দিনের সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ খাবার হলো সকালের নাশতা। এটি আমাদের সারাদিনের শক্তি জোগায়। সারাদিন শরীরকে সতেজ রাখতে এর কোন তুলনা নেই। এ কারণের পুষ্টিবিদ থেকে শুরু করে স্বাস্থ্যসচেতনেরা ব্রেকফাস্টকে বিশেষ গুরুত্ব দিয়ে থাকেন। তাই সকালের নাশতায় কী খাওয়া হবে, কী খাওয়া যাবে না— সবার আগ্রহের কমতি নেই। যেমন, সকালে খালি পেটে পুষ্টিকর খাবার হিসেবে ফল খাওয়া যাবে কি না– এই প্রশ্ন মোটামুটি সব স্বাস্থ্যসচেতনদের।
সকালের নাশতায় ফল খাওয়া স্বাস্থ্যের জন্য উপকারী। ফল শরীরের ভিটামিন ও পুষ্টির চাহিদা পূরণ করতে সাহায্য করে। তবে ওজন কমানো, শরীর থেকে বিষাক্ত পদার্থ দূর করা বা স্বাস্থ্যকর খাবার খাওয়ার চেষ্টায় অনেকেই সকালের নাশতায় শুধু ফল খান। শুধু ফল খেলে তা আবার আমাদের শরীরে খারাপ প্রভাব ফেলতে পারে। ফল খাওয়া ভালো, কিন্তু সকালের নাশতা একমাত্র খাবার হিসেবে রাখা উচিত নয়।
সকাল ৭-১১টা পর্যন্ত আমাদের শরীরে বিপাকীয় কার্যক্রম বেশি সক্রিয় থাকে। এ সময়ে হালকা খাবার খেলে বিপাকের হার বেড়ে যায়। অনেক পুষ্টিবিদরা সকালে খালি পেটে ফল খাওয়ার পরামর্শ দেন কারণ সারারাত দীর্ঘ সময় না খেয়ে থাকার কারণে শরীরে এনার্জির দরকার হয়। এর শর্করা শরীর দ্রুত শোষণ করে এবং তাৎক্ষণিক শক্তি জোগায়। ফলে রয়েছে ফাইবার যা দ্রুত ও সহজে হজমের কারণে শরীর থেকে বিষাক্ত উপাদান (টক্সিন) বের করতে সাহায্য করে। নিয়মিত খালি পেটে ফল খেলে শরীরে উপকারী ফাইটোনিউট্রিয়েন্ট, অ্যান্টিঅক্সিডেন্ট, ভিটামিন ও মিনারেলের মাত্রা শুরু হয় যা কোলেস্টেরলের পরিমাণ কমিয়ে আনে।
অনেকের ধারণা ফল দীর্ঘক্ষণ পেট ভরা রাখতে সাহায্য করে। এই কথা কিছুটা সঠিক। হেলথলাইনে প্রকাশিত এক প্রতিবেদন বলছে, ২০১৪ সালের এক গবেষণায় দেখা গেছে, ফলের ফাইবারের একটি ধরণ জেলযুক্ত পেকটিন যারা গ্রহণ করেছিলেন, তাদের পাকস্থলী খালি হতে সময় লেগেছে প্রায় ৮২ মিনিট। অন্যদিকে যারা পেকটিন খাননি, তাদের ক্ষেত্রে এই সময় ছিল প্রায় ৭০ মিনিট। তবে ফল কাজটি একা করতে পারে না। এজন্য তার কিছু ‘সঙ্গীসাথি’-র দরকার হয়।
ফল খেতে হবে প্রোট্রিনের সঙ্গে। ছবি: ম্যাগনেফিক
পুষ্টিবিদরা ফলের সাথে প্রোটিন-সমৃদ্ধ খাবার যেমনঃ টক দই, ডিম, চিয়া সিড, বাদাম মিশিয়ে খাওয়ার পরামর্শ দেন। এই সংমিশ্রণ হজম প্রক্রিয়াকে ধীর করে, দীর্ঘক্ষণ পেট ভরা রাখতে সাহায্য করে এবং রক্তে শর্করার মাত্রা ভালোভাবে নিয়ন্ত্রণে সাহায্য করে।
তবে সকালের নাশতায় শুধু ফল খাওয়ার অসুবিধা রয়েছে। বেশিরভাগ ফলেই প্রোটিন এবং ফ্যাট খুব কম থাকে। এই দুটি পুষ্টি উপাদান দীর্ঘক্ষণ পেট ভরা রাখতে, পেশী ধরে রাখতে এবং খাবারের পর রক্তে শর্করার মাত্রা স্থিতিশীল রাখতে সাহায্য করে। আগেই বলা হয়েছে, শরীর ফলের শর্করা দ্রুত শোষণ করে নেয়। তাই ব্রেকফাস্টে কেবল ফল মাত্র ১-২ ঘণ্টা পরেই আবার ক্ষুধা পায়। এতে দুপুরের খাবারে বেশি খাওয়া সহজ হয়ে যায়। ওজন তখন নিয়ন্ত্রণে থাকে না।
প্রতিটি ফলের মধ্যে বিভিন্ন ধরনের এনজাইম ও অ্যাসিড থাকে যা অন্ত্রের ব্যাকটেরিয়ার সাথে ক্রিয়া-প্রতিক্রিয়া করতে পারে এবং ব্যক্তিভেদে নির্ভর করে প্রভাব ভালো বা খারাপ হতে পারে। অ্যাসিডিটি, জ্বালাপোড়া সকালে খালি পেটে টক জাতীয় ফল যেমনঃ কমলা, লেবু, আমলকি, জাম্বুরা, আনারস খাওয়া এড়িয়ে চলতে হবে। এসব ক্ষেত্রে কলা, ড্রাগন, পেঁপে নাশতায় রাখা তুলনামূলক নিরাপদ। আর টক জাতীয় ফল সকালের নাশতা খাওয়ার আধা ঘণ্টা বা এক ঘণ্টা পরে খাওয়া যেতে পারে।
তবে একটি কথা মনে রাখা জরুরি যে, ফল কেবল সকালেই খেলে বেশি উপকার পাওয়া যায়, দিনের অন্য সময়ে খেলে এর উপকারীতা পাওয়া যাবে না— বিষয়টি এমন নয়। পুষ্টিবিদেরাই বলেছেন ফল খাওয়ার নির্দিষ্ট কোন সময় নেই। সকালেই ফল খেতে হবে—এমন দাবির কোনো ভিত্তি নেই। সময় যা-ই হোক না কেন, ফল সবসময়ই একটি স্বাস্থ্যকর খাবার।
তথ্যসূত্র: ইটিং ওয়েল, হেলথ ডট কম