Chaarcha Logo
Chaarcha logo
সর্বশেষবিশেষএক্সপ্লেইনারবিশ্লেষণভাবনাভিডিওশর্টসজীবনচরচাম্যাগাজিনপ্রবাস
১১ অক্টোবর, ২০২৬
১১ অক্টোবর, ২০২৬
Chaarcha logo
সংক্ষেপেকানেক্টম্যাগাজিন

আমরা

আমাদের সম্পর্কেযোগাযোগবিধিনিষেধ ও শর্তাবলিগোপনীয়তার নীতি
Chaarcha logo
সর্বশেষবিশেষএক্সপ্লেইনারবিশ্লেষণভাবনাভিডিওশর্টসজীবনচরচাম্যাগাজিনপ্রবাস
১১ অক্টোবর, ২০২৬
১১ অক্টোবর, ২০২৬
সর্বশেষবিশেষএক্সপ্লেইনারবিশ্লেষণভাবনাভিডিওশর্টসজীবনচরচাম্যাগাজিনপ্রবাস
Chaarcha logo
সর্বশেষএক্সপ্লেইনারবিশ্লেষণভাবনাভিডিওশর্টসজীবনচরচাম্যাগাজিনপ্রবাস
আমরা
  • আমাদের সম্পর্কে
  • যোগাযোগ
  • বিধিনিষেধ ও শর্তাবলি
  • গোপনীয়তার নীতি
এক্সপ্লেইনারবিশ্লেষণ

সম্পাদক: সোহরাব হাসান, প্রিন্টার্স বিল্ডিং (লেভেল–১৪), ৫ রাজউক অ্যাভিনিউ, মতিঝিল বাণিজ্যিক এলাকা, ঢাকা–১০০০, বাংলাদেশ

|

স্বত্ব © চরচা

Chaarcha Logo
> ভাবনা

চীন যেভাবে বদলে দিচ্ছে ইরান-যুদ্ধ

পেপে এস্কোবার

প্রকাশ : ২৪ মার্চ ২০২৬, ০৯: ১৫
চীন যেভাবে বদলে দিচ্ছে ইরান-যুদ্ধ

চীন আনুষ্ঠানিকভাবে দুটি সমান্তরাল পথে এপস্টেইন সিন্ডিকেট আর যুক্তরাষ্ট্র-ইসরায়েলের ইরানের বিরুদ্ধে যুদ্ধের জবাব দিচ্ছে: একটি কূটনৈতিক মুখপাত্রের মাধ্যমে এবং অন্যটি সামরিক মুখপাত্রের মাধ্যমে। একটু বুঝিয়ে বললে, চীন এই যুদ্ধকে একদিকে চরম রাজনৈতিক/কূটনৈতিক উত্তেজনা এবং অন্যদিকে সামরিক হুমকি হিসেবে দেখছে।

Advertisement

চীনের সামরিক বাহিনী মুখপাত্র, পিপলস লিবারেশন আর্মি (পিএলএ)-এর একজন কর্নেল, রূপকের মাধ্যমে কথা বলেন। তিনিই স্পষ্টভাবে বলেছেন যে, যুক্তরাষ্ট্র আসলে ‘যুদ্ধে আসক্ত’, যার ২৫০ বছরের ইতিহাসে মাত্র ১৬ বছর শান্তি ছিল। তিনি স্পষ্টভাবে যুক্তরাষ্ট্রকে একটি বৈশ্বিক হুমকি হিসেবে তুলে ধরেন। এবং একইভাবে, একটি নৈতিক (এটা আমার জোর দেওয়া) হুমকি হিসেবেও।

চীনের প্রেসিডেন্ট সি চিনপিং দৃঢ়ভাবে মনোযোগ দিচ্ছেন মার্কসবাদ ও কনফুসিয়াসবাদের মধ্যে একটি দীর্ঘস্থায়ী সংযোগ প্রতিষ্ঠার দিকে। রাজনৈতিক চিন্তায় কনফুসিয়াসের মূল অবদান হলো ভাষার নির্ভুল ব্যবহার। কেবল সেই ব্যক্তি একটি জাতিকে শাসন করতে সক্ষম যে সুনির্দিষ্ট রূপক ও নৈতিক ভারসহ কথা বলে। সুতরাং চীন সতর্কতার সঙ্গে ইরানের বিরুদ্ধে যুক্তরাষ্ট্রের বেছে নেওয়া এই যুদ্ধের একটি ধারাবাহিক নৈতিক ও নীতিগত সমালোচনা গড়ে তুলছে। তারা জোর দিয়ে বলছে যে, এটি এমন একটি দেশের আক্রমণ, যে তার নৈতিক দিকনির্দেশনা হারিয়েছে। গ্লোবাল সাউথ এই বার্তাটি পুরোপুরি বুঝছে।

