এক হাতে বাটন ফোন, অন্য হাতে স্মার্টফোন। মোবাইল যোগাযোগের দুই ভিন্ন যুগের প্রতীক এই দুই ডিভাইস। বাংলাদেশ এখন বড় ধরনের পরিবর্তনের প্রস্তুতি নিচ্ছে।
১৫ আগস্ট এক গোলটেবিল বৈঠকে অংশ নিয়ে প্রধানমন্ত্রীর ডাক ও টেলিযোগাযোগ বিষয়ক উপদেষ্টা রেহান আসিফ আসাদ বলেন, আগামী ৫ থেকে ৬ মাসের মধ্য দেশের ৭ কোটি মানুষকে মোবাইল ইন্টারনেটের আওতায় নিয়ে আসা হবে।
এই উপদেষ্টা বলেন, দেশের ৫০ শতাংশ মানুষ এখনো টু-জি ফোন (বাটন ফোন) ব্যবহার করে। ১৪ কোটি ফোন ব্যবহারকারীর এই ৫০ শতাংশ মানুষকে আমরা রাতারাতি স্মার্টফোনে নিয়ে আসতে পারবো না। আগামী ৬ থেকে ১২ মাসের মধ্যে ৭ কোটি মানুষকে ডাটা নেটওয়ার্কের মধ্যে নিয়ে আসব।
বার্তা সংস্থা ইউএনবি জানায়, সরকারের পরিকল্পনা অনুযায়ী, আগামী ছয় থেকে ১২ মাসের মধ্যে প্রায় ৭ কোটি ফিচার ফোন ব্যবহারকারীকে মোবাইল ডাটা সেবার আওতায় আনা হবে।
তবে যারা এখনো সাধারণ বাটন ফোনের ওপর নির্ভরশীল, তাদের লাখো ব্যবহারকারী কি স্মার্টফোনে অভ্যস্ত হতে পারবেন?
ডাক, টেলিযোগাযোগ ও তথ্যপ্রযুক্তি বিষয়ক প্রধানমন্ত্রীর উপদেষ্টা রেহান আসিফ আসাদ বলেছেন, ২জি ও ফিচার ফোন ব্যবহারকারীদের মোবাইল ডাটা নেটওয়ার্কের আওতায় আনতে উদ্যোগ নেওয়া হবে।
রাজধানীর গুলিস্তান এলাকায় বাটন ফোন ব্যবহার করছেন এক তরুণ। ছবি: ইউএনবি
দুই ফোন, দুই জীবনধারা
অনেক ব্যবহারকারীর কাছে বাটন ফোন শুধু পুরোনো প্রযুক্তির একটি ডিভাইস নয়।
জটিল মেনু, ঘন ঘন চার্জ দেওয়া কিংবা স্মার্টফোনের সঙ্গে যুক্ত নানা ধরনের বিভ্রান্তি ছাড়াই এতে কল ও এসএমএসের মতো প্রয়োজনীয় সেবা পাওয়া যায়।
দীর্ঘ ব্যাটারির স্থায়িত্ব এবং তুলনামূলক কম খরচের কারণে বয়স্ক মানুষ, স্বল্প আয়ের শ্রমজীবী এবং ডিজিটাল প্রযুক্তির সঙ্গে কম পরিচিতদের কাছে এটি বিশেষভাবে আকর্ষণীয়।
কিছু পরিবারের জন্য ফিচার ফোন ব্যবহার একটি সচেতন সিদ্ধান্তও।
অতিরিক্ত ইন্টারনেট ব্যবহার, সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম, সাইবার ঝুঁকি এবং অনলাইনে অনুপযুক্ত কনটেন্টের সংস্পর্শ নিয়ে উদ্বেগ থাকায় অনেক অভিভাবক স্মার্টফোনের পরিবর্তে সন্তানদের সাধারণ বাটন ফোন দিতে পছন্দ করেন।
এ ছাড়া কিছু শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান ও আবাসিক পরিবেশে স্মার্টফোন ব্যবহারে বিধিনিষেধ থাকায় ফিচার ফোনের চাহিদা এখনো বজায় রয়েছে।
স্মার্টফোনের প্রতিশ্রুতি
স্মার্টফোন ব্যবহারের ক্ষেত্রে সবচেয়ে বড় বাধাগুলোর একটি দূর করতে চায় সরকার। আর তা হলো দাম।
প্রায় ৫ হাজার থেকে ৬ হাজার টাকার মধ্যে স্থানীয়ভাবে সাশ্রয়ী দামের অ্যান্ড্রয়েড স্মার্টফোন তৈরির উদ্যোগ নেওয়া হচ্ছে।
কর্মকর্তাদের মতে, স্থানীয়ভাবে মোবাইল ফোন উৎপাদনকে উৎসাহিত করতে কাঁচামালের ওপর কর ও শুল্ক কমানো হয়েছে। নির্মাতারা জানিয়েছেন, প্রায় ৫০ থেকে ৬০ ডলারে ডাটা সুবিধাসম্পন্ন অ্যান্ড্রয়েড হ্যান্ডসেট উৎপাদন করা সম্ভব।
ডিভাইসগুলোকে আরও সাশ্রয়ী করতে কিস্তি বা ইএমআই সুবিধা চালুর বিষয়টিও বিবেচনা করছে সরকার।
তবে শুধু কম দামের হ্যান্ডসেটই যথেষ্ট নাও হতে পারে।
অনলাইনে যাওয়ার প্রকৃত খরচ
স্বল্প আয়ের একজন ব্যবহারকারীর জন্য স্মার্টফোনের খরচ শুধু ডিভাইস কেনার মধ্যেই সীমাবদ্ধ নয়।
রাজধানীর একটি বাজারে মোবাইল ফোন হাতে এক ব্যক্তি। ছবি: ইউএনবি
এর সঙ্গে রয়েছে মোবাইল ডাটার নিয়মিত খরচ, চার্জ দেওয়া, মেরামত এবং একসময় ডিভাইস পরিবর্তনের ব্যয়। এরপর আসে আরেকটি বড় বাধা, ডিজিটাল দক্ষতা।
বাটন ফোনে কল করা ও এসএমএস পাঠাতে অভ্যস্ত একজন ব্যক্তি শুরুতেই স্মার্টফোনের বিভিন্ন অ্যাপ্লিকেশন ব্যবহার, ব্যক্তিগত তথ্য সুরক্ষা, অনলাইন প্রতারণা শনাক্ত করা কিংবা নিরাপদে ডিজিটাল সেবা ব্যবহারের বিষয়গুলো নাও জানতে পারেন।
নেটওয়ার্কের মানও আরেকটি গুরুত্বপূর্ণ বিষয়। নির্ভরযোগ্য ও সাশ্রয়ী মোবাইল ইন্টারনেট না থাকলে স্মার্টফোনের উপযোগিতা সীমিত হয়ে যায়।
বাংলাদেশের ডিজিটাল অগ্রযাত্রার কেন্দ্র থেকে বাটন ফোন হয়তো ধীরে ধীরে সরে যাচ্ছে। তবে কোটি কোটি ব্যবহারকারীর সামনে প্রশ্ন হলো, স্মার্টফোন কি তাদের সামর্থ্যের চেয়ে বেশি খরচ না বাড়িয়ে আরও ভালো কিছু দিতে পারবে?