Chaarcha Logo
Chaarcha logo
সর্বশেষবিশেষএক্সপ্লেইনারবিশ্লেষণভাবনাভিডিওশর্টসজীবনচরচাম্যাগাজিনপ্রবাস
০৭ সেপ্টেম্বর, ২০২৬
০৭ সেপ্টেম্বর, ২০২৬
Chaarcha logo
সংক্ষেপেকানেক্টম্যাগাজিন

আমরা

আমাদের সম্পর্কেযোগাযোগবিধিনিষেধ ও শর্তাবলিগোপনীয়তার নীতি
Chaarcha logo
সর্বশেষবিশেষএক্সপ্লেইনারবিশ্লেষণভাবনাভিডিওশর্টসজীবনচরচাম্যাগাজিনপ্রবাস
০৭ সেপ্টেম্বর, ২০২৬
০৭ সেপ্টেম্বর, ২০২৬
সর্বশেষবিশেষএক্সপ্লেইনারবিশ্লেষণভাবনাভিডিওশর্টসজীবনচরচাম্যাগাজিনপ্রবাস
Chaarcha logo
সর্বশেষএক্সপ্লেইনারবিশ্লেষণভাবনাভিডিওশর্টসজীবনচরচাম্যাগাজিনপ্রবাস
আমরা
  • আমাদের সম্পর্কে
  • যোগাযোগ
  • বিধিনিষেধ ও শর্তাবলি
  • গোপনীয়তার নীতি
এক্সপ্লেইনারবিশ্লেষণ

স্বত্ব © চরচা

Chaarcha Logo
Advertisement
Advertisement
> প্রবাস

বিদেশে কূটনৈতিক দায়িত্ব পালন যত সম্মানের, দেশে ফেরা ততই মর্যাদার

সহিদুল আলম স্বপন

সহিদুল আলম স্বপন

প্রকাশ : ০৭ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ১৪: ২৩
বিদেশে কূটনৈতিক দায়িত্ব পালন যত সম্মানের, দেশে ফেরা ততই মর্যাদার
প্রতীকী ছবি: এআই দিয়ে তৈরি

বিদেশে বাংলাদেশের কূটনীতিক বা কর্মকর্তারা শুধু সরকারের প্রতিনিধি নন, তারা জাতীয় মর্যাদা ও কূটনৈতিক বিশ্বাসযোগ্যতার প্রতীক। বিদেশের মাটিতে তাদের বক্তব্য, আচরণ, সিদ্ধান্ত ও উপস্থিতির মাধ্যমেই একটি রাষ্ট্রকে বিচার করে স্বাগতিক দেশ, আন্তর্জাতিক প্রতিষ্ঠান ও বিশ্বজনমত। ফলে কোনো কূটনীতিক বা কর্মকর্তা বদলি, প্রত্যাহার বা দায়িত্বের মেয়াদ শেষে দেশে ফিরবেন কি ফিরবেন না, সেটি কখনোই ব্যক্তিগত সিদ্ধান্তের বিষয় হতে পারে না। এটি রাষ্ট্রীয় শৃঙ্খলা, সাংবিধানিক আনুগত্য, পেশাগত নৈতিকতা এবং প্রশাসনিক জবাবদিহির অবিচ্ছেদ্য অংশ।

Advertisement
Advertisement
Advertisement

অনেক সময় আমরা লক্ষ করি, বিদেশে বাংলাদেশ দূতাবাস, স্থায়ী মিশন বা হাইকমিশনের কোনো কোনো কূটনীতিক বা কর্মকর্তা বদলির আদেশ পাওয়ার পর দ্রুত দায়িত্ব হস্তান্তর করেন না? তারা কেউ কেউ দেশে ফেরার প্রক্রিয়া দীর্ঘায়িত করেন? কেউ কেউ মেয়াদ বাড়ানোর জন্য প্রশাসনিক বা রাজনৈতিক তদবির করেন? আবার কেউ সন্তানদের পড়াশোনা, পরিবারের চিকিৎসা, সামাজিক সম্পর্ক কিংবা বিদেশে দীর্ঘমেয়াদি আবাসনের সুযোগকে সামনে এনে অবস্থান বাড়ানোর পথ খোঁজেন?

