
হিরোশিমা ও নাগাসাকির ধ্বংসযজ্ঞের ৮১ বছর পরও পারমাণবিক অস্ত্র নিয়ে বিশ্বে উদ্বেগ কমেনি। নতুন অস্ত্র প্রতিযোগিতা, ভূরাজনৈতিক উত্তেজনা এবং বাড়তে থাকা সামরিক ব্যয় সব মিলিয়ে আবারও উঠছে এক বড় প্রশ্ন। ইতিহাস কি নিজেকে পুনরাবৃত্তি করতে যাচ্ছে?

ভারতের সীমান্তসংলগ্ন দুটি বিমানঘাঁটিতে অন্তত ১১টি জে-২০ মাইটি ড্রাগন স্টেলথ যুদ্ধবিমান মোতায়েন করেছে চীন। আমেরিকান স্পেস ইন্টেলিজেন্স কোম্পানি ভ্যান্টর থেকে পাওয়া স্যাটেলাইট ছবিতে এই তথ্য উঠে এসেছে।

পরীক্ষার প্রশ্ন ফাঁসের প্রতিবাদে শিক্ষামন্ত্রীর পদত্যাগের দাবিতে সোনম ওয়াংচুকের আমরণ অনশন শুরুতে অবহেলিত হলেও পুলিশি দমনপীড়নের পর তা বিশাল আন্দোলনের রূপ নেয়।

শিক্ষামন্ত্রীর পদত্যাগের পর ককরোচ জনতা পার্টির উল্লাস

যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে একটি সমঝোতা চুক্তি স্বাক্ষর হয়েছে। কাগজে-কলমে শান্তি চুক্তি হলেও বাস্তবে কি তা হয়েছে? আমরা তো দেখছি যুদ্ধ-পরিস্থিতি এখনো বিরাজমান। এ নিয়ে চরচার সঙ্গে কথা বলেছেন বিবিসি বাংলার সাবেক প্রধান সাবির মুস্তাফা।

নেপালের পররাষ্ট্রনীতির সবচেয়ে বড় সমস্যা আসলে দিল্লি বা বেইজিং নয়, বরং নেপালি রাষ্ট্রের নিজস্ব প্রাতিষ্ঠানিক দুর্বলতা। মূল বিভাজনটি এখন আর ভারত ও চীনের মধ্যে নয়, বরং কাঠমান্ডুর উচ্চাকাঙ্ক্ষা ও তা বাস্তবায়নের সক্ষমতার মধ্যে।

প্রাইভেট ইকুইটি খাতের বিনিয়োগকারীদের মতে, যুক্তরাষ্ট্র-চীন প্রতিদ্বন্দ্বিতা এবং বিস্তৃত ভূরাজনৈতিক উত্তেজনা এখন নতুন বিনিয়োগ বাস্তবতার অংশ হলেও, এতে এশিয়ার আকর্ষণ কমেনি; বরং আরও বেড়েছে।

দক্ষিণ চীন সাগর নয়, বিশ্বের সবচেয়ে বিপজ্জনক দাবাখেলা এখন ঘরের পাশেই। থ্রিলার মুভি যাদের পছন্দ, তারা একটু নড়েচড়ে বসতে পারেন। আর ভূরাজনীতি নিয়ে আগ্রহ থাকলে তো কথাই নেই। বাড়ির পাশের এই আরশিনগরে এখন সব পড়শির চোখ। অবশ্য অনেক আগে থেকেই। আর সেই আরশিনগরটি আর কিছু নয়, বঙ্গোপসাগর।

চীনের মুদ্রা ইউয়ানের বৈশ্বিক মুদ্রা হয়ে ওঠার ভবিষ্যৎ যাত্রা রাজনৈতিক বোঝাপড়া বা প্রচারের মাধ্যমে সফল হবে না। ইউয়ানের আন্তর্জাতিকীকরণের আসল পরীক্ষা এখানে নয় যে বেইজিং একটি আন্তর্জাতিক মুদ্রা চায় কি না, কিংবা হংকং এই মুদ্রাকে কেন্দ্র করে বড় বড় সম্মেলন বা সামিটের আয়োজন করতে পারছে কি না।

ইতিহাস কখনো কখনো এত দ্রুত বাঁক নেয় যে, পুরনো মানচিত্র দিয়ে নতুন পথ চেনা যায় না। ২০২৪ সালের আগস্টে বাংলাদেশে যা ঘটেছিল, তা স্রেফ একটি সরকার পরিবর্তন ছিল না, ছিল একটি দীর্ঘ মনস্তাত্ত্বিক বন্দিত্ব থেকে মুক্তির ঘোষণা। সেই মুক্তির ঢেউ এখন আছড়ে পড়ছে দক্ষিণ এশিয়ার ভূ-রাজনীতির পাথুরে উপকূলে।

