১৯১৭ সাল। উত্তর ফ্রান্সের ভিমি রিজে কানাডার সেনারা তখন যুদ্ধ করছিল। সেই সময়ে লেফটেন্যান্ট লেসলি মিলার যুদ্ধক্ষেত্র থেকে কিছু ওক গাছের বীজ সংগ্রহ করে কানাডার অন্টারিওতে নিয়ে যান। আর এর প্রায় এক শতাব্দী পর সেই বীজ থেকে জন্ম নেওয়া ওক গাছের চারা আবার ফ্রান্সে পাঠানো হয়। এর মাধ্যমে গাছগুলো কানাডা ও ফ্রান্সের মধ্যে একটি জীবন্ত সম্পর্কের প্রতীক হয়ে ওঠে।
গত সপ্তাহে ফ্রান্সের স্ট্রাসবুর্গে ইউরোপীয় পার্লামেন্টে দেওয়া বক্তব্যে কানাডার প্রধানমন্ত্রী মার্ক কার্নি এই গল্প তুলে ধরেন। সেই সঙ্গে তিনি এমন একটি জোটের প্রস্তাব দেন, যা শুধু বাণিজ্যের মধ্যে সীমাবদ্ধ থাকবে না। প্রতিরক্ষা, জ্বালানি, গুরুত্বপূর্ণ খনিজ এবং কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার মতো ক্ষেত্রও এই জোটের আওতায় থাকবে।
এই প্রস্তাবটি আসলে যুক্তরাষ্ট্রের মিত্র দেশগুলোর মধ্যে চলতে থাকা বড় একটি পরিবর্তনেরই অংশ। আগে তারা মনে করত ট্রাম্পের মেয়াদ শেষ হলে যুক্তরাষ্ট্রের সাথে বাণিজ্য ও বৈদেশিক সম্পর্ক আবার আগের মতো হয়ে যাবে। তাই কয়েক বছর ধরে এসব দেশের কৌশল ছিল, ডোনাল্ড ট্রাম্পের মেয়াদ শেষ হওয়া পর্যন্ত অপেক্ষা করা।
কিন্তু এখন সেই ধারণা বদলাচ্ছে। অনেক দেশ এমন একটি বিশ্বের জন্য প্রস্তুতি নিচ্ছে, যেখানে যুক্তরাষ্ট্রকে আর সবকিছুর জন্য অপরিহার্য মনে করা হবে না। এই পরিবর্তন শুধু ট্রাম্পের প্রেসিডেন্ট থাকার সময়ের জন্য নয়। ভবিষ্যতে হোয়াইট হাউসে যেই থাকুন না কেন, যুক্তরাষ্ট্রের ওপর নির্ভরতা কমানোর প্রস্তুতি তারা নিতে শুরু করেছে।
সে জন্য মিত্র দেশগুলো নিজেদের সামরিক শক্তি বাড়াচ্ছে, বাণিজ্যের জন্য নতুন দেশ ও বাজার খুঁজছে, দেশে নতুন শিল্প গড়ে তুলছে। একই সঙ্গে তারা নতুন নতুন দেশের সঙ্গে সম্পর্ক তৈরি করছে, যাতে ওয়াশিংটনের ওপর তাদের নির্ভরতা কমে।
তবে এরকম প্রস্তাব কিন্তু হঠাৎ করে আসেনি। প্রস্তাবটি যুক্তরাষ্ট্রের মিত্র দেশগুলোর মধ্যে চলমান একটি বড় পরিবর্তনেরই অংশ। কয়েক বছর ধরে যুক্তরাষ্ট্রের মিত্র দেশগুলোর কৌশল ছিল, প্রেসিডেন্ট ট্রাম্পের মেয়াদ শেষ হওয়া পর্যন্ত অপেক্ষা করা।
কিন্তু এখন অনেক দেশ এমন একটি বিশ্বের জন্য প্রস্তুতি নিচ্ছে, যেখানে যুক্তরাষ্ট্র আর অপরিহার্য শক্তি হিসেবে থাকবে না। শুধু ট্রাম্পের প্রেসিডেন্ট থাকার সময় নয়, এরপরও এই বাস্তবতা থাকতে পারে, হোয়াইট হাউসে যে-ই থাকুন না কেন।
এ কারণে এসব দেশ নিজেদের সামরিক সক্ষমতা বাড়াচ্ছে, বাণিজ্যের ক্ষেত্রে নতুন দেশ ও বাজারের দিকে যাচ্ছে, দেশের ভেতরে নতুন শিল্প গড়ে তুলছে এবং এমন নতুন সম্পর্ক তৈরি করছে, যাতে ওয়াশিংটনের ওপর তাদের নির্ভরতা কমে।
