নিয়মিত বেতন পেয়ে মোটামুটি ভালোভাবে জীবনযাপন করলেও কিন্তু আর্থিক সমস্যা থাকতে পারে। আপনি দৈনন্দিন বিলগুলো হয়তো পরিশোধ করতে পারছেন, কিন্তু হুট করে বড় কোনো খরচ এসে পড়লে সমস্যায় পড়ে যান। তবে এসব লক্ষণ থাকলেই কাউকে গরিব বলা যায় না। এতে বোঝা যায় যে আপনি আর্থিকভাবে চাপে আছেন।
আর্থিক সমস্যার পেছনে কম বেতন, মূল্যস্ফীতি, পরিবারের দায়িত্ব এবং অনিয়মিত কাজও থাকতে পারে। মূল বিষয় হলো, আপনার আয় দিয়ে প্রয়োজনীয় খরচ ও দায়িত্ব নিয়মিত মেটানো সম্ভব হচ্ছে কি না।
ভারতের অনলাইন সংবাদমাধ্যম মিন্টের এক প্রতিবেদনে আর্থিক সমস্যার বিষয়টি উঠে এসেছে।
অনেক মানুষের জীবন বাইরে থেকে হয়তো স্বচ্ছন্দ মনে হয়। তবে তাদের দৈনন্দিন জীবনের কিছু অভ্যাস খেয়াল করলে ভেতরে থাকা আর্থিক চাপ বোঝা যায়।
মিন্ট বলছে, এমন ১০টি লক্ষণ আছে, যা দেখলে আপনার আর্থিক সমস্যার বিষয়টি বোঝা যেতে পারে। এবং আপনাকে সেদিকে নজর দিতে হবে। বাইরে থেকে জীবন স্বচ্ছন্দ মনে হলেও এসব বিষয় গুরুত্বপূর্ণ। আর এর সঙ্গে আপনি কত টাকা আয় করেন, তার সরাসরি সম্পর্ক নেই।
বেতন না এলে জীবন থেমে যায়
প্রতি মাসে বেতন পাওয়ার পর ভাড়া, বাজার, যাতায়াতসহ প্রয়োজনীয় খরচে প্রায় পুরো টাকাই শেষ হয়ে যায়। পরের বেতন আসার আগে হাতে প্রায় কিছুই থাকে না। এমনকি বেতন পেতে একটু দেরি হলেও সংসারের সাধারণ খরচ চালানো কঠিন হয়ে পড়ে। অন্যের সাহায্য ছাড়া চলা আরও কঠিন হয়ে যায়।
জরুরি সঞ্চয় নেই
হঠাৎ করে কোনো খরচ চলে এলে বা আয় বন্ধ হয়ে গেলে সামাল দেওয়ার মতো কোনো সঞ্চয় নেই। নিয়মিত খরচগুলো কোনোভাবে চালানো গেলেও হঠাৎ কোনো অপ্রত্যাশিত খরচ এলেই পুরো মাসের বাজেট এলোমেলো হয়ে যায়। হাতে অতিরিক্ত কোনো সঞ্চয় না থাকায় সঙ্গে সঙ্গে আর্থিক চাপ তৈরি হয়।
ঋণের বোঝা বেশি
আয়ের বড় একটি অংশ ঋণ বা ক্রেডিট কার্ডের সুদ পরিশোধে চলে যায়। নিয়মিত টাকা পরিশোধ করলেও মনে হয়, ঋণ যেন কমছেই না। ফলে দৈনন্দিন প্রয়োজনের জন্য হাতে কম টাকা থাকে। ঋণ পরিশোধ যেন এমন এক বোঝা হয়ে দাঁড়ায়, যা কোনোভাবেই যেন শেষ হয়না।
বিল পরিশোধে দেরি হয়
টাকার অভাবে সময়মতো বিদ্যুৎ বিল, বাড়িভাড়া বা ঋণের কিস্তি দেওয়া সম্ভব হয় না। কোন বিলটি পরের সপ্তাহ পর্যন্ত পিছিয়ে রাখা যায়, তা নিয়ে বারবার সিদ্ধান্ত নিতে হয়। এমন পরিস্থিতি বারবার হলে বকেয়া বিল ও অন্যান্য পাওনা জমতে থাকে। পরের বেতন পাওয়ার আগেই সেই টাকার ওপর একাধিক জরুরি খরচের চাপ তৈরি হয়ে যায়।