এই প্রশ্নগুলো গুরুত্বপূর্ণ। কারণ এর সঙ্গে জড়িয়ে আছে শুধু কয়েকজন কূটনীতিক বা কর্মকর্তার ব্যক্তিগত ভবিষ্যৎ নয়, বাংলাদেশের কূটনৈতিক কার্যকারিতা, অর্থনৈতিক স্বার্থ, প্রশাসনিক শৃঙ্খলা ও আন্তর্জাতিক সুনাম।

অবশ্যই ন্যায়বিচারের স্বার্থে একটি বিষয় শুরুতেই পরিষ্কার করা প্রয়োজন। বাংলাদেশের অধিকাংশ পেশাদার কূটনীতিক নিয়ম মেনে দায়িত্ব পালন করেন এবং সরকারের নির্দেশ অনুযায়ী দেশে ফিরে আসেন। দেশে ফিরতে কিছুটা সময় নেওয়ার পেছনে বৈধ কারণও থাকতে পারে। সন্তানের শিক্ষাবর্ষ শেষ করা, গুরুতর অসুস্থতার চিকিৎসা, বাসভবন ছাড়ার প্রক্রিয়া, আর্থিক হিসাব নিষ্পত্তি, সরকারি সম্পদ হস্তান্তর অথবা অসমাপ্ত কূটনৈতিক কাজ সমাপ্ত করার জন্য যৌক্তিক সময়ের প্রয়োজন হতেই পারে। মানবিক ও প্রশাসনিক কারণে সীমিত সময় নেওয়া এবং ইচ্ছাকৃতভাবে সরকারি আদেশ বাস্তবায়ন বিলম্বিত করা এক বিষয় নয়।

Advertisement
Advertisement
Advertisement

কিন্তু যখন কোনো কূটনীতিক রাষ্ট্রীয় দায়িত্ব ও কূটনৈতিক মর্যাদাকে ব্যবহার করে বিদেশে অবস্থান দীর্ঘায়িত করার চেষ্টা করেন, তখন বিষয়টি কেবল ব্যক্তিগত থাকে না। তখন প্রশ্ন ওঠে রাষ্ট্রের প্রতি আনুগত্য, জনগণের অর্থের ব্যবহার, গোপন তথ্যের নিরাপত্তা এবং জাতীয় স্বার্থের বিষয়ে।

বাংলাদেশের সাম্প্রতিক রাজনৈতিক পরিবর্তনের পর বিভিন্ন দেশে কর্মরত একাধিক কূটনীতিক ও কর্মকর্তাকে দেশে ফেরার নির্দেশ দেওয়া হয়। যুক্তরাষ্ট্র, রাশিয়া, যুক্তরাজ্য, জাপান, জার্মানি, কানাডা, ইউরোপীয় ইউনিয়ন ও জাতিসংঘসহ বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ মিশনে নেতৃত্ব পরিবর্তনের উদ্যোগ নেওয়া হয়। সরকার পরিবর্তনের পর নতুন প্রশাসনের নিজস্ব পররাষ্ট্রনীতি, কূটনৈতিক অগ্রাধিকার এবং প্রতিনিধিত্ব কাঠামো নির্ধারণ করা অস্বাভাবিক কিছু নয়।

পৃথিবীর প্রায় সব দেশেই সরকার পরিবর্তন, নীতিগত পুনর্বিন্যাস, কর্মদক্ষতা মূল্যায়ন, অবসর বা নিয়মিত রোটেশন প্রক্রিয়ার অংশ হিসেবে পরিবর্তন করা হয়। এটি কূটনৈতিক জীবনের স্বাভাবিক নিয়ম।

যুক্তরাষ্ট্র, যুক্তরাজ্য, ফ্রান্স, জাপান কিংবা ইউরোপীয় ইউনিয়নের দেশগুলোতেও নিয়মিতভাবে রাষ্ট্রদূত এবং জ্যেষ্ঠ কূটনীতিকদের প্রত্যাহার করা হয়। গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হলো, সেখানে প্রত্যাহার বা বদলির সিদ্ধান্ত নিয়ে বিতর্ক থাকতে পারে, কিন্তু দায়িত্ব পালনকারী কর্মকর্তার ফিরে আসার বাধ্যবাধকতা নিয়ে কোনো বিতর্ক থাকে না।

গণতান্ত্রিক রাষ্ট্রে সরকারের প্রত্যাহার করার অধিকার যেমন আছে, তেমনি কর্মকর্তারও তা মেনে চলার বাধ্যবাধকতা রয়েছে।

কেন বিদেশে অবস্থান আকর্ষণীয় হয়ে ওঠে?