এটা কিন্তু যুক্তরাষ্ট্রের বিরুদ্ধে কোনো বিদ্রোহ নয়। আবার এর মানে এই নয় যে এসব দেশ পুরোপুরি চীনের দিকে ঝুঁকে পড়ছে।যুক্তরাষ্ট্রের বেশিরভাগ মিত্র দেশ এখনও ওয়াশিংটনকে গুরুত্বপূর্ণ অংশীদার মনে করে। তবে তারা চীনকেও পুরোপুরি বিশ্বাস করে না।
তারপরও, একসময় যারা যুক্তরাষ্ট্রের ওপর অনেক বেশি নির্ভর করত, তারা এখন নিজেদের প্রস্তুত করছে। কারণ গত কয়েক দশকের মতো ভবিষ্যতেও যুক্তরাষ্ট্র তাদের একইভাবে নেতৃত্ব দেবে, বাজার দেবে, প্রযুক্তি সহায়তা দেবে বা সামরিক সুরক্ষা দেবে, এমন নিশ্চয়তা তারা আর দেখছে না।
বিদেশি কর্মকর্তারা আমাকে বলেছেন, ২০২৮ সালের প্রেসিডেন্ট নির্বাচনে যে-ই জিতুন না কেন, এই পরিস্থিতি বদলাবে না।
এই পরিবর্তন হয়তো ট্রাম্পের পররাষ্ট্রনীতির সবচেয়ে বড় প্রভাবগুলোর একটি হয়ে থাকবে।
ট্রাম্পের প্রথম মেয়াদ থেকেই তিনি যুক্তরাষ্ট্রের মিত্র দেশগুলোকে নিজেদের শক্তি ও সক্ষমতা বাড়ানোর কথা বলে আসছেন। কিন্তু দ্বিতীয় মেয়াদে এসে সেই পরিবর্তন আরও দ্রুত হচ্ছে। এমন একটি বিশ্ব তৈরি হচ্ছে, যেখানে আন্তর্জাতিক রাজনীতিতে যুক্তরাষ্ট্রের প্রভাব আগের মতো নয়। আর এতে চীনের জন্যও নতুন সুযোগ তৈরি হচ্ছে।
ইউরোপ, কানাডা, জাপান ও দক্ষিণ কোরিয়া যদি চীনের সঙ্গে আরও বেশি সম্পর্ক গড়ে তোলে এবং সব গুরুত্বপূর্ণ সিদ্ধান্তের জন্য ওয়াশিংটনের ওপর আগের মতো নির্ভর না করে, তাহলে চীন লাভবান হবে।
এতে যুক্তরাষ্ট্র ও চীনের মধ্যে থাকা কৌশলগত ভারসাম্যও বদলে যেতে পারে। চলতি সপ্তাহে চীনের প্রেসিডেন্ট সি চিনপিংয়ের সঙ্গে বৈঠকে বসার সময় ট্রাম্পকে এই বিষয়টি নিয়েও ভাবতে হবে।
এরই মধ্যে পরিবর্তনের কিছু চিত্র দেখা যাচ্ছে। ইউরোপ প্রতিরক্ষা খাতে বেশি অর্থ খরচ করছে। কানাডা চীনের সঙ্গে বাণিজ্য বাড়ানোর চেষ্টা করছে। জাপানও আরও বড় অস্ত্র সরবরাহকারী দেশ হতে চাইছে।
সব মিলিয়ে, এসব পরিবর্তনের কারণে বিশ্বের দেশগুলোর পারস্পরিক সম্পর্কেও বড় পরিবর্তন আসতে পারে। আর এর প্রভাব শুধু ট্রাম্পের সময় পর্যন্ত থাকবে না।
একজন জ্যেষ্ঠ ইউরোপীয় কর্মকর্তা আমাকে বলেন, “ট্রাম্প ভূমিকম্পের মতো বড় পরিবর্তন এনেছেন। কিন্তু এরপরও যে ঝাঁকুনি আসতে পারে, তার জন্য প্রস্তুত না হলে আমরা ভুল করব।”
তিনি আরও বলেন, “ট্রাম্প চলে যাওয়ার পর সবকিছু আবার আগের মতো হয়ে যাবে, এমনটা ভাবা ঠিক হবে না। কারণ বিশ্ব বদলাচ্ছে। আর এখন আমরা খুব স্পষ্টভাবে দেখতে পাচ্ছি, আমেরিকাও বদলাচ্ছে।”
এই ধারণা এখন সেইসব দেশের হিসাব-নিকাশও বদলে দিচ্ছে, যারা কয়েক দশক ধরে নিজেদের নিরাপত্তা ও অর্থনৈতিক নীতি যুক্তরাষ্ট্রকে কেন্দ্র করে সাজিয়েছে।
আগে ২০২৮ সালের নির্বাচন পর্যন্ত কিছুটা অপেক্ষা করে পরিস্থিতি দেখার যে কৌশল ছিল, এখন সেটি বদলে গেছে। অনেক দেশ দীর্ঘমেয়াদে যুক্তরাষ্ট্রের বিকল্প ব্যবস্থা গড়ে তোলার চেষ্টা করছে।
