চিকিৎসা একটি মহৎ পেশা। এটি নিছক ব্যবসা নয়। একজন রোগী যখন চিকিৎসকের কাছে যান, তখন তিনি শুধু কয়েক মিনিটের পরামর্শ কিনতে যান না; বরং একটি রোগ নির্ণয় ও চিকিৎসা-প্রক্রিয়ায় প্রবেশ করেন। সেই প্রক্রিয়ায় চিকিৎসক যদি কিছু পরীক্ষা করাতে বলেন, পরীক্ষার ফলাফল দেখে সিদ্ধান্ত দেওয়াটা কি প্রথম পরামর্শেরই ধারাবাহিকতা, নাকি সেটি সম্পূর্ণ নতুন একটি ‘পরামর্শ’? এই প্রশ্নটি দেশের স্বাস্থ্য সেবা খাতে এখন গুরুত্ব দিয়ে আলোচনার দাবি রাখে।
সম্প্রতি ব্যক্তিগত একটি অভিজ্ঞতা আমাকে প্রশ্নটি নতুনভাবে ভাবতে বাধ্য করেছে। গত ৯ সেপ্টেম্বর ঢাকার একটি স্বনামধন্য হাসপাতালে বিকেলে একজন বিশেষজ্ঞ চিকিৎসকের কাছে যাই। প্রথমে হাসপাতাল-প্রবেশ বা নিবন্ধন বাবদ ১০০ টাকা এবং পরে অধ্যাপক পদের ওই চিকিৎসকের পরামর্শ ফি হিসেবে ১ হাজার ১০০ টাকা দিতে হয়। চিকিৎসক কয়েকটি পরীক্ষা করানোর পরামর্শ দেন। এর মধ্যে আলট্রাসনোগ্রাফি সম্পন্ন করতে পরদিন, অর্থাৎ ১০ সেপ্টেম্বর পর্যন্ত সময় লাগে। কারণ আগের দিন সিরিয়াল, পরের দিন টেস্ট। ১১ সেপ্টেম্বর শুক্রবার হাসপাতাল বন্ধ থাকায় রিপোর্ট নিয়ে চিকিৎসকের কাছে যাওয়ার সুযোগ ছিল না। ফলে ১২ সেপ্টেম্বর শনিবার সব রিপোর্ট নিয়ে একই চিকিৎসকের কাছে আবার যাই।
চিকিৎসক তার পরামর্শ অনুযায়ী করা পরীক্ষার রিপোর্ট দেখলেন। কোনো ওষুধ দিলেন না; বরং অন্য একজন বিশেষজ্ঞ চিকিৎসকের পরামর্শ নিতে বললেন। এই ‘রেফারেল’ ভালো লাগল। কিন্তু তার নিজের দেওয়া ‘টেস্ট রিপোর্ট’ দেখার জন্য আবার ৬০০ টাকা ফি নিলেন।
একই ডাক্তারের পরামর্শে ১০ সেপ্টেম্বর (বৃহস্পতিবার) আরেক বিশেষজ্ঞ অধ্যাপক ডাক্তারের সঙ্গে দেখা করি ১ হাজার ১০০ টাকা ‘পরামর্শ ফি’ দিয়ে। তিনিও কিছু টেস্ট দিয়েছিলেন। তার টেস্ট রিপোর্ট নিয়ে শুক্রবার হাসপাতাল বন্ধ থাকায় শনিবার (১২ সেপ্টেম্বর) দেখা করলাম। তারই দেয়া ‘টেস্ট রিপোর্ট’ দেখানোর জন্য তিনিও আবার ৫০০ টাকা ফি নিলেন।
প্রশ্ন হচ্ছে, ৯ সেপ্টেম্বর থেকে ১২ সেপ্টেম্বর, মাত্র তিন দিনের–বা দুইদিনের (প্রথম ডাক্তার তিন দিন আর দ্বিতীয় ডাক্তার দুইদিন) ব্যবধানে, এবং মাঝখানে হাসপাতালের সাপ্তাহিক ছুটির দিন থাকা অবস্থায়, নিজেদের পরামর্শে করানো ‘টেস্ট রিপোর্ট’ দেখার জন্য আবার ফি নেওয়া কতটা যুক্তিসংগত?
