যুক্তরাষ্ট্র ও কানাডার মধ্যে সাম্প্রতিক বাণিজ্যিক সংঘাত শুধু শুল্ক আর পাল্টা শুল্কের লড়াই নয়। এর গভীরে রয়েছে আরও গুরুত্বপূর্ণ একটি প্রশ্ন—একটি বড় অর্থনৈতিক শক্তি কি তার বাজারের প্রভাব ব্যবহার করে একটি সার্বভৌম প্রতিবেশী দেশের বাণিজ্যিক সিদ্ধান্ত গ্রহণের স্বাধীনতাও নিয়ন্ত্রণ করতে পারে?
গত মঙ্গলবার সাউথ চায়না মর্নিং পোস্টে প্রকাশিত জিংই উ ও ম্যান্ডি জুওর প্রতিবেদনে এই প্রশ্নটিই সামনে এসেছে। তাদের বিশ্লেষণ অনুযায়ী, ওয়াশিংটন ও অটোয়ার বাণিজ্য আলোচনা ভেঙে যাওয়ার পেছনে শুধু শুল্কের হার নয়; কানাডা ভবিষ্যতে তৃতীয় দেশগুলোর সঙ্গে কী ধরনের বাণিজ্যিক সম্পর্ক গড়ে তুলতে পারবে, সেটিও বড় বিরোধের কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছে। বেইজিংয়ের ইউনিভার্সিটি অব ইন্টারন্যাশনাল বিজনেস অ্যান্ড ইকোনমিকসের অধ্যাপক জন গংয়ের মতে, এই দাবির লক্ষ্য স্পষ্টতই কানাডার সঙ্গে চীনের বাড়তে থাকা বাণিজ্যিক সম্পর্ক।
এখানেই বর্তমান সংকটের তাৎপর্য। কানাডা যদি যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে ঘনিষ্ঠ মিত্র হয়েও নিজের বাণিজ্যিক সিদ্ধান্ত নেওয়ার স্বাধীনতা রক্ষা করতে পারে, তাহলে ওয়াশিংটনের শুল্কনীতির প্রভাব শুধু অটোয়ার ওপর নয়, অন্য মধ্যম ও ছোট অর্থনীতির ওপরও সীমিত হতে পারে।
শুল্কের আড়ালে সার্বভৌমত্বের লড়াই
যুক্তরাষ্ট্র ও কানাডার মধ্যে বাণিজ্য আলোচনা কয়েক দফা এগোনোর পর গত শুক্রবার ভেঙে পড়ে। কানাডার প্রধানমন্ত্রী মার্ক কার্নি জানান, শেষ মুহূর্তে যুক্তরাষ্ট্র এমন কিছু শর্ত সামনে আনে, যা কানাডার অর্থনৈতিক স্বার্থ ও সার্বভৌম সিদ্ধান্ত গ্রহণের ক্ষমতার সঙ্গে সাংঘর্ষিক। কার্নির ভাষায়, যুক্তরাষ্ট্রের অবস্থান ছিল একটি ‘পাওয়ার প্লে’, যা শেষ পর্যন্ত সার্বভৌমত্বের প্রশ্নে গিয়ে দাঁড়ায়।
অটোয়ার অবস্থান ছিল—যুক্তরাষ্ট্রের বাজারে প্রবেশাধিকার কানাডার জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ হলেও সেই সুবিধার বিনিময়ে কানাডা নিজের বৈদেশিক বাণিজ্যনীতি অন্য কোনো দেশের অনুমোদনের ওপর নির্ভরশীল করতে পারে না।
