
দ্বিজাতিতত্ত্বের দেশে জিন্নাহই তো জাতীয় বীর!
দেশের গরিষ্ঠসংখ্যক রাজনীতিক ও রাজনৈতিক দলের মনোজগতে দ্বিজাতিতত্ত্বের ভূত চেপে বসেছে, সেখানে ডাকসুর সংগ্রহশালায় জিন্নাহর ছবিই যে প্রাধান্য পাবে, তাতে হতবাক হওয়ার কিছু নেই।

আমাদের দেশে শুধু মানুষ নয়, ছাগলও মাঝেমধ্যে আলোচনার খোরাকে পরিণত হয়। গত কয়েক দিন ধরে সামাজিক মাধ্যমে চলছে ছাগল নিয়ে আলোচনা। সাবেক উপদেষ্টা আসিফ নজরুল অভিযোগ করেছেন, তার ছাগল এনসিপি নেতা নাসীরুদ্দীন পাটওয়ারীসহ কয়েকজন খেয়ে নিয়েছেন। এবং এ জন্য তিনি সংশ্লিষ্টদের মনের সুখে গালাগাল করেছেন।
পাটওয়ারী অবশ্য এই অভিযোগ সরাসরি অস্বীকার না করে আসিফ নজরুলের বিরুদ্ধে ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেছেন, তার দুটি ছাগলই খাওয়া উচিত ছিল।
এ ‘ছাগল খাওয়ার’ রহস্যের জট কবে খুলবে, আদৌ খুলবে কি না, তা নিয়ে সংশয়ের সৃষ্টি হয়েছে।
ছাগল অবশ্য যুগ যুগ ধরেই আমাদের সমাজে আলোচিত। ছাগল নিয়ে আমাদের দেশে অনেক গল্প ও কৌতুক চালু আছে। প্রথমেই একটি কৌতুক শোনা যাক।
শিক্ষক: সুমন, বলো তো, কী খেলে আমাদের চোখের দৃষ্টিশক্তি বেড়ে যায়?
সুমন: এর তো সহজ উত্তর আছে, স্যার। ঘাস এবং লতাপাতা।
শিক্ষক: আমার সঙ্গে ফাজলামো করা হচ্ছে, তাই না! লাগাব এক বেতের বাড়ি!
সুমন (কাঁদো কাঁদো হয়ে): স্যার, ফাজলামো করব কেন! ছাগলের চোখের দিকে একটু খেয়াল করে দেখুন, ওরা কি চোখে চশমা পরে!
ছাগল নিয়ে এমনিতেই আমাদের দেশের মানুষের এক ধরনের নেতিবাচক মানসিকতা আছে। ‘ছাগলে কী না খায়’—বলে এই নিরীহ প্রাণীর ওপর মানুষ কলঙ্কও আরোপ করেছে। কিন্তু বাস্তবে দেখা যায়, ছাগল অনেক অখাদ্য, কুখাদ্য খেলেও অনেক কিছুই খায় না। যেমন কোনো দিন কোনো ছাগলকে মাংস খেতে দেখা যায়নি। বরং ছাগলের মাংস তো আমরা খাই। ছাগল কখনো ঘুষ খায় না, যা আমরা খাই। ছাগল কখনো ছয় ইঞ্চি কাঁটাওয়ালা ক্যাকটাস খায় না। এই ‘স্পেশাল ডিশ’টি খাওয়ার মতো হিম্মত এই পৃথিবীতে এক জনেরই আছে। তার নাম উট।
যা হোক, জগৎ-সংসারে এমন কিছু লোক আছেন, যারা এতটাই নিরীহ প্রকৃতির যে, তাদের আপনজনেরা স্নেহবশত ‘ছাগল’ আর স্নেহের আধিক্য হলে ‘রামছাগল’ বলে অভিহিত করতে কার্পণ্য করেন না।
ছাগলের চামড়া অধিক মূল্যবান, আর দুধও খুব উপকারী। মহাত্মা গান্ধী সব সময় ছাগদুগ্ধ খেতেন এবং এতদুদ্দেশ্যে তার দুটি ছাগল সদা সঙ্গী থাকত। লেখক আতাউর রহমানের মতে, ’৪৭-এর দেশ বিভাগের পর সাম্প্রদায়িক বিবাদের কারণে তিনি ছাগল দুটিসহ আমাদের নোয়াখালীতে এসেছিলেন। দুষ্ট লোক সব জায়গাতেই আছে। কিছু দুষ্ট লোক তার ছাগলগুলো চুরি করে নিয়ে খেয়ে ফেলেছিল।
তা নোয়াখালী বলতে মনে পড়ে গেল, ওখানে দুটি জায়গার নাম ছাগলনাইয়া ও পরশুরাম। একবার হয়েছে কি, ওই দুই জায়গায় আমাদের ডাকঘরের দুই কর্মচারী একটি পত্রের বিলি প্রসঙ্গে অনেক চিঠি চালাচালির পর একজন অন্যজনের উদ্দেশে নাকি লিখেছিল, “আমি ছাগলনাইয়ার ছাগল আর তুমি পরশুরামের পশু, এবারে ক্ষান্ত দিই।”
