
কৃষিবিদ অস্ট্রেলিয়ার নতুন কমিটি গঠন
নতুন কার্যনির্বাহী পরিষদে কৃষিবিদ আবুল সরকার সভাপতি এবং ড. মোহাম্মদ নাজিম উদ্দিন সাধারণ সম্পাদক নির্বাচিত হয়েছেন।

সহিদুল আলম স্বপন

বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়া আঞ্চলিক কার্যালয়ের (সিয়ারো) নেতৃত্বে সৃষ্ট শূন্যতা বাংলাদেশের জন্য নিছক একটি প্রশাসনিক পরিবর্তনের বিষয় নয়। এটি এমন এক মুহূর্ত, যা দেশের কূটনৈতিক সক্ষমতা, প্রাতিষ্ঠানিক পরিপক্বতা এবং আন্তর্জাতিক অঙ্গনে নিজেদের নতুনভাবে তুলে ধরার সুযোগ এনে দিয়েছে। সাম্প্রতিক বিতর্কে ক্ষতিগ্রস্ত ভাবমূর্তি পুনর্গঠনের জন্য এর চেয়ে বড় সুযোগ হয়তো খুব দ্রুত আর আসবে না।
বাংলাদেশের সামনে এখন মূল প্রশ্ন একটি, আমরা কি আন্তর্জাতিক পদে মনোনয়নের ক্ষেত্রে রাজনৈতিক আনুগত্যের সংস্কৃতি থেকে বেরিয়ে এসে সত্যিকার অর্থে মেধা, অভিজ্ঞতা ও গ্রহণযোগ্যতাকে অগ্রাধিকার দিতে পারব?
শুধু একটি পদ নয়, একটি বার্তা
সিয়ারোর আঞ্চলিক পরিচালক পদটি শুধু একটি আন্তর্জাতিক চাকরি নয়। এই পদে যিনি নির্বাচিত হন, তিনি ২০০ কোটির বেশি মানুষের স্বাস্থ্যনীতির দিকনির্দেশনা, মহামারি প্রস্তুতি, জরুরি স্বাস্থ্য ব্যবস্থাপনা এবং আঞ্চলিক সহযোগিতার গুরুত্বপূর্ণ অংশ হয়ে ওঠেন।
ফলে এখানে একজন ব্যক্তির নির্বাচন আসলে একটি দেশের সক্ষমতারও প্রতিফলন।
বাংলাদেশ যদি একজন আন্তর্জাতিকভাবে গ্রহণযোগ্য, উচ্চমানের জনস্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞকে সামনে আনতে পারে, তাহলে সেটি শুধু সিয়ারো নির্বাচনের জন্য ইতিবাচক হবে না; বরং আন্তর্জাতিক মহলে এই বার্তাও যাবে যে বাংলাদেশ এখন প্রতিষ্ঠানকে ব্যক্তি ও দলীয় স্বার্থের ঊর্ধ্বে রাখার চেষ্টা করছে।
সংখ্যার অঙ্কের চেয়ে বড় কূটনীতির অঙ্ক
অনেকেই মনে করতে পারেন, বাংলাদেশ যদি কয়েকটি বন্ধুপ্রতিম দেশের সমর্থন নিশ্চিত করতে পারে, তাহলে নির্বাচনে ভালো অবস্থানে থাকবে। কিন্তু বাস্তবতা অনেক জটিল।
সিয়ারোর সদস্যরাষ্ট্রগুলোর মধ্যে রয়েছে ভারত, থাইল্যান্ড, শ্রীলঙ্কা, নেপাল, ভুটান, মালদ্বীপ, মিয়ানমার ও তিমুর-লেস্তে। এসব দেশের স্বাস্থ্য অগ্রাধিকার, ভূরাজনৈতিক অবস্থান এবং আন্তর্জাতিক সম্পর্ক একে অপরের থেকে ভিন্ন।
