যারা দুগ্ধজাত খাবার পছন্দ করেন, তাদের কাছে দুধ আর দইয়ের মধ্যে একটি বেছে নেওয়া বেশ কঠিন হতে পারে। এক সময় বলা হতো দুধ একটি ‘আদর্শ’ খাবার। তবে এখন পুষ্টিবিদদের কাছে দুধ ও দই— দুটিই ‘সুপারফুড’। এর অবশ্য যথাযথ কারণও আছে। উভয়েরই রয়েছে নিজস্ব পুষ্টিগুণ ও স্বাস্থ্য উপকারিতা।
দুধ
দুধে আছে প্রচুর পরিমাণে ক্যালসিয়াম, প্রোটিন, ভিটামিন বি-১২, ভিটামিন ডি ও পটাশিয়াম। হাড় মজবুত করতে এবং শিশুদের শারীরিক বৃদ্ধি ও বুদ্ধির বিকাশে এর কোন বিকল্প নেই। প্রতিদিন এক গ্লাস দুধ খেলে শরীরে শক্তির জোগান বজায় থাকে এবং পেশি শক্তিশালী হয়। ব্যায়াম বা শারীরিক পরিশ্রমের পর দুধ দ্রুত শোষিত হওয়া প্রোটিন এবং শরীরে পানির ঘাটতি পূরণে সহায়তা করে। তাই ব্যায়াম বা ভারী শারীরিক পরিশ্রমের পর পুষ্টিবিদেরা দুধ পানের পরামর্শ দেন। এছাড়া এটি ঘুমের সমস্যা সমাধান করতে পারে। কারণ দুধে বিদ্যমান ট্রিপটোফ্যান সেরোটোনিন এবং পরবর্তীতে ‘স্লিপ হরমোন’ মেলাটোনিনে রূপান্তরিত হয়।
তবে যাদের আইবিএস ও ল্যাকটোজ ইনটলারেন্স রয়েছে, তারা এ সুপারফুডটি হজম করতে পারেন না।
দই
দই তৈরি হয় দুধের গাঁজন বা ফার্মেন্টেশন প্রক্রিয়ার মাধ্যমে। এই প্রক্রিয়ায় এতে তৈরি হয় উপকারী প্রোবায়োটিক ব্যাকটেরিয়া যা ল্যাকটোব্যাসিলাস নামে পরিচিত। যা অন্ত্রের স্বাস্থ্য ভালো রাখতে সাহায্য করে। অন্ত্রের স্বাস্থ্য ভালো থাকা মানেই হজম ঠিকমতো হওয়া। প্রতি গ্রাম দইয়ের মধ্যে প্রায় ১০০ মিলিয়ন অ্যাকটিভ ল্যাকটোব্যাসিলাস থাকে।
‘আমেরিকান ন্যাশনাল ইনস্টিটিউট অব হেলথ’ এর মতে প্রতিদিন আমাদের যে পরিমাণ ভিটামিন বি-১২ দরকার হয় তার প্রায় ২৫ শতাংশই এক কাপ দইয়ের মধ্যে থাকে। ভিটামিন বি-১২ আমাদের স্বাস্থ্য ও ত্বক দু’য়ের জন্যই বেশ উপকারী। কার্ডিওভাস্কুলার ডিজিজ কমাতে এবং ডিমেনশিয়া রোধ করতে এটি সক্রিয় ভূমিকা রাখে। একইসাথে এটি বেশ ভালো এনার্জি বুস্টার, তাই সকালের নাস্তায় দই রাখলে সারাদিন এনার্জি পাওয়া যায়।
এছাড়াও ড্যামেজড স্কিন ব্যারিয়ার সারাতে ভিটামিন বি-১২ খুবই কার্যকর। নিয়মিত ডায়েটে দই থাকলে শরীরে কোলন ক্যান্সারের ঝুঁকি কমে যায়। ওজন নিয়ন্ত্রণ করতে চাইলে এটি শরীরের মেটাবলিজম সক্রিয় রাখতে সহায়তা করে এবং দীর্ঘক্ষণ ভরপেটের অনুভূতি দেয়। ফলে অতিরিক্ত খাওয়ার প্রবণতা কমে এবং ওজন নিয়ন্ত্রণে সুবিধা হয়।
কে কত এগিয়ে?
এক গ্লাস দুধের মধ্যে প্রোটিনের পরিমাণ ৮ গ্রাম, যেখানে এক কাপ দইয়ের মধ্যে প্রোটিন থাকে ১৪ গ্রাম। দুধে ক্যালসিয়ামের পরিমাণ ২৭৬ মিলিগ্রাম, যেখানে সমপরিমাণ দইয়ের মধ্যে ক্যালসিয়াম থাকে ৪৮৮ মিলিগ্রাম। এক গ্লাস দুধে ভিটামিন বি-১২ পাওয়া যায় ১.১ মাইক্রোগ্রাম। এর বিপরীতে এক কাপ দইয়ের মধ্যে এর পরিমাণ ১.৫ মাইক্রোগ্রাম।
যদিও দুধ ও দইয়ের পুষ্টিগুণের মধ্যে খুব বেশি পার্থক্য নেই, তবুও দুধের চেয়ে দই কিছুটা এগিয়ে আছে। অন্ত্রকে সুস্থ রাখা ও সংক্রমণ প্রতিরোধের মতো গুণের পাশাপাশি, দুধের তুলনায় দই হজম করাও সহজ। যারা ল্যাকটোজ-ইনটলারেন্ট তারা দই খুব সহজেই খেতে পারেন। তবে যাদের এই সমস্যা তারা নিজের স্বাস্থ্যের কথা চিন্তা করে ডায়েট দুধ-দই দুটিই যোগ করতে পারেন।
তথ্যসূত্র: হেলথলাইন