
বাটন ফোন ছাড়তে প্রস্তুত দেশের ৭ কোটি মানুষ?
এক হাতে বাটন ফোন, অন্য হাতে স্মার্টফোন। মোবাইল যোগাযোগের দুই ভিন্ন যুগের প্রতীক এই দুই ডিভাইস। বাংলাদেশ এখন বড় ধরনের পরিবর্তনের প্রস্তুতি নিচ্ছে।

একসময় মানবসভ্যতার সবচেয়ে বড় জনসংখ্যাগত ভয় ছিল অতিরিক্ত মানুষ। দ্রুত জনসংখ্যা বৃদ্ধি, খাদ্যসংকট, সম্পদের সীমাবদ্ধতা এবং পরিবেশের ওপর বাড়তি চাপ নিয়ে বিংশ শতাব্দীর দ্বিতীয়ার্ধে ব্যাপক আলোচনা হয়েছে। কিন্তু একবিংশ শতাব্দীর তৃতীয় দশকে এসে সেই চিত্র দ্রুত বদলে যাচ্ছে। এখন প্রশ্নটি আর শুধু ‘পৃথিবীতে কত মানুষ হবে’ নয়; বরং ‘ভবিষ্যতে পৃথিবীতে যথেষ্ট মানুষ থাকবে কি না’—এটিও গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠছে।
সাম্প্রতিক এক গবেষণা এই পরিবর্তনের মাত্রা নিয়ে নতুন করে সতর্ক করেছে। পেনসিলভানিয়া বিশ্ববিদ্যালয়ের অর্থনীতির অধ্যাপক জেসুস ফার্নান্দেজ-ভিলাভার্দে এবং নর্থওয়েস্টার্ন বিশ্ববিদ্যালয়ের গবেষক প্যাট্রিক নরিকের Terra Incognita: The Economics of a Shrinking World শীর্ষক গবেষণায় বলা হয়েছে, ২০২৬ সালের মধ্যে মানবজাতি সম্ভবত প্রথমবারের মতো প্রতিস্থাপনযোগ্য প্রজনন হারের নিচে চলে গেছে। গবেষণাটি ১৯৫০ সাল থেকে ২৩৬টি দেশ ও অঞ্চলের তথ্য বিশ্লেষণ করে দেখেছে, ২১৯টি দেশেই প্রজনন হার নিম্নমুখী এবং এই প্রবণতা থেমে যাওয়ার স্পষ্ট লক্ষণ নেই।
এখানে অবশ্য একটি গুরুত্বপূর্ণ পার্থক্য মনে রাখা দরকার। ‘প্রজনন হার প্রতিস্থাপন স্তরের নিচে’ নেমে যাওয়া এবং ‘বিশ্ব জনসংখ্যা কমতে শুরু করা’ একই ঘটনা নয়। একটি দেশের বা বিশ্বের মোট জনসংখ্যা কিছু সময় পর্যন্ত বাড়তে পারে, যদিও প্রতিটি প্রজন্ম আগের প্রজন্মের চেয়ে ছোট হয়। কারণ আগের কয়েক দশকে জন্ম নেওয়া বিপুলসংখ্যক মানুষ এখনও সন্তান জন্মদানের বয়সে রয়েছেন। এটিই জনসংখ্যাগত জড়তা।
সাধারণভাবে উন্নত দেশগুলোর জন্য জনসংখ্যা দীর্ঘমেয়াদে স্থিতিশীল রাখতে প্রায় ২.১ সন্তানপ্রতি নারীকে প্রতিস্থাপনযোগ্য স্তর হিসেবে ধরা হয়। তবে বাস্তবে এই সংখ্যা সব দেশ ও অঞ্চলে এক নয়। অন্যদিকে জাতিসংঘের ২০২৪ সালের হিসাবে ২০২৪ সালে বিশ্বের গড় প্রজনন হার ছিল প্রায় ২.৩ সন্তানপ্রতি নারী। অর্থাৎ নতুন গবেষণার দাবি—২০২৬ সালে বৈশ্বিক হার ২.১-এর নিচে চলে গেছে—জাতিসংঘের ২০২৪ সালের হিসাবের তুলনায় একটি অত্যন্ত দ্রুত পরিবর্তনের ইঙ্গিত দেয়।
