
ওয়েট লিফটিং কেন নারীদের জন্য সেরা ব্যায়াম
অনেকেই মনে করেন ওজন তুললে নারীরা পুরুষদের মতো পেশীবহুল ও চওড়া হয়ে যাবেন। তবে বিজ্ঞানী জে. ই. আর্প ও তার সহযোগীদের গবেষণা বলছে, পেশীর বৃদ্ধি অনেকাংশে নির্ভর করে টেস্টোস্টেরন নামক হরমোনের ওপর।
খাদিজাতুল কুবরা

একসময় চাকরি মানে ছিল জীবনের নিশ্চয়তা। ভালো একটি অফিস, ধীরে ধীরে পদোন্নতি এবং প্রতিষ্ঠানের সঙ্গে দীর্ঘমেয়াদি সম্পর্ক—এই ছিল কর্মজীবনের চেনা ছক। এখন সেই ধারণা বদলে গেছে জেন জি প্রজন্মের হাত ধরে।
বিশ্বের অন্যতম বৃহৎ পেশাগত সেবা প্রদানকারী প্রতিষ্ঠান ডেলয়েট বিশ্বব্যাপী তরুণদের কর্মসংস্থান, মানসিক স্বাস্থ্য ও ক্যারিয়ার অগ্রাধিকার নিয়ে প্রতি বছর বড় আকারের জরিপ পরিচালনা করে। জরিপে পাওয়া যায়, তরুণ কর্মীদের প্রায় ৭০ শতাংশ প্রতি সপ্তাহে নতুন কোনো দক্ষতা শেখার চেষ্টা করেন।
তাদের গবেষণায় আরো দেখা গেছে, জেন জি প্রজন্ম চাকরিকে জীবনের কেন্দ্র নয়, বরং জীবনের একটি অংশ হিসেবে দেখে। তাদের কাছে কাজের অর্থ শুধু আয় নয়; বরং শেখা, আত্মতৃপ্তি এবং স্বাধীনতা উপভোগ করা। তাই জেন জি-রা প্রচলিত ক্যারিয়ারের পরিবর্তে এমন কাজ বেছে নিচ্ছে- যেখানে স্বাধীনতা, সৃজনশীলতা, শেখার সুযোগ এবং ব্যক্তিগত জীবনের ভারসাম্য বেশি গুরুত্ব পায়।
জেন জি প্রজন্ম এমন একটি সময়ে বেড়ে উঠেছে যখন ইন্টারনেট, সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এবং ডিজিটাল প্রযুক্তি জীবনের অবিচ্ছেদ্য অংশ ও সহজলভ্য। ইউটিউব, ফেসবুক, টিকটক, ফ্রিল্যান্সিং প্ল্যাটফর্ম কিংবা নিজস্ব অনলাইন ব্যবসার মাধ্যমে তারা দেখছে—অফিসে প্রতিদিন নির্দিষ্ট সময় বসে না থেকেও সফল হওয়া সম্ভব। ফলে প্রচলিত চাকরির বাইরে বিকল্প ক্যারিয়ারের প্রতি জেন জিদের আগ্রহ দ্রুত বাড়ছে। বিশেষ করে ফ্রিল্যান্সিংয়ের দিকে ঝুঁকছে অনেক তরুণ। তারা ঘরে বসেই বিশ্বের বিভিন্ন দেশের ক্লায়েন্ট ও প্রতিষ্ঠানের জন্য কাজ করছে।