গত ১৮ আগস্ট কার্নি বলেছিলেন, কানাডা যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে আলোচনাকে অগ্রাধিকার দিচ্ছে। কিন্তু একই সঙ্গে আরও স্বাধীন ও বৈচিত্র্যময় অর্থনীতি গড়ে তোলার চেষ্টা করছে। ২১ আগস্ট আলোচনার ইতি টেনে তিনি আরও স্পষ্ট করে বলেন, কানাডা এমন কোনো চুক্তি মেনে নেবে না, যা তার স্বাধীনতা ও সার্বভৌমত্ব সীমিত করে।
অর্থাৎ বিরোধের কেন্দ্র এখন শুধু ‘কত শতাংশ শুল্ক’ নয়; প্রশ্ন হচ্ছে কে কানাডার বাণিজ্যিক ভবিষ্যৎ নির্ধারণ করবে।
যুক্তরাষ্ট্রের বাজারনির্ভরতার ফাঁদ
কানাডার অর্থনীতির জন্য যুক্তরাষ্ট্রের গুরুত্ব বিশাল। দেশটির বিপুল পরিমাণ রপ্তানি দক্ষিণে আমেরিকার বাজারে যায়। ফলে ওয়াশিংটন স্বাভাবিকভাবেই এই নির্ভরশীলতাকে একটি শক্তিশালী দর-কষাকষির হাতিয়ার হিসেবে ব্যবহার করতে পারে।
রয়টার্স বলছে, এবারও সেটিই ঘটেছে। বাণিজ্য আলোচনা ব্যর্থ হওয়ার পর যুক্তরাষ্ট্র প্রায় ২০ বিলিয়ন ডলারের কানাডীয় পণ্যের ওপর ৫০ শতাংশ শুল্ক কার্যকর করেছে। এর বাইরে কানাডার গাড়ি, ট্রাক ও অটো পার্টসের ওপরও ৫০ শতাংশ শুল্ক আরোপের হুমকি দেওয়া হয়েছে।
কানাডার জন্য এটি নিঃসন্দেহে বড় অর্থনৈতিক চাপ। কিন্তু অটোয়ার কৌশলও বদলেছে। কার্নি সরকার শুধু যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে দর-কষাকষির ওপর নির্ভর না করে নতুন বাজার খুঁজছে। তার সরকার জানিয়েছে, কানাডার বিদ্যমান মুক্তবাণিজ্য চুক্তিগুলো ইতিমধ্যে প্রায় ১.৫ বিলিয়ন ভোক্তার বাজারে অগ্রাধিকারমূলক প্রবেশাধিকার দেয় এবং ভবিষ্যতে এই বাজার আরও সম্প্রসারণের লক্ষ্য রয়েছে।
এটি দীর্ঘমেয়াদে গুরুত্বপূর্ণ পরিবর্তন। কারণ অর্থনৈতিক নির্ভরতা যত বেশি বৈচিত্র্যময় হবে, কোনো একক দেশ তত সহজে রাজনৈতিক বা বাণিজ্যিক চাপ প্রয়োগ করতে পারবে না।
আর এখানেই চীনের সুযোগ
যুক্তরাষ্ট্র–কানাডা সংঘাতের সবচেয়ে বড় কৌশলগত সুবিধাভোগীদের একজন হতে পারে চীন।
চীন ইতিমধ্যে কানাডার অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ বাণিজ্যিক অংশীদার। একই সময়ে অটোয়া বেইজিংয়ের সঙ্গে সম্পর্কও নতুন করে পর্যালোচনা করছে। বিশেষ করে কানাডার প্রাকৃতিক সম্পদ, জ্বালানি, কৃষিপণ্য ও খনিজসম্পদের জন্য চীনা বাজার গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠতে পারে।