বিশেষ করে ভারতের অবস্থান এই নির্বাচনে গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠতে পারে। একইভাবে থাইল্যান্ডও দীর্ঘদিন ধরে আঞ্চলিক স্বাস্থ্য নেতৃত্বে সক্রিয় ভূমিকা পালন করে আসছে। ফলে শুধুমাত্র সমর্থনের আশায় নয়, বরং আঞ্চলিক স্বার্থের প্রতিনিধিত্ব করার মতো একটি বিশ্বাসযোগ্য ভিশন নিয়েই বাংলাদেশকে মাঠে নামতে হবে।
কূটনীতির ভাষায় বললে, ভোট আগে আসে না; বিশ্বাস আগে আসে।
সায়মা ওয়াজেদ অধ্যায়ের সবচেয়ে বড় শিক্ষা
সায়মা ওয়াজেদকে ঘিরে যে বিতর্ক তৈরি হয়েছিল, তা নিয়ে রাজনৈতিক অবস্থানের ভিন্নতা থাকতে পারে। কিন্তু একটি বিষয় নিয়ে তেমন দ্বিমত নেই যে আন্তর্জাতিক অঙ্গনে কোনো দেশের মনোনয়ন তখনই শক্তিশালী হয়, যখন সেটি মেধা ও পেশাগত যোগ্যতার ভিত্তিতে প্রতিষ্ঠিত হয়।
আন্তর্জাতিক প্রতিষ্ঠানগুলো ব্যক্তি নয়, প্রতিষ্ঠানের বিশ্বাসযোগ্যতা বিবেচনা করে। সেখানে পারিবারিক পরিচয়, রাজনৈতিক ঘনিষ্ঠতা বা জাতীয় জনপ্রিয়তা খুব সীমিত গুরুত্ব বহন করে।
বাংলাদেশের জন্য সবচেয়ে বড় শিক্ষা হওয়া উচিত, ভবিষ্যতে এমন কাউকে মনোনয়ন দেওয়া, যার আন্তর্জাতিক পেশাগত রেকর্ড নিজেই তার সবচেয়ে বড় পরিচয় হয়ে দাঁড়ায়।
কারণ আন্তর্জাতিক নির্বাচনগুলোতে রাজনৈতিক সমর্থন দরকার হয় ঠিকই, কিন্তু সেটিকে টেকসই করে প্রার্থীর ব্যক্তিগত বিশ্বাসযোগ্যতা।
বাংলাদেশের সামনে আসলে বিকল্পের অভাব নেই
অনেক সময় মনে করা হয়, বাংলাদেশে হয়তো এমন আন্তর্জাতিক মানের স্বাস্থ্য নেতৃত্ব নেই। বাস্তবতা সম্পূর্ণ উল্টো।
আইসিডিডিআর,বি, ব্র্যাক, জেমস পি গ্রান্ট স্কুল অব পাবলিক হেলথ, বিভিন্ন আন্তর্জাতিক গবেষণা প্রতিষ্ঠান এবং জাতিসংঘ ব্যবস্থায় কাজ করা বহু বাংলাদেশি পেশাজীবী আছেন, যাদের কাজ বিশ্ব স্বাস্থ্য অঙ্গনে সুপরিচিত।
ডায়রিয়া নিয়ন্ত্রণ থেকে শুরু করে টিকাদান কর্মসূচি, মাতৃস্বাস্থ্য, শিশু পুষ্টি, জলবায়ুজনিত স্বাস্থ্যঝুঁকি এবং দুর্যোগ ব্যবস্থাপনায় বাংলাদেশের অভিজ্ঞতা বিশ্বজুড়ে গবেষণার বিষয় হয়েছে।
অর্থাৎ বাংলাদেশের সংকট যোগ্য লোকের অভাব নয়; সংকট হলো সঠিক ব্যক্তিকে সঠিক সময়ে বেছে নেওয়ার সক্ষমতা।
কী ধরনের নেতৃত্ব চাইবে দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়া?