ওয়াশিংটনের বিকল্প খোঁজার এই বিষয়টি এখন এতটাই গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠেছে যে, চলতি সপ্তাহে জাতিসংঘের সাধারণ পরিষদের বৈঠকেও এটি বড় আলোচনার বিষয় হতে পারে। ক্যাথরিন তাই, যিনি প্রেসিডেন্ট জো বাইডেনের প্রশাসনে যুক্তরাষ্ট্রের বাণিজ্য প্রতিনিধি ছিলেন, আমাকে বলেন, ট্রাম্পের প্রথম মেয়াদ শেষ হওয়ার পর তাকে এবং আরও কয়েকজন শীর্ষ কর্মকর্তাকে মিত্র দেশগুলোতে যেতে হয়েছিল।
তাদের উদ্দেশ্য ছিল এসব দেশকে বোঝানো যে, তারা যে আমেরিকাকে আগে চিনত, সেই আমেরিকাই আবার ফিরে এসেছে। একই সঙ্গে তারা বোঝাতে চেয়েছিলেন, প্রেসিডেন্ট বাইডেন এসব দেশের সঙ্গে যুক্তরাষ্ট্রের সম্পর্ক ধরে রাখতে চান। তাইয়ের ভাষ্য অনুযায়ী, কিন্তু কয়েক বছর পর যুক্তরাষ্ট্রের অভ্যন্তরীণ রাজনৈতিক বিভাজনের কারণে সেই বার্তার প্রভাব কমে যায়। তিনি বলেন, বিদেশি কূটনীতিকরা তাকে এবং বাইডেন প্রশাসনের অন্য শীর্ষ কর্মকর্তাদের কাছে উদ্বেগের কথা জানিয়েছিলেন। তাদের ভয় ছিল, ট্রাম্পের প্রথম মেয়াদের সময়ের পরিস্থিতিকে তারা যে সাময়িক ঘটনা বলে আশা করেছিলেন, সেটিই হয়তো আবার ফিরে আসছে।
তাই বলেন, ট্রাম্পের দ্বিতীয় মেয়াদে পরিস্থিতি প্রথম মেয়াদের চেয়েও বেশি কঠোর হয়ে উঠেছে। তার ভাষায়, “অপমানগুলো আরও তীব্র, আক্রমণগুলো আরও কড়া। আমার মনে হয় না আমেরিকার পক্ষে দ্বিতীয়বার এসে ‘আমরা আবার ফিরে এসেছি’ বলা আর সম্ভব হবে।”
পরবর্তী মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডেমোক্র্যাট হন বা রিপাবলিকান, মিত্র দেশগুলোর মধ্যে উদ্বেগ থেকেই যাচ্ছে। বিশ্বের বিভিন্ন দেশের কর্মকর্তারা আমাকে বলেছেন, তারা আশঙ্কা করছেন, ভাইস প্রেসিডেন্ট জে ডি ভ্যান্সের কম হস্তক্ষেপমূলক আমেরিকার যে ধারণা, তা দীর্ঘমেয়াদি রক্ষণশীল নীতিতে পরিণত হতে পারে।
ডোনাল্ড ট্রাম্প। ছবি: সংগৃহীত
ইউরোপের এক জ্যেষ্ঠ কর্মকর্তা আমাকে বলেন, “আমাদের আসল ভয় হলো, ট্রাম্পের পর জে ডি ভ্যান্স আসবেন। আর তিনি ইউরোপের বন্ধু নন।” অন্যরা ডেমোক্র্যাটিক সোশ্যালিস্টস অব আমেরিকার ‘যুদ্ধ মন্ত্রণালয়ের অর্থায়ন বন্ধ করো’ আহ্বানকে উদাহরণ হিসেবে দেখছেন। তাদের মতে, আমেরিকার প্রচলিত বৈশ্বিক ভূমিকা নিয়ে সংশয় এখন আর কোনো একটি রাজনৈতিক দলের মধ্যে সীমাবদ্ধ নেই।
প্রগতিশীল ডেমোক্র্যাটরাও ট্রাম্পের সমর্থিত কিছু নীতি গ্রহণ করছেন। এর মধ্যে রয়েছে নির্দিষ্ট কিছু পণ্যে শুল্ক আরোপ এবং অন্যান্য সুরক্ষাবাদী পদক্ষেপ। প্রেসিডেন্ট হিসেবে জো বাইডেনও ট্রাম্পের প্রথম মেয়াদে আরোপ করা বেশির ভাগ শুল্ক বহাল রেখেছিলেন। যদিও তার ‘আমেরিকা ফিরে এসেছে’ স্লোগানের লক্ষ্য ছিল মিত্র দেশগুলোকে আশ্বস্ত করা যে, যুক্তরাষ্ট্র এখনো তাদের পাশে রয়েছে।
