মিষ্টি খাওয়ার তীব্র ইচ্ছা নিয়ন্ত্রণ করার ৩টি সহজ উপায়
সব মিষ্টি খাবার শরীরের জন্য সমান ক্ষতিকর নয়। তবে পরিশোধিত চিনি দিয়ে তৈরি ক্যান্ডি, কোমল পানীয় ও অতিরিক্ত প্রক্রিয়াজাত খাবার যতটা সম্ভব এড়িয়ে চলা ভালো।

মাথাব্যথায় ভোগেনি এমন মানুষ মনে হয় দুনিয়াতে খুব কমই আছে। কারণ ‘মাথা থাকলে মাথাব্যথা হবেই’। নানা কারণে এটি হতে পারে।
হঠাৎ তীব্র মাথাব্যথা শুরু হলে সবাই চায় এর থেকে নিরাময় পেতে। ব্যথা বেড়ে যন্ত্রণাদায়ক পর্যায়ে গেলে অনেক সময় আমাদের গুরুত্বপূর্ণ কাজ বাদ দিয়ে দিতে হয়। তাই এর থেকে মুক্তি পেতে আমাদের কিছু বিষয় জেনে রাখা উচিত।
মাথাব্যথার কিন্তু বেশ কিছু ধরন আছে। ধরনভেদে এদের উপসর্গও ভিন্ন হয়। মাথাব্যথার তিনটি সাধারণ ধরন এবং এর উপসর্গগুলো হলো–
টেনশন হেডেক: এ ব্যথা সাধারণত ঘাড় ও মাথার পেছন থেকে শুরু হয়ে ধীরে ধীরে ওপরের দিকে ছড়িয়ে পড়ে। মনে হয় যেন মাথার চারপাশে শক্ত করে একটি ব্যান্ড বাঁধা রয়েছে। তবে বিশ্রাম নিলে এই ব্যথা প্রায়ই কমে যায়।
মাইগ্রেন: সাধারণত মাথার একপাশ থেকে মাঝারি বা তীব্র আকারে এ ব্যথা শুরু হয়। ব্যথার কারণে মাথা ভিতরে ‘দপদপ’ করছে মনে হয়। অনুভূত হয়। এ সময় আলো ও শব্দের প্রতি সংবেদনশীলতা বেড়ে যায়। বমি বমি ভাবও হতে পারে। মাইগ্রেনের ব্যাথা কয়েক ঘণ্টা থেকে কয়েক দিন পর্যন্ত স্থায়ী হয়।

ক্লাস্টার হেডেক: চোখের ভেতরে ছুরিকাঘাতের মতো তীব্র ব্যথা অনুভূত হয়। চোখ দিয়ে পানি পড়া বা চোখ লাল হয়ে যাওয়া, নাক দিয়ে পানি পড়া কিংবা নাক বন্ধ হয়ে যাওয়ার মতো উপসর্গ দেখা দিতে পারে। এ ব্যথা কয়েক মিনিট থেকে কয়েক ঘণ্টা স্থায়ী হতে পারে, এরপর চলে গিয়ে দিনে কয়েকবার আবার ফিরে আসতে পারে। আবার কয়েক মাস ধরে বারবার হতে পারে, এরপর দীর্ঘ সময়ের জন্য বন্ধ হয়ে আবার ফিরে আসতে পারে।
মাইগ্রেন, টেনশন হেডেক বা ক্লাস্টার হেডেকের মতো আরও অনেক ধরনের মাথাব্যাথা কোন কারণে শুরু হয় তা শনাক্ত করতে পারলে, মাথাব্যথার প্রকোপ কমানো সম্ভব হতে পারে।
মানসিক চাপ
অনেক সময় মানসিক চাপের কারণে কাঁধ ও ঘাড়ের পেশিতে টান ধরতে পারে, যা প্রায়ই টেনশনজনিত মাথাব্যাথার কারণ হয়ে দাঁড়ায়। এটি বারবার হলে কাঁধ ও ঘাড়ের পেশিতে তৈরি হওয়া ব্যথাকে মস্তিষ্ক মাথাব্যথা হিসেবে অনুভব করতে পারে।
ক্ষুধা ও খাবার
ক্ষুধার কারণেও মাইগ্রেন বা টেনশন হেডেক হতে পারে। তবে কিছু নির্দিষ্ট খাবার মাইগ্রেনের ট্রিগার হিসেবে কাজ করতে পারে। যেমন- পনির, চকলেট, লেবুজাতীয় ফল, দুগ্ধজাত পণ্য, অ্যালকোহল, টেস্টিং সল্ট মেশানো খাবার ও পেঁয়াজ।
পরিবেশ
তীব্র আলো, কোনো ঝাঁঝালো গন্ধ, ধোঁয়া, গরম বা ঠান্ডা আবহাওয়ার মতো পরিবেশগত নানা কারণে মাইগ্রেন সমস্যা দেখা দেয়। ক্লাস্টার হেডেকে ভোগা ব্যক্তিরা প্রায়ই লক্ষ্য করে, ঋতু পরিবর্তনের সময় তাদের মাথাব্যথা দেখা দেয়।
হরমোন
হরমোন মূলত মস্তিষ্কের নিউরোট্রান্সমিটার এবং রক্তনালীর সংকোচন-প্রসারণ নিয়ন্ত্রণ করে, যার ভারসাম্যহীনতায় সাধারণত মাথাব্যথা বা মাইগ্রেন হয়। নারীদের ক্ষেত্রে মাসিক, গর্ভাবস্থা বা মেনোপজের সময় এস্ট্রোজেন ও প্রজেস্টেরন হরমোনের ওঠানামা মাথাব্যথার অন্যতম প্রধান কারণ। পুরুষদের ক্ষেত্রে টেস্টোস্টেরনের মাত্রা কমে যাওয়া বা হরমোনের দ্রুত তারতম্য সরাসরি মাথাব্যথার পাশাপাশি ঘনঘন ক্লাস্টার হেডেকের ঝুঁকি বাড়ায়।
ক্যাফেইন গ্রহণ বন্ধ করা
চা বা কফির ক্যাফেইন মস্তিষ্কের রক্তনালীগুলোকে সংকুচিত করে রাখে, তাই এটি নিয়মিত গ্রহণ হঠাৎ বন্ধ বা কম করলে রক্তনালীগুলো আবার প্রসারিত হয়ে মস্তিষ্কে রক্তের প্রবাহ বাড়িয়ে দেয় এবং তীব্র মাথাব্যথার সৃষ্টি করে। এছাড়া অতিরিক্ত ক্যাফেইন খেলে শরীরের স্নায়ুতন্ত্র অতিরিক্ত উদ্দীপিত হয় এবং পানিশূন্যতা তৈরি করে, যা সরাসরি মাথাব্যথা বাড়িয়ে দেয়।

