উপসাগরীয় অঞ্চলে ভেঙে পড়া যুদ্ধবিরতি পুনরুজ্জীবিত করার লক্ষ্যে দেওয়া সর্বশেষ প্রস্তাবের বিষয়ে যুক্তরাষ্ট্রের জবাব পেয়েছে বলে আজ বুধবার জানিয়েছে ইরান। কয়েক দিন আগে প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প জানিয়েছিলেন, তিনি ওই প্রস্তাব প্রত্যাখ্যান করেছেন।
বার্তা সংস্থা রয়টার্স এক প্রতিবেদনে এই তথ্য জানিয়েছে।
ইরানের বিরুদ্ধে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের যুদ্ধ অষ্টম মাসে প্রবেশ করার সময়ে গত সপ্তাহে তেহরান একটি প্রস্তাব দেয়। এতে বলা হয়, যুক্তরাষ্ট্র ইরানের বন্দরগুলোর ওপর অবরোধ তুলে নেবে এবং ইরান সাত দিনের মধ্যে বাধাগ্রস্ত হরমুজ প্রণালি পুনরায় খুলে দেবে।
ট্রাম্প রোববার বলেন, তিনি প্রস্তাবটি প্রত্যাখ্যান করেছেন। তবে ইরানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী আব্বাস আরাঘচি জানান, তেহরান আনুষ্ঠানিক কোনো প্রত্যাখ্যান পায়নি। বুধবার এক্স-এ দেওয়া এক পোস্টে ইরান সরকারের এক মুখপাত্র বলেন, আরাঘচি ইরান সরকারকে যুক্তরাষ্ট্রের জবাব জানিয়েছেন।
ইরান বলছে, তাদের পরিকল্পনার লক্ষ্য হলো জুনে ট্রাম্প ও ইরানের প্রেসিডেন্ট মাসুদ পেজেশকিয়ানের স্বাক্ষরিত একটি অন্তর্বর্তী চুক্তি পুনরায় কার্যকর করা। ওই চুক্তি স্বাক্ষরের কয়েক সপ্তাহ পরই ভেঙে পড়ে।
গত সপ্তাহে জাতিসংঘের একটি বৈঠকের ফাঁকে নিউইয়র্কে কাতারের মধ্যস্থতাকারীরা যুক্তরাষ্ট্রের ও ইরানি প্রতিনিধিদের মধ্যে যোগাযোগ করিয়ে দেন। যুদ্ধরত দুই পক্ষের মধ্যে যুদ্ধবিরতি ভেঙে যাওয়ার পর এটিই ছিল প্রথমবারের মতো পরোক্ষ আলোচনা।
আলোচনার বিষয়ে অবহিত একজন কর্মকর্তা, তিনি ইরানি নন এবং নাম প্রকাশ না করার শর্তে রয়টার্সকে জানান, নিউইয়র্ক থেকে দেশে ফেরার পথে মঙ্গলবার দোহায় যাত্রাবিরতি করলে কাতারিরা আরাঘচিকে যুক্তরাষ্ট্রের জবাব সম্পর্কে অবহিত করেন। ওই কর্মকর্তা বলেন, প্রয়োজনীয় পদক্ষেপগুলো নিয়ে দুই পক্ষের মধ্যে মোটামুটি ঐকমত্য রয়েছে, তবে কোন পদক্ষেপটি আগে নেওয়া হবে, তা নিয়ে এখনো মতবিরোধ রয়েছে।
ইরান চায়, শেষ পর্যন্ত এমন একটি চুক্তি হোক যাতে বিশ্বের সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ তেল পরিবহন পথ হরমুজ প্রণালির ওপর তাদের নিয়ন্ত্রণ থাকে। প্রণালিটি ইরানের উপকূল ঘেঁষে অবস্থিত।
অন্যদিকে ট্রাম্প বলেছেন, যুদ্ধ শিগগিরই শেষ হবে এবং শেষ পর্যন্ত ইরান আত্মসমর্পণ করবে।
মঙ্গলবার সাংবাদিকদের তিনি বলেন, “আমি জানি না তারা এখনো আত্মসমর্পণ করবে কি না, তবে তারা আত্মসমর্পণ করবে। তারা খুব খারাপ অবস্থায় আছে।”
সেনা প্রত্যাহারকে ওয়াশিংটনের পরাজয় হিসেবে দেখছে ইরান
যুক্তরাষ্ট্র ও ইরাকি কর্মকর্তারা বুধবার ইরাকের ঘাঁটিগুলো থেকে সর্বশেষ আমেরিকান সেনাদের প্রত্যাহারের কথা ঘোষণা করেছেন। প্রেসিডেন্ট জো বাইডেনের সময়ে ২০২৪ সালে সম্মত হওয়া একটি পরিকল্পনা অনুযায়ী এই প্রত্যাহার করা হলো। প্রতিবেশী ইরানের সঙ্গে যুদ্ধ চলাকালে ট্রাম্প প্রশাসন পরিকল্পনাটি বাস্তবায়ন করেছে।
ইরান ও তার মিত্ররা এই প্রত্যাহার উদযাপন করেছে। ইরান-সমর্থিত সশস্ত্র গোষ্ঠীগুলোর জোট ‘ইসলামিক রেজিস্ট্যান্স ইন ইরাক’-এর কমান্ডার আবু মুজতবা আল-ইয়াসিরি বলেন, এটি “ইরাকের ইসলামি প্রতিরোধ গোষ্ঠী ও সম্মানিত ইরাকিদের ঐতিহাসিক বিজয় এবং আমেরিকান প্রকল্পের চূড়ান্ত পরাজয়।”
যুক্তরাষ্ট্র ২০০৩ সালে ইরাক আক্রমণ করে। দেশটির সংখ্যাগরিষ্ঠ জনগোষ্ঠী ইরানের মতোই শিয়া এবং তেহরান সেখানে ব্যাপক রাজনৈতিক ও সামরিক প্রভাব প্রতিষ্ঠা করেছে।
এদিকে ইরানের ইসলামিক রেভল্যুশনারি গার্ড কর্পস মঙ্গলবার আমেরিকান নাগরিকদের ট্রাম্পের মিত্রদের ভোট দিয়ে ক্ষমতাচ্যুত করার আহ্বান জানিয়েছে।
আমেরিকান ভোটারদের উদ্দেশে ২৬ পৃষ্ঠার এক চিঠিতে তারা লিখেছে, “আমেরিকার বর্তমান পরিস্থিতির জন্য দায়ী দুষ্ট, প্রতারক ও সহিংস রাজনীতিকদের ক্ষমতা থেকে সরিয়ে দিন। আপনার রাজনীতিকেরা যেন বুঝতে পারেন যে, বিশ্ব বদলে গেছে, তা নিশ্চিত করুন।”