মিত্র দেশগুলোর সঙ্গে যুক্তরাষ্ট্রের সম্পর্কের ক্ষেত্রে বড় ধরনের পরিবর্তন এখন প্রায় অনিবার্য বলেই মনে হচ্ছে। এমনকি তুলনামূলক মধ্যপন্থী ডেমোক্র্যাটরাও এখন ‘আমেরিকা ফার্স্ট’ নীতির কাছাকাছি ধরনের পররাষ্ট্রনীতির দিকে ঝুঁকছেন। এর পেছনে রয়েছে বিদেশে সামরিক বা অন্যান্য হস্তক্ষেপ নিয়ে বাড়তে থাকা সংশয় এবং দেশের অভ্যন্তরীণ প্রয়োজনকে অগ্রাধিকার দেওয়ার প্রবণতা।
প্রগতিশীল ডেমোক্র্যাট ও ২০২৮ সালের সম্ভাব্য প্রেসিডেন্ট প্রার্থী প্রতিনিধি রো খান্না আমাকে বলেন, যুক্তরাষ্ট্রের এমন একটি অর্থনৈতিক কর্মসূচি প্রয়োজন, যার লক্ষ্য হবে শিল্প বিনিয়োগ ব্যাংক প্রতিষ্ঠা, কারিগরি শিক্ষার সুযোগ বাড়ানো এবং অর্থনৈতিকভাবে পিছিয়ে পড়া এলাকাগুলোতে বিনিয়োগের মাধ্যমে দেশের উৎপাদন খাতকে পুনর্গঠন করা।
তবে তিনি বলেন, ট্রাম্প-পরবর্তী সময়ে মিত্র দেশগুলোর জন্য যুক্তরাষ্ট্রকে অংশীদার হিসেবে বাদ দেওয়া ভুল হবে। তিনি বিদেশি বাজারগুলো উন্মুক্ত রাখা এবং বাছাই করে শুল্ক ব্যবহারের পক্ষে। মিত্র দেশগুলো আগে মনে করেছিল, ওয়াশিংটনের এই পরিবর্তন হয়তো সাময়িক রাজনৈতিক অস্থিরতা। কিন্তু এখন তারা বুঝতে পারছে, যুক্তরাষ্ট্রের নীতিতে এই পরিবর্তন দীর্ঘস্থায়ী হতে পারে। এর সবচেয়ে বড় উদাহরণ কানাডা।
দীর্ঘদিন ধরে যুক্তরাষ্ট্র ও কানাডা ঘনিষ্ঠ মিত্র। বাণিজ্য নিয়ে দুই দেশের মধ্যে প্রায়ই মতবিরোধ হয়েছে। তবে তাদের সামরিক বাহিনী একসঙ্গে কাজ করেছে, গোয়েন্দা সংস্থাগুলো ঘনিষ্ঠভাবে সহযোগিতা করেছে এবং দুই দেশের অর্থনীতি একে অপরের ওপর অনেকটাই নির্ভরশীল।
কিন্তু ট্রাম্প বারবার বলেছেন, কানাডা যুক্তরাষ্ট্রের অংশ হলে দেশটির জন্য ভালো হবে। একই সঙ্গে তিনি কানাডীয় পণ্যের ওপর শুল্ক আরোপ করেছেন এবং আরও শুল্ক দেওয়ার হুমকি দিয়েছেন। গত মাসে তার প্রশাসন কানাডার প্রায় ২ হাজার কোটি ডলারের পণ্যের ওপর ৫০ শতাংশ শুল্ক আরোপ করে।
এর পরিপ্রেক্ষিতে কানাডার প্রধানমন্ত্রী মার্ক কার্নি কানাডাকে আরও আত্মনির্ভর করার উদ্যোগ নিয়েছেন। তিনি কানাডার মতো ‘মধ্যম শক্তির’ দেশগুলোকে নিজেদের সক্ষমতা বাড়ানোর আহ্বান জানিয়েছেন। জানুয়ারিতে কার্নি চীন সফর করেন। ২০১৭ সালের পর কোনো কানাডীয় প্রধানমন্ত্রীর এটিই ছিল প্রথম চীন সফর। সেখানে তিনি বাণিজ্য, জ্বালানি ও কৃষি নিয়ে চীনের সঙ্গে নতুন কৌশলগত অংশীদারত্বের ঘোষণা দেন।