ঘুমের অভাব
পর্যাপ্ত ঘুম না হলে মস্তিষ্কে অ্যাডেনোসিন নামক রাসায়নিক জমা হয় এবং স্নায়ুতন্ত্রের ওপর অতিরিক্ত চাপ সৃষ্টি হয়, যা সরাসরি তীব্র মাথাব্যথা বা মাইগ্রেন বাড়িয়ে দেয়। কম ঘুমের কারণে শরীরের ব্যথানাশক হরমোন ও প্রোটিনের ভারসাম্য নষ্ট হয়ে যায়, ফলে মস্তিষ্ক সামান্য চাপেও দ্রুত ব্যথার অনুভূতি তৈরি করে। সহজ কথায়, ঘুম মস্তিষ্কের কোষগুলোকে সতেজ ও মেরামত করে; সেই বিশ্রামের অভাবই রক্তনালী ও স্নায়ুতে উত্তেজনা তৈরি করে মাথাব্যথা ঘটায়।
যা করতে পারেন
কখন মাথাব্যথা শুরু হচ্ছে, তার সময়, তীব্রতা, কী খেয়েছেন বা কোথায় ছিলেন—তা নিয়মিত ডায়েরিতে লিখে রাখুন। এতে মাথাব্যথার নিজস্ব কারণ বা 'ট্রিগার'গুলো সহজে শনাক্ত ও এড়িয়ে চলা সম্ভব হবে।
ট্রিগার এড়িয়ে চলার পরও যদি ব্যথা নিয়ন্ত্রণে না আসে, তবে বিশেষজ্ঞের পরামর্শ নিন। প্রেসক্রিপশন ওষুধের পাশাপাশি আকুপাংচার, মেডিটেশন, বায়োফিডব্যাক ও রিল্যাক্সেশন থেরাপির মতো ওষুধবিহীন পদ্ধতিও বেশ কার্যকর।
দৈনিক পর্যাপ্ত ঘুম, নিয়মিত শরীরচর্চা, সুষম খাবার, মানসিক চাপ নিয়ন্ত্রণ এবং অ্যালকোহল বর্জন নিশ্চিত করুন।
সব মিষ্টি খাবার শরীরের জন্য সমান ক্ষতিকর নয়। তবে পরিশোধিত চিনি দিয়ে তৈরি ক্যান্ডি, কোমল পানীয় ও অতিরিক্ত প্রক্রিয়াজাত খাবার যতটা সম্ভব এড়িয়ে চলা ভালো।

পরিবারের বাইরে আমাদের জীবনে যার গুরুত্ব সবচেয়ে বেশি, তাকে আমরা বন্ধু বলি। মনের কথা প্রকাশের জন্য আমাদের সবচেয়ে বড় নির্ভরতার নাম বন্ধু। ভালো বা খারাপে, সুখে কিংবা দুঃখে, আনন্দে বা বিষণ্নতায় যার কথা সবার আগে মাথায় আসে, সে আমাদের বন্ধু।

তীব্র টিনিটাসের কারণে ঘুম হওয়া বা কাজে মনোযোগ দেওয়া কঠিন হয়ে পড়ে। টিনিটাস কয়েক দিনের মধ্যে ভালো হয়ে যেতে পারে, আবার এটি দীর্ঘস্থায়ী সমস্যা হিসেবেও থেকে যেতে পারে।

বালিশের মূল কাজ হলো মেরুদণ্ডকে স্বাভাবিক বা সোজা অবস্থায় রাখা। এটি ঘাড়কে শরীরের বাকি অংশের সাথে একই লাইনে রাখে, যা সঠিক শারীরিক ভঙ্গিমা বজায় রাখতে সাহায্য করে।