অধ্যাপক জন গংয়ের বক্তব্য অনুযায়ী, কানাডা যদি তৃতীয় দেশের সঙ্গে স্বাধীনভাবে বাণিজ্য করার অধিকার রক্ষা করে, তাহলে চীন–কানাডা বাণিজ্যের জন্য নতুন সুযোগ তৈরি হবে। বিশেষ করে কানাডার জ্বালানি ও অন্যান্য সম্পদ চীনের জন্য গুরুত্বপূর্ণ হতে পারে।
অর্থাৎ ওয়াশিংটন যে চাপ দিয়ে কানাডাকে চীনের কাছ থেকে দূরে রাখতে চাইছে, সেই চাপের একটি উল্টো ফলও হতে পারে—কানাডা আরও বেশি করে চীনের বাজারের দিকে ঝুঁকে পড়তে পারে।
এটি বেইজিংয়ের জন্য কৌশলগতভাবে লাভজনক।
চীনা পণ্যের ‘ট্রান্সশিপমেন্ট’ নিয়ে মার্কিন উদ্বেগ
তবে যুক্তরাষ্ট্রের উদ্বেগও একেবারে ভিত্তিহীন নয়। ওয়াশিংটনের দীর্ঘদিনের অভিযোগ হলো, চীন তৃতীয় দেশের মাধ্যমে মার্কিন বাজারে পণ্য প্রবেশ করিয়ে শুল্ক এড়ানোর চেষ্টা করে। তাই যুক্তরাষ্ট্র তার মিত্রদের সরবরাহশৃঙ্খলে চীনা উপকরণ ও পণ্যের উপস্থিতি কমানোর জন্য চাপ দিয়ে আসছে।
কানাডার ক্ষেত্রেও ওয়াশিংটনের একটি বড় উদ্বেগ হলো—অটোয়া যদি চীনের সঙ্গে বাণিজ্য বাড়ায়, তাহলে কানাডা ভবিষ্যতে চীনা পণ্যের জন্য উত্তর আমেরিকার একটি সম্ভাব্য প্রবেশপথে পরিণত হতে পারে।
কিন্তু এখানেই নীতিগত পার্থক্য তৈরি হয়েছে। কানাডা চীনের শিল্প-অতিরিক্ত সক্ষমতা, ভর্তুকি বা কিছু বাণিজ্যিক আচরণ নিয়ে যুক্তরাষ্ট্রের উদ্বেগের সঙ্গে একমত হতে পারে। কিন্তু তার অর্থ এই নয় যে কানাডা নিজের বাণিজ্যনীতি নির্ধারণে ওয়াশিংটনের অনুমতি নেবে।
হিনরিখ ফাউন্ডেশনের বাণিজ্যনীতি বিশেষজ্ঞ ডেবোরা এলমসের পর্যবেক্ষণ অনুযায়ী, কানাডার আপত্তির মূল জায়গাটি চীনকে নিয়ে যুক্তরাষ্ট্রের উদ্বেগ নয়; বরং সেই উদ্বেগ মোকাবিলার পদ্ধতি।
উত্তর আমেরিকার সরবরাহশৃঙ্খলেও ঝুঁকি
এই সংঘাতের আরেকটি গুরুত্বপূর্ণ দিক হলো যুক্তরাষ্ট্র ও কানাডার অর্থনীতি কতটা পরস্পরনির্ভর।
গাড়ি শিল্প এর সবচেয়ে বড় উদাহরণ। দুই দেশের কারখানা ও সরবরাহব্যবস্থা বহু বছর ধরে সীমান্ত পেরিয়ে সমন্বিতভাবে পরিচালিত হচ্ছে। কানাডীয় গাড়ি বা যন্ত্রাংশে অতিরিক্ত শুল্ক বসালে শুধু কানাডার নির্মাতারা ক্ষতিগ্রস্ত হবে না; মার্কিন গাড়ি নির্মাতা, যন্ত্রাংশ সরবরাহকারী এবং শেষ পর্যন্ত আমেরিকান ভোক্তারাও বাড়তি খরচের মুখে পড়তে পারেন। রয়টার্সের বিশ্লেষণেও উত্তর আমেরিকার গভীরভাবে সমন্বিত অটো সরবরাহশৃঙ্খলে এর ঝুঁকির কথা উঠে এসেছে।