এরপর কানাডা চীনের বাজারে ক্যানোলা, সামুদ্রিক খাবার ও গরুর মাংস রপ্তানির নতুন সুযোগ পায়। ২০৩০ সালের মধ্যে চীনে রপ্তানি ৫০ শতাংশ বাড়ানোর লক্ষ্যও নিয়েছে দেশটি। এ ছাড়া কানাডা ইউরোপীয় ইউনিয়নের নতুন প্রতিরক্ষা অর্থায়ন কর্মসূচিতে অংশ নেওয়া প্রথম ইউরোপের বাইরের দেশ হয়েছে। এর ফলে কানাডার কোম্পানিগুলো ইউরোপের প্রতিরক্ষা খাতের বিভিন্ন চুক্তিতে অংশ নেওয়ার সুযোগ পাবে। একই সঙ্গে কানাডা ও ইউরোপের সামরিক সম্পর্কও আরও ঘনিষ্ঠ হবে।
চলতি মাসের শুরুতে ইউরোপীয় ইউনিয়ন (ইইউ) কানাডাকে তাদের প্রথম ‘সহযোগী সদস্য’ করার প্রস্তাব দিয়েছে। এর মাধ্যমে দুই পক্ষের ঘনিষ্ঠ সম্পর্ক আরও বাড়বে। একই সঙ্গে কানাডা এবং অন্য দেশগুলোর জন্য যুক্তরাষ্ট্র ও চীনের বাইরে আরেকটি বিকল্প তৈরি হতে পারে।
ট্রাম্পও কানাডা ও ইউরোপের ঘনিষ্ঠ সম্পর্কের বিষয়টি লক্ষ্য করেছেন। সম্প্রতি তিনি সাংবাদিকদের বলেন, “অনেকে আমাকে জিজ্ঞেস করে, কার সঙ্গে আলোচনা করা সবচেয়ে কঠিন? চীন? ভিয়েতনাম? আমি বলি, না, আসলে কানাডা। কানাডা এখন আরও সাহসী হয়ে উঠেছে।”
যুক্তরাষ্ট্র তার মিত্রদের থেকে কিছুটা দূরে সরে যাওয়ায় চীনও নতুন সুযোগ পাচ্ছে। বিশেষ করে প্রশান্ত মহাসাগরীয় অঞ্চলে এর প্রভাব দেখা যাচ্ছে। অস্ট্রেলিয়া যুক্তরাষ্ট্রের ঘনিষ্ঠ মিত্রদের একটি। বাইডেনের সময়ে অস্ট্রেলিয়া যুক্তরাষ্ট্র ও যুক্তরাজ্যের সঙ্গে একটি চুক্তি করে। এর মাধ্যমে অস্ট্রেলিয়া পারমাণবিক শক্তিচালিত সাবমেরিনের প্রযুক্তি পাওয়ার সুযোগ পায়।
তবে চীন অস্ট্রেলিয়ার সবচেয়ে বড় বাণিজ্যিক অংশীদার। অস্ট্রেলিয়া এখন জ্বালানি ও জলবায়ুসহ বিভিন্ন ক্ষেত্রে চীনের সঙ্গে সম্পর্ক আরও বাড়ানোর চেষ্টা করছে। অস্ট্রেলিয়ার সাবেক প্রধানমন্ত্রী ম্যালকম টার্নবুল বলেন, যুক্তরাষ্ট্র এখন আগের চেয়ে কম নির্ভরযোগ্য মিত্র হয়ে উঠেছে। তার মতে, যুক্তরাষ্ট্রের পুরোনো মিত্রদের এখন নিজেদের স্বার্থ রক্ষায় অন্য দেশগুলোর সঙ্গেও সম্পর্ক বাড়াতে হবে।
এদিকে জাপান অস্ত্র রপ্তানির নিয়ম শিথিল করেছে। দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের পর থেকে দেশটি আন্তর্জাতিক অস্ত্রের বাজার থেকে অনেকটাই দূরে ছিল। নতুন এই পরিবর্তনে বিশ্বের বিভিন্ন দেশের আগ্রহ তৈরি হয়েছে। এসব দেশ দীর্ঘদিন ধরে যুক্তরাষ্ট্রের কাছ থেকে অস্ত্র কেনার ওপর অনেকটাই নির্ভরশীল।
দীর্ঘদিনের প্রতিদ্বন্দ্বী জাপান ও দক্ষিণ কোরিয়াও এখন একে অপরের কাছাকাছি আসছে। এর পেছনে অন্যতম কারণ চীনের ক্রমবর্ধমান শক্তি এবং ট্রাম্প প্রশাসনের অনিশ্চিত নীতি।
সম্প্রতি যুক্তরাষ্ট্র ও দক্ষিণ কোরিয়ার বার্ষিক যৌথ সামরিক মহড়ায় সেই অনিশ্চয়তার বিষয়টি স্পষ্ট হয়েছে। ‘উলচি ফ্রিডম শিল্ড’ নামে এই মহড়া কয়েক দশক ধরে হয়ে আসছে। নামটি সপ্তম শতকের এক কোরীয় সেনাপতির স্মরণে রাখা হয়েছে, যিনি চীনের আক্রমণ প্রতিহত করার জন্য পরিচিত।