আমরা কথায় কথায় ছাগলকে অপমান-অবজ্ঞা করলেও ছাগলকে আসলে ভালোবাসি। আর ভালোবাসি বলেই আমরা আমাদের জাতীয় ফল হিসেবে কাঁঠালকে বেছে নিয়েছি। কাঁঠালগাছে দেশটা ভরে গেলে এই দেশ ভরে যাবে ছাগলে—এ রকম একটা ভাবনা কি আমাদের মনে সঙ্গোপনে ছিল? হতেও পারে। তা না হলে দেশ স্বাধীন হওয়ার এত বছর পর ছাগল এতটাই গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠবে কেন?
তবে আমাদের দেশি জাতের ছাগল অত্যন্ত সম্ভাবনাময়। ব্ল্যাক বেঙ্গল গোট বা কালো ছাগলের মাংস অত্যন্ত সুস্বাদু। এই ছাগল নিয়ে যথেষ্ট গবেষণা হয়েছে, তার জিনোম সিকোয়েন্সিংয়ে সফলতা এসেছে, দেশে-বিদেশে এই ছাগলের বাণিজ্যিক খামার রয়েছে। এখন যেটা সবচেয়ে বেশি দরকার বলে মনে করছেন বিশেষজ্ঞরা, তা হলো—দেশি ছাগলের জাত সংরক্ষণ করতে হবে। সেটা করতে হলে দেশীয় ঐতিহ্যবাহী পদ্ধতির সঙ্গে আধুনিক প্রযুক্তি ও ব্যবস্থাপনার মিলন ঘটাতে হবে।
পরিশেষে ছাগল নিয়ে একটি পুরনো গল্প।
ব্রাহ্মণ তার এক শিষ্যের কাছ থেকে একটি ছাগল উপহার পেলেন। তিনি ছাগলটিকে তার কাঁধে চড়িয়ে বাড়ি নিয়ে আসছিলেন।
পথে তিন শঠ লোকের দৃষ্টি পড়ল ব্রাহ্মণের কাঁধের ছাগলটির ওপর। তারা ছাগলটি দিয়ে ভোজের আয়োজন করবে বলে ফন্দি আঁটল। এক শঠ মিহি স্বরে বলল, “পণ্ডিতজি, আপনি কুকুরটিকে কাঁধে চড়িয়ে কোথায় নিয়ে যাচ্ছেন?” ব্রাহ্মণ চেঁচিয়ে বললেন, “কী সব বাজে বকছ? এটা কুকুর কেন হবে? আমার কাঁধে তো আস্ত একটা ছাগল। তুমি কি অন্ধ?” শঠ লোকটি যেতে যেতে বলল, “আপনার মতো জ্ঞানীজন যদি কুকুরকে ছাগল বলেন, তাহলে আমার কিছু বলার থাকে না।”
ব্রাহ্মণ শঠ লোকটিকে বকতে বকতে বাড়ির পথে এগোতে লাগলেন। কিছুক্ষণ পর দ্বিতীয় শঠ ব্রাহ্মণের মুখোমুখি হলো। সে বলল, “মহাশয়, আপনি একজন সম্মানীয় পুরোহিত। কেন আপনি একটি কুৎসিত কুকুরকে কাঁধে বয়ে নিয়ে যাচ্ছেন? এটা আপনার মর্যাদার সঙ্গে মানানসই নয়।” এবারে ব্রাহ্মণ রেগে আগুন হয়ে গেলেন। রাগত স্বরে বললেন, “কে বলেছে এটা কুকুর? তোমার যদি চোখ থাকে, তবে ভালো করে দেখো। এটা একটা ছাগল।”
শঠ লোকটি কণ্ঠে ঝাঁজ মিশিয়ে বলল, “আপনি ওটাকে ছাগল, গরু কিংবা হরিণ—যা-ই বলুন না কেন, আসলে ওটা একটা কুকুর বই কিছু নয়।” এ কথা বলে সে হনহন করে হেঁটে চলে গেল।
এবারে ব্রাহ্মণ কিছুটা দ্বিধায় পড়ে গেলেন। তিনি মনে মনে ভাবলেন, একে অপরের কাছে অপরিচিত দুই ব্যক্তি কি একই রকম ভুল করতে পারে? তবে তা সত্ত্বেও তিনি সেটি বাড়িতে নিয়ে যাওয়ার সিদ্ধান্ত বহাল রাখলেন। ওটাকে বাড়িতে নিয়ে ভালোভাবে পরখ করা যাবে।
সহসা তৃতীয় শঠ দেখা দিল। সেও ব্রাহ্মণকে উদ্দেশ করে বলল, “কুকুরটিকে কাঁধে নিয়েছেন কেন, পুরুত মশাই? লোকে আপনার সম্পর্কে কী ভাবছে, বলুন দেখি?”
এবারে ব্রাহ্মণের মনে সন্দেহ রইল না যে, কোথাও কোনো গলদ রয়েছে। ওই তিন ব্যক্তির সবাই মিথ্যাবাদী হতে পারে না। তিনি নিশ্চয়ই একটি কুকুরই বহন করে চলেছেন।
অবশেষে তিনি চরম বিরক্তির সঙ্গে ছাগলটিকে কাঁধ থেকে নামিয়ে মাটিতে ছেড়ে দিয়ে শূন্য হাতে বাড়ির পথ ধরলেন। আড়াল থেকে বিষয়টি দেখে শঠেরা আনন্দে আত্মহারা।
এদিকে ছাগলটি ছাড়া পেয়ে মাঠে সবুজ ঘাস খেতে লেগে গেল। ব্রাহ্মণ চোখের আড়াল হতেই তিন শঠ একসঙ্গে ছাগলের কাছে ছুটে এল। তারা ছাগলের মাংসে ভূরিভোজন করবে বলে আনন্দে ডগমগ!
ছাগল নিয়ে এই শঠতা আমাদের দেশে যুগ যুগ ধরেই চলছে!

