল সাদা বলের দুটি সিরিজ নিয়ে। তবে সাম্প্রতিক রাজনৈতিক টানাপোড়েনে ফের অনিশ্চয়তার মুখে ভারতের বাংলাদেশ সফরটি। বাংলাদেশ ক্রিকেট বোর্ড (বিসিবি) জোর চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছে ঘরের মাটিতে সিরিজ আয়োজনের জন্য। ভারত ক্রিকেট বোর্ড (বিসিসিআই) অবশ্য এখনো ধোঁয়াশা রেখে দিয়েছে। ফলে সময় যত এগিয়ে আসছে, প্রশ্ন জাগছে হাইভোল্টেজ সিরিজ দুটি নিয়ে।
সেই অনিশ্চয়তা ঠিক কতটা? চরচাকে বিসিবির একটি সূত্র জানিয়েছে, আগামী মাসে ভারতের বিপক্ষে সিরিজ আয়োজনের সম্ভাবনা আর দেখছেন না তারা। বিসিবি নাটকীয় কিছুর অপেক্ষায় থাকলেও ভারতীয় ক্রিকেট বোর্ড (বিসিসিআই) আর আশাবাদী নয়। তারা অবশ্য সিরিজ বাতিলের পক্ষেও নয়।
সেই ২০২৪ সালের আগস্টেই ভারতের বাংলাদেশে আসার কথা ছিল। তবে বাংলাদেশের শেখ হাসিনার সরকারের পতনের পর বদলে যাওয়া প্রেক্ষাপটে ভারত সরকার ক্রিকেট বোর্ডকে অনুমতি দেয়নি বাংলাদেশে যাওয়ার জন্য। এক বছরের জন্য স্থগিত হয়ে যাওয়ার পর তা হওয়ার কথা ছিল গত বছর। তবে দুই দেশের রাজনৈতিক উত্তেজনার কারণে আরও একবার এক বছরের জন্য পিছিয়ে দেওয়া হয় সফরটি।
এর মাঝে যোগ হয় মুস্তাফিজুর রহমানকে আইপিএল থেকে দেওয়াকে কেন্দ্র করে বাংলাদেশের বিশ্বকাপ বয়কটের মতো ঘটনাও। এতকিছুর পরও গত ফেব্রুয়ারিতে বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল (বিএনপি) ক্ষমতায় আসার পর আগস্ট বা সেপ্টেম্বরে ভারতের বাংলাদেশ সফর নিয়ে বিসিবি বেশ আশাবাদী ছিল। এরপর তামিম ইকবাল বোর্ড সভাপতি হয়েই জানান, ভারতকে স্বাগত জানাতে চায় বাংলাদেশ।
যুব ও ক্রীড়া প্রতিমন্ত্রী আমিনুল হকও ভারতের সঙ্গে সম্পর্ক উন্নয়নের দিকে জোর দিয়েছিলেন। বিসিসিআইও গত কয়েক মাসে বিসিবির সঙ্গে আলোচনায় বেশ ইতিবাচক ছিল। সম্প্রতি আইসিসি সভায় আইসিসি সভাপতি জয় শাহ ও বিসিসিআইয়ের কয়েকজন শীর্ষ কর্মকর্তাদের সঙ্গে বিসিবি সভাপতি তামিম বিষয়টি নিয়ে আলোচনা করেন। এরপর দুবাইয়ে আইসিসির ভিন্ন আরেকটি মিটিংয়েও ভারত সফর নিয়ে বিসিসিআই কর্মকর্তাদের সঙ্গে বিস্তারিত আলোচনা করে ফেলেন তামিম।
সেটা ফলপ্রসূও হওয়ার পথেই ছিল। কারণ ব্যস্ত সূচির মাঝেও নিজ দেশের সরকারের অনুমতি পেলে ভারত প্রয়োজনে মিরপুরে এক ভেন্যুতেই ওয়ানডে ও টি-টোয়েন্টি সিরিজ খেলতে রাজি ছিল। বিসিবি সেটা মাথায় রেখেই সাজাচ্ছিল পরিকল্পনা, যা প্রায় ভেস্তে যেতে বসেছে ভারতের দিল্লি থেকে শেখ হাসিনার নেতৃত্বে আওয়ামী লীগের সংবাদ সম্মেলন এবং এরপর বাংলাদেশ সরকারের কঠোর প্রতিক্রিয়ায়।
ফলে আপাতত ভারতের বাংলাদেশে এসে ক্রিকেট খেলার বাস্তবতা আর নেই বলেই মনে করছে দেশটির সরকার এবং বিসিসিআইও। বিসিবিও সেই ব্যাপারে অবগত আছে। আর সেই কারণেই এক মাসেরও কম সময় থাকলেও সিরিজের সম্প্রচার স্বত্ব, বিজ্ঞাপন কিছু নিয়েই আলোচনায় যেতে পারেনি তারা। তবে কি আরও একবার স্থগিত হওয়ার পথে এই সফর?
নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক বিসিবি সভাপতির ঘনিষ্ঠ একটি সূত্র আভাস দিয়েছে তেমন কিছুরই। তিনি বলেছেন, “আনুষ্ঠানিকভাবে কিছু না বলা হলেও এই সিরিজ যে এখন হচ্ছে না, এটা নিশ্চিত বলতে পারেন। তবে বিশ্বকাপের আগেই ভারতের বাংলাদেশ সফর যাতে হয়, সেটা নিয়ে কাজ করছে দুই দেশের বোর্ড। ওরাও চায় বাংলাদেশে আসতে। বিপিএল যদি না হয়, তাহলে আমাদের সামনে কিন্তু ডিসেম্বর বা জানুয়ারিতে ফাঁকা সময় থাকবে।”
বাংলাদেশ ও ভারতের সিরিজ এখন না হলেও বিসিবির জন্য তাই চিন্তার কারণ আছে সামান্যই। কারণ, বিসিসিআই আশ্বাস দিয়েছে আইসিসির এফটিপির বাইরে গিয়ে ভবিষ্যতে বাংলাদেশের সঙ্গে এক বা একাধিক বাড়তি দ্বিপাক্ষিক সিরিজ খেলারও।
তবে সবকিছুই নির্ভর করবে দুই দেশের রাজনৈতিক পরিস্থিতির ওপর। আগামী সেপ্টেম্বরে ব্রিকস সম্মেলনে ভারতের পক্ষ থেকে আমন্ত্রণ পেয়েছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। তিনি এই সফরে যাবেন কি না, তা এখনো নিশ্চিত নয়। বিসিবি মনে করছে, প্রধানমন্ত্রীর এই সফর দুই দেশের ক্রিকেটীয় সম্পর্কে ইতিবাচক বা নেতিবাচক দুই রকমের প্রভাবই ফেলতে পারে।
দেশের মাটিতে তাই আগামী এক বছরের মধ্যে ভারতের বাংলাদেশ সফর নিয়ে আগের মতোই অনিশ্চয়তা তৈরি হয়েছে, যেখানে বিসিবির ভূমিকা কেবলই দর্শকের।