অর্থাৎ শুল্কের মাধ্যমে কানাডাকে চাপ দেওয়া গেলেও এর অর্থনৈতিক মূল্য যুক্তরাষ্ট্রকেও দিতে হবে।
চীনের জন্য কৌশলগত বার্তা
চীন এই সংঘাতকে শুধু অর্থনৈতিক সুযোগ হিসেবে দেখছে না; এটি তার জন্য একটি কূটনৈতিক প্রচারেরও সুযোগ।
বেইজিং দীর্ঘদিন ধরে বলে আসছে, যুক্তরাষ্ট্র তার অর্থনৈতিক শক্তিকে ব্যবহার করে অন্য দেশগুলোর ওপর একতরফা চাপ সৃষ্টি করে। কানাডার মতো ঘনিষ্ঠ মার্কিন মিত্র যখন প্রকাশ্যে বাণিজ্যিক সার্বভৌমত্বের প্রশ্ন তোলে, তখন চীনের সেই বক্তব্য আরও বিশ্বাসযোগ্যতা পেতে পারে।
চীনা রাষ্ট্রীয় সংবাদমাধ্যম গ্লোবাল টাইমস ইতিমধ্যেই কানাডার পাল্টা শুল্কের প্রশংসা করেছে। তাদের বক্তব্যের সারকথা হলো—কোনো একক শক্তির উচিত নয় অন্য সার্বভৌম রাষ্ট্রের অর্থনৈতিক সিদ্ধান্তের ওপর একচেটিয়া নিয়ন্ত্রণ প্রতিষ্ঠা করা।
অবশ্য চীনা প্রচারকে নিরপেক্ষ বিশ্লেষণ হিসেবে দেখা যাবে না। বেইজিং স্বাভাবিকভাবেই এই সংঘাতকে নিজের ভূ-রাজনৈতিক অবস্থান শক্তিশালী করার জন্য ব্যবহার করবে। তাই কানাডার সঙ্গে বাণিজ্য বাড়ানো চীনের জন্য যেমন অর্থনৈতিকভাবে লাভজনক, তেমনি মার্কিন প্রভাবের বিকল্প একটি বাণিজ্যিক নেটওয়ার্ক তৈরির ক্ষেত্রেও তা সহায়ক।
যুক্তরাষ্ট্রের জন্য সতর্কবার্তা
বর্তমান সংকট ওয়াশিংটনের জন্যও একটি গুরুত্বপূর্ণ পরীক্ষা।
মার্কিন বাজার বিশ্বের সবচেয়ে বড় বাজারগুলোর একটি। ফলে শুল্ক আরোপের ক্ষমতা অবশ্যই বড় অর্থনৈতিক অস্ত্র। কিন্তু অতিরিক্ত ব্যবহার করলে এর কার্যকারিতা কমে যেতে পারে। কারণ অন্য দেশগুলো তখন বিকল্প বাজার, নতুন সরবরাহশৃঙ্খল এবং নতুন বাণিজ্যিক অংশীদার খুঁজতে শুরু করে।
কানাডার বর্তমান কৌশল সেই পরিবর্তনের একটি উদাহরণ। কার্নি সরকার স্পষ্টভাবে বলছে, আমেরিকার সঙ্গে সম্পর্ক গুরুত্বপূর্ণ হলেও পুরোনো নির্ভরতার কাঠামোয় ফিরে যাওয়ার ইচ্ছা তাদের নেই। বরং দেশের ভেতরের সক্ষমতা বাড়ানো এবং রপ্তানি বাজার বৈচিত্র্যময় করা এখন তাদের দীর্ঘমেয়াদি লক্ষ্য।