প্রশ্ন হচ্ছে, বাংলাদেশি কিছু কূটনীতিক বা কর্মকর্তা কেন দেশে ফিরতে অনাগ্রহ দেখান?

উত্তরটি পুরোপুরি প্রশাসনিক নয়, মানবিকও বটে।

সুইজারল্যান্ড, যুক্তরাষ্ট্র, যুক্তরাজ্য, জাপান কিংবা ইউরোপের উন্নত দেশগুলোতে কয়েক বছর দায়িত্ব পালনের পর একজন কর্মকর্তা ও তার পরিবার স্বাভাবিকভাবেই নতুন জীবনযাত্রার সঙ্গে অভ্যস্ত হয়ে যান। সন্তানেরা আন্তর্জাতিক স্কুল বা বিশ্ববিদ্যালয়ে ভর্তি হয়। পরিবারের সদস্যরা সামাজিক, পেশাগত অথবা শিক্ষাগত কর্মকাণ্ডে জড়িত হন। উন্নত স্বাস্থ্যসেবা, নিরাপত্তা, পরিচ্ছন্ন পরিবেশ, কার্যকর গণপরিবহন, সামাজিক নিরাপত্তা ও ভবিষ্যৎ সম্ভাবনা তাদের কাছে গুরুত্বপূর্ণ হয়ে ওঠে।

বিশেষত সুইজারল্যান্ডের জেনেভা একটি অনন্য কূটনৈতিক কেন্দ্র। জাতিসংঘ, বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা (ডব্লিউএইচও), বিশ্ব বাণিজ্য সংস্থা (ডব্লিউটিও), আন্তর্জাতিক শ্রম সংস্থা (আইএলও), আন্তর্জাতিক অভিবাসন সংস্থা (আইওএম) ও মানবাধিকার কাউন্সিলসহ অসংখ্য আন্তর্জাতিক প্রতিষ্ঠানের কেন্দ্র হিসেবে জেনেভা বিশ্ব কূটনীতির অন্যতম রাজধানী।

এখানে কর্মরত কূটনীতিকেরা কেবল রাষ্ট্রীয় দায়িত্ব পালন করেন না; তারা বিশ্বের প্রভাবশালী নীতিনির্ধারক, আন্তর্জাতিক কর্মকর্তা, গবেষক, অর্থনীতিবিদ ও ব্যবসায়িক নেতাদের সঙ্গে একটি শক্তিশালী পেশাগত নেটওয়ার্কও গড়ে তোলেন। পরবর্তীকালে এসব সম্পর্ক আন্তর্জাতিক সংস্থা, গবেষণা প্রতিষ্ঠান, পরামর্শক সংস্থা কিংবা বেসরকারি খাতে নতুন কর্মজীবনের সম্ভাবনা তৈরি করতে পারে।

কিন্তু এখানেই স্বার্থের সংঘাতের ঝুঁকি তৈরি হয়।

রাষ্ট্রীয় দায়িত্ব পালনকালে অর্জিত প্রভাব ও যোগাযোগ কি ব্যক্তিগত ভবিষ্যৎ নিশ্চিত করার জন্য ব্যবহার করা হবে? সরকারি দায়িত্ব পালনকালে ভবিষ্যৎ চাকরি বা আবাসনের জন্য লবিং কি গ্রহণযোগ্য? বিদেশে থেকে যাওয়ার পরিকল্পনা কি বাংলাদেশের জাতীয় স্বার্থকে প্রভাবিত করতে পারে?

এই প্রশ্নগুলোর সুস্পষ্ট উত্তর রাষ্ট্রকে দিতে হবে।

ভিয়েনা কনভেনশন কী বলে?


