বাংলাদেশ ভারতের সঙ্গে এমন একটি অর্থনৈতিক অংশীদারত্ব দেখতে চায়, যা সমানভাবে লাভজনক হবে এবং মানুষের জীবনে দৃশ্যমান পরিবর্তন আনবে বলে জানিয়েছেন পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী শামা ওবায়েদ ইসলাম।
গতকাল মঙ্গলবার রাতে আয়োজিত এক সংবর্ধনা অনুষ্ঠানে বক্তব্য দেওয়ার সময় তিনি এসব কথা বলেন।
শামা ওবায়েদ বলেন, “আমি আত্মবিশ্বাসী যে, আমাদের দুই দেশের ব্যবসায়ী সম্প্রদায়ের এটি বাস্তবায়নের জন্য দূরদৃষ্টি ও সক্ষমতা দুটোই রয়েছে। আমরা সম্মিলিতভাবে এই প্রতিবন্ধকতাগুলোর বাস্তবসম্মত সমাধান খুঁজে বের করতে পারি।” তিনি আরও উল্লেখ করেন, ব্যবসার ক্ষেত্রে অধিকতর পূর্বাভাসযোগ্যতা এবং সহজলভ্যতা উভয় দেশের ব্যবসাকেই লাভবান করবে।
বার্তা সংস্থা ইউএনবি জানায়, গতকাল বিকেলে ভারতের ব্যবসায়ী নেতাদের সঙ্গে বৈঠক করেন শামা ওবায়েদ। বৈঠকে তারা কয়েকটি বিষয় চিহ্নিত করেন। বৈঠকটিকে ফলপ্রসূ ও সাফল্যদায়ক হিসেবে বর্ণনা করে তিনি বলেন, “আমার পক্ষ থেকে আমি তাদের আশ্বস্ত করেছি যে, আমরা ওই সমস্যাগুলো সমাধানের জন্য সর্বাত্মক চেষ্টা করব এবং আমরা দুই দেশের মধ্যে আরও প্রাণবন্ত বাণিজ্য, বিনিয়োগ ও যোগাযোগ চাই।”
পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী বলেন, বাংলাদেশি ব্যবসায়ীদের জন্য দ্রুত ব্যবসায়িক ভিসা দেওয়া উচিত, যাতে তারা আরও ঘন ঘন ভারতে যেতে পারেন। তিনি আরও বলেন, “আমরা চাই, আমাদের ব্যবসা ও বেসরকারি খাতের প্রতিষ্ঠানগুলো ভারতের সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠানগুলোর সঙ্গে আরও ঘন ঘন যোগাযোগ করুক।”
ভবিষ্যৎ অর্থনৈতিক সম্পর্কের ক্ষেত্রে বিনিয়োগ সমানভাবে গুরুত্বপূর্ণ একটি স্তম্ভ বলেও উল্লেখ করেন তিনি।
শামা ওবায়েদ বলেন, “আমাদের অর্থনৈতিক অঞ্চলগুলো ভারতীয় কোম্পানিগুলোকে নিজস্ব উৎপাদন ও রপ্তানি স্থাপনা গড়ে তোলার সুযোগ দিচ্ছে। আমরা বিশেষ করে এমন বিনিয়োগকে স্বাগত জানাব, যা প্রযুক্তি নিয়ে আসবে, স্থানীয় সরবরাহকারীদের সম্পৃক্ত করবে এবং কর্মসংস্থান সৃষ্টি করবে। একই সঙ্গে এর মাধ্যমে বাংলাদেশি পণ্যকে আঞ্চলিক ও বৈশ্বিক ভ্যালু চেইনের সঙ্গে যুক্ত করা যাবে।” তিনি বলেন, বাংলাদেশ ও ভারত ভৌগোলিকভাবে কাছাকাছি, ঐতিহাসিকভাবে সংযুক্ত এবং অর্থনৈতিকভাবে পরস্পরের পরিপূরক।
পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী বলেন, ভারত এ অঞ্চলে বাংলাদেশের অন্যতম প্রধান বাণিজ্যিক অংশীদার এবং বছরের পর বছর দুই দেশের দ্বিপক্ষীয় বাণিজ্য উল্লেখযোগ্যভাবে বেড়েছে। তিনি বলেন, “তবে আমাদের এটিও স্বীকার করতে হবে যে, দুই দেশের দ্বিপক্ষীয় বাণিজ্যে এখনও কাঠামোগত ভারসাম্যহীনতা রয়েছে এবং প্রকৃত সম্ভাবনার তুলনায় এর পরিমাণ অনেক কম।”