এই পার্থক্যটি গুরুত্বপূর্ণ। কারণ নতুন গবেষণাটি এখনো একটি গবেষণামূলক পূর্বাভাস ও মডেলভিত্তিক বিশ্লেষণ। গবেষণার অন্যতম লেখক নিজেও সতর্ক করেছেন যে পৃথিবীর সব অঞ্চলে জনসংখ্যাতাত্ত্বিক তথ্যের মান সমান নয়, বিশেষ করে কিছু নিম্ন-আয়ের দেশে তথ্যের অনিশ্চয়তা বেশি। ফলে ২০২৬ সালকে একটি নির্দিষ্ট ‘ঐতিহাসিক সীমারেখা’ হিসেবে দেখার বদলে এটিকে একটি শক্তিশালী সতর্কসংকেত হিসেবে দেখা বেশি যুক্তিসঙ্গত।
তবে মূল প্রবণতাটি নিয়ে সন্দেহের খুব বেশি অবকাশ নেই। গত কয়েক দশকে বিশ্বের প্রায় সব অঞ্চলে প্রজনন হার কমেছে। সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ পরিবর্তন হলো-এটি আর শুধু ইউরোপ, উত্তর আমেরিকা, জাপান বা দক্ষিণ কোরিয়ার সমস্যা নয়। লাতিন আমেরিকা, এশিয়া এবং মধ্যম আয়ের বহু দেশেও জন্মহার দ্রুত কমছে। নতুন গবেষণায় ২৩৬টি দেশ ও অঞ্চলের মধ্যে ২১৯টির দীর্ঘমেয়াদি প্রবণতা নিম্নমুখী পাওয়া গেছে; গড়ে এই দেশগুলোতে নারীপ্রতি জন্মহারে বছরে প্রায় ০.০৬২-এর পতন দেখা গেছে।
এই জায়গাতেই গবেষণাটির সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ বার্তা। এতদিন জনসংখ্যা হ্রাসকে মূলত ধনী সমাজের সমস্যা হিসেবে দেখা হতো। ধারণা ছিল, অর্থনৈতিক উন্নয়ন, নগরায়ণ, নারীর শিক্ষা, কর্মসংস্থান ও সামাজিক পরিবর্তনের ফলে প্রথমে উন্নত দেশগুলোতে জন্মহার কমবে; পরে উন্নয়নশীল দেশগুলো একই পথে যাবে। কিন্তু এখন দেখা যাচ্ছে, এই পরিবর্তন অনেক দ্রুত এবং অনেক বিস্তৃতভাবে ঘটছে।
থাইল্যান্ডের মতো দেশে প্রজনন হার ইতিমধ্যে অত্যন্ত নিচে নেমেছে। লাতিন আমেরিকার বিভিন্ন দেশেও একই প্রবণতা দেখা যাচ্ছে। গবেষণায় মেক্সিকো, তিউনিসিয়া ও থাইল্যান্ডসহ এমন বহু দেশের উদাহরণ দেওয়া হয়েছে, যেখানে মাথাপিছু আয় পশ্চিমা দেশের তুলনায় অনেক কম হলেও প্রজনন হার অত্যন্ত নিম্ন। অর্থাৎ শুধু ‘ধনী হলে মানুষ কম সন্তান নেয়’—এই পুরোনো ব্যাখ্যা দিয়ে বর্তমান বৈশ্বিক প্রবণতাকে বোঝা কঠিন।
তাহলে কারণ কী?