প্রথমেই একটি বিষয় পরিষ্কার করা প্রয়োজন। ফলো-আপ পরামর্শের জন্য ফি নেওয়া মাত্রই অনৈতিক–এমন সিদ্ধান্ত দেওয়া ঠিক হবে না। চিকিৎসকের সময়, জ্ঞান ও পেশাগত সিদ্ধান্তের মূল্য আছে। অনেক ক্ষেত্রে দ্বিতীয়বার রোগী দেখা, নতুন করে পরীক্ষা করা, রিপোর্ট বিশ্লেষণ করা, রোগ নির্ণয়ের প্রক্রিয়া পরিবর্তন করা কিংবা চিকিৎসা পরিকল্পনা তৈরি করা একটি স্বতন্ত্র পেশাগত সেবা। সে ক্ষেত্রে ফলো-আপ ফি নেওয়া যৌক্তিক হতে পারে।
কিন্তু প্রশ্নটি অন্য জায়গায়। প্রথম পরামর্শে চিকিৎসক নিজেই যদি রোগ নির্ণয়ের জন্য পরীক্ষা দেন এবং সেই পরীক্ষার রিপোর্ট না দেখা পর্যন্ত তার ক্লিনিক্যাল সিদ্ধান্ত অসম্পূর্ণ থাকে, তাহলে অতি অল্প সময়ের মধ্যে সেই রিপোর্ট দেখা কি নতুন পরামর্শ, নাকি আগের ‘পরামর্শের পরিপূর্ণতা’?
এই জায়গাতেই দেশের স্বাস্থ্যসেবায় একটি স্পষ্ট নীতিগত শূন্যতা চোখে পড়ে। বাংলাদেশ মেডিকেল অ্যান্ড ডেন্টাল কাউন্সিলের পেশাগত আচরণ ও নৈতিকতার বিধিতে চিকিৎসক-রোগীর সম্পর্ককে আস্থা, পেশাগত দায়িত্ব এবং রোগীর স্বার্থের ভিত্তিতে পরিচালনার ওপর গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে। কাউন্সিলের নীতিমালায় পেশাগত আচরণবিধি, ইটিক্যেট ও ইথিক্স দেশের নিবন্ধিত চিকিৎসকদের কাছ থেকে প্রত্যাশিত মান নির্ধারণ করে। কিন্তু নিজের পরামর্শে করানো ক্লিনিক্যাল টেস্ট-এর রিপোর্ট কত দিনের মধ্যে বিনা ফিতে বা কম ফি-তে দেখতে হবে–এ বিষয়ে রোগীর কাছে সহজে দৃশ্যমান, অভিন্ন জাতীয় নীতিমালা পাওয়া কঠিন। বলতে গেলে নাই।
এমতাবস্থায় আমি ইন্টারনেটে পাঁচটি দেশের স্বাস্থ্য সেবা নিয়ে ঘাঁটাঘাঁটি করে কিছু অনুসরণীয় অভিজ্ঞতা দেখতে পাই। এসব গুরুত্বপূর্ণ মডেল সম্পর্কে নিচে সামান্য কিছু তুলে ধরলাম।
প্রথমেই প্রতিবেশী ভারতের অভিজ্ঞতা বিশেষভাবে উল্লেখযোগ্য। ভারতের কেন্দ্র সরকারের স্বাস্থ্যবিষয়ক স্কিমের বর্তমান ব্যবস্থায় একই স্পেশিয়ালটিতে একজন বহিঃরোগী বা আউট পেশেন্টকে দেওয়া পরামর্শ এবং এর বিনিময়ে নেওয়া ফি সাত দিন পর্যন্ত বৈধ হিসেবে গণ্য করার বিধান রয়েছে। অর্থাৎ নির্দিষ্ট ব্যবস্থার আওতায় একই স্পেশিয়ালটিতে সাত দিনের মধ্যে ফলো-আপ পরামর্শের জন্য নতুন করে ফি প্রযোজ্য হয় না। এটি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ নীতিগত পলিসি। কারণ রোগী চিকিৎসকের কাছে গেলেন, চিকিৎসক পরীক্ষা দিলেন, পরীক্ষার ফল পেতে দুই-তিন দিন লাগল–এটিকে দুটি সম্পূর্ণ বিচ্ছিন্ন চিকিৎসাসেবা হিসেবে না দেখে, একই ক্লিনিক্যাল এপিসোড-এর অংশ হিসেবে বিবেচনা করার সুযোগ এতে তৈরি হয়। ভারতের সব সরকারি-বেসরকারি চিকিৎসায় একই নিয়ম চলে–এমন দাবি করা যাবে না। কিন্তু সাত দিনের মডেল বাংলাদেশের জন্য গুরুত্বপূর্ণ নীতিগত উদাহরণ হতে পারে।
