জাতীয় কবি কাজী নজরুল ইসলামের মৃত্যুবার্ষিকী আজ। ১৯৭৬ সালের ২৯ আগস্ট, বাংলা ১৩৮৩ সালের ১২ ভাদ্র তিনি ঢাকার তৎকালীন পিজি হাসপাতালে (বর্তমানে বাংলাদেশ মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয়) মারা যান। বাংলা ক্যালেন্ডার অনুযায়ী বাংলাদেশে তার মৃত্যুবার্ষিকী পালন করা হয়। এ বছর ১২ ভাদ্র পড়েছে ২৭ আগস্ট।
মৃত্যুবার্ষিকী উপলক্ষে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়, বাংলা একাডেমি, বাংলাদেশ শিল্পকলা একাডেমি, কবি নজরুল ইনস্টিটিউটসহ বিভিন্ন রাজনৈতিক, সামাজিক ও সাংস্কৃতিক সংগঠন নানা কর্মসূচি গ্রহণ করেছে।
ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের কর্মসূচির মধ্যে রয়েছে ফজরের নামাজের পর কেন্দ্রীয় মসজিদে কোরআন তেলাওয়াত, শোভাযাত্রা এবং বিশ্ববিদ্যালয়ের কেন্দ্রীয় মসজিদের পাশে কবির সমাধিতে পুষ্পস্তবক অর্পণ।
অপরাজেয় বাংলার পাদদেশ থেকে শিক্ষক, শিক্ষার্থী, কর্মকর্তা ও কর্মচারীদের অংশগ্রহণে শোভাযাত্রাটি বের হওয়ার কথা রয়েছে। পরে কবির সমাধির পাশের উন্মুক্ত মঞ্চে আলোচনা সভা অনুষ্ঠিত হবে। এতে স্মারক বক্তৃতা দেবেন নজরুল গবেষণা কেন্দ্রের পরিচালক অধ্যাপক তারিক মনজুর।
কবি নজরুল ইনস্টিটিউটও মৃত্যুবার্ষিকী উপলক্ষে ধানমন্ডির নিজস্ব মিলনায়তনে ‘মৃত্যুঞ্জয়ী নজরুল’ শীর্ষক আলোচনা সভার আয়োজন করেছে। পাশাপাশি থাকবে দোয়া মাহফিল ও হামদ-নাত পরিবেশনা। অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে সংস্কৃতি বিষয়ক সচিব কানিজ মওলা এবং বিশেষ অতিথি হিসেবে নজরুলের নাতনি ও ইনস্টিটিউটের ট্রাস্টি বোর্ডের চেয়ারপারসন খিলখিল কাজীর উপস্থিত থাকার কথা রয়েছে।
১৩০৬ বঙ্গাব্দের ১১ জ্যৈষ্ঠ বর্তমান ভারতের পশ্চিমবঙ্গের পশ্চিম বর্ধমান জেলার চুরুলিয়া গ্রামে জন্ম হয় নজরুলের। বাংলা সাহিত্যে তিনি উপনিবেশবাদ, সাম্প্রদায়িকতা, বৈষম্য ও অন্যায়ের বিরুদ্ধে অন্যতম শক্তিশালী কণ্ঠ।
‘বিদ্রোহী কবি’ হিসেবে পরিচিত নজরুলের ‘বিদ্রোহী’, ‘ভাঙার গান’ এবং ‘ধূমকেতু’ তার প্রতিবাদী চেতনার প্রতীক হয়ে আছে। ব্রিটিশ ঔপনিবেশিক শাসনের বিরুদ্ধে রাজনৈতিক লেখা ও সক্রিয়তার কারণে তাকে কারাবরণ করতে হয়।
বাংলা সংগীতেও নজরুলের অবদান অসামান্য। তিনি হাজার হাজার গান রচনা ও সুরারোপ করেন, যা পরবর্তীতে ‘নজরুলসংগীত’ নামে পরিচিত হয়।
বাংলাদেশ স্বাধীন হওয়ার পর ১৯৭২ সালের ২৪ মে পরিবারসহ কলকাতা থেকে নজরুলকে ঢাকায় নিয়ে আসা হয়। ১৯৭৬ সালে তিনি একুশে পদকে ভূষিত হন। একই বছরের ২৯ আগস্ট মৃত্যুর পর রাষ্ট্রীয় মর্যাদায় ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের কেন্দ্রীয় মসজিদের পাশে তাকে সমাহিত করা হয়।
এ বছর নজরুলের মৃত্যুবার্ষিকী বিশেষ তাৎপর্য বহন করছে। তার ১২৭তম জন্মবার্ষিকী উপলক্ষে সরকার ২০২৬ সালের ২৫ মে থেকে ২০২৭ সালের ২৫ মে পর্যন্ত সময়কে ‘নজরুল বর্ষ’ ঘোষণা করেছে। এ সময়ে দেশজুড়ে কবির আদর্শ ও সৃষ্টিকর্ম তুলে ধরার বিভিন্ন কর্মসূচি নেওয়া হচ্ছে।