অতিরিক্ত আরও যেটা হচ্ছে, যুদ্ধক্ষেত্রের বাস্তবতা দেখাচ্ছে কীভাবে চীন ইরানে যুদ্ধের নিয়মও বদলে দিয়েছে। ইরানের নেটওয়ার্ক এখন সম্পূর্ণভাবে বাইডু স্যাটেলাইট সিস্টেমের সঙ্গে সংযুক্ত। এ কারণে বোঝা যাচ্ছে, কেন ইরান এখন নির্ভুলভাবে আঘাত হানতে পারছে এবং যুক্তরাষ্ট্র-ইসরায়েল জোটের প্রতিটি পদক্ষেপ একটি চীন-প্রযুক্তি মুখোমুখি হচ্ছে (কক্ষপথে ৪০টির বেশি বাইডু স্যাটেলাইট আছে)। এটি ইরানের ক্ষেপণাস্ত্রের চমৎকার নির্ভুলতা এবং জ্যামিং প্রতিরোধ ক্ষমতা বৃদ্ধির কারণ। তাদের ২৫ বছরের সমন্বিত কৌশলগত অংশীদারিত্বের অংশ হিসেবে, চীন ইরানকে দীর্ঘপাল্লার রাডারও সরবরাহ করেছে, যা স্যাটেলাইট সিস্টেমের সঙ্গে সংযুক্ত।

Advertisement
Advertisement
Advertisement
jet
মার্কিন ঘাঁটি থেকে উড়ে যাচ্ছে ফাইটার জেট। ছবি: রয়টার্স

মূল বিষয় হলো, এখন ইরানের প্রতিক্রিয়া ১২ দিনের যুদ্ধের তুলনায় অনেক কম। পাশাপাশি রাশিয়াও সহায়তা করেছে। ইউক্রেনে পশ্চিমা প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা যেমন প্যাট্রিয়ট ও অন্যান্য যুদ্ধাস্ত্র সম্পর্কে শেখা অভিজ্ঞতা ইরানকে প্রয়োগ করতে দিয়েছে। এটি শুধু ড্রোনের ব্যাপক ব্যবহার নয়; বরং রুশ কৌশল অনুযায়ী ড্রোনের ঝাঁককে ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্রের সঙ্গে সমন্বয় করার বিষয়। এটিই ‘অপারেশন ট্রু প্রমিজ–৪’-এর সাম্প্রতিক পর্যায়ে ভয়াবহভাবে কার্যকর হয়েছে।

সবকিছুই পেট্রোইউয়ান নিয়ে

এখন আসা যাক অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ হরমুজ প্রণালী চালের দিকে। মূল পদক্ষেপ হলো, ইরান এখন কেবল সেই তেলবাহী জাহাজগুলোকে চলাচল করতে দিচ্ছে যাদের কার্গো পেট্রোইউয়ানে নিষ্পত্তি করা হয়েছে। ডলার নয়। ইউরো নয়। কেবল ইউয়ান।

আসলে, চীন ২০২২ সালের ডিসেম্বরেই ব্রেটন উডস/ পেট্রোডলার ব্যবস্থার অবসান শুরু করেছিল, যখন বেইজিং উপসাগরীয় সহযোগিতা পরিষদের (জিসিসি) তেলনির্ভর রাজতন্ত্রগুলোকে সাংহাই স্টক এক্সচেঞ্জে তেল-গ্যাস বাণিজ্যের আমন্ত্রণ জানায়। এখন এর সঙ্গে যুক্ত করুন চীনের ১৫তম পঞ্চবার্ষিক পরিকল্পনা, যা সম্প্রতি বেইজিংয়ে আলোচনা ও অনুমোদিত হয়েছে। এটি একটি গভীর ও সমন্বিত ব্যবস্থাগত দৃষ্টিভঙ্গির উদাহরণ।

বেইজিংয়ের পরিকল্পনাকারীরা জিডিপি প্রবৃদ্ধি ৪ শতাংশ, ডিজিটাল অর্থনীতি ১২.৫ শতাংশ, সবুজ জ্বালানি ২৫ শতাংশ, পানির গুণগত মান ৮৫ শতাংশ, এবং বিপুল সংখ্যক উচ্চমূল্যের পেটেন্টের লক্ষ্য নির্ধারণ করেছেন। সবকিছুই ২০৩০ সাল পর্যন্ত বাধ্যতামূলক লক্ষ্য হিসেবে নির্ধারণ করা হয়েছে। এর মানে চীন অর্থনীতি, জ্বালানি নিরাপত্তা, পরিবেশ, শিক্ষা ও স্বাস্থ্যকে একই শরীরের অঙ্গ হিসেবে বিবেচনা করছে।

