Chaarcha Logo
Chaarcha logo
সর্বশেষবিশেষএক্সপ্লেইনারবিশ্লেষণভাবনাভিডিওশর্টসজীবনচরচাম্যাগাজিনপ্রবাস
০১ নভেম্বর, ২০২৬
০১ নভেম্বর, ২০২৬
Chaarcha logo
সংক্ষেপেকানেক্টম্যাগাজিন

আমরা

আমাদের সম্পর্কেযোগাযোগবিধিনিষেধ ও শর্তাবলিগোপনীয়তার নীতি
Chaarcha logo
সর্বশেষবিশেষএক্সপ্লেইনারবিশ্লেষণভাবনাভিডিওশর্টসজীবনচরচাম্যাগাজিনপ্রবাস
০১ নভেম্বর, ২০২৬
০১ নভেম্বর, ২০২৬
সর্বশেষবিশেষএক্সপ্লেইনারবিশ্লেষণভাবনাভিডিওশর্টসজীবনচরচাম্যাগাজিনপ্রবাস
Chaarcha logo
সর্বশেষএক্সপ্লেইনারবিশ্লেষণভাবনাভিডিওশর্টসজীবনচরচাম্যাগাজিনপ্রবাস
আমরা
  • আমাদের সম্পর্কে
  • যোগাযোগ
  • বিধিনিষেধ ও শর্তাবলি
  • গোপনীয়তার নীতি
এক্সপ্লেইনারবিশ্লেষণ

সম্পাদক: সোহরাব হাসান, প্রিন্টার্স বিল্ডিং (লেভেল–১৪), ৫ রাজউক অ্যাভিনিউ, মতিঝিল বাণিজ্যিক এলাকা, ঢাকা–১০০০, বাংলাদেশ

|

স্বত্ব © চরচা

সম্পাদক: সোহরাব হাসান, প্রিন্টার্স বিল্ডিং (লেভেল–১৪), ৫ রাজউক অ্যাভিনিউ, মতিঝিল বাণিজ্যিক এলাকা, ঢাকা–১০০০, বাংলাদেশ | স্বত্ব © চরচা
> ভাবনা

ছাগল নিয়ে শঠতা

চিররঞ্জন সরকার

চিররঞ্জন সরকার

প্রকাশ : ১৬ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ১৮: ১৫
ছাগল নিয়ে শঠতা
জগৎ-সংসারে এমন কিছু লোক আছেন, যারা এতটাই নিরীহ প্রকৃতির যে, তাদের আপনজনেরা স্নেহবশত ‘ছাগল’ আর স্নেহের আধিক্য হলে ‘রামছাগল’ বলে অভিহিত করতে কার্পণ্য করেন না। ছবি: সংগৃহীত

আমাদের দেশে শুধু মানুষ নয়, ছাগলও মাঝেমধ্যে আলোচনার খোরাকে পরিণত হয়। গত কয়েক দিন ধরে সামাজিক মাধ্যমে চলছে ছাগল নিয়ে আলোচনা। সাবেক উপদেষ্টা আসিফ নজরুল অভিযোগ করেছেন, তার ছাগল এনসিপি নেতা নাসীরুদ্দীন পাটওয়ারীসহ কয়েকজন খেয়ে নিয়েছেন। এবং এ জন্য তিনি সংশ্লিষ্টদের মনের সুখে গালাগাল করেছেন।

Advertisement

পাটওয়ারী অবশ্য এই অভিযোগ সরাসরি অস্বীকার না করে আসিফ নজরুলের বিরুদ্ধে ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেছেন, তার দুটি ছাগলই খাওয়া উচিত ছিল।

এ ‘ছাগল খাওয়ার’ রহস্যের জট কবে খুলবে, আদৌ খুলবে কি না, তা নিয়ে সংশয়ের সৃষ্টি হয়েছে।

ছাগল অবশ্য যুগ যুগ ধরেই আমাদের সমাজে আলোচিত। ছাগল নিয়ে আমাদের দেশে অনেক গল্প ও কৌতুক চালু আছে। প্রথমেই একটি কৌতুক শোনা যাক।

Advertisement
Advertisement
Advertisement

শিক্ষক: সুমন, বলো তো, কী খেলে আমাদের চোখের দৃষ্টিশক্তি বেড়ে যায়?

সুমন: এর তো সহজ উত্তর আছে, স্যার। ঘাস এবং লতাপাতা।

শিক্ষক: আমার সঙ্গে ফাজলামো করা হচ্ছে, তাই না! লাগাব এক বেতের বাড়ি!