তবে এর অর্থ এই নয় যে, জেন জি সবাই সরকারি বা করপোরেট চাকরি এড়িয়ে চলছে। চিকিৎসক, প্রকৌশলী, শিক্ষক কিংবা প্রশাসনিক কর্মকর্তা হওয়ার স্বপ্ন অনেক তরুণ-তরুণীর রয়েছে। কিন্তু তারা এখন ক্যারিয়ার নির্বাচনের ক্ষেত্রে শুধু সামাজিক মর্যাদা নয়, নিজের আগ্রহ, জীবনযাত্রার মান এবং দীর্ঘমেয়াদি সন্তুষ্টিকেও গুরুত্ব দিচ্ছে। তাদের অনেকেরই বিশ্বাস দক্ষতা অর্জন করে অনলাইনে কাজ করা, কনটেন্ট ক্রিয়েশন, স্টার্টআপ গড়ে তোলা কিংবা একাধিক আয়ের উৎস তৈরি করা যা ভবিষ্যতের জন্য বেশি কার্যকর হতে পারে। দক্ষতা থাকলে শুধু বাংলাদেশ নয়, পুরো বিশ্বের কর্মবাজারই উন্মুক্ত হয়ে যায়।
এই প্রজন্মের সবচেয়ে বড় শক্তি হলো নিজে নিজে শেখার ক্ষমতা। ইউটিউব, অনলাইন কোর্স, পডকাস্ট কিংবা স্বেচ্ছাসেবী কাজ—সব জায়গা থেকেই তারা নতুন দক্ষতা অর্জন করছে। ৯টা থেকে ৫টা অফিস করে একই ধরনের জীবন কাটিয়ে দেওয়ার মানসিকতা ধারণ করে না জেন জি। লিঙ্কডইনে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার (এআই) সহায়তায় পরিমার্জিত আবেদনপত্র একের পর এক পাঠানোর পরও, যখন একইভাবে এআই-চালিত মানবসম্পদ বিভাগ সেগুলো প্রত্যাখ্যান করে, তখন অনেক নতুন স্নাতকই প্রশ্ন তোলেন—পড়াশোনা করে আসলে কী লাভ হলো?
এই হতাশার প্রতিফলন মিলেছে নিউইয়র্ক ফেডের একটি সাম্প্রতিক সমীক্ষায়। সেখানে দেখা গেছে, যুক্তরাষ্ট্রের সদ্য স্নাতক হওয়া শিক্ষার্থীদের প্রায় ৪০ শতাংশ এমন চাকরিতে কর্মরত, যেখানে স্নাতক ডিগ্রির কোনো প্রয়োজনই নেই।
শুধু কঠোর পরিশ্রম করলেই যে জীবনে সফল হওয়া সম্ভব—এমন ধারণায় বিশ্বাসী নয় এই প্রজন্ম। তারা কাজ ও ব্যক্তিগত জীবনের মধ্যে ভারসাম্য রেখে জীবন কাটাতে চায়। ফলে এমন কর্মস্থলে কাজ করতে তারা আগ্রহী নয়, যেখানে ব্যক্তিগত জীবন বিষিয়ে ওঠে। ক্যারিয়ারের অগ্রগতির চেয়ে ব্যক্তিগত সুস্থতা ও মানসিক স্বাস্থ্যকে তারা বেশি গুরুত্ব দেয়।
তরুণেরা খুঁজে নিচ্ছেন এমন পেশা, যেখানে পরিবর্তনের সঙ্গে দ্রুত তাল মিলিয়ে চলা যায়। বর্তমান প্রজন্মের কাছে অর্থই একমাত্র লক্ষ্য নয়। দীর্ঘ কর্মঘণ্টা, কঠোর অফিস সংস্কৃতি কিংবা একঘেয়ে কাজ অনেকের কাছেই আকর্ষণীয় নয়। তারা এমন কর্মপরিবেশ চায়, যেখানে নতুন কিছু শেখা, নিজের মত প্রকাশ এবং কাজের স্বাধীনতা থাকবে।