জুলাই গণঅভ্যুত্থানে ক্ষমতাচ্যুত হয়ে পালিয়ে ভারতে আশ্রয় নেন শেখ হাসিনা। তাকে সমর্থন দেওয়ায় বাংলাদেশে ভারতবিরোধী মনোভাব আরও বেড়েছে। এছাড়া ভারতের সীমান্তরক্ষী বাহিনী (বিএসএফ) বাংলাদেশে পুশইন অব্যাহত রাখায়ও উত্তেজনা তৈরি হয়েছে।

২০২৪ সালের জুলাইয়ে শেখ হাসিনার বেইজিং সফরের সময় বাংলাদেশ ও চীন তাদের সম্পর্ককে ‘কৌশলগত অংশীদারত্ব’ হিসেবে ঘোষণা করেছিল। তবে এবার তারেক রহমানের সফরে দুই দেশ জানিয়েছে, তারা এই সম্পর্ককে আরও এক ধাপ এগিয়ে ‘নতুন যুগের অভিন্ন ভবিষ্যতের বাংলাদেশ-চীন কমিউনিটি’ গড়ে তুলতে চায়।

একদিকে সংসদ ভবনের দক্ষিণ প্লাজায় যুক্তরাষ্ট্রের ২৫০তম স্বাধীনতা দিবস উদযাপন, অন্যদিকে প্রধানমন্ত্রীর চীন সফরে একাধিক গুরুত্বপূর্ণ চুক্তি, পাশাপাশি ভারতের সঙ্গে সম্পর্কেও নতুন অগ্রগতির ইঙ্গিত। প্রশ্ন উঠছে—বাংলাদেশ কি সত্যিই ভারসাম্যপূর্ণ কূটনীতি অনুসরণ করছে?

সোভিয়েত ইউনিয়নের পতনের পর যুক্তরাষ্ট্র যেভাবে চীনকে অবাধে বাণিজ্যের সুযোগ দিয়েছিল এবং পরবর্তীতে চীন যেভাবে আমেরিকার জন্য সবচেয়ে বড় চ্যালেঞ্জ হয়ে দাঁড়িয়েছে, ওয়াশিংটন ভারতের ক্ষেত্রে সেই একই ভুলের পুনরাবৃত্তি করতে চায় না।

দক্ষিণ কোরিয়া থেকে শুরু করে সিঙ্গাপুর পর্যন্ত এশিয়ার অনেক দেশই এখন আর্কটিককে ভবিষ্যতের গুরুত্বপূর্ণ নৌপথ হিসেবে বিবেচনা করছে। ইতিমধ্যেই আর্কটিক অঞ্চলের সমুদ্র অবকাঠামো উন্নয়নে ৪০ কোটি ডলারের বেশি বিনিয়োগের ঘোষণা দিয়েছে দক্ষিণ কোরিয়া।

ভিডিওটি প্রকাশের পর সেটি নিয়ে রাজনৈতিক মহলে নানা আলোচনা তৈরি হয়। কূটনৈতিক অঙ্গনও এটিকে কেবল একটি গান হিসেবে দেখেননি; বরং প্রশ্ন তুলেছে–বাংলাদেশ কি নতুন এক পররাষ্ট্রনীতির বার্তা দিচ্ছে?

চীনের সঙ্গে সম্পর্ককে সর্বোচ্চ কূটনৈতিক কাঠামোয় উন্নীত করা, মিয়ানমার হয়ে নতুন অর্থনৈতিক করিডোরের আলোচনা, প্রথমবারের মতো ‘টু প্লাস টু’ নিরাপত্তা সংলাপ, তিস্তা প্রকল্পে কারিগরি সহযোগিতা, জিডিআইয়ে যোগদান এবং ১৭টি সমঝোতা–সব মিলিয়ে সফরের সবচেয়ে বড় অর্জনগুলো দৃশ্যমান অবকাঠামোর চেয়ে অনেক বেশি কৌশলগত।

নিজেদের মধ্যকার দীর্ঘদিনের পারস্পরিক রাজনৈতিক আস্থাকে বাস্তব সহযোগিতায় পরিণত করতে চায় চীন ও বাংলাদেশ। বিশেষ করে নতুন শিল্প, যোগাযোগ ব্যবস্থা ও আঞ্চলিক সহযোগিতার ওপর এখন বেশি গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে।

মালয়েশিয়া ও চীন মিলে ছয় দিনের সফর শেষে দেশে ফিরেছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। আজ শুক্রবার রাত সোয়া ৮টার দিকে ঢাকার শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে নামেন প্রধানমন্ত্রী ও তার সফরসঙ্গীরা।

বাংলাদেশে নিযুক্ত ভারতের নতুন হাইকমিশনার দীনেশ ত্রিবেদীকে তার দেশ মন্ত্রীর মর্যাদা দিয়ে ঢাকায় পাঠিয়েছে। গতকাল বৃহস্পতিবার তিনি রাষ্ট্রপতি মো. সাহাবুদ্দিনের কাছে ক্রেডেনশিয়াল জমা দেন।