দ্বিতীয়ত, থাইল্যান্ডেও এককভাবে ‘রিপোর্ট দেখানো সব সময় ফ্রি’–এমন নিয়ম পাওয়া যায় না। সরকারি ও বেসরকারি প্রতিষ্ঠানভেদে পরামর্শ ফি-এর ভিন্ন কাঠামো দেখতে পাওয়া যায়। যেমন, ব্যাংকক হাসপাতাল-এর বিভিন্ন হেলথ চেকআপ প্যাকেজ-এ ডাক্তার ফি-সহ সবকিছুর বর্ণনা থাকে। অন্যদিকে রেডক্রস পরিচালিত কিং চুলালংকর্ন মেমোরিয়াল হাসপাতালের হেলথ চেকআপ, পরীক্ষা, রিপোর্ট ও ডক্টর ভিজিটিংকে একটি নির্ধারিত সেবার আওতায় রাখা হয়েছে। অর্থাৎ, রোগী কোন সেবার জন্য কত অর্থ দেবেন, সেটিকে একটি পূর্বনির্ধারিত সার্ভিস ডিজাইন-এর মধ্যে আনার প্রবণতা দেখা যায়।
তৃতীয়ত, সিঙ্গাপুরে চিত্রটি ভিন্ন। সেখানে রিপিট কনসালটেশন একটি স্বীকৃত আলাদা সেবার ক্যাটাগরি। সিঙ্গাপুর জেনারেল হাসপাতাল-এর ফি সিডিউল-এ প্রাইভেট রোগীর ক্ষেত্রে প্রথম পরামর্শ ফি এবং রিপিট পরামর্শ ফি আলাদা। অর্থাৎ, সেখানে ফলো-আপ সব ক্ষেত্রে বিনামূল্যে নয়। কিন্তু প্রথম এবং রিপিট পরামর্শ ফি-র পার্থক্যটি প্রাতিষ্ঠানিকভাবে স্পষ্ট ও প্রকাশিত।
এখান থেকে বাংলাদেশের জন্য গুরুত্বপূর্ণ শিক্ষা হলো, ফি থাকলেও তা স্বচ্ছ এবং আগে থেকেই জানা থাকা উচিত। রোগী চিকিৎসকের কক্ষে ঢোকার পর জানতে পারবেন যে, রিপোর্ট দেখানোর জন্য আবার টাকা লাগবে–এ ধরনের ব্যবস্থা রোগীকেন্দ্রিক স্বাস্থ্য সেবার সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ নয়।
চতুর্থত, আমরা মালয়েশিয়ায় আকর্ষণীয় ব্যবস্থা দেখতে পাই। দেশটিতে সরকারি ব্যবস্থায় সরকারি চিকিৎসকের রেফারেল নিয়ে প্রথম স্পেশিয়ালিষ্ট ভিজিট বিনা ফি’তে হতে পারে। পরবর্তী ফলো-আপে পাঁচ রিংগিত নির্ধারিত। আর প্রাইভেট প্রাকটিশনার এর ‘রেফারেল’-এর ক্ষেত্রে প্রথম ভিজিটিং ফি ত্রিশ রিংগিত এবং ফলো-আপ মাত্র পাঁচ রিংগিত। অর্থাৎ, এখানেও যা কিছুই হোক, তা নির্ধারিত এবং তা প্রাতিষ্ঠানিকভাবে আগে থেকেই স্বচ্ছ ও প্রকাশ্য।
পঞ্চমত, পাকিস্তানেও প্রতিষ্ঠানভেদে ভিন্নতা রয়েছে। তবে উদাহরণস্বরূপ, আগা খান ইউনিভার্সিটি হসপিটাল-এর আউট পেশেন্ট ব্যবস্থায় ক্লিনিক্যাল অ্যাপয়েনমেন্টের জন্য ফি দিতে হয় এবং চিকিৎসক তার দেয়া টেস্ট রিপোর্ট পর্যালোচনা করে পরবর্তী চিকিৎসা ব্যবস্থাপত্র দেন। ফলো-আপ আবার ফরমাল অ্যাপয়েন্টমেন্ট হিসেবে বিবেচনা করা হয়। তবে, একই প্রতিষ্ঠানের কিছু হেলথ প্যাকেজ-এ ক্লিনিক্যাল টেস্ট ও পরবর্তী ডক্টর ভিজিট একই প্যাকেজের অন্তর্ভু্ক্ত। অর্থাৎ রোগীর কাছ থেকে একবার ফি নেওয়ার পর টেস্ট রিপোর্ট দেখানোর জন্য আলাদা ফি নেওয়া হয় না। অর্থাৎ টেস্ট রিপোর্ট দেখানো প্রথম পরামর্শেরই অংশ হিসেবে বিবেচনা করা হয়।