অন্যদিকে, অভিভাবকদের একটি বড় অংশ এখনও সন্তানদের ডাক্তার বা ইঞ্জিনিয়ার হিসেবে দেখতে চান। তাদের ধারণা, গতানুগতিক এসব পেশায় গেলেই সাফল্য নিশ্চিত। তবে বাস্তবতায় দেখা যাচ্ছে ভিন্ন চিত্র। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ব্যবসায় প্রশাসন ইনস্টিটিউটের (আইবিএ) অধ্যাপক রিদওয়ানুল হক একটি পত্রিকার সাক্ষাৎকারে বলেন, ঢাকার বাংলা মাধ্যমের অনেক শিক্ষার্থী সরকারি চাকরির তুলনায় করপোরেট খাতে বেশি আগ্রহী। অন্যদিকে ইংরেজি মাধ্যমের শিক্ষার্থীদের মধ্যে কনটেন্ট রাইটিং, ব্লগিং, সৃজনশীল লেখা, এমনকি পোষা প্রাণীর চিকিৎসার মতো ব্যতিক্রমী পেশার প্রতিও আগ্রহ বাড়ছে। তার মতে দেশের জেন জি প্রজন্ম একাধিক কাজে দক্ষ হয়ে ওঠার চেষ্টা করছে।
সিলিকন ভ্যালির সাবেক ভেঞ্চার ক্যাপিটালিস্ট বিল গার্লি ব্রিটিশ সাময়িকী দ্য ইকোনমিস্টকে বলেন, “জীবিকার জন্য ভালোবেসে আপনি যে কাজ করেন, এর চেয়ে বেশি সফল আর কিছুই হতে পারে না।” অনেক স্নাতকই নিজের জন্য আনন্দদায়ক কাজ এবং ভালো বেতনের কাজের মধ্যে একটিকে বেছে নেওয়ার দ্বিধায় পড়েন।
দ্য ইকোনমিস্টের এক প্রতিবেদনে দেয়া হয়, ১৯৭০ সালের বেস্টসেলার বই ‘হোয়াট কালার ইজ ইয়োর প্যারাশ্যুট?’ প্রকাশের পর থেকে ক্যারিয়ারবিষয়ক বইগুলো মানুষকে নিজের আগ্রহ ও ভালো লাগার সঙ্গে মিল রেখে পেশা বেছে নিতে উৎসাহিত করে আসছে। কিন্তু অনেকেই নিশ্চিত নন, তারা আসলে কী করতে চান। আবার কারও কোনো বিষয়ে প্রবল আগ্রহ থাকলেও সেই ক্ষেত্রে পর্যাপ্ত চাকরির সুযোগ নাও থাকতে পারে। ২০০৩ সালের একটি সমীক্ষায় দেখা যায়, প্রায় ৯০ শতাংশ কানাডীয় শিক্ষার্থী জানিয়েছিল তারা সঙ্গীত, শিল্পকলা বা খেলাধুলা ভালোবাসে, অথচ সে সময় দেশটিতে এসব ক্ষেত্রে চাকরির সুযোগ ছিল মাত্র ৩ শতাংশ।
নিজের জন্য সঠিক কাজ খুঁজে পেতে সময় লাগতে পারে। ব্রিটেনের সাবেক প্রধানমন্ত্রী টনি ব্লেয়ার রাজনীতিতে আসার আগে রক মিউজিক প্রোমোটার ছিলেন। বিখ্যাত লেখিকা মায়া অ্যাঞ্জেলো সাহিত্যজগতে প্রতিষ্ঠিত হওয়ার আগে ট্রাম কন্ডাক্টর হিসেবে কাজ করেছেন। আর কর্নেল স্যান্ডার্স ৬২ বছর বয়সে কেন্টাকি ফ্রাইড চিকেন (কেএফসি) প্রতিষ্ঠা করেন। অর্থাৎ, সঠিক কাজটি খুঁজে পেতে অনেকেরই সময় লাগে।