তবে এ বছরের মহড়া শুরুর কয়েক ঘণ্টা আগে ট্রাম্প সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ঘোষণা দেন, মহড়ায় যুক্তরাষ্ট্রের অংশগ্রহণ উল্লেখযোগ্যভাবে কমানো হবে। তার যুক্তি ছিল, এই মহড়া ব্যয়বহুল এবং উত্তর কোরিয়ার কাছে এটি ‘পুরোপুরি অনুপযুক্ত ও শত্রুতাপূর্ণ’ বার্তা পাঠায়। ট্রাম্প এখনো উত্তর কোরিয়ার নেতা কিম জং উনের প্রশংসা করেন। যদিও তার প্রথম মেয়াদে দুই নেতার মধ্যে সম্পর্কের উন্নয়ন নিয়ে কোনো সমঝোতা হয়নি।
মহড়ায় কীভাবে এবং আদৌ অংশ নেওয়া হবে কি না, তা নিয়ে যুক্তরাষ্ট্র ও দক্ষিণ কোরিয়ার সেনাদের পাশাপাশি অন্য দেশগুলোর সেনারাও বিভ্রান্তিতে পড়ে। শেষ পর্যন্ত মহড়া হয়, তবে অনেক ছোট পরিসরে। ১১ দিনের মহড়া কমিয়ে পাঁচ দিন করা হয় এবং বড় আকারের মাঠপর্যায়ের সামরিক প্রশিক্ষণও কমিয়ে দেওয়া হয়।
পরিস্থিতি চলাকালে এক মার্কিন কর্মকর্তা আমাকে বলেন, পুরো বিষয়টি ছিল ‘চরম বিশৃঙ্খল’।
এদিকে দক্ষিণ কোরিয়ার প্রেসিডেন্ট লি জে মিয়ং চীনের সঙ্গে সম্পর্ক আরও ঘনিষ্ঠ করতে জোরালো উদ্যোগ নিয়েছেন। জানুয়ারিতে তার চীন সফরে প্রেসিডেন্ট সি চিনপিংয়ের সঙ্গে বৈঠক হয়। এ ছাড়া প্রায় ৬০০ চীনা ও কোরীয় ব্যবসায়ীকে নিয়ে একটি ব্যবসায়িক সম্মেলনও অনুষ্ঠিত হয়। সফরের সময় দুই দেশের সরকারের মধ্যে ১৪টি সমঝোতা স্মারক সই হয়।
ট্রাম্প প্রশাসনের সঙ্গে দক্ষিণ কোরিয়ার সম্পর্ক যখন টানাপোড়েনের মধ্যে, তখন বেইজিংয়ের সঙ্গে সিউলের এই ঘনিষ্ঠতা আরও বাড়তে পারে।
বিশেষজ্ঞরা আমাকে বলেছেন, এসব দেশ চীনের সঙ্গে ব্যাপকভাবে সহযোগিতা না করলেও বেইজিং লাভবান হতে পারে। যুক্তরাষ্ট্রের মিত্ররা নিজেদের জন্য যত বেশি অস্ত্র তৈরি করবে, সরবরাহের উৎস যত বেশি দেশে ছড়িয়ে দেবে এবং নতুন নতুন দেশের সঙ্গে সম্পর্ক গড়ে তুলবে, চীনের জন্য তত বেশি সুযোগ তৈরি হবে।
ট্রাম্পের ঘনিষ্ঠ সহযোগীরাও এই বিষয়টি স্বীকার করছেন। ট্রাম্প প্রশাসনের দুই মেয়াদেই বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্বে থাকা এবং জার্মানিতে যুক্তরাষ্ট্রের সাবেক রাষ্ট্রদূত রিচার্ড গ্রেনেল আমাকে বলেন, “স্বল্পমেয়াদে চীন যেন এই পরিস্থিতির সুযোগ নিতে না পারে, তা নিশ্চিত করতে হবে। তবে দীর্ঘমেয়াদ নিয়ে আমি চিন্তিত নই। কারণ বিশ্বের নেতাদের কাছ থেকে আমরা বারবার শুনছি, চীনের সঙ্গে সম্পর্ক রাখার জন্য যে মূল্য দিতে হয়, তা তাদের কাছে গ্রহণযোগ্য নয়।”
বিশেষজ্ঞরা আমাকে বলেছেন, এসব দেশ চীনের সঙ্গে ব্যাপকভাবে সহযোগিতা না করলেও বেইজিং লাভবান হতে পারে। যুক্তরাষ্ট্রের মিত্ররা নিজেদের জন্য যত বেশি অস্ত্র তৈরি করবে, সরবরাহের উৎস যত বেশি দেশে ছড়িয়ে দেবে এবং নতুন নতুন দেশের সঙ্গে সম্পর্ক গড়ে তুলবে, চীনের জন্য তত বেশি সুযোগ তৈরি হবে।