এখানেই গবেষণাটি প্রচলিত ব্যাখ্যাগুলোকে প্রশ্নের মুখে দাঁড় করিয়েছে। আবাসনের উচ্চমূল্য, সন্তান পালনের ব্যয়, কর্মজীবনের অনিশ্চয়তা, দীর্ঘ শিক্ষাজীবন, বিয়ের বয়স বৃদ্ধি, গর্ভনিরোধকের সহজলভ্যতা এবং পরিবর্তিত সামাজিক মূল্যবোধ—সবই জন্মহার কমার পেছনে ভূমিকা রাখতে পারে। কিন্তু কোনো একটি কারণ পুরো বিশ্বের চিত্র ব্যাখ্যা করতে পারে না।
গবেষকদের একটি অনুমান হলো, বৃহত্তর অর্থে ‘আধুনিকতা’ নিজেই প্রজনন আচরণকে বদলে দিয়েছে। আধুনিক অর্থনীতি একজন মানুষকে দীর্ঘ শিক্ষা, পেশাগত প্রতিযোগিতা, শহুরে জীবন এবং ব্যক্তিগত পছন্দের বিস্তৃত সুযোগ দেয়। একই সঙ্গে সন্তান পালনের প্রত্যক্ষ ও পরোক্ষ ব্যয়ও বাড়ায়। ফলে তৃতীয় সন্তান নেওয়ার অর্থনৈতিক ও সামাজিক ব্যয় অনেক পরিবারের কাছে অত্যন্ত বেশি হয়ে উঠতে পারে। অন্যদিকে সন্তান না নেওয়ার সামাজিক ও অর্থনৈতিক প্রতিবন্ধকতা আগের তুলনায় কমেছে।
এখানে একটি সূক্ষ্ম বিষয়ও রয়েছে। মোট প্রজনন হার বা টোটাল ফার্টিলিটি রেট কোনো নির্দিষ্ট নারী তার জীবনে শেষ পর্যন্ত কত সন্তান নেবেন, তা সরাসরি বলে না। এটি বর্তমান বয়সভিত্তিক জন্মহারের ওপর ভিত্তি করে একটি কৃত্রিম সূচক। ফলে সন্তান জন্মদানের বয়স পিছিয়ে গেলে সাময়িকভাবে প্রজনন হার খুব কম দেখাতে পারে। প্রকৃত প্রজন্মভিত্তিক প্রজনন হার বুঝতে আরও দীর্ঘ সময় প্রয়োজন।
তারপরও অর্থনৈতিক প্রভাব নিয়ে উদ্বেগ যথেষ্ট বাস্তব। জনসংখ্যার আকার কমার আগে বদলে যায় তার বয়সের কাঠামো। কম শিশু মানে ভবিষ্যতে কম তরুণ শ্রমশক্তি। আর বেশি আয়ু মানে একই সময়ে বেশি প্রবীণ মানুষ। ফলে একটি দেশের ওপর দ্বিমুখী চাপ তৈরি হয়—কর্মক্ষম মানুষের সংখ্যা কমে, কিন্তু পেনশন, স্বাস্থ্যসেবা ও দীর্ঘমেয়াদি পরিচর্যার প্রয়োজন বাড়ে।
এটি বিশেষভাবে গুরুত্বপূর্ণ সেইসব অর্থনীতিতে, যেখানে বর্তমান কর্মরত জনগোষ্ঠীর কর ও অবদান দিয়ে অবসরপ্রাপ্ত জনগোষ্ঠীর পেনশন এবং সামাজিক সুরক্ষা ব্যবস্থার অর্থ জোগানো হয়। কর্মীর সংখ্যা কমে গেলে এই ব্যবস্থা টিকিয়ে রাখতে হয় কর বাড়িয়ে, নয়তো সুবিধা কমিয়ে, অথবা অবসর গ্রহণের বয়স বাড়িয়ে। একই সঙ্গে শ্রমিকের ঘাটতি পূরণে অভিবাসন, স্বয়ংক্রিয়তা ও কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার ওপর নির্ভরতা বাড়তে পারে।
অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধির ক্ষেত্রেও বিষয়টি গুরুত্বপূর্ণ। অর্থনীতির মোট উৎপাদন শুধু উৎপাদনশীলতার ওপর নির্ভর করে না; শ্রমশক্তির আকারও গুরুত্বপূর্ণ। উদাহরণ হিসেবে, কোনো অর্থনীতিতে উৎপাদনশীলতা বছরে ২ শতাংশ বাড়লেও কর্মক্ষম জনগোষ্ঠী যদি বছরে ০.৫ শতাংশ কমে, তাহলে অন্যান্য বিষয় অপরিবর্তিত থাকলে মোট উৎপাদন বৃদ্ধির সম্ভাব্য হার প্রায় ১.৫ শতাংশে নেমে আসতে পারে। অর্থাৎ ভবিষ্যতের অর্থনীতিতে ‘কম মানুষ, বেশি উৎপাদন’ মডেলটি প্রযুক্তির ওপর ক্রমবর্ধমান নির্ভরতা তৈরি করবে।