১৯৬১ সালের ভিয়েনা কনভেনশন অন ডিপ্লোম্যাটিক রিলেশনস আধুনিক কূটনীতির ভিত্তিমূল।

এই কনভেনশনের ৪৩ অনুচ্ছেদ অনুযায়ী, প্রেরণকারী রাষ্ট্র যখন কোনো কূটনীতিকের দায়িত্ব সমাপ্তির বিষয়টি স্বাগতিক রাষ্ট্রকে জানায়, তখন তার আনুষ্ঠানিক কূটনৈতিক কার্যকাল শেষ বলে গণ্য হয়।

৩৯ অনুচ্ছেদ অনুসারে দায়িত্ব শেষ হওয়ার পর দেশত্যাগের জন্য একটি যুক্তিসংগত সময় দেওয়া হয়। সেই সময় অতিক্রান্ত হলে কূটনীতিকের ব্যক্তিগত কূটনৈতিক দায়মুক্তি ও বিশেষ সুবিধাও সাধারণত শেষ হয়ে যায়। দায়িত্ব পালনকালে সম্পাদিত সরকারি কর্মকাণ্ডের ক্ষেত্রে সীমিত দায়মুক্তি বহাল থাকতে পারে, কিন্তু তা বিদেশে অনির্দিষ্টকাল অবস্থানের অধিকার দেয় না।

অর্থাৎ একজন ব্যক্তি দায়িত্ব শেষে বৈধ অভিবাসন কিংবা আবাসনের অনুমতি নিয়ে বিদেশে থাকতে পারেন, কিন্তু তিনি আর বাংলাদেশের রাষ্ট্রদূত বা কূটনৈতিক প্রতিনিধি হিসেবে থাকতে পারেন না।

কূটনৈতিক পাসপোর্ট, বিশেষ নম্বরযুক্ত গাড়ি, সরকারি বাসভবন, কূটনৈতিক পরিচয়পত্র এবং দায়মুক্তি কোনো ব্যক্তিগত সম্পদ নয়।

দীর্ঘসূত্রতার প্রথম ক্ষতি: কূটনৈতিক নেতৃত্বের শূন্যতা

একজন রাষ্ট্রদূত যখন দায়িত্ব ছাড়তে বিলম্ব করেন, তখন সবচেয়ে আগে ক্ষতিগ্রস্ত হয় বাংলাদেশের কূটনৈতিক কার্যক্রম।

নতুন রাষ্ট্রদূতের নিয়োগ, অনুমোদন সংগ্রহ, পরিচয়পত্র পেশ এবং কার্যকর দায়িত্ব গ্রহণের পুরো প্রক্রিয়া বিলম্বিত হয়।অনেক ক্ষেত্রে চার্জ দ্য অ্যাফেয়ার্স দায়িত্ব পালন করলেও তিনি পূর্ণ রাষ্ট্রদূতের সমমানের রাজনৈতিক প্রবেশাধিকার পান না। ফলে উচ্চ পর্যায়ের বৈঠক, নীতিগত আলোচনা এবং রাষ্ট্রীয় যোগাযোগে বাংলাদেশের প্রভাব কমে যায়।

সততা কী?honesty

বিশেষত জেনেভা, ওয়াশিংটন, ব্রাসেলস, লন্ডন, টোকিও, দিল্লি বা মস্কোর মতো গুরুত্বপূর্ণ কূটনৈতিক কেন্দ্রগুলোতে নেতৃত্বের শূন্যতা বাংলাদেশের জন্য ব্যয়বহুল হতে পারে।

জেনেভায় মানবাধিকার, শ্রম অধিকার, বিশ্ব স্বাস্থ্য, বাণিজ্যনীতি, জলবায়ু পরিবর্তন এবং অভিবাসন বিষয়ে প্রতিনিয়ত গুরুত্বপূর্ণ সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়।

ওয়াশিংটনে বাংলাদেশের বাণিজ্য সুবিধা, শ্রম অধিকার, নিরাপত্তা সহযোগিতা এবং রোহিঙ্গা সংকট নিয়ে কাজ হয়।