এদিকে বেঞ্জামিন টডের বিখ্যাত ‘৮০,০০০ আওয়ারস’ বইয়ের ধারণাটি আবার জেন জিদের ক্যারিয়ার ভাবনায় নতুন মাত্রা যোগ করছে। টডের মতে, কেবল ‘নিজের প্যাশন অনুসরণ করো’—এই পুরোনো ধারণার বদলে তরুণদের উচিত বিশ্বের অবহেলিত সমস্যাগুলো সমাধানে মনোযোগ দেওয়া। জেন জি যেহেতু প্রযুক্তি ও সমাজ নিয়ে অত্যন্ত সচেতন, তাই তারা জলবায়ু পরিবর্তন, কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার ঝুঁকি বা বৈশ্বিক দারিদ্র্যের মতো চ্যালেঞ্জ মোকাবেলায় নিজেদের ক্যারিয়ার গড়তে পারে। ‘ইফেক্টিভ অলট্রুইজম’ নীতি মেনে তারা যদি এমন পেশা বেছে নেয় যা সমাজের সর্বোচ্চ উপকারে আসবে, তবে তাদের ক্যারিয়ার কেবল ব্যক্তিজীবনেই সফল হবে না, বরং তা বিশ্ব বদলানোর শক্তিশালী হাতিয়ারে পরিণত হবে।
কর্মজগত দ্রুত বদলাচ্ছে, আর সেই পরিবর্তনের সঙ্গে বদলে যাচ্ছে সাফল্যের সংজ্ঞাও। যে প্রজন্ম একসময় চাকরির নিরাপত্তাকে সবচেয়ে বড় অর্জন মনে করত, তাদের জায়গায় এখন এমন একটি প্রজন্ম এসেছে, যারা জীবনের জন্য কাজ করতে চায়, কাজের জন্য জীবন নয়। সম্ভবত এটাই আগামী দিনের কর্মজগতের নতুন বাস্তবতা, যেখানে সাফল্যের মাপকাঠি কেবল পদোন্নতি বা চাকরির দীর্ঘমেয়াদি নিশ্চয়তা নয়; বরং পরিবর্তনশীল পরিস্থিতির সঙ্গে নিজেকে দ্রুত খাপ খাইয়ে নেওয়ার সক্ষমতা।

অনেকেই মনে করেন ওজন তুললে নারীরা পুরুষদের মতো পেশীবহুল ও চওড়া হয়ে যাবেন। তবে বিজ্ঞানী জে. ই. আর্প ও তার সহযোগীদের গবেষণা বলছে, পেশীর বৃদ্ধি অনেকাংশে নির্ভর করে টেস্টোস্টেরন নামক হরমোনের ওপর।

সকাল ৭-১১টা পর্যন্ত আমাদের শরীরে বিপাকীয় কার্যক্রম বেশি সক্রিয় থাকে। এ সময়ে হালকা খাবার খেলে বিপাকের হার বেড়ে যায়। অনেক পুষ্টিবিদরা সকালে খালি পেটে ফল খাওয়ার পরামর্শ দেন কারণ সারারাত দীর্ঘ সময় না খেয়ে থাকার কারণে শরীরে এনার্জির দরকার হয়।

যারা দুগ্ধজাত খাবার পছন্দ করেন, তাদের কাছে দুধ আর দইয়ের মধ্যে একটি বেছে নেওয়া বেশ কঠিন হতে পারে। এক সময় বলা হতো দুধ একটি ‘আদর্শ’ খাবার। তবে এখন পুষ্টিবিদদের কাছে দুধ ও দই— দুটিই ‘সুপারফুড’। এর অবশ্য যথাযথ কারণও আছে। উভয়েরই রয়েছে নিজস্ব পুষ্টিগুণ ও স্বাস্থ্য উপকারিতা। দুধ দুধে আছে প্রচুর পরিমাণ

মাইক্রোম্যানেজমেন্ট কর্মীদের মনে বার্তা দেয় যে তাদের ওপর ভরসা করা যাচ্ছে না, যা তাদের আত্মবিশ্বাসে ফাটল ধরায়। স্বাধীন চিন্তার সুযোগ না থাকায় কর্মক্ষেত্রে ‘আইডিয়া ভ্যাকিউম’ তৈরি হয়। প্রতিটি পদক্ষেপে সবুজ সংকেতের অপেক্ষায় থাকতে থাকতে কাজের গতি ধীর হয়ে যায়।