
মাথাব্যথার কারণ ও প্রতিকার
হঠাৎ তীব্র মাথাব্যথা শুরু হলে সবাই চায় এর থেকে নিরাময় পেতে। ব্যথা বেড়ে যন্ত্রণাদায়ক পর্যায়ে গেলে অনেক সময় আমাদের গুরুত্বপূর্ণ কাজ বাদ দিয়ে দিতে হয়।

সম্প্রতি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ভ্রমণ বিষয়ক একটি নতুন ট্রেন্ড এসেছে। ‘রিভার্স ভ্যাকেশন’।
এই ধারণাটি প্রথমে একটি টুইটের মাধ্যমে ভাইরাল হয়। পরে তা ইনস্টাগ্রামেও ছড়িয়ে পড়ে। এতে ছুটিতে সমুদ্র সৈকতের পাশের বিলাসবহুল রিসোর্ট, ইনফিনিটি পুল বা বুফে নাশতায় টাকা খরচ না করে এমন একটি জায়গায় ভ্রমণে যাওয়ার কথা বলা হয়, যেখানে বাড়ির চেয়ে আরাম একটু কম পাওয়া যাবে।
এর দর্শনটি হলো, কিছু সময়ের জন্য নিজের প্রতিদিনের আরামের জীবন থেকে বেরিয়ে এলে তা নিয়ে নতুনভাবে ভাবার সুযোগ তৈরি হয়। এমনকি দৈনন্দিন জীবনে আমরা যে ছোট ছোট সুবিধাগুলো ভোগ করি, তার গুরুত্বও ভালোভাবে বোঝা যায়। একই সঙ্গে নিজের লক্ষ্য পূরণে নতুন করে আগ্রহ ও উৎসাহও ফিরে আসতে পারে।
কেউ এটাকে মজার ব্যাপার হিসেবে দেখছেন, আবার কারও কাছে এটি বেশ ‘অদ্ভুত’। তবে এর পেছনে একটা প্রশ্ন আছে— ইচ্ছাকৃতভাবে কষ্ট বা অস্বস্তিতে থাকলেই কি আমরা নিজেদের আরামের জায়গা থেকে বের হতে পারব?
বেঙ্গালুরুর এসপিএআরএসএইচ হাসপাতালের মনোরোগ বিশেষজ্ঞ ডা. আশা এই ধারণার সঙ্গে কিছুটা একমত।
আশা বলেন, “নিজের পছন্দ ও সিদ্ধান্তের বিষয়ে সচেতন থেকে কিছু সময় সহজভাবে জীবনযাপন করলে মানুষ প্রতিদিনের ছোট ছোট সুবিধার মূল্য আরও ভালোভাবে বুঝতে পারে। এতে মানসিকভাবে আরও শক্ত হওয়া সম্ভব। সবসময় আরাম ও সুবিধার ওপর নির্ভর না করলে মানুষ নতুন কিছু শিখতে পারে, বিভিন্ন সমস্যার সমাধান করতে পারে এবং আধুনিক জীবনের সুবিধাগুলোর ওপর সে কতটা নির্ভরশীল, তা বুঝতে পারে।”
এই বিশেষজ্ঞের মতে, এমন অভিজ্ঞতা মানুষকে কৃতজ্ঞ হতে শেখায় এবং সবকিছু পাওয়াকে নিজের অধিকার মনে করার প্রবণতা কমাতে সাহায্য করে। তবে এর জন্য মানুষের মানসিকতাও ঠিক থাকতে হবে। তিনি বলেন, “যখন কোনো ব্যক্তি এই অভিজ্ঞতাকে শাস্তি বা প্রতিযোগিতা হিসেবে না দেখে আত্ম-পর্যালোচনার সুযোগ হিসেবে দেখে, কেবল তখনই তা তার বিকাশে সহায়তা করে।”

