
ডারউইনে অস্ট্রেলিয়াকে টেস্টে ৯ উইকেটে হারানোর এই দিনটি—১৬ আগস্ট ২০২৬! ক্যালেন্ডারে লাল কালি দিয়ে দাগিয়ে রাখা দিন। রেড লেটার ডে, যাকে বলে এই তারিখটা তেমনই। শতবর্ষ পরেও ডারউইনের এই সকালটাকে স্মরণ করবে বাংলাদেশের ক্রিকেটে। এ তো শুধুই একটা টেস্ট জয় নয়। ক্রিকেটে অস্ট্রেলিয়ার ভূমি জয় করার জয়।

প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান বাংলাদেশ জাতীয় ক্রিকেট দলকে অভিনন্দন জানিয়েছেন। অস্ট্রেলিয়ার ডারউইনে প্রথম টেস্টে ঐতিহাসিকভাবে ৯ উইকেটে জয় পাওয়ায় তিনি এ অভিনন্দন জানান।

অস্ট্রেলিয়াকে চলমান টেস্টে যেভাবে চেপে ধরেছে বাংলাদেশ, অন্য অনেক দল হলে নিশ্চিতভাবেই জয়ের লড়াইয়ে তাদেরই এগিয়ে রাখা হত। তবে অতীতে অনেকবার এমন অবস্থান থেকেও বাংলাদেশের হারের ঘটনা রয়েছে বলেই আশাবাদী হওয়াটাও কঠিন হয়ে যাচ্ছে। বিশেষ করে যখন ফিরে আসছে ২০ বছর আগে অস্ট্রেলিয়ার বিপক্ষেই এক হতাশাজনক হ

টস জিতে অস্ট্রেলিয়া ব্যাটিং নেওয়ার পর শঙ্কা ছিল তাদের রান পাহাড়ে চেপে বসার। তবে দিনের শুরু থেকেই বাংলাদেশের পেসাররা নিয়ন্ত্রিত বোলিংয়ে চেপে ধরলেন হেড-স্মিথদের। হাসানের ক্যারিয়ার সেরা বোলিংয়ের পর প্রথম দিনে বাংলাদেশকে চালকের আসনে নিয়ে গেছেন ব্যাটসম্যানরা। অস্ট্রেলিয়ার বিপক্ষে টেস্টে নিজেদের

কাউন্টি ক্রিকেটে দুর্দান্ত বোলিং করে জিম্বাবুয়ে সফরে গিয়েছিলেন। তবে সেখানে তেমন কিছু করতে পারেননি বলেই হয়ত হাসান মাহমুদকে নিয়ে প্রত্যাশা অনেকটাই কমে গিয়েছিল। তবে অস্ট্রেলিয়ার মাটিতে নিজের প্রথম ইনিংসেই তিনি প্রমাণ করলেন, কেন সুইং বোলিংয়ে এই মুহূর্তে দেশের সেরা পেসার তিনি। ডারউইনের প্রায় একাই

ডারউইন টেস্টে বাংলাদেশের পেসারদের সামর্থ্য টের পেল অস্ট্রেলিয়া। হাসান মাহমুদ ৬ উইকেট নিয়ে অস্ট্রেলিয়াকে গুটিয়ে দিয়েন ১৯৮ রানে। ৫৫ রানে ৬ উইকেট নিয়েছেন হাসান। টেস্ট ক্রিকেটে এটি বাংলাদেশের কোনো পেসারের তৃতীয় সেরা বোলিং পারফরম্যান্স।

২০০৩ সালে বাংলাদেশ জাতীয় দল যখন প্রথমবার অস্ট্রেলিয়া সফরে গিয়েছিল, তখন সেটিকে বিবেচনা করা হচ্ছিল ডেভিড ও গোলিয়াথের লড়াই হিসেবে। বিশ্বজয়ী অস্ট্রেলিয়া দলে তখন তারকার হাট, আর টেস্ট ক্রিকেটে হাঁটি হাঁটি পা করা বাংলাদেশ লাল বলের ক্রিকেটে শিক্ষানবিশ এক দল। সিরিজ শুরুর আগে ক্রিকেট দুনিয়ায় তোলপাড়

বছরের শুরুতে ভারতের বাংলাদেশ সফর প্রায় বাতিল হওয়ার পথে ছিল। তবে জাতীয় নির্বাচনের পর ক্রমেই দুই দেশের ক্রিকেট বোর্ড আশাবাদী হচ্ছিল সাদা বলের দুটি সিরিজ নিয়ে। তবে সাম্প্রতিক রাজনৈতিক টানাপোড়েনে ফের অনিশ্চয়তার মুখে ভারতের বাংলাদেশ সফরটি।

তার মানে হলো, তামিম নামকাওয়াস্তে বিপিএল না করতে চাইলেও সব পক্ষই বিপিএলে এক বছরের বিরতি চান না। সেই চাওয়া এতটাই জোরদার যে, আরেকটি বিতর্কিত বিপিএলেও আপত্তি নেই তাদের।