ট্রাম্পের ঘনিষ্ঠ সহযোগীরাও এই বিষয়টি স্বীকার করছেন। ট্রাম্প প্রশাসনের দুই মেয়াদেই বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্বে থাকা এবং জার্মানিতে যুক্তরাষ্ট্রের সাবেক রাষ্ট্রদূত রিচার্ড গ্রেনেল আমাকে বলেন, “স্বল্পমেয়াদে চীন যেন এই পরিস্থিতির সুযোগ নিতে না পারে, তা নিশ্চিত করতে হবে। তবে দীর্ঘমেয়াদ নিয়ে আমি চিন্তিত নই। কারণ বিশ্বের নেতাদের কাছ থেকে আমরা বারবার শুনছি, চীনের সঙ্গে সম্পর্ক রাখার জন্য যে মূল্য দিতে হয়, তা তাদের কাছে গ্রহণযোগ্য নয়।”
গত বছর ইউরোপের নেতারা চীনের ক্রমবর্ধমান শিল্প উৎপাদন, চীনের বাজারে ইউরোপীয় পণ্যের সীমিত প্রবেশাধিকার এবং বড় বাণিজ্য ঘাটতি নিয়ে অভিযোগ জানাতে বেইজিং সফর করেছিলেন। তবে সেই বৈঠকে ইউরোপের দেশগুলো চীনের সঙ্গে সম্পর্ক আরও বাড়ানোর আগ্রহও প্রকাশ করে। যদিও বৈশ্বিক পরাশক্তি হিসেবে যুক্তরাষ্ট্রের বিকল্প হওয়ার ক্ষেত্রে চীনের বেশ কিছু স্পষ্ট সীমাবদ্ধতা রয়েছে।
চীনের সঙ্গে সম্পর্ক ঘনিষ্ঠ করার এই আগ্রহ বিশ্বজুড়ে মানুষের দৃষ্টিভঙ্গির পরিবর্তনেরও প্রতিফলন। এ বছর ৩৬টি দেশে পিউ রিসার্চ সেন্টারের এক জরিপে দেখা গেছে, জরিপে অংশ নেওয়া বেশির ভাগ দেশেই প্রথমবারের মতো যুক্তরাষ্ট্রের চেয়ে চীনকে বেশি ইতিবাচকভাবে দেখা হচ্ছে।
কানাডায় চীনের প্রতি ৪৪ শতাংশ মানুষের ইতিবাচক মনোভাব রয়েছে। যুক্তরাষ্ট্রের ক্ষেত্রে এই হার ৩৩ শতাংশ। ইউরোপের কয়েকটি দেশেও সামগ্রিক ইতিবাচক মনোভাবের দিক থেকে যুক্তরাষ্ট্রকে ছাড়িয়ে গেছে চীন।
আমি ইউক্রেনে যুক্তরাষ্ট্রের দূতাবাসের প্রধান হিসেবে দুইবার দায়িত্ব পালন করা উইলিয়াম টেলরকে জিজ্ঞেস করেছিলাম, ইউরোপের দেশগুলো কি মনে করছে যে ট্রাম্প ২০২৯ সালে ক্ষমতা ছাড়ার আগ পর্যন্ত অপেক্ষা করলেই হবে এবং এরপর পরিস্থিতি আবার আগের মতো হয়ে যাবে?
টেলর বলেন, “তারা নিশ্চিত নয় যে পরিস্থিতি আবার আগের অবস্থায় ফিরবে।” এই পরিবর্তনের অর্থনৈতিক প্রভাবও বড়। মিত্র দেশগুলোর সঙ্গে বাণিজ্যযুদ্ধ হলে যুক্তরাষ্ট্রের ভোক্তাদের খরচ বাড়তে পারে। মিত্র দেশগুলো নিজেদের প্রতিরক্ষা শিল্প গড়ে তুললে এবং একে অপরের কাছ থেকে বেশি অস্ত্র কিনলে ভবিষ্যতে মার্কিন প্রতিরক্ষা কোম্পানিগুলো বাজার হারাতে পারে।
এ ছাড়া বিভিন্ন দেশ যখন নিজেদের সরবরাহব্যবস্থা ও বাণিজ্যিক সম্পর্ক বিভিন্ন দেশের মধ্যে ছড়িয়ে দেবে, তখন তাদের ওপর ওয়াশিংটনের প্রভাবও কমবে। গত বছর দায়িত্ব নেওয়ার কয়েক সপ্তাহ পর কানাডার প্রধানমন্ত্রী মার্ক কার্নি বলেছিলেন, “যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে আমাদের দীর্ঘদিনের ক্রমবর্ধমান অর্থনৈতিক সম্পর্কের যুগ শেষ হয়েছে। এটি দুঃখজনক হলেও এখন এটাই বাস্তবতা।”