এই কারণেই কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা, রোবোটিকস ও অটোমেশন জনসংখ্যা সংকটের একটি গুরুত্বপূর্ণ পাল্টা শক্তি হয়ে উঠতে পারে। শ্রমিক কমে গেলে একই সংখ্যক মানুষকে বেশি উৎপাদন করতে হবে। প্রযুক্তি সেই ঘাটতি আংশিক পূরণ করতে পারে। কিন্তু প্রযুক্তি সব কাজের বিকল্প নয়। বিশেষ করে স্বাস্থ্যসেবা, শিক্ষা, পরিচর্যা ও এমন অনেক পেশায় মানবশ্রমের প্রয়োজন থেকেই যাবে। ফলে জনসংখ্যা হ্রাসের অর্থনৈতিক অভিঘাত পুরোপুরি প্রযুক্তি দিয়ে সামাল দেওয়া সম্ভব হবে কি না, সেটি এখনো বড় প্রশ্ন।
বিশ্ব জনসংখ্যার ভবিষ্যৎ নিয়ে জাতিসংঘের পূর্বাভাসও গত এক দশকে উল্লেখযোগ্যভাবে বদলেছে। ২০১৫ সালের পূর্বাভাসে ২১০০ সালে বিশ্বের জনসংখ্যা ১১.২ বিলিয়নের বেশি হতে পারে বলে ধারণা করা হয়েছিল। কিন্তু World Population Prospects 2024-এ জাতিসংঘ বলছে, বিশ্বের জনসংখ্যা ২০৮০-এর দশকের মাঝামাঝি প্রায় ১০.৩ বিলিয়নে পৌঁছে সর্বোচ্চ অবস্থানে যাবে এবং শতাব্দীর শেষে তা প্রায় ১০.২ বিলিয়নে নেমে আসবে। ২০২৪ সালের তুলনায় ২১০০ সালের জনসংখ্যা আগের পূর্বাভাসের চেয়ে প্রায় ৭০০ মিলিয়ন কম হওয়ার কথা।
এখানে নতুন গবেষণার সঙ্গে জাতিসংঘের পূর্বাভাসের একটি মৌলিক পার্থক্য রয়েছে। ফার্নান্দেজ-ভিল্লাভের্দে ও নরিকের মডেল অনুযায়ী বিশ্ব জনসংখ্যার চূড়ান্ত শিখর ২০৫৬ সালের কাছাকাছি আসতে পারে। অন্যদিকে জাতিসংঘের বর্তমান মধ্যম পূর্বাভাসে সেই শিখর ২০৮০-এর দশকের মাঝামাঝি। অর্থাৎ গবেষণাটি অনেক দ্রুত জনসংখ্যা সংকোচনের সম্ভাবনা দেখাচ্ছে। কোন পূর্বাভাস শেষ পর্যন্ত সঠিক হবে, তা নির্ভর করবে আগামী কয়েক দশকের জন্মহার, আয়ু, অভিবাসন এবং বিশেষ করে নিম্ন-প্রজনন দেশগুলোর প্রবণতার ওপর।
রাশিয়ার অভিজ্ঞতা এই সমস্যার আরেকটি দিক তুলে ধরে। রাশিয়ার মোট প্রজনন হার ২০২৫ সালে প্রায় ১.৩৭৪-এ নেমে আসে, যা ২০০৬ সালের পর সর্বনিম্ন এবং ২০১৫ সালের প্রায় ১.৭৭৭-এর তুলনায় উল্লেখযোগ্যভাবে কম। একই সময়ে ২০২৪ সালে দেশটিতে জন্মের সংখ্যা ১.২২২ মিলিয়নে নেমে আসে, যা ১৯৯৯ সালের পর সর্বনিম্ন।
মস্কো এই প্রবণতা মোকাবিলায় আর্থিক সহায়তা, মাতৃত্বভাতা, পরিবারবান্ধব নীতি এবং বড় পরিবারকে উৎসাহিত করার নানা কর্মসূচি নিয়েছে। সোভিয়েত আমলের ‘মাদার হিরোইন’ পদকও পুনর্বহাল করা হয়েছে। কিন্তু রাশিয়ার অভিজ্ঞতা একটি গুরুত্বপূর্ণ প্রশ্ন সামনে আনে: শুধু আর্থিক প্রণোদনা দিয়ে দীর্ঘমেয়াদি প্রজনন আচরণ বদলানো যায় কি?