এইভাবে নগরায়ণও উৎপাদনশীলতা বাড়ায়; গবেষণা ও উন্নয়নে বিনিয়োগ পেটেন্ট বাড়ায়; পেটেন্ট ডিজিটাল অর্থনীতিকে চালিত করে; আর সবুজ জ্বালানি কৌশলগত স্বাধীনতা দেয়। এই পরিকল্পনা দেখাচ্ছে চীন কীভাবে ভবিষ্যৎ প্রযুক্তির নেতৃত্ব নিতে প্রস্তুতি নিচ্ছে। এটি ২০৩০ ছাড়িয়ে শতাব্দীর মাঝামাঝি পর্যন্ত বিস্তৃত।

এই প্রক্রিয়ায় পেট্রোডলার ভাঙা একটি গুরুত্বপূর্ণ অংশ। ইরান এখন সেটিই চীনের সামনে তুলে ধরছে, কারণ বিশ্বের ২০ শতাংশ তেল যে পথ দিয়ে যায় সেই হরমুজ প্রণালীতে পেট্রোডলারের বদলে পেট্রোইউয়ান চালু করছে। ইরানের এই পদক্ষেপ সামরিক নয়; এটি আর্থিকভাবে (আমার জোর দেওয়া) পারমাণবিক বোমার সমতূল্য।

ইরান ইতোমধ্যে গ্লোবাল সাউথের জন্য একটি মডেল তৈরি করেছে: তেহরানের প্রায় ৯০ শতাংশ তেল রপ্তানি ইউয়ানে নিষ্পত্তি হয়। গ্লোবাল সাউথ ধীরে ধীরে এই মডেল গ্রহণ করতে পারে। হরমুজ প্রণালী পুরোপুরি বন্ধ নয়–শুধু যুক্তরাষ্ট্র ও তার মিত্রদের জন্য সীমাবদ্ধ। শিপিং লেনগুলো এখন রাজনৈতিক ফিল্টারে পরিণত হচ্ছে। পেট্রোইউয়ানে স্থানান্তরের সঙ্গে সঙ্গে পেট্রোডলারের পতন ঘটবে।

১৯৭৩ সালের তেল সংকটের পর ১৯৭৪ সালে জিসিসি ও ওপেকভূক্ত দেশগুলো সিদ্ধান্ত নেয় তেল শুধু ডলারে বেচাকেনা হবে। এর ফলে তেল রপ্তানিকারকেরা তাদের ডলার আবার যুক্তরাষ্ট্রে বিনিয়োগ করে। এটি ডলারকে শক্তিশালী করে, যুক্তরাষ্ট্রের অর্থনীতি, সামরিক শক্তি ও ঋণ ব্যবস্থাকে টিকিয়ে রাখে। চীন, রাশিয়া ও ইরান বিকল্প পেমেন্ট ব্যবস্থার মাধ্যমে এটি পরিবর্তন করতে চাইছে। এটি শুধু তেলের নিয়ন্ত্রণ নয়– বরং বৈশ্বিক আর্থিক ব্যবস্থার নিয়ন্ত্রণ। বাস্তবে পরিস্থিতি ইতিমধ্যে বড় ধরনের ব্যর্থতার দিকে ইঙ্গিত করছে। ইরান পাল্টা আঘাতে নতুন মাত্রা এনেছে।

আইআরজিসি ও সান জু কৌশল

হরমুজ প্রণালীকে অস্ত্র হিসেবে ব্যবহার করা সান জুর কৌশলের আধুনিক রূপ। এখানে যোগাযোগ পথ ও মুদ্রা– দুটিই অস্ত্র। মূল লড়াই হচ্ছে বৈশ্বিক আর্থিক ব্যবস্থার নিয়ন্ত্রণ নিয়ে। ইরানিরা দাবা খেলছে, তবে চীনা ‘গো’ খেলার উপাদানসহ। গো খেলায় ছোট ছোট অংশ যুক্ত হয়ে পুরো বোর্ড নিয়ন্ত্রণ করে। এটি ধৈর্য, অবস্থান ও কৌশলের খেলা। এই কারণেই ইরানের যুদ্ধ চীনের জন্য একটি গুরুত্বপূর্ণ সুযোগ তৈরি করেছে।