এই পাঁচ দেশের অভিজ্ঞতা থেকে একটি বিষয় পরিষ্কার, তা হচ্ছে–বিশ্বে এমন কোনো সর্বজনীন নিয়ম নেই যে, চিকিৎসক নিজের দেওয়া পরীক্ষার রিপোর্ট অবশ্যই বিনা ফি-তে দেখবেন। কিন্তু উন্নত ব্যবস্থাগুলোতে সাধারণত তিনটি বিষয় বেশি দৃশ্যমান–প্রাথমিক (প্রথম) ও ফলো-আপ পরামর্শ-এর সংজ্ঞা, নির্দিষ্ট বৈধ সময় বা ফি কাঠামো এবং রোগীর কাছে আগাম ফি’র তথ্য প্রকাশ্য রাখা।
এসব অভিজ্ঞতা থেকে তাই বলা যায়, বাংলাদেশেও আবেগের পরিবর্তে একটি নীতিগত সমাধান প্রয়োজন। বিএমডিসি এবং স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণ মন্ত্রণালয় যৌথভাবে ‘ন্যাশনাল কনসালটেশন অ্যান্ড ফলো-আপ ফি গাইডলাইন’ প্রণয়ন করতে পারে। সেখানে অন্তত কয়েকটি বিষয় স্পষ্ট করা প্রয়োজন–(১) চিকিৎসকের নিজের দেওয়া ক্লিনিক্যাল টেস্ট রিপোর্ট কত দিনের মধ্যে দেখানো হলে সেটি প্রথম ভিজিটেরই অংশ হবে এবং এই টেস্ট রিপোর্ট দেখানোর জন্য দ্বিতীয়বার ফি দিতে হবে না। কেননা, চিকিৎসক তো টেস্ট রিপোর্ট না দেখে চিকিৎসা ব্যবস্থাপত্রই দেন না; (২) কোন পরিস্থিতিতে ফলো-আপ ফি নেওয়া হবে; (৩) ফলো-আপ ফি প্রথম ভিজিট-এর ফি’র কত শতাংশ পর্যন্ত হতে পারে; (৪) হাসপাতাল বন্ধ থাকা বা রিপোর্ট পেতে বিলম্ব হলে বৈধ সময় কীভাবে গণনা হবে; (৫) কোন পদমর্যাদার (কনসালট্যান্ট, সহকারী অধ্যাপক, সহযোগী অধ্যাপক ও অধ্যাপক) চিকিৎসকের প্রথম ভিজিট ফি, ফলো-আপ ফি’র হার কেমন হবে, সেটা কীভাবে নির্ধারণ যায়; (৬) সব হাসপাতাল (সরকারি-বেসরকারি, বৈকালিক বিশেষজ্ঞ চেম্বার) ও চিকিৎসকের ব্যক্তিগত চেম্বারে সকল ধরনের ফি দৃশ্যমানভাবে প্রকাশ করা বাধ্যতামূলক হবে কি না; (৭) চিকিৎসকের ব্যক্তিগত বা হাসপাতাল কর্তৃপক্ষের প্রদত্ত ‘চিকিৎসক অ্যাটেনডেন্ট’দের চিকিৎসাজ্ঞান, আগত রোগী ও রোগীর স্বজনদের সাথে ব্যবহার কেমন হওয়া দরকার; এবং (৮) রোগী বা রোগীর স্বজনদের কাছ থেকে ‘অ্যাটেনডেন্টদের’ সম্পর্কে ফিডব্যাক নেয়ার ব্যবস্থা করা যায় কি না ইত্যাদি।
আমার মতে, সাত দিনের মডেলটি বাংলাদেশের জন্য বিবেচনা করা যেতে পারে। উদাহরণস্বরূপ, চিকিৎসকের পরামর্শে করা টেস্ট-এর রিপোর্ট সাত দিনের মধ্যে দেখানো হলে আলাদা ফি না নেওয়া যেতে পারে। বিশেষ পরীক্ষার রিপোর্ট পেতে বেশি সময় লাগলে সেই সময়সীমা ১০ বা ১৫ দিন হতে পারে এবং ফি না নেওয়া।