টোকিওতে উন্নয়ন সহযোগিতা, অবকাঠামো বিনিয়োগ এবং অর্থনৈতিক অংশীদারত্বের ভবিষ্যৎ নির্ধারিত হয়।

মস্কোয় পারমাণবিক বিদ্যুৎ, জ্বালানি ও প্রতিরক্ষা সহযোগিতার মতো সংবেদনশীল বিষয়ে আলোচনা চলমান থাকে।

এইসব ক্ষেত্রে নেতৃত্বের অস্থিতিশীলতা বাংলাদেশের অবস্থান দুর্বল করতে পারে।

দ্বিতীয় ক্ষতি: জনগণের অর্থের অপচয়

একজন কূটনীতিক যদি অনুমোদিত সময়সীমার পরও বিদেশে সরকারি সুবিধা ভোগ করেন, তাহলে রাষ্ট্রকে অতিরিক্ত ব্যয় বহন করতে হয়।

সরকারি বাসভবন, বিদেশ ভাতা, যানবাহন, চিকিৎসা, ইউটিলিটি বিল এবং প্রশাসনিক ব্যয় অব্যাহত থাকে।

কখনো কখনো নতুন কর্মকর্তা যোগ দিলে একই পদের জন্য দ্বৈত ব্যয়ের পরিস্থিতিও তৈরি হয়।

করদাতাদের অর্থে পরিচালিত কূটনৈতিক মিশনে এমন পরিস্থিতি শুধু আর্থিক নয়, নৈতিক প্রশ্নও তৈরি করে।

তৃতীয় ক্ষতি: প্রবাসী সেবায় অচলাবস্থা

দূতাবাস শুধুমাত্র কূটনৈতিক প্রতিনিধিত্বের কেন্দ্র নয়।

এগুলো হলো বিদেশে বসবাসকারী বাংলাদেশিদের প্রথম আশ্রয়স্থল।

পাসপোর্ট, জন্মনিবন্ধন, নাগরিকত্ব, নথি সত্যায়ন, শ্রমিক সুরক্ষা, আইনি সহায়তা, জরুরি উদ্ধার, আটক ব্যক্তিদের সহায়তা এবং মৃতদেহ দেশে পাঠানোর মতো অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ সেবা দূতাবাসের মাধ্যমে দেওয়া হয়।

নেতৃত্বে অস্থিরতা ও প্রশাসনিক জটিলতা তৈরি হলে প্রবাসী বাংলাদেশিরাই প্রথম ভুক্তভোগী হন।

সবচেয়ে বড় ক্ষতি: রাষ্ট্রের সুনাম

কূটনীতির জগতে বিশ্বাসযোগ্যতা একটি রাষ্ট্রের অদৃশ্য কিন্তু অত্যন্ত শক্তিশালী সম্পদ।

একজন রাষ্ট্রদূত বা কূটনীতিক যখন বিদেশি সরকারের সামনে আইনের শাসন, সুশাসন, জবাবদিহি ও প্রশাসনিক শৃঙ্খলার কথা বলেন, তখন তার নিজের আচরণও একই মানদণ্ডে মূল্যায়িত হয়।

যদি তিনি নিজেই বৈধ নির্দেশ বাস্তবায়নে অনাগ্রহী হন, তাহলে স্বাগতিক দেশ প্রশ্ন তুলতেই পারে—

বাংলাদেশ কি তার নিজস্ব কূটনৈতিক মিশনের ওপর কার্যকর নিয়ন্ত্রণ রাখে?

বিদায়ী কূটনীতিকের বক্তব্য কি এখনো বাংলাদেশের আনুষ্ঠানিক অবস্থান?

তার দেওয়া প্রতিশ্রুতি কতটুকু বৈধ?