বাজারের খরচ বা বাড়িভাড়া দেওয়ার জন্য নিয়মিত বন্ধু, আত্মীয় বা ঋণদাতার কাছ থেকে টাকা ধার করতে হয়। ছবি: ম্যাগনিফিক
ক্রেডিট কার্ডের সীমা
আপনার ক্রেডিট কার্ডের সীমা নিয়মিতই প্রায় পূর্ণ হয়ে যায়। ফলে নতুন করে কেনাকাটার জন্য খুব কম টাকা বাকি থাকে। আবার নতুন করে কিছু কিনতে চাইলেও আগে বকেয়া পরিশোধের চিন্তা করতে হয়। এভাবে প্রতিদিনের খরচে ধার করা টাকার ওপর নির্ভরশীলতা তৈরি হয়। আপনার মাসিক আয় দিয়ে এসব খরচ পুরোপুরি চালানো সম্ভব হয় না।
প্রয়োজনীয় খরচেও ধার করা
বাজারের খরচ বা বাড়িভাড়া দেওয়ার জন্য নিয়মিত বন্ধু, আত্মীয় বা ঋণদাতার কাছ থেকে টাকা ধার করতে হয়। ধীরে ধীরে ধার করা মাসিক জীবনের নিয়মিত অংশ হয়ে যায়। পরে সেই ধার শোধ করতে গিয়ে প্রয়োজনীয় অন্যান্য খরচের টাকা কমে যায়। ফলে আবার নতুন করে ধার করতে হয়।
আয়ের চেয়ে খরচ বেশি
প্রতি মাসে আপনার খরচ মোট আয়ের চেয়ে বেশি হয়। শুরুতে সঞ্চয় থেকে ঘাটতি পূরণ করা হয়, অথবা ধার করে এই সমস্যা সাময়িকভাবে সামাল দেওয়া হয়। কিন্তু আয় ও খরচের এই ব্যবধান ক্রমেই বড় সমস্যা তৈরি করে। কোনো একটি খরচ সামর্থ্যের মধ্যে থাকলেও সব খরচ মিলিয়ে আয়কে ছাড়িয়ে যায়।
হঠাৎ করে কেনাকাটা
বিভিন্ন ছাড় বা কেনাকাটার অফার দেখে আপনি অনেক সময় আগে থেকে পরিকল্পনা না করেই জিনিস কিনে ফেলেন। এসব কেনাকাটার কারণে যদি প্রয়োজনীয় বিল পরিশোধ করা কঠিন হয়ে যায়, তখন বিষয়টি উদ্বেগের কারণ। মাঝে মাঝে শখ করে কিছু কেনাকাটা করলেই আর্থিক সমস্যা বোঝায় না। তবে বারবার এমন কেনাকাটা করলে এবং এতে সংসারের জরুরি খরচে সমস্যা হলে সতর্ক হওয়া দরকার।
কোনো বিমা নেই
হঠাৎ চিকিৎসা বা দুর্ঘটনার খরচ সামলানোর জন্য আপনার কোনো বিমা নেই। নিয়মিত আয় দিয়ে দৈনন্দিন খরচ চালানো গেলেও বড় কোনো জরুরি পরিস্থিতি এলে সঞ্চয়ের ওপর বড় চাপ পড়তে পারে। উপযুক্ত বিমা না থাকলে হঠাৎ বড় খরচের কারণে পরিবারের অন্যান্য প্রয়োজনীয় খরচ চালানো কঠিন হয়ে যেতে পারে।
সম্পদ বিক্রি করা
দৈনন্দিন খরচ মেটাতে আপনি বারবার গয়না, বিনিয়োগ বা অন্য মূল্যবান জিনিস বিক্রি করছেন। এতে সাময়িকভাবে সমস্যা মিটলেও ভবিষ্যতের জন্য সম্পদ কমে যায়। আয় প্রয়োজনের তুলনায় কম থাকলে জিনিসপত্র বিক্রি করাই নিয়মিত সমাধান হয়ে দাঁড়াতে পারে। কিন্তু এতে মাসিক খরচের ঘাটতি স্থায়ীভাবে মেটে না।