দ্বিজাতিতত্ত্বের দেশে জিন্নাহই তো জাতীয় বীর!
দেশের গরিষ্ঠসংখ্যক রাজনীতিক ও রাজনৈতিক দলের মনোজগতে দ্বিজাতিতত্ত্বের ভূত চেপে বসেছে, সেখানে ডাকসুর সংগ্রহশালায় জিন্নাহর ছবিই যে প্রাধান্য পাবে, তাতে হতবাক হওয়ার কিছু নেই।

মক্কা চুক্তি উন্মুক্ত করে দিল হুতিরা
সম্ভবত সবাই মক্কা চুক্তির পাদটীকাগুলো পড়তে ভুলে গিয়েছিল। সৌদি আরব, পাকিস্তান ও তুরস্ক যখন মক্কায় তাদের যৌথ প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা উন্মোচন করে, তখন এর ভাষা ছিল অত্যন্ত মহৎ-ভ্রাতৃত্ব, প্রতিরোধ, সংহতি ও সাধারণ নিরাপত্তা। বিশ্বকে বলা হয়েছিল যে, যেকোনো একটি দেশের ওপর আক্রমণকে সব দেশের ওপর আক্রমণ হিসেবে

ডাকসু: গণতন্ত্রের অনুশীলন নাকি ক্ষমতার কৌশল?
বর্তমান ডাকসুর মেয়াদ আজ শেষ হয়ে যাচ্ছে। ২০২৪ সালের জুলাই আন্দোলনের মাধ্যমে ক্ষমতার পটপরিবর্তনের পর বিভিন্ন বিশ্ববিদ্যালয়ে ছাত্রসংসদ নির্বাচনগুলো অনুষ্ঠিত হয়। মূলত অগণতান্ত্রিক অন্তবর্তীকালীন সরকারের আমলেই এই উদ্যোগগুলো আমরা লক্ষ্য করি। এখন প্রশ্ন হচ্ছে, ২০২৬ সালে নির্বাচনের মাধ্যমে জনগণের ভোটে

‘পদত্যাগী’ শিক্ষকদের পদ ও মর্যাদা ফিরিয়ে দিন
কয়েক দিন আগে উত্তরবঙ্গে অবস্থিত একটি বিশেষায়িত বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয়ের এক ‘পদত্যাগী’ শিক্ষকের সঙ্গে কথা হয়। তিনি ওই বিশ্ববিদ্যালয়ে সুনামের সঙ্গে এক যুগ কাজ করে আসছিলেন। কিন্তু চব্বিশের গণঅভ্যুত্থানের পর বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ তাকে পদত্যাগে বাধ্য করেন। ইংরেজি বিভাগের এই শিক্ষক একসময় সাংবাদিকতাও