
অস্ট্রেলিয়া ২৩ বছর টেস্ট খেলতে বাংলাদেশকে কেন ডাকেনি? বছরের পর বছর নানা অজুহাত, আপত্তি আর বাহানা দিয়ে বাংলাদেশকে অস্ট্রেলিয়া বঞ্চিত করেছে। বাংলাদেশকে টেস্ট খেলতে না ডাকতে প্রতিবারই এমন সব যুক্তি, বাহানা ক্রিকেট অস্ট্রেলিয়া তুলে ধরত, যেগুলো জানলে আপনি হাসবেন, অবাক হবেন! যে তুচ্ছ–তাচ্ছিল্য অস্ট্রেলিয়া

২০০৩ সালে অস্ট্রেলিয়া সফরে বাংলাদেশকে টেস্ট খেলতে হয়েছিল অখ্যাত দুই ভেন্যুতে। ২৩ বছর পর আরেকটি সফরেও নাজমুল হোসেনের দল খেলতে পারবে না সিডনি, মেলবোর্ন বা পার্থের মত বিখ্যাত ভেন্যুগুলোতে। বারবার শুধু বাংলাদেশকেই এই অবহেলা করে আসছে অস্ট্রেলিয়া ক্রিকেট বোর্ড। দায়টা কার?

২০০৩ সালে বাংলাদেশ জাতীয় দল যখন প্রথমবার অস্ট্রেলিয়া সফরে গিয়েছিল, তখন সেটিকে বিবেচনা করা হচ্ছিল ডেভিড ও গোলিয়াথের লড়াই হিসেবে। বিশ্বজয়ী অস্ট্রেলিয়া দলে তখন তারকার হাট, আর টেস্ট ক্রিকেটে হাঁটি হাঁটি পা করা বাংলাদেশ লাল বলের ক্রিকেটে শিক্ষানবিশ এক দল। সিরিজ শুরুর আগে ক্রিকেট দুনিয়ায় তোলপাড়

এক মাস আগেও জাতীয় দলে সাকিব আল হাসানের জায়গা আছে কি না, এমন প্রশ্নের উত্তর হরহামেশাই দিতে হতো নির্বাচকদের। ২০২৭ বিশ্বকাপের ভাবনায় তাকে রাখা উচিত, এমন আলোচনাও বাতাসে ভেসেছে। তবে দিল্লিতে নিষিদ্ধ ঘোষিত আওয়ামী লীগের এক সংবাদ সম্মেলনে ভার্চুয়ালি হাজির হয়ে ক্রিকেটার আর রাজনীতিবিদ সাকিব

অস্ট্রেলিয়া কেন বাংলাদেশকে টেস্ট খেলতে ডাকে না! দুই, অস্ট্রেলিয়ার মাটিতে কেন বাংলাদেশের খেলাগুলো মেলবোর্ন, সিডনির, অ্যাডিলেডের মতো প্রচলিত ভ্যেনুতে অনুষ্ঠিত হয় না!

বছরের শুরুতে ভারতের বাংলাদেশ সফর প্রায় বাতিল হওয়ার পথে ছিল। তবে জাতীয় নির্বাচনের পর ক্রমেই দুই দেশের ক্রিকেট বোর্ড আশাবাদী হচ্ছিল সাদা বলের দুটি সিরিজ নিয়ে। তবে সাম্প্রতিক রাজনৈতিক টানাপোড়েনে ফের অনিশ্চয়তার মুখে ভারতের বাংলাদেশ সফরটি।

তার মানে হলো, তামিম নামকাওয়াস্তে বিপিএল না করতে চাইলেও সব পক্ষই বিপিএলে এক বছরের বিরতি চান না। সেই চাওয়া এতটাই জোরদার যে, আরেকটি বিতর্কিত বিপিএলেও আপত্তি নেই তাদের।

গত বছরের ঢাকা প্রিমিয়ার লিগের (ডিপিএল) একটি ঘটনাকে কেন্দ্র করে বিসিবির চাকরি থেকে পদত্যাগ করেছিলেন আম্পায়ার শরফুদ্দৌলা ইবনে শহীদ সৈকত। সেই সময়ের বোর্ড তা গ্রহণ না করায় বিসিবির চুক্তি তার সঙ্গে বহাল ছিল। তবে নাটকীয়ভাবে এক বছর পর তার পদত্যাগপত্র গ্রহণ করেছে দেশের ক্রিকেটের সর্বোচ্চ সংস্থা।

নাহিদ রানার চোটের কারণে অস্ট্রেলিয়া সফরে নেই, সেখানে প্রশ্নের মুখে পড়েছিল বিসিবির মেডিক্যাল বিভাগ। লিটন দাস চোট কাটিয়ে নাটকীয়ভাবে ফিরেছেন অস্ট্রেলিয়া দলে, এখানেও আরও বেশি করে প্রশ্নের মুখে মেডিক্যাল বিভাগ! কী কারণে?