পরবর্তী সিয়ারো প্রধানের সামনে কয়েকটি বড় চ্যালেঞ্জ অপেক্ষা করছে।
মহামারির ঝুঁকি এখনো পুরোপুরি শেষ হয়নি। জলবায়ু পরিবর্তনের কারণে নতুন নতুন স্বাস্থ্য সংকট তৈরি হচ্ছে। অ্যান্টিমাইক্রোবিয়াল রেজিস্ট্যান্সকে বিশ্ব স্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞরা ভবিষ্যতের নীরব মহামারি হিসেবে দেখছে। অন্যদিকে ডায়াবেটিস, হৃদরোগ ও ক্যানসারের মতো অসংক্রামক রোগ দ্রুত বাড়ছে।
তাই আগামী দিনের সিয়ারো নেতাকে শুধু একজন চিকিৎসক বা গবেষক হলেই চলবে না। তাকে হতে হবে দক্ষ প্রশাসক, আঞ্চলিক কূটনীতিক, তহবিল সংগ্রাহক এবং ভবিষ্যৎমুখী নীতিনির্ধারক।
এই চারটি গুণ একসঙ্গে যার মধ্যে থাকবে, তার পক্ষেই আঞ্চলিক ঐকমত্য গড়ে তোলা সহজ হবে।
প্রচারণা শুরু হওয়া উচিত নীরবে
বাংলাদেশের সবচেয়ে বড় ভুল হবে যদি আগে প্রার্থীর নাম ঘোষণা করা হয়, পরে সমর্থন খোঁজা হয়।
বরং আগে বুঝতে হবে সদস্যরাষ্ট্রগুলো কী চায়। তারা কি একজন প্রযুক্তিনির্ভর স্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞ চায়? নাকি একজন শক্তিশালী প্রশাসক? নাকি মহামারি-উত্তর বাস্তবতায় নতুন ধরনের নেতৃত্ব?
ঢাকার কূটনৈতিক মিশনগুলোকে এখন থেকেই এই কাজ শুরু করতে হবে।
ভোট চাওয়ার আগে শোনা দরকার।
অনেক সময় নির্বাচনে জয়ের সবচেয়ে কার্যকর কৌশল হলো অন্যদের প্রত্যাশা বোঝা।
জেনেভা নয়, শুরু হোক দক্ষিণ এশিয়ায়
অনেক আন্তর্জাতিক নির্বাচনের ক্ষেত্রে দেখা যায়, সরকার জেনেভা, নিউইয়র্ক বা ব্রাসেলসকেন্দ্রিক প্রচারণাকে বেশি গুরুত্ব দেয়। কিন্তু সিয়ারোর ক্ষেত্রে সদস্যরাষ্ট্রগুলোর রাজধানীগুলোই বেশি গুরুত্বপূর্ণ।
কাঠমান্ডু, কলম্বো, থিম্পু, মালে এবং দিলির সঙ্গে আগাম যোগাযোগ ভবিষ্যতের জোট নির্মাণে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে পারে।
জেনেভা হবে চূড়ান্ত লবিংয়ের জায়গা, কিন্তু নির্বাচনের ভিত্তি তৈরি হবে এশিয়ার মাটিতেই।
এটি বাংলাদেশের জন্য একটি চরিত্র পরীক্ষাও
এই নির্বাচনকে কেবল স্বাস্থ্যখাতের বিষয় হিসেবে দেখলে ভুল হবে।
এটি আসলে বাংলাদেশের রাষ্ট্রীয় সক্ষমতারও একটি পরীক্ষা।
আমরা কি এমন একটি প্রক্রিয়া তৈরি করতে পারব, যেখানে স্বচ্ছ মানদণ্ডের ভিত্তিতে প্রার্থী নির্বাচন হবে? স্বাধীন যাচাই-বাছাই হবে? যোগ্যতার চেয়ে প্রভাবশালী পরিচয় বড় হয়ে উঠবে না?