এই প্রশ্নগুলোর উত্তর কেবল একজন কূটনীতিককে নয়, পুরো রাষ্ট্রকে বিব্রত করে।

তবে রাষ্ট্রেরও দায়িত্ব আছে

শুধু কূটনীতিকদের দায়ী করলে সমস্যার পূর্ণ ব্যাখ্যা পাওয়া যায় না।

কোনো কূটনীতিক যদি মনে করেন দেশে ফিরলেই তিনি রাজনৈতিক প্রতিহিংসা, অপমানজনক পদায়ন, ভিত্তিহীন অভিযোগ কিংবা পেশাগত অনিশ্চয়তার শিকার হবেন, তাহলে তার মধ্যে উদ্বেগ ও অনীহা তৈরি হওয়া স্বাভাবিক।

পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ে ফিরে আসাকে যদি মর্যাদাপূর্ণ পেশাগত দায়িত্ব হিসেবে না দেখে অনেকে অবনমন মনে করেন, তবে এর দায়ও রাষ্ট্রকে নিতে হবে।

যোগ্যতার পরিবর্তে রাজনৈতিক আনুগত্যকে গুরুত্ব দেওয়া, মেধাবী কূটনীতিকদের উপেক্ষা করা এবং স্বচ্ছ পদায়নব্যবস্থার অভাব দীর্ঘমেয়াদে কূটনৈতিক প্রশাসনকে দুর্বল করে।

কী করা প্রয়োজন?

বাংলাদেশের কূটনৈতিক ব্যবস্থাকে আরও আধুনিক, জবাবদিহিমূলক ও পেশাদার করতে কয়েকটি পদক্ষেপ জরুরি।

প্রথমত, প্রতিটি বিদেশি পদায়নের শুরুতেই লিখিত প্রত্যাবর্তন পরিকল্পনা থাকতে হবে।

দ্বিতীয়ত, দায়িত্ব শেষ হওয়ার অন্তত ছয় মাস আগে সম্ভাব্য প্রত্যাবর্তনের সময় নির্ধারণ করতে হবে।

তৃতীয়ত, সন্তানের শিক্ষা, চিকিৎসা বা মানবিক কারণে সীমিত সময় বাড়ানোর নীতিমালা স্বচ্ছ ও লিখিত হতে হবে।

চতুর্থত, অনুমোদন ছাড়া দায়িত্ব হস্তান্তর বিলম্বিত হলে বিদেশ ভাতা ও অন্য সুবিধা স্থগিত করার বিধান থাকতে হবে।

পঞ্চমত, দায়িত্ব শেষে বিদেশি প্রতিষ্ঠান বা আন্তর্জাতিক সংস্থায় যোগদানের জন্য একটি সুস্পষ্ট কনফ্লিট অব ইন্টারেস্ট পলিসি প্রণয়ন করতে হবে।

ষষ্ঠত, কূটনীতিক নিয়োগে রাজনৈতিক বিবেচনার চেয়ে পেশাগত দক্ষতা, ভাষাজ্ঞান, অভিজ্ঞতা, সততা এবং নেতৃত্বকে অগ্রাধিকার দিতে হবে।

শেষকথা

বাংলাদেশের দূতাবাস কোনো কূটনীতিক বা তার পরিবারের ব্যক্তিগত পুনর্বাসন কেন্দ্র নয়। আবার একজন কূটনীতিকও সরকার পরিবর্তনের সঙ্গে সঙ্গে অপমানিত হওয়ার মতো কোনো দলীয় কর্মকর্তা নন। তিনি প্রজাতন্ত্র ও রাষ্ট্রের সেবক ও দেশের প্রতিনিধি।

এই দুই সত্য একসঙ্গে প্রতিষ্ঠা করাই আধুনিক কূটনৈতিক প্রশাসনের মূল চ্যালেঞ্জ।

বিদেশে বাংলাদেশের পতাকা বহন করা যেমন বিরাট সম্মানের, দায়িত্ব শেষে সেই পতাকা সুশৃঙ্খলভাবে পরবর্তী প্রতিনিধির হাতে তুলে দিয়ে দেশে ফিরে আসাও সমান মর্যাদার।

একজন কূটনীতিকের দেশপ্রেম কেবল বিদেশের মাটিতে দেওয়া বক্তৃতায় প্রকাশ পায় না; প্রকাশ পায় দায়িত্ব শেষ হওয়ার পর রাষ্ট্রের বৈধ নির্দেশের প্রতি তার সম্মান, পেশাগত সততা এবং প্রত্যাবর্তনের আচরণেও।