চীন বহু বছর ধরে ধৈর্যের সঙ্গে এই বোর্ড তৈরি করেছে– ব্রিকস, এসসিও, বিআরআই। এটা হয়েছে বিকল্প পেমেন্ট সিস্টেম ও কূটনীতির মাধ্যমে। গো অত্যন্ত যৌক্তিক। বোর্ড ঠিকভাবে সাজাতে পারলে জয় নিশ্চিত। এখন আমরা সেই পর্যায়ে আছি। এবং এ কারণেই যুক্তরাষ্ট্র বিস্মিত ও সংকটে পড়েছে। তারা এখন নিজের অহংকারের ফাঁদে বন্দি।

লেখক: ব্রাজিলের একজন সাংবাদিক, যিনি প্রধানত বিকল্পধারার মিডিয়ায় কাজ করে থাকেন।

(লেখাটি দ্য ক্রেডেলের সৌজন্যে)

বিষয়: সংঘাতইরানভূরাজনীতিইরান-ইসরায়েল সংঘাতমধ্যপ্রাচ্যযুক্তরাষ্ট্রযুদ্ধচীন
Advertisement
সর্বশেষ
  • ১

    ইউপি নির্বাচন: জানুয়ারি থেকে শুরু পাঁচ ধাপের ভোট

  • ২

    সদস্যদের রাতে একা চলাচলে নিষেধাজ্ঞার বিষয়ে যা বলছে খুলনা পুলিশ

  • ৩

    বাল্যবিয়ের কারণে কোনো কন্যার স্বপ্ন যেন থমকে না যায়: প্রধানমন্ত্রী

  • ৪

    রাশিয়া ৬০ দিনের যুদ্ধবিরতিতে রাজি হলে ইউক্রেনে নির্বাচন আয়োজন করবেন: এবিসিকে জেলেনস্কি

  • ৫

    রাশিয়া হামলা বন্ধ করলে তেল শোধনাগারে হামলা বন্ধ করবে ইউক্রেন: জেলেনস্কি

সম্পর্কিত
  • দিল্লির জেনজি আন্দোলনে টালমাটাল মোদির গদি!

    দিল্লির জেনজি আন্দোলনে টালমাটাল মোদির গদি!

    তরুণদের ক্ষেপিয়ে কোনো দেশের শাসকেরা যে টিকতে পারেন না, সেটা নিকট অতীতে বাংলাদেশ ও নেপাল প্রমাণ করেছে।

  • ভারত: গণ-আন্দোলনের মুখোমুখি এক অনমনীয় রাষ্ট্র

    ভারত: গণ-আন্দোলনের মুখোমুখি এক অনমনীয় রাষ্ট্র

    সরকার ষড়যন্ত্রের তত্ত্ব এবং নেপাল ও বাংলাদেশে কথিত বিদেশি হস্তক্ষেপের প্রসঙ্গ টেনে এই আন্দোলনকে বিদেশি শক্তির কারসাজি হিসেবে চিহ্নিত করে এর বিশ্বাসযোগ্যতা ক্ষুণ্ণ করার চেষ্টা করবে। কিন্তু উভয় ক্ষেত্রেই, যারা বিষয়টি খতিয়ে দেখতে ইচ্ছুক ছিলেন, তাদের কাছেই জনগণের পুঞ্জীভূত ক্ষোভের গভীরতা স্পষ্ট ছিল।

  • সরকারি কর্মী: বেতন বৃদ্ধি যৌক্তিক ও সময়োচিত

    সরকারি কর্মী: বেতন বৃদ্ধি যৌক্তিক ও সময়োচিত

    দু বছর পর যখন এ বেতন স্কেল পুরো কার্যকর হবে তখন মুদ্রাস্ফীতি কোথায় গিয়ে দাঁড়াবে সেটা দেখার বিষয়। এর মাঝে জ্বালানি তেলের দাম বাড়ানো হয়েছে। বাড়ানো ছাড়া হয়তো উপায়ও ছিল না। তবে এর ফলে বাড়বে সকল ধরনের পরিবহন ও বিদ্যুৎ উৎপাদন ব্যয়সহ ভোগ্যপণ্যের দাম।

  • ১৯৫৪ সালের পূর্ব পাকিস্তান আইনসভায় নির্বাচিত অমুসলিম ছিলেন ৭২ জন, এখন বাংলাদেশে ৪

    ১৯৫৪ সালের পূর্ব পাকিস্তান আইনসভায় নির্বাচিত অমুসলিম ছিলেন ৭২ জন, এখন বাংলাদেশে ৪

    ২০২৪-এর পর থেকে এই অন্তর্ভুক্তিমূলক শব্দটা আমরা বেশি শুনছি। এটা ভালো লক্ষণ। কিন্তু যোগেন্দ্রনাথ মণ্ডল এবং শিডিউলড কাস্টের ব্যাপারে, নিম্নবর্গের ব্যাপারে অন্তর্ভুক্তিমূলকের দশা কিন্তু খুবই খারাপ।