যদি বাংলাদেশ এ কাজটি করতে পারে, তাহলে সিয়ারো নির্বাচন জিতুক বা না জিতুক, একটি বড় অর্জন হবে। কারণ তখন আন্তর্জাতিক মহল দেখবে যে দেশটি প্রাতিষ্ঠানিক সংস্কারের পথে এগোচ্ছে।
সময় এখনই
যদি মনোনয়ন প্রক্রিয়া আগামী কয়েক মাসের মধ্যে শুরু হয়, তাহলে সময় হাতে খুব বেশি নেই।
প্রার্থী বাছাই, আন্তর্জাতিক গ্রহণযোগ্যতা যাচাই, আঞ্চলিক সমর্থন গড়ে তোলা এবং সমন্বিত কূটনৈতিক কৌশল গ্রহণের কাজ এখনই শুরু হওয়া প্রয়োজন।
বাংলাদেশের সামনে সুযোগ এসেছে একটি বিতর্কিত অধ্যায়ের সমাপ্তিকে একটি নতুন শুরুর গল্পে পরিণত করার।
প্রশ্ন হলো, আমরা কি সেই সুযোগটি কাজে লাগাতে পারব?
সিয়ারো নেতৃত্বের এই লড়াইয়ে বাংলাদেশের প্রথম কাজ হওয়া উচিত একটিই; রাজনৈতিক পরিচয়ের নয়, আন্তর্জাতিক মানের একজন পেশাদারকে সামনে আনা। এরপরই শুরু হবে প্রকৃত কূটনীতি।
কারণ শেষ পর্যন্ত এই নির্বাচন শুধু একজন আঞ্চলিক পরিচালক নির্বাচনের লড়াই নয়; এটি বাংলাদেশের রাষ্ট্রীয় পরিপক্বতা, মেধাভিত্তিক সিদ্ধান্ত গ্রহণ এবং আন্তর্জাতিক নেতৃত্বের যোগ্যতা প্রমাণেরও একটি গুরুত্বপূর্ণ পরীক্ষা।
লেখক: সুইজারল্যান্ডভিত্তিক বেসরকারি ব্যাংকিং আর্থিক অপরাধ বিশেষজ্ঞ, কলামিস্ট ও কবি।
ইমেইল: [email protected]

কৃষিবিদ অস্ট্রেলিয়ার নতুন কমিটি গঠন
নতুন কার্যনির্বাহী পরিষদে কৃষিবিদ আবুল সরকার সভাপতি এবং ড. মোহাম্মদ নাজিম উদ্দিন সাধারণ সম্পাদক নির্বাচিত হয়েছেন।

ভ্যানকুভারে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় অ্যালামনাই অব বিসির বর্ণিল পিকনিক
প্রবাসের ব্যস্ত জীবন থেকে কিছুটা ফুরসত পেয়ে সবাই মেতে ওঠেন আড্ডা ও স্মৃতিতর্পণে। স্মৃতির অমল ধারায় উঠে আসে প্রিয় শিক্ষকদের স্নেহচ্ছায়া, ক্যাম্পাস জীবনের প্রথম প্রেম, ঐতিহাসিক মধুর ক্যান্টিনের চায়ের কাপে তুফান তোলা আড্ডা কিংবা রাজপথ কাঁপানো ছাত্র রাজনীতির দিনগুলো।

প্রবাসে বনভোজন
এই শনিবারে হলো সেই পিকনিক। ইট বসিয়ে চুলা বানিয়ে সমস্ত ফায়ার সেফটি মেনে পিকনিকটা আসলেই যে হবে, সেটা আমার কল্পনায় ছিল না।

লিবিয়া থেকে ফিরল ১৬৮ বাংলাদেশি
প্রত্যাবাসিত বাংলাদেশিদের বেশির ভাগই সমুদ্রপথে অবৈধভাবে ইউরোপ যাওয়ার উদ্দেশে মানবপাচারকারীদের প্ররোচনা ও সহযোগিতায় লিবিয়ায় প্রবেশ করেছিল বলে জানা গেছে। তাদের অনেকে লিবিয়ায় বিভিন্ন সময়ে অপহরণ ও নির্যাতনের শিকার হয়েছিল বলেও অভিযোগ রয়েছে।