আরও একটি গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হলো হাসপাতালের সাপ্তাহিক ছুটি। একজন চিকিৎসক বুধবার পরীক্ষা দিলেন, রিপোর্ট বৃহস্পতিবার পাওয়া গেল, শুক্রবার হাসপাতাল বন্ধ—রোগী শনিবার রিপোর্ট নিয়ে গেলে দিন গণনা করে তাকে আর্থিকভাবে ক্ষতিগ্রস্থ করা ন্যায়সংগত হবে না। নীতিমালায় তাই ওয়ার্কিং ডে নীতিমালা অথবা টেস্ট রিপোর্ট পাওয়া সাপেক্ষে বিবেচনায় নেওয়া যেতে পারে।
সর্বোপরি, চিকিৎসকের পেশাগত মর্যাদা ও শ্রমের ন্যায্য মূল্য যেমন দিতে হবে, তেমনি রোগীকেও এমন ব্যবস্থার মধ্যে ফেলা যাবে না যেখানে রোগ নির্ণয়ের একটি ধারাবাহিক প্রক্রিয়াকে কৃত্রিমভাবে একাধিক অর্থপ্রদানের ঘটনায় ভাগ করা হয়। তাই প্রশ্নটি ৬০০ বা ৫০০ টাকার নয়। প্রশ্নটি আস্থা (ট্রাস্ট), স্বচ্ছতা এবং পেশাগত নৈতিকতার। একজন রোগী ১,১০০ টাকা দিয়ে বিশেষজ্ঞ চিকিৎসকের পরামর্শ নিলেন। চিকিৎসক বললেন—কয়েকটি পরীক্ষা করে রিপোর্ট নিয়ে আসুন। রোগী পরীক্ষা করালেন। রিপোর্ট পেতে সময় লাগল। মাঝখানে হাসপাতাল বন্ধ ছিল। মাত্র তিন/দুই দিনের মাথায় সেই রিপোর্ট নিয়ে ফিরে এসে আবার ৬০০/৫০০ টাকা দিতে হলো। আইন বা হাসপাতালের নিয়মে সেটি অনুমোদিত হলেও রোগীর মনে স্বাভাবিকভাবেই প্রশ্ন উঠতে পারে--আমি কি দ্বিতীয়বার চিকিৎসা নিতে এসেছি, নাকি প্রথমবারের অসমাপ্ত চিকিৎসা-পরামর্শটি সম্পন্ন করতে এসেছি?
এই প্রশ্নের উত্তর একজন রোগী বা একজন চিকিৎসকের ওপর ছেড়ে দেওয়া উচিত নয়। রাষ্ট্র, বিএমডিসি এবং হাসপাতাল কর্তৃপক্ষেরই এর স্পষ্ট উত্তর দেওয়া উচিত।
চিকিৎসা সেবা তখনই মানবিক ও পেশাগতভাবে মর্যাদাপূর্ণ হয়, যখন চিকিৎসকের জ্ঞান ও সময়ের ন্যায্য মূল্য নিশ্চিত হয় এবং একই সঙ্গে রোগীও নিশ্চিত হন যে তার অসুস্থতা অপ্রয়োজনীয় অর্থ আদায়ের উপলক্ষ হয়ে উঠছে না।
বাংলাদেশের স্বাস্থ্য খাতে তাই শুধু চিকিৎসার মান নয়, কনসালটেশন ফি গভর্ন্যান্স-ও এখন আলোচনায় আনা প্রয়োজন। একটি স্বচ্ছ, অভিন্ন ও রোগীবান্ধব চিকিৎসা ব্যবস্থা চিকিৎসকের মর্যাদা কমাবে না; বরং চিকিৎসক ও রোগীর মধ্যকার আস্থা আরও শক্তিশালী করবে।
আমি বারডেমের প্রতিষ্ঠাতা জাতীয় অধ্যাপক ডাঃ মোহাম্মদ ইব্রাহীমের একটি উক্তি দিয়ে শেষ করতে চাই ‘আমাদেরকে সেবা করার সুযোগ দেয়ার জন্য আমরা কৃতজ্ঞ।’ সারা দেশে আমরা এমন চিকিৎসা ব্যবস্থা কবে দেখতে পাবো?
লেখক: গভর্ন্যান্স অ্যান্ড পলিসি এ্যানালাইসিস এক্সপার্ট ও অধ্যাপক, লোকপ্রশাসন বিভাগ, রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়।