জাপান ও থাইল্যান্ডে ‘কফিনে শুয়ে থাকার’ একটি ট্রেন্ড দেখা গিয়েছিল। এর উদ্দেশ্য ছিল মানুষকে মৃত্যুর কথা ভাবতে এবং জীবনের মূল্য আরও ভালোভাবে বুঝতে সাহায্য করা। জীবনের গুরুত্ব বোঝার জন্য মানুষ যদি স্বেচ্ছায় কফিনে শুয়ে থাকার মতো বিষয়কেও ট্রেন্ড বানাতে পারে, তাহলে ইচ্ছা করে একটু অস্বস্তিকর জায়গায় ছুটি কাটানোর ধারণাটাও হয়তো এতটা অদ্ভূত বা খারাপ নয়।
এখানে এমন কোনো জায়গা বেছে নেওয়ার কথা বলা হচ্ছে না, যেটা আসলেই থাকার অযোগ্য। বরং এমন কিছু অভিজ্ঞতা নেওয়ার কথা বলা হচ্ছে, যা একটু কম আরামদায়ক। এতে প্রতিদিনের জীবনের ছোট ছোট সুবিধাগুলোর মূল্য আরও ভালোভাবে বোঝা যায়।
তাহলে রিভার্স ভ্যাকেশন বলতে ঠিক কী বোঝায়?
সবাই ছুটিতে গিয়ে বেশি আরামে থাকার চেষ্টা করেন। কিন্তু ‘রিভার্স ভ্যাকেশন’ ঠিক তার উল্টো।
দূরের কোনো গ্রাম। পাহাড়ের সাধারণ কোনো হোমস্টে। শহরের বাইরে ছোট কোনো কেবিন।
মূলত, বিলাসিতা নয়, শুধু প্রয়োজনীয় সুবিধা আছে, এমন কোনো জায়গা বেছে নেওয়া। যেখানে সহজে খাবার সরবরাহের সুবিধা নেই, কাপড় ধোয়ার ব্যবস্থা নেই, এমনকি ভালো বাথরুমের সুবিধাও নেই।
তবে এই ব্যাপারটি না বুঝেই শুধু অন্যদের দেখে অনুসরণ করলে সমস্যা হতে পারে। অবাস্তব আশা থেকে মানুষ অপ্রয়োজনীয় চাপ ও অস্বস্তির সম্মুখীন হতে পারে। আবার যাদের জীবনে সত্যিই সুযোগ-সুবিধা কম, তাদের কষ্টকে নিজের শখের পরীক্ষা হিসেবে নেওয়াও ঠিক নয়। তাই এমন কিছু করার ক্ষেত্রে সচেতন থাকা জরুরি।”
ভ্রমণ অনেক সময় মানুষের জীবনে পরিবর্তন আনে। এর মাধ্যমে কেউ নিজেকে নতুন করে চিনতে পারে, দুঃখ কাটিয়ে উঠতে পারে বা পুরনো স্মৃতি আরও ভালোভাবে মনে রাখতে পারে। এসব অভিজ্ঞতা জীবনে ভালো পরিবর্তন আনতে পারে।
রিভার্স ভ্যাকেশনে জীবন পুরোপুরি বদলে যাবে না। তবে খুব সম্ভবত এটি আপনাকে আরামের জায়গা থেকে বের করে বাস্তবতা উপলব্ধি করাতে সাহায্য করবে।
তথ্যসূত্র: ইন্ডিয়া টুডে

হঠাৎ তীব্র মাথাব্যথা শুরু হলে সবাই চায় এর থেকে নিরাময় পেতে। ব্যথা বেড়ে যন্ত্রণাদায়ক পর্যায়ে গেলে অনেক সময় আমাদের গুরুত্বপূর্ণ কাজ বাদ দিয়ে দিতে হয়।
সব মিষ্টি খাবার শরীরের জন্য সমান ক্ষতিকর নয়। তবে পরিশোধিত চিনি দিয়ে তৈরি ক্যান্ডি, কোমল পানীয় ও অতিরিক্ত প্রক্রিয়াজাত খাবার যতটা সম্ভব এড়িয়ে চলা ভালো।

পরিবারের বাইরে আমাদের জীবনে যার গুরুত্ব সবচেয়ে বেশি, তাকে আমরা বন্ধু বলি। মনের কথা প্রকাশের জন্য আমাদের সবচেয়ে বড় নির্ভরতার নাম বন্ধু। ভালো বা খারাপে, সুখে কিংবা দুঃখে, আনন্দে বা বিষণ্নতায় যার কথা সবার আগে মাথায় আসে, সে আমাদের বন্ধু।

তীব্র টিনিটাসের কারণে ঘুম হওয়া বা কাজে মনোযোগ দেওয়া কঠিন হয়ে পড়ে। টিনিটাস কয়েক দিনের মধ্যে ভালো হয়ে যেতে পারে, আবার এটি দীর্ঘস্থায়ী সমস্যা হিসেবেও থেকে যেতে পারে।