বিপদের শঙ্কা থাকার পরও যখন নাহিদকে যত্রতত্র খেলিয়ে দেওয়া হয়েছে, তাতে সামনে চলে আসে অনেক প্রশ্নই। সবচেয়ে বড় প্রশ্ন, জিম্বাবুয়েকে হারাতে মরিয়া হয়েই কি নাহিদকে অতিরিক্ত ব্যবহার করেছে বিসিবি?

একটা ছোট পরিসংখ্যানই ডিউকস বলে ওপেনারদের সংগ্রামের চিত্র তুলে ধরে। ২০২২ সাল থেকে টেস্টে সবাই মিলে মাত্র ৩২.৪০ গড়ে করেছে ১ হাজার ৫৫৭ রান। তিন মূল ওপেনার সাদমান ইসলাম, মাহমুদুল হাসান এবং জাকির হাসানের গড় যথাক্রমে ২৮, ২৬ এবং ২৩!

আপনার সামনে রয়েছে ২৩ বছর পর অস্ট্রেলিয়ার বিপক্ষে টেস্ট সিরিজ, স্বাগতিক দেশের সবাই অপেক্ষায় আপনার দলের একজন পেসারকে দেখার জন্য। কি করবেন, বা কি করা উচিত? বিশ্বের অন্য ক্রিকেট বোর্ড যাই করুক, বাংলাদেশ ক্রিকেট বোর্ড (বিসিবি) ঠিক এর উল্টোটা করে দেশের ক্রিকেটের ইমেজকে বিব্রতকর অবস্থায় ফেলে দিয়েছে।

টেস্ট চলাকালীন সময়েই ছিল ফুটবল বিশ্বকাপের গ্রুপ পর্বের ম্যাচ। ম্যাচ শেষ হয়েছে তিন দিনে। আর এর মধ্যে ছিল আবার আর্জেন্টিনা ও ব্রাজিলের ম্যাচ। টেস্ট ম্যাচের দিনেও তাই জিম্বাবুয়ে সময় গভীর রাতে ম্যাচগুলো দেখেছেন দলের অধিকাংশ খেলোয়াড় থেকে শুরু করে কোচ এমনকি টিম ম্যানেজারও!

জিম্বাবুয়ে সফরে তিন ম্যাচের টি-টোয়েন্টি সিরিজের জন্য ১৫ সদস্যের দলে অধিনায়ক করা হয়েছে তাওহীদ হৃদয়কে। চোটের কারণে অস্ট্রেলিয়ার পর এই সিরিজও মিস করবেন নিয়মিত অধিনায়ক লিটন দাস।

ঘটনার সূত্রপাত ক্রিকেট ওয়েবসাইট ক্রিকবাজের প্রতিবেদন থেকে। সেখানে বলা হয়েছে, আইসিসির কাছে চলতি সপ্তাহে প্রায় ১৪ পৃষ্ঠার একটি চিঠি পাঠিয়েছেন আমিনুল। সেখানে তিনি বর্তমান পরিচালনা পর্ষদের বৈধতা নিয়ে প্রশ্ন তুলে বিসিবিকে কোনো ধরনের আর্থিক সহায়তা না দেওয়ার জন্য অনুরোধ জানিয়েছেন।

টেস্টে প্রতিপক্ষ হিসেবে বাংলাদেশ এখন সমীহ জাগানো দল। সম্প্রতি তারা পাকিস্তানকে ঘরে-বাইরে টানা চার টেস্টে হারানোর কীর্তি গড়েছে । তাই ইংল্যান্ড স্বাভাবিকভাবেই নিজেদের সেরা প্রস্তুতির জন্য নাজমুল-লিটনদের বিপক্ষে খেলতে আগ্রহী হয়েছে।

ছেলেদের ম্যাচে চট্টগ্রামে অস্ট্রেলিয়ার কাছে হারলেও তাও কিছুটা লড়াই করতে পেরেছিলেন তাওহীদ-মোস্তাফিজরা। তবে নারী দল স্রেফ উড়ে গেছে বিশ্বকাপের মঞ্চে।

শুরু থেকেই উইকেট পতনের মিছিল শুরু করে বাংলাদেশ। শেখ মেহেদীর ২৯ সর্বোচ্চ। ছোট লক্ষ্যের জবাবে ১০ বল ও ৪ উইকেট হাতে নিয়ে জয় নিশ্চিত করে সফরকারীরা।

একাই লড়ে গেলেন শরীফুল ইসলাম। রোমাঞ্চকর এক ম্যাচে তার ৬ উইকেটেও হার এড়াতে পারেনি বাংলাদেশ। হাতছাড়া হয়েছে হোয়াইটওয়াশের সুযোগ।

এই যখন বাস্তবতা, তখন আগামীতে কে চাইবে শুধু টেস্ট খেলতে? তামিম ইকবালের বোর্ডকে দিতে হবে এই প্রশ্নের উত্তর আর সরকারকে নিতে হবে কার্যকরী পদক্ষেপ। কেবল তাহলেই তরুণরা টেস্ট ক্রিকেটার হওয়ার স্বপ্ন দেখতে চাইবেন।