সুমন (কাঁদো কাঁদো হয়ে): স্যার, ফাজলামো করব কেন! ছাগলের চোখের দিকে একটু খেয়াল করে দেখুন, ওরা কি চোখে চশমা পরে!

ছাগল নিয়ে এমনিতেই আমাদের দেশের মানুষের এক ধরনের নেতিবাচক মানসিকতা আছে। ‘ছাগলে কী না খায়’—বলে এই নিরীহ প্রাণীর ওপর মানুষ কলঙ্কও আরোপ করেছে। কিন্তু বাস্তবে দেখা যায়, ছাগল অনেক অখাদ্য, কুখাদ্য খেলেও অনেক কিছুই খায় না। যেমন কোনো দিন কোনো ছাগলকে মাংস খেতে দেখা যায়নি। বরং ছাগলের মাংস তো আমরা খাই। ছাগল কখনো ঘুষ খায় না, যা আমরা খাই। ছাগল কখনো ছয় ইঞ্চি কাঁটাওয়ালা ক্যাকটাস খায় না। এই ‘স্পেশাল ডিশ’টি খাওয়ার মতো হিম্মত এই পৃথিবীতে এক জনেরই আছে। তার নাম উট।

যা হোক, জগৎ-সংসারে এমন কিছু লোক আছেন, যারা এতটাই নিরীহ প্রকৃতির যে, তাদের আপনজনেরা স্নেহবশত ‘ছাগল’ আর স্নেহের আধিক্য হলে ‘রামছাগল’ বলে অভিহিত করতে কার্পণ্য করেন না।

ছাগলের চামড়া অধিক মূল্যবান, আর দুধও খুব উপকারী। মহাত্মা গান্ধী সব সময় ছাগদুগ্ধ খেতেন এবং এতদুদ্দেশ্যে তার দুটি ছাগল সদা সঙ্গী থাকত। লেখক আতাউর রহমানের মতে, ’৪৭-এর দেশ বিভাগের পর সাম্প্রদায়িক বিবাদের কারণে তিনি ছাগল দুটিসহ আমাদের নোয়াখালীতে এসেছিলেন। দুষ্ট লোক সব জায়গাতেই আছে। কিছু দুষ্ট লোক তার ছাগলগুলো চুরি করে নিয়ে খেয়ে ফেলেছিল।

তা নোয়াখালী বলতে মনে পড়ে গেল, ওখানে দুটি জায়গার নাম ছাগলনাইয়া ও পরশুরাম। একবার হয়েছে কি, ওই দুই জায়গায় আমাদের ডাকঘরের দুই কর্মচারী একটি পত্রের বিলি প্রসঙ্গে অনেক চিঠি চালাচালির পর একজন অন্যজনের উদ্দেশে নাকি লিখেছিল, “আমি ছাগলনাইয়ার ছাগল আর তুমি পরশুরামের পশু, এবারে ক্ষান্ত দিই।”

চুরিবিদ্যা মহাবিদ্যা…loan-bank

আমরা কথায় কথায় ছাগলকে অপমান-অবজ্ঞা করলেও ছাগলকে আসলে ভালোবাসি। আর ভালোবাসি বলেই আমরা আমাদের জাতীয় ফল হিসেবে কাঁঠালকে বেছে নিয়েছি। কাঁঠালগাছে দেশটা ভরে গেলে এই দেশ ভরে যাবে ছাগলে—এ রকম একটা ভাবনা কি আমাদের মনে সঙ্গোপনে ছিল? হতেও পারে। তা না হলে দেশ স্বাধীন হওয়ার এত বছর পর ছাগল এতটাই গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠবে কেন?

তবে আমাদের দেশি জাতের ছাগল অত্যন্ত সম্ভাবনাময়। ব্ল্যাক বেঙ্গল গোট বা কালো ছাগলের মাংস অত্যন্ত সুস্বাদু। এই ছাগল নিয়ে যথেষ্ট গবেষণা হয়েছে, তার জিনোম সিকোয়েন্সিংয়ে সফলতা এসেছে, দেশে-বিদেশে এই ছাগলের বাণিজ্যিক খামার রয়েছে। এখন যেটা সবচেয়ে বেশি দরকার বলে মনে করছেন বিশেষজ্ঞরা, তা হলো—দেশি ছাগলের জাত সংরক্ষণ করতে হবে। সেটা করতে হলে দেশীয় ঐতিহ্যবাহী পদ্ধতির সঙ্গে আধুনিক প্রযুক্তি ও ব্যবস্থাপনার মিলন ঘটাতে হবে।