বাংলাদেশি ক্রিকেটার সাকিবের আশা তিনি দেশের মাটিতে বিদায়ী সিরিজ খেলবেন এবং ২০২৭ সালের ওডিআই বিশ্বকাপে বাংলাদেশের প্রতিনিধিত্ব করবেন।

গত বছরের ঢাকা প্রিমিয়ার লিগের (ডিপিএল) একটি ঘটনাকে কেন্দ্র করে বিসিবির চাকরি থেকে পদত্যাগ করেছিলেন আম্পায়ার শরফুদ্দৌলা ইবনে শহীদ সৈকত। সেই সময়ের বোর্ড তা গ্রহণ না করায় বিসিবির চুক্তি তার সঙ্গে বহাল ছিল। তবে নাটকীয়ভাবে এক বছর পর তার পদত্যাগপত্র গ্রহণ করেছে দেশের ক্রিকেটের সর্বোচ্চ সংস্থা।

নাহিদ রানার চোটের কারণে অস্ট্রেলিয়া সফরে নেই, সেখানে প্রশ্নের মুখে পড়েছিল বিসিবির মেডিক্যাল বিভাগ। লিটন দাস চোট কাটিয়ে নাটকীয়ভাবে ফিরেছেন অস্ট্রেলিয়া দলে, এখানেও আরও বেশি করে প্রশ্নের মুখে মেডিক্যাল বিভাগ! কী কারণে?

বিপদের শঙ্কা থাকার পরও যখন নাহিদকে যত্রতত্র খেলিয়ে দেওয়া হয়েছে, তাতে সামনে চলে আসে অনেক প্রশ্নই। সবচেয়ে বড় প্রশ্ন, জিম্বাবুয়েকে হারাতে মরিয়া হয়েই কি নাহিদকে অতিরিক্ত ব্যবহার করেছে বিসিবি?

একটা ছোট পরিসংখ্যানই ডিউকস বলে ওপেনারদের সংগ্রামের চিত্র তুলে ধরে। ২০২২ সাল থেকে টেস্টে সবাই মিলে মাত্র ৩২.৪০ গড়ে করেছে ১ হাজার ৫৫৭ রান। তিন মূল ওপেনার সাদমান ইসলাম, মাহমুদুল হাসান এবং জাকির হাসানের গড় যথাক্রমে ২৮, ২৬ এবং ২৩!
ইংল্যান্ড ক্রিকেট বোর্ড ২০২৭ সালের জন্য তাদের আন্তর্জাতিক সূচি প্রকাশ করেছে। সেখানে ছেলেদের পাশাপাশি বাংলাদেশ নারী দলের ইংল্যান্ড সফরও চূড়ান্ত করা হয়েছে।

টেস্ট চলাকালীন সময়েই ছিল ফুটবল বিশ্বকাপের গ্রুপ পর্বের ম্যাচ। ম্যাচ শেষ হয়েছে তিন দিনে। আর এর মধ্যে ছিল আবার আর্জেন্টিনা ও ব্রাজিলের ম্যাচ। টেস্ট ম্যাচের দিনেও তাই জিম্বাবুয়ে সময় গভীর রাতে ম্যাচগুলো দেখেছেন দলের অধিকাংশ খেলোয়াড় থেকে শুরু করে কোচ এমনকি টিম ম্যানেজারও!

প্রথম টি-টোয়েন্টিতে হেরে যাওয়া বাংলাদেশ ঘুরে দাঁড়িয়ে বুলাওয়েতে জিতেছে ৩৪ রানে। ১৮৭ রানের টার্গেটে জিম্বাবুয়ে গুটিয়ে গেছে ১৯.৪ ওভারে ১৫২ রানেই।

আর চারটা রান করতেই পারলেই রেকর্ডের পাতায় চলে যেতেন সাইফ হাসান ও তানজিদ হাসান। তবে শেষ পর্যন্ত সেটা আর পারেননি তার। এই একটি হতাশা থাকলেও এই দুজনে মিলে উদ্বোধনী জুটিতে যে ব্যাটিংটা করলেন, সেটা গোটা সফরে বাংলাদেশের সেরা পারফরম্যান্স। সঙ্গে শেষের দিকে মোহাম্মদ সাইফউদ্দিনের ঝড়ো ব্যাটিংয়ে বড় একটা স্কোরই প

সিরিজের তৃতীয় ও শেষ ওয়ানডেতে বাংলাদেশকে ২০০ রানের টার্গেট দিয়েছিল জিম্বাবুয়ে। ৭ উইকেট ও ৮৪ বল হাতে রেখেই জিতেছে মেহেদি হাসান মিরাজের দল। তবে সিরিজ জিতেছে জিম্বাবুয়ে, ২-১ ব্যবধানে।

সিরিজের শেষ ওয়ানডেতে জিম্বাবুয়ে অলআউট হওয়ার আগে করেছে ৪৮.১ ওভারে ১৯৯ রান। প্রথম দুই ম্যাচে রান তাড়ায় যথাক্রমে ১৪২ ও ২৪৮ রান করতে ব্যর্থ হয়েছিল বাংলাদেশ।