সম্ভবত উত্তরটি এত সরল নয়। সন্তান নেওয়ার সিদ্ধান্ত শুধু অর্থনৈতিক নয়। বাসস্থান, চাকরির নিরাপত্তা, কর্মজীবন ও পরিবার সামঞ্জস্য করার সুযোগ, শিশুর যত্ন, শিক্ষা, সামাজিক প্রত্যাশা এবং ব্যক্তিগত জীবনধারা—সবকিছু মিলে এই সিদ্ধান্ত তৈরি হয়। তাই শুধু ‘আরও সন্তান নিন’ ধরনের প্রচার যথেষ্ট নয়। রাষ্ট্রকে এমন পরিবেশ তৈরি করতে হবে, যেখানে পরিবার ও সন্তান নেওয়া মানুষের জন্য বাস্তবিকভাবে সহজ হয়।
এই সংকটের আরেকটি বড় দিক হলো অভিবাসন। দীর্ঘদিন ধরে উন্নত দেশগুলো জনসংখ্যাগত ঘাটতি পূরণে অভিবাসনের ওপর নির্ভর করেছে। কিন্তু যদি বিশ্বের অধিকাংশ অঞ্চলের জন্মহার একসঙ্গে কমতে থাকে, তাহলে ভবিষ্যতে অভিবাসনের উৎস দেশও কমে যেতে পারে। অর্থাৎ আজকের শ্রমঘাটতি পূরণে যে দেশ অন্য দেশ থেকে কর্মী আনছে, আগামী কয়েক দশকে সেই একই প্রতিযোগিতা আরও তীব্র হতে পারে। ফার্নান্দেজ-ভিল্লাভের্দেও সতর্ক করেছেন যে, বৈশ্বিক প্রজনন হার কমতে থাকলে ভবিষ্যতে পর্যাপ্ত অভিবাসী পাওয়া নিজেই কঠিন হয়ে উঠতে পারে।
তবে জনসংখ্যা কমার সব দিক নেতিবাচক নয়। কম জনসংখ্যা পরিবেশের ওপর চাপ কমাতে পারে। মাথাপিছু সম্পদের প্রাপ্যতা বাড়তে পারে। নগর অবকাঠামোর ওপর চাপ কমতে পারে। কার্বন নিঃসরণও দীর্ঘমেয়াদে কমার সম্ভাবনা রয়েছে। কিন্তু সমস্যা হলো, জনসংখ্যা কমার সঙ্গে যদি কর্মক্ষম জনগোষ্ঠী আরও দ্রুত কমে এবং প্রবীণ জনগোষ্ঠীর অনুপাত বাড়ে, তাহলে অর্থনৈতিক ও সামাজিক ভারসাম্য রক্ষা কঠিন হয়ে উঠতে পারে।
সুতরাং বিষয়টিকে ‘মানবজাতির বিলুপ্তি’ হিসেবে দেখলে বাস্তব সমস্যাটি আড়াল হতে পারে। বরং এটি একটি গভীর জনসংখ্যাগত রূপান্তর। মানবসভ্যতা এমন এক যুগে প্রবেশ করতে পারে, যেখানে অর্থনীতির প্রধান প্রশ্ন হবে—কম মানুষ দিয়ে কীভাবে বেশি উৎপাদন করা যায়, কীভাবে প্রবীণ সমাজকে টেকসইভাবে সহায়তা করা যায় এবং কীভাবে পরিবার গঠনের সুযোগকে মানুষের জন্য বাস্তবিকভাবে সহজ করা যায়।
ইলন মাস্ক দীর্ঘদিন ধরে নিম্ন জন্মহারকে মানবসভ্যতার বড় ঝুঁকি হিসেবে তুলে ধরেছেন। তার বক্তব্য রাজনৈতিক ও ব্যক্তিগত মতামতের অংশ। কিন্তু যে জনসংখ্যাগত প্রবণতা নিয়ে তিনি সতর্ক করছেন, তার বাস্তব ভিত্তি এখন অস্বীকার করা কঠিন। একই সঙ্গে জলবায়ু পরিবর্তনের সঙ্গে প্রজনন হ্রাসের তুলনা করাও সরলীকরণ হতে পারে। দুটি সংকটের প্রকৃতি আলাদা। বরং বলা যায়, আগামী শতাব্দীতে মানবসভ্যতাকে একই সঙ্গে জলবায়ু পরিবর্তন, প্রযুক্তিগত রূপান্তর এবং জনসংখ্যাগত বার্ধক্য—এই তিনটি বড় পরিবর্তনের সঙ্গে মানিয়ে নিতে হবে।
সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ শিক্ষা হলো, জনসংখ্যা নীতি কোনো স্বল্পমেয়াদি রাজনৈতিক প্রকল্প হতে পারে না। একটি শিশুর জন্ম আজ হলেও তার অর্থনৈতিক অবদান সাধারণত কয়েক দশক পরে আসে। তাই আজকের জন্মহার আগামী ত্রিশ বা চল্লিশ বছরের শ্রমবাজার, করব্যবস্থা, পেনশন, স্বাস্থ্যসেবা, শিক্ষা এবং রাষ্ট্রের অর্থনৈতিক সক্ষমতা নির্ধারণ করবে।
বিশ্ব এখন এমন এক সন্ধিক্ষণে দাঁড়িয়ে আছে, যেখানে ‘জনসংখ্যা বিস্ফোরণ’ নিয়ে পুরোনো আতঙ্কের পাশাপাশি ‘জনসংখ্যা সংকোচন’-এর নতুন বাস্তবতাকেও গুরুত্ব দিতে হবে। তবে আতঙ্ক নয়, প্রয়োজন তথ্যভিত্তিক নীতি। পরিবার গঠনের অর্থনৈতিক বাধা কমানো, সাশ্রয়ী আবাসন, শিশুযত্নের সুযোগ, কর্মজীবন ও পারিবারিক জীবনের ভারসাম্য, উৎপাদনশীলতা বৃদ্ধি, প্রযুক্তির ব্যবহার এবং প্রয়োজনীয় ক্ষেত্রে অভিবাসন—সবকিছুকে সমন্বিত করেই ভবিষ্যতের পথ তৈরি করতে হবে।
কারণ জনসংখ্যা শুধু মানুষের সংখ্যা নয়। এটি একটি সমাজের ভবিষ্যৎ শ্রমশক্তি, ভোক্তা, করদাতা, উদ্ভাবক এবং নাগরিকের ভিত্তি। বিশ্বের জনসংখ্যা আগামী কয়েক দশক পর সত্যিই সংকুচিত হতে শুরু করলে সবচেয়ে বড় পরিবর্তনটি সংখ্যায় নয়, সমাজের কাঠামোতেই দেখা যাবে। সেই পরিবর্তনের জন্য প্রস্তুতি নেওয়ার সময় তাই ভবিষ্যতে নয়—এখনই।

এক হাতে বাটন ফোন, অন্য হাতে স্মার্টফোন। মোবাইল যোগাযোগের দুই ভিন্ন যুগের প্রতীক এই দুই ডিভাইস। বাংলাদেশ এখন বড় ধরনের পরিবর্তনের প্রস্তুতি নিচ্ছে।

বর্তমান পরিস্থিতিতে পাকিস্তানের রাজনৈতিক দলগুলোর সামনে একটি সুযোগ তৈরি হয়েছে। সংসদীয় রাজনীতিকে যদি আবার কার্যকর করতে হয়, তাহলে রাজনৈতিক দলগুলোকে কেবল ক্ষমতা ভাগাভাগি বা নির্বাচনকেন্দ্রিক সমীকরণে আটকে থাকলে চলবে না।

চলতি মাসে সৌদি আরব, তুরস্ক ও পাকিস্তানের মধ্যে স্বাক্ষরিত একটি পারস্পরিক প্রতিরক্ষা চুক্তি হয়। ‘মক্কা চুক্তি’ নামের এই প্রতিরক্ষা চুক্তিতে বাংলাদেশ যোগ দেওয়ার কথা বিবেচনা করতে পারে বলে জানিয়েছেন সরকারের একজন মন্ত্রী। এই পদক্ষেপটি বিশেষ করে প্রতিবেশী ভারতের সাথে বাংলাদেশের বৈদেশিক সম্পর্কে জটিলতা

ইরানের বিরুদ্ধে যুক্তরাষ্ট্রের দীর্ঘদিনের অর্থনৈতিক চাপ এবার নতুন এক পর্যায়ে প্রবেশ করেছে। সামরিক অভিযান ও কূটনৈতিক উদ্যোগ প্রত্যাশিত ফল না দেওয়ার পর প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের প্রশাসন আবার অর্থনৈতিক নিষেধাজ্ঞাকে সামনে এনেছে। তবে এবারের কৌশল আগের চেয়ে অনেক বেশি বিস্তৃত। লক্ষ্য শুধু ইরান নয়; ত