পরিশেষে ছাগল নিয়ে একটি পুরনো গল্প।

ব্রাহ্মণ তার এক শিষ্যের কাছ থেকে একটি ছাগল উপহার পেলেন। তিনি ছাগলটিকে তার কাঁধে চড়িয়ে বাড়ি নিয়ে আসছিলেন।

পথে তিন শঠ লোকের দৃষ্টি পড়ল ব্রাহ্মণের কাঁধের ছাগলটির ওপর। তারা ছাগলটি দিয়ে ভোজের আয়োজন করবে বলে ফন্দি আঁটল। এক শঠ মিহি স্বরে বলল, “পণ্ডিতজি, আপনি কুকুরটিকে কাঁধে চড়িয়ে কোথায় নিয়ে যাচ্ছেন?” ব্রাহ্মণ চেঁচিয়ে বললেন, “কী সব বাজে বকছ? এটা কুকুর কেন হবে? আমার কাঁধে তো আস্ত একটা ছাগল। তুমি কি অন্ধ?” শঠ লোকটি যেতে যেতে বলল, “আপনার মতো জ্ঞানীজন যদি কুকুরকে ছাগল বলেন, তাহলে আমার কিছু বলার থাকে না।”

ব্রাহ্মণ শঠ লোকটিকে বকতে বকতে বাড়ির পথে এগোতে লাগলেন। কিছুক্ষণ পর দ্বিতীয় শঠ ব্রাহ্মণের মুখোমুখি হলো। সে বলল, “মহাশয়, আপনি একজন সম্মানীয় পুরোহিত। কেন আপনি একটি কুৎসিত কুকুরকে কাঁধে বয়ে নিয়ে যাচ্ছেন? এটা আপনার মর্যাদার সঙ্গে মানানসই নয়।” এবারে ব্রাহ্মণ রেগে আগুন হয়ে গেলেন। রাগত স্বরে বললেন, “কে বলেছে এটা কুকুর? তোমার যদি চোখ থাকে, তবে ভালো করে দেখো। এটা একটা ছাগল।”

গণতন্ত্র থাকুক-না থাকুক, ভিডিওতন্ত্রের রমরমা চলছেsocial media viral video

শঠ লোকটি কণ্ঠে ঝাঁজ মিশিয়ে বলল, “আপনি ওটাকে ছাগল, গরু কিংবা হরিণ—যা-ই বলুন না কেন, আসলে ওটা একটা কুকুর বই কিছু নয়।” এ কথা বলে সে হনহন করে হেঁটে চলে গেল।

এবারে ব্রাহ্মণ কিছুটা দ্বিধায় পড়ে গেলেন। তিনি মনে মনে ভাবলেন, একে অপরের কাছে অপরিচিত দুই ব্যক্তি কি একই রকম ভুল করতে পারে? তবে তা সত্ত্বেও তিনি সেটি বাড়িতে নিয়ে যাওয়ার সিদ্ধান্ত বহাল রাখলেন। ওটাকে বাড়িতে নিয়ে ভালোভাবে পরখ করা যাবে।

সহসা তৃতীয় শঠ দেখা দিল। সেও ব্রাহ্মণকে উদ্দেশ করে বলল, “কুকুরটিকে কাঁধে নিয়েছেন কেন, পুরুত মশাই? লোকে আপনার সম্পর্কে কী ভাবছে, বলুন দেখি?”

এবারে ব্রাহ্মণের মনে সন্দেহ রইল না যে, কোথাও কোনো গলদ রয়েছে। ওই তিন ব্যক্তির সবাই মিথ্যাবাদী হতে পারে না। তিনি নিশ্চয়ই একটি কুকুরই বহন করে চলেছেন।

অবশেষে তিনি চরম বিরক্তির সঙ্গে ছাগলটিকে কাঁধ থেকে নামিয়ে মাটিতে ছেড়ে দিয়ে শূন্য হাতে বাড়ির পথ ধরলেন। আড়াল থেকে বিষয়টি দেখে শঠেরা আনন্দে আত্মহারা।

এদিকে ছাগলটি ছাড়া পেয়ে মাঠে সবুজ ঘাস খেতে লেগে গেল। ব্রাহ্মণ চোখের আড়াল হতেই তিন শঠ একসঙ্গে ছাগলের কাছে ছুটে এল। তারা ছাগলের মাংসে ভূরিভোজন করবে বলে আনন্দে ডগমগ!

ছাগল নিয়ে এই শঠতা আমাদের দেশে যুগ যুগ ধরেই চলছে!