ট্রাম্পের দ্বিতীয় মেয়াদের সবচেয়ে বড় প্রভাব হয়তো এটাই হতে পারে যে, যুক্তরাষ্ট্রের মিত্র দেশগুলো এখন এমন একটি বাস্তবতার জন্য প্রস্তুতি নিচ্ছে, যা ট্রাম্পের ক্ষমতা ছাড়ার পরও থেকে যেতে পারে।
গত বছর ইউরোপের নেতারা চীনের ক্রমবর্ধমান শিল্প উৎপাদন, চীনের বাজারে ইউরোপীয় পণ্যের সীমিত প্রবেশাধিকার এবং বড় বাণিজ্য ঘাটতি নিয়ে অভিযোগ জানাতে বেইজিং সফর করেছিলেন। তবে সেই বৈঠকে ইউরোপের দেশগুলো চীনের সঙ্গে সম্পর্ক আরও বাড়ানোর আগ্রহও প্রকাশ করে। যদিও বৈশ্বিক পরাশক্তি হিসেবে যুক্তরাষ্ট্রের বিকল্প হওয়ার ক্ষেত্রে চীনের বেশ কিছু স্পষ্ট সীমাবদ্ধতা রয়েছে।
চীনের সঙ্গে সম্পর্ক ঘনিষ্ঠ করার এই আগ্রহ বিশ্বজুড়ে মানুষের দৃষ্টিভঙ্গির পরিবর্তনেরও প্রতিফলন। এ বছর ৩৬টি দেশে পিউ রিসার্চ সেন্টারের এক জরিপে দেখা গেছে, জরিপে অংশ নেওয়া বেশির ভাগ দেশেই প্রথমবারের মতো যুক্তরাষ্ট্রের চেয়ে চীনকে বেশি ইতিবাচকভাবে দেখা হচ্ছে।
কানাডায় চীনের প্রতি ৪৪ শতাংশ মানুষের ইতিবাচক মনোভাব রয়েছে। যুক্তরাষ্ট্রের ক্ষেত্রে এই হার ৩৩ শতাংশ। ইউরোপের কয়েকটি দেশেও সামগ্রিক ইতিবাচক মনোভাবের দিক থেকে যুক্তরাষ্ট্রকে ছাড়িয়ে গেছে চীন। আমি ইউক্রেনে যুক্তরাষ্ট্রের দূতাবাসের প্রধান হিসেবে দুইবার দায়িত্ব পালন করা উইলিয়াম টেলরকে জিজ্ঞেস করেছিলাম, ইউরোপের দেশগুলো কি মনে করছে যে ট্রাম্প ২০২৯ সালে ক্ষমতা ছাড়ার আগ পর্যন্ত অপেক্ষা করলেই হবে এবং এরপর পরিস্থিতি আবার আগের মতো হয়ে যাবে?
টেলর বলেন, “তারা নিশ্চিত নয় যে পরিস্থিতি আবার আগের অবস্থায় ফিরবে।”
এই পরিবর্তনের অর্থনৈতিক প্রভাবও বড়। মিত্র দেশগুলোর সঙ্গে বাণিজ্যযুদ্ধ হলে যুক্তরাষ্ট্রের ভোক্তাদের খরচ বাড়তে পারে। মিত্র দেশগুলো নিজেদের প্রতিরক্ষা শিল্প গড়ে তুললে এবং একে অপরের কাছ থেকে বেশি অস্ত্র কিনলে ভবিষ্যতে মার্কিন প্রতিরক্ষা কোম্পানিগুলো বাজার হারাতে পারে।
এ ছাড়া বিভিন্ন দেশ যখন নিজেদের সরবরাহব্যবস্থা ও বাণিজ্যিক সম্পর্ক বিভিন্ন দেশের মধ্যে ছড়িয়ে দেবে, তখন তাদের ওপর ওয়াশিংটনের প্রভাবও কমবে।
গত বছর দায়িত্ব নেওয়ার কয়েক সপ্তাহ পর কানাডার প্রধানমন্ত্রী মার্ক কার্নি বলেছিলেন, “যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে আমাদের দীর্ঘদিনের ক্রমবর্ধমান অর্থনৈতিক সম্পর্কের যুগ শেষ হয়েছে। এটি দুঃখজনক হলেও এখন এটাই বাস্তবতা।”
ট্রাম্পের দ্বিতীয় মেয়াদের সবচেয়ে বড় প্রভাব হয়তো এটাই হতে পারে যে, যুক্তরাষ্ট্রের মিত্র দেশগুলো এখন এমন একটি বাস্তবতার জন্য প্রস্তুতি নিচ্ছে, যা ট্রাম্পের ক্ষমতা ছাড়ার পরও থেকে যেতে পারে।
লেখাটি দ্য আটলান্টিকে প্রকাশিত নিবন্ধ থেকে অনূদিত
লেখক: দ্য আটলান্টিকের স্টাফ রাইটার