স্থানীয় সরকার নির্বাচনে এমপিওভুক্ত শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের শিক্ষকদের অংশগ্রহণের সুযোগ না রাখায় তীব্র ক্ষোভ ও উদ্বেগ প্রকাশ করেছে বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী। দলটির দাবি, বিরোধীদের নির্বাচন থেকে দূরে রাখতে এবং দলীয় প্রার্থীদের জয়ী করতে সরকার ও নির্বাচন কমিশন একদলীয় অপকৌশল নিয়েছে।
আজ বুধবার বিকেলে মগবাজারে দলের কেন্দ্রীয় কার্যালয়ে আয়োজিত এক জরুরি সংবাদ সম্মেলনে জামায়াতে ইসলামীর সেক্রেটারি জেনারেল মিয়া গোলাম পরওয়ার এসব কথা বলেন।
সংবাদ সম্মেলনে গোলাম পরওয়ার বলেন, “নির্বাচন কমিশন হঠাৎ একটি সুপারিশ অনুমোদন করেছে, যেখানে বলা হয়েছে দেশের এমপিওভুক্ত শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের শিক্ষকরা স্থানীয় সরকার নির্বাচনে অংশ নিতে পারবেন না। নির্বাচন কমিশনের এই সিদ্ধান্তে আমরা চরম বিস্ময় প্রকাশ করছি।”
জামায়াতের এই নেতা বলেন, “দেশে ৩০ হাজারের বেশি এমপিওভুক্ত শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান রয়েছে, যেখানে কয়েক লাখ শিক্ষক-কর্মচারী কর্মরত। বাংলাদেশের স্বাধীনতার পর থেকেই শিক্ষকসমাজ ইউনিয়ন পরিষদ ও উপজেলাসহ স্থানীয় সরকারের নানা নির্বাচনে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করে আসছেন। এমনকি স্কুল, কলেজ ও মাদ্রাসার অনেক শিক্ষক জাতীয় সংসদ সদস্যও নির্বাচিত হয়েছেন। শিক্ষকদের ওপর এই নিষেধাজ্ঞা নাগরিকেদের মধ্যে বৈষম্য তৈরির শামিল। এটি সাংবিধানিক অধিকারের সুস্পষ্ট লঙ্ঘন। নির্বাচন কমিশন কীভাবে এমন সিদ্ধান্ত অনুমোদন করে মন্ত্রণালয়ে পাঠাল, তা আমাদের বোধগম্য নয়।”
একটি বিশেষ রাজনৈতিক উদ্দেশ্যে সরকার এই উদ্যোগ নিয়েছে অভিযোগ করে জামায়াতের সেক্রেটারি জেনারেল বলেন, “দলীয় হাইকম্যান্ডের নির্দেশে স্থানীয় সরকার নির্বাচনের আইন পরিবর্তন করে একদলীয়ভাবে ক্ষমতাসীনদের জয়ী করে আনার অপকৌশল এটি। সরকার বিরোধী দলকে নির্বাচন বর্জনে বাধ্য করতে ‘মাগুরা মার্কা’ নির্বাচনের পরিবেশ তৈরির পাঁয়তারা করছে।”
গোলাম পরওয়ার অভিযোগ করেন, স্থানীয় সরকারের প্রতিটি স্তরে দলীয়করণ করা হচ্ছে। যেসব আসনে বিরোধী দলের এমপি রয়েছেন, সেখানে ক্ষমতাসীন দলের নারী এমপিদের তদারকির দায়িত্ব দিয়ে চাপ সৃষ্টি করা হচ্ছে। উদ্ভূত পরিস্থিতি দেখে মনে হচ্ছে, স্থানীয় নির্বাচনে সরকার বিরোধীদের কাউকেই জিততে দেবে না।