এখানে যুক্তরাষ্ট্রের জন্য বড় শিক্ষা হলো—অর্থনৈতিক শক্তি দিয়ে মিত্রকে বাধ্য করা যায়, কিন্তু সবসময় তাকে নিজের পছন্দের পথে রাখা যায় না।
নতুন বিশ্ববাণিজ্যের একটি প্রতীকী সংঘাত
যুক্তরাষ্ট্র–কানাডা বাণিজ্য বিরোধ তাই নিছক দুই প্রতিবেশীর শুল্কযুদ্ধ নয়। এটি পরিবর্তিত বিশ্ব অর্থনীতির একটি প্রতীকী সংঘাত। একদিকে রয়েছে যুক্তরাষ্ট্রের বাজার ও আর্থিক ক্ষমতা; অন্যদিকে রয়েছে মধ্যম শক্তিগুলোর অর্থনৈতিক সার্বভৌমত্ব রক্ষার আকাঙ্ক্ষা। আর এই দুইয়ের মাঝখানে চীন নিজেকে বিকল্প বাণিজ্যিক অংশীদার হিসেবে প্রতিষ্ঠার সুযোগ খুঁজছে।
কানাডা যদি যুক্তরাষ্ট্রের চাপের মধ্যেও নিজের বাণিজ্যিক স্বাধীনতা বজায় রাখতে পারে এবং একই সঙ্গে চীন, যুক্তরাজ্য ও অন্যান্য বাজারের সঙ্গে সম্পর্ক বাড়াতে সক্ষম হয়, তাহলে এর প্রভাব শুধু কানাডার মধ্যেই সীমাবদ্ধ থাকবে না। অন্যান্য দেশও দেখবে—মার্কিন বাজারের ওপর নির্ভরশীল হয়েও কীভাবে বিকল্প অর্থনৈতিক পথ তৈরি করা যায়।
অন্যদিকে, যুক্তরাষ্ট্র যদি এই সংঘাতকে আরও বাড়িয়ে তোলে, তাহলে তার মিত্রদের একটি অংশও ভবিষ্যতে নিজেদের অর্থনৈতিক ঝুঁকি কমানোর জন্য বিকল্প বাজার খুঁজতে আরও সক্রিয় হতে পারে।
শেষ পর্যন্ত চীনের সবচেয়ে বড় লাভ সম্ভবত এখানেই। কানাডার সঙ্গে বাণিজ্য বাড়ানো চীনের জন্য তাৎক্ষণিক অর্থনৈতিক সুবিধা দিতে পারে। কিন্তু তার চেয়েও গুরুত্বপূর্ণ হলো—যুক্তরাষ্ট্রের ঘনিষ্ঠ মিত্রদের মধ্যেও যদি ‘বাণিজ্যিক সার্বভৌমত্ব’ এবং ‘বহুমুখী অংশীদারিত্ব’–এর ধারণা শক্তিশালী হয়, তাহলে বৈশ্বিক বাণিজ্যে ওয়াশিংটনের একক প্রভাব কিছুটা হলেও ক্ষয় হতে পারে।
তবে এটিকে চীনের পূর্ণ বিজয় বলার সময় এখনো আসেনি। কানাডার অর্থনীতি এখনও ব্যাপকভাবে মার্কিন বাজারের ওপর নির্ভরশীল, আর দুই দেশের বাণিজ্য ও সরবরাহশৃঙ্খল এত গভীরভাবে সংযুক্ত যে দীর্ঘস্থায়ী বিচ্ছেদ উভয়ের জন্যই ব্যয়বহুল হবে। বরং বর্তমান পরিস্থিতিকে দেখা উচিত নতুন এক ভারসাম্য তৈরির সূচনা হিসেবে।
এই ভারসাম্যে কানাডা তার সার্বভৌমত্ব রক্ষার চেষ্টা করছে, যুক্তরাষ্ট্র তার বাজারক্ষমতা দিয়ে প্রভাব ধরে রাখতে চাইছে, আর চীন সেই দ্বন্দ্বের ফাঁক দিয়ে নিজের বাণিজ্যিক ও কৌশলগত পরিসর বাড়ানোর সুযোগ খুঁজছে।