বাংলাদেশ যদি সত্যিই বিশ্বসভায় একটি মর্যাদাবান, দায়িত্বশীল ও পরিপক্ব রাষ্ট্র হিসেবে নিজেকে প্রতিষ্ঠিত করতে চায়, তবে তার কূটনৈতিক ব্যবস্থায় নিয়োগ থেকে প্রত্যাবর্তন পর্যন্ত সর্বত্র শৃঙ্খলা, স্বচ্ছতা, মানবিকতা, পেশাদারত্ব এবং জবাবদিহির সংস্কৃতি নিশ্চিত করতেই হবে। কারণ কূটনীতির শক্তি শুধু বিদেশে নয়, দায়িত্ব শেষে দেশ ফেরার মধ্যেও নিহিত থাকে।

লেখক: সুইজারল্যান্ডভিত্তিক বেসরকারি ব্যাংকিং আর্থিক অপরাধ বিশেষজ্ঞ ও কলামিস্ট

ই-মেইল: [email protected]

বিষয়: কূটনীতিকূটনৈতিকবাংলাদেশ দূতাবাসবাংলাদেশ হাইকমিশনবাংলাদেশের স্থায়ী মিশন
সর্বশেষ
  • ১

    সাভারে পুলিশ সদস্য পিটিয়ে হত্যা মামলার গ্রেপ্তার আরও ৮

  • ২

    রাজধানীতে ছুরিকাঘাতে যুবক নিহত, আটক ১

  • ৩

    কুয়ালালামপুরে বিএনপির প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী উদ্‌যাপন

  • ৪

    ‎সম্মিলিত ইসলামী ব্যাংকের গ্রাহকদের টাকা দেওয়া শুরু

  • ৫

    প্রধানমন্ত্রীর নিরাপত্তা বিঘ্নিত করার অভিযোগে গ্রেপ্তার যুবক ৫ দিনের রিমান্ডে

সম্পর্কিত
  • কুয়ালালামপুরে বিএনপির প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী উদ্‌যাপন

    কুয়ালালামপুরে বিএনপির প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী উদ্‌যাপন

    রোববার সন্ধ্যায় কুয়ালালামপুরের চৌকিট এলাকায় হোটেল এস্টোর হলরুমে বিএনপির মালয়েশিয়া শাখা প্রতিষ্ঠাবার্ষিকীর এই অনুষ্ঠান আয়োজন করে।

  • প্রযুক্তি, উদ্ভাবন ও ভবিষ্যতের সমাজ

    প্রযুক্তি, উদ্ভাবন ও ভবিষ্যতের সমাজ

    যেখানে উন্নয়ন থাকবে, কিন্তু মানবতা হারাবে না। যেখানে প্রযুক্তি থাকবে, কিন্তু বিবেক পরাজিত হবে না। যেখানে স্বাধীনতা থাকবে, কিন্তু দায়িত্ব ভুলে যাওয়া হবে না।

  • লেবাননে ইসরায়েলি ড্রোন হামলায় নিহত বাংলাদেশির মরদেহ দেশে পৌঁছেছে

    লেবাননে ইসরায়েলি ড্রোন হামলায় নিহত বাংলাদেশির মরদেহ দেশে পৌঁছেছে

    গত ১১ মে দক্ষিণ লেবাননের এক সংঘাতপূর্ণ এলাকায় ইসরায়েলি ড্রোন হামলায় নিহত হওয়ার প্রায় তিন মাস ২৫ দিন পর আজ সকাল ১০টার দিকে তার মরদেহ বাড়িতে পৌঁছায়।

  • প্রযুক্তি, উদ্ভাবন ও ভবিষ্যতের সমাজ

    প্রযুক্তি, উদ্ভাবন ও ভবিষ্যতের সমাজ

    টেকসই ভবিষ্যৎ নির্মাণের জন্য উন্নয়ন, প্রযুক্তি এবং পরিবেশের মধ্যে ভারসাম্য অপরিহার্য। প্রকৃতি রক্ষা শুধু পরিবেশের বিষয় নয়; এটি মানবসভ্যতার ভবিষ্যৎ রক্ষার বিষয়।