বিষয়: ছাগলনাইয়াপরশুরামপ্রাণীআসিফ নজরুল
Advertisement
সর্বশেষ
  • ১

    সাবেক সেনা কর্মকর্তা হাফিজকে ৭ দিনের রিমান্ডে চায় ডিবি

  • ২

    ইহুদি-আরব সরকারের দাবিতে ইসরায়েলের রাস্তায় বিক্ষোভ

  • ৩

    তাহসিফের সঙ্গে থাকা সেই তরুণী ৪ দিনের রিমান্ডে

  • ৪

    সাজেক সড়কে এক পক্ষের অবরোধ শিথিল, অন্য পক্ষের পাল্টা অবরোধ

  • ৫

    বুলগেরিয়ায় চলছে প্রেসিডেন্ট নির্বাচনের দ্বিতীয় দফার ভোট

সম্পর্কিত
  • রাষ্ট্র যখন আত্মসংযম দেখাচ্ছে, তখন কেন সংখ্যালঘু নির্যাতন বাড়ছে?

    রাষ্ট্র যখন আত্মসংযম দেখাচ্ছে, তখন কেন সংখ্যালঘু নির্যাতন বাড়ছে?

    মানবাধিকার সংগঠন এমএসএফের (মানবাধিকার সংস্কৃতি ফাউন্ডেশন) অক্টোবর ২০২৬-এর প্রতিবেদনে বাংলাদেশের আইনশৃঙ্খলা ও মানবাধিকার পরিস্থিতির একটি পরস্পরবিরোধী চিত্র তুলে ধরেছে। একদিকে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর হেফাজতে মৃত্যু ও নির্যাতনে আহতের ঘটনা শূন্যে নেমেছে, কারা হেফাজতে মৃত্যুর সংখ্যাও কমেছে।

  • প্রবাসী শ্রমিকেরা কি কেবলই লাশ, কেবলই গিনিপিগ?

    প্রবাসী শ্রমিকেরা কি কেবলই লাশ, কেবলই গিনিপিগ?

    চলতি বছর জানুয়ারি থেকে গত ৩০ সেপ্টেম্বর পর্যন্ত (মোট ২৭৩ দিন) ৯ মাসে দেশে এসেছে চার হাজার ৬০টি মরদেহ। এ হিসাবে দিনে মরদেহ এসেছে গড়ে ১৪টির বেশি। সবচেয়ে বেশি কর্মী মারা যান সৌদি আরবে, দুই হাজারের মতো। সরকার প্রবাসী কার্ড দেবে, ভালো কথা। কিন্তু বিদেশে গিয়ে যারা লাশ বা পঙ্গু হয়ে ফিরে আসেন, তাদের তো

  • স্লোগান ও গ্রেপ্তার: শব্দ নয়, অপরাধের বিচার হোক

    স্লোগান ও গ্রেপ্তার: শব্দ নয়, অপরাধের বিচার হোক

    স্লোগান ঘিরে রাজনৈতিক অসহিষ্ণুতা ও গ্রেপ্তারের ঘটনায় একটি প্রশ্ন সামনে আসে। আর তা হলো, সমস্যা স্লোগানের উচ্চারণে, নাকি অপব্যবহারে? কারণ, রাজনীতির মাঠ-ময়দানে উচ্চারিত একটি স্লোগান কখনো কেবল কয়েকটি শব্দের সমষ্টি নয়: ইতিহাস, আবেগ, পরিচয়, রাজনৈতিক আকাঙ্ক্ষা এবং কখনো কখনো মানুষের আত্মত্যাগের স্মৃতি। দৃষ্

  • আন্তর্জাতিক ব্যবস্থা: দুধের বোতল থেকে বিশ্বরাজনীতির শিক্ষা

    আন্তর্জাতিক ব্যবস্থা: দুধের বোতল থেকে বিশ্বরাজনীতির শিক্ষা

    সুপারমার্কেট থেকে দুই শতাংশ চর্বিযুক্ত দুধের একটি বোতল কেনার সময় সাধারণত কেউ আন্তর্জাতিক রাজনীতির কথা ভাবেন না। ক্রেতার প্রত্যাশা থাকে, বোতলের গায়ে যা লেখা আছে, ভেতরের পণ্যও ঠিক তা-ই হবে। কিন্তু এই সাধারণ আস্থার পেছনেও রয়েছে আন্তর্জাতিক নিয়ম, মান নির্ধারণ এবং পারস্পরিক বিশ্বাসের একটি বিস্তৃত