
অবৈধ অভিবাসন এখনো গুরুতর উদ্বেগের বিষয়: শামা ওবায়েদ
শামা ওবায়েদ বলেন, সরকারি সংস্থাগুলো তৃণমূল পর্যায়ে কাজ শুরু করেছে। অবৈধ অভিবাসন বেশি হয়—এমন জেলাগুলো চিহ্নিত করে সমস্যা মোকাবিলায় স্থানীয় প্রশাসনের সঙ্গে সমন্বয় করা হচ্ছে।
প্রযুক্তি মানুষের ক্ষমতা বাড়াতে পারে, কিন্তু মানুষের বিবেকই নির্ধারণ করে সেই ক্ষমতা কোন পথে ব্যবহার হবে।
মানবসভ্যতার অগ্রগতির ইতিহাস মূলত জ্ঞান, উদ্ভাবন এবং প্রযুক্তির ইতিহাস। আগুনের ব্যবহার থেকে শুরু করে কৃষি, শিল্প বিপ্লব, বিদ্যুৎ, ইন্টারনেট এবং কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা পর্যন্ত প্রতিটি বড় পরিবর্তন মানুষের জীবনযাত্রাকে নতুনভাবে গড়ে তুলেছে। আজকের পৃথিবীতে প্রযুক্তি শুধু একটি সহায়ক মাধ্যম নয়, এটি সমাজের কাঠামো পরিবর্তনের অন্যতম প্রধান শক্তি। মানুষ কীভাবে শেখে, কাজ করে, যোগাযোগ করে, ব্যবসা পরিচালনা করে এবং রাষ্ট্রের সঙ্গে সম্পর্ক তৈরি করে, প্রযুক্তি তার সবকিছুকেই প্রভাবিত করছে।
কিন্তু প্রযুক্তির প্রকৃত মূল্য নির্ধারিত হবে একটি প্রশ্নের মাধ্যমে: এটি কি মানুষের জীবনকে আরও উন্নত, নিরাপদ এবং মর্যাদাপূর্ণ করছে?
প্রযুক্তি মানুষের দৈনন্দিন জীবনকে সহজ করেছে। যোগাযোগের ক্ষেত্রে পৃথিবী এখন আগের চেয়ে অনেক বেশি সংযুক্ত। চিকিৎসা, কৃষি, শিক্ষা এবং ব্যবসায় প্রযুক্তি নতুন সম্ভাবনা তৈরি করেছে। একজন কৃষক আবহাওয়ার তথ্য জানতে পারেন, একজন শিক্ষার্থী বিশ্বের বিভিন্ন প্রান্তের জ্ঞান অর্জন করতে পারেন, একজন চিকিৎসক আধুনিক প্রযুক্তির মাধ্যমে রোগ নির্ণয় ও চিকিৎসায় উন্নতি করতে পারেন।
তবে প্রযুক্তির সুবিধার পাশাপাশি কিছু নতুন চ্যালেঞ্জও তৈরি হয়েছে। অতিরিক্ত নির্ভরতা, ব্যক্তিগত তথ্যের নিরাপত্তা, ডিজিটাল বিভাজন এবং প্রযুক্তির অপব্যবহার ভবিষ্যতের গুরুত্বপূর্ণ প্রশ্ন। তাই প্রযুক্তির ব্যবহার হতে হবে সচেতন ও দায়িত্বশীল।
শিক্ষা একটি জাতির ভবিষ্যৎ নির্মাণের ভিত্তি। প্রযুক্তি সেই শিক্ষাকে আরও বিস্তৃত ও কার্যকর করার সুযোগ তৈরি করেছে। ডিজিটাল শিক্ষা, অনলাইন জ্ঞানভাণ্ডার এবং কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তাভিত্তিক শিক্ষার মাধ্যমে একজন শিক্ষার্থী নিজের গতিতে শেখার সুযোগ পাচ্ছে। কিন্তু প্রযুক্তি কখনো একজন ভালো শিক্ষক, চিন্তাশক্তি এবং মানবিক শিক্ষার বিকল্প হতে পারে না। প্রযুক্তি হলো একটি শক্তিশালী মাধ্যম, যার সঠিক ব্যবহার শিক্ষার মান উন্নত করতে পারে। ভবিষ্যতের শিক্ষা ব্যবস্থায় প্রযুক্তি ও মানবিক মূল্যবোধের সমন্বয় প্রয়োজন।
প্রযুক্তি অর্থনীতির ধরনও পরিবর্তন করছে। ডিজিটাল অর্থনীতি, স্বয়ংক্রিয়তা, কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা এবং নতুন ধরনের শিল্প কর্মক্ষেত্রের ধারণাকে বদলে দিচ্ছে। আগামী দিনের কর্মক্ষেত্রে শুধু একটি নির্দিষ্ট দক্ষতা যথেষ্ট হবে না। মানুষকে নিয়মিত নতুন জ্ঞান অর্জন করতে হবে, পরিবর্তনের সঙ্গে মানিয়ে নিতে হবে এবং সৃজনশীল চিন্তার ক্ষমতা বৃদ্ধি করতে হবে। প্রযুক্তি কিছু পুরোনো কাজের ধরন পরিবর্তন করবে, কিন্তু একই সঙ্গে নতুন সুযোগও তৈরি করবে। যে সমাজ তার মানুষকে পরিবর্তনের জন্য প্রস্তুত করবে, সেই সমাজ ভবিষ্যতের অর্থনীতিতে এগিয়ে থাকবে।
কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা বা এআই আধুনিক বিশ্বের অন্যতম বড় প্রযুক্তিগত পরিবর্তন। এটি চিকিৎসা গবেষণা, শিক্ষা, শিল্প, কৃষি, প্রশাসন এবং গবেষণায় নতুন সম্ভাবনা তৈরি করছে। তবে এর সঙ্গে নৈতিক প্রশ্নও যুক্ত রয়েছে। প্রযুক্তি যদি মানুষের সিদ্ধান্ত গ্রহণে প্রভাব ফেলে, তাহলে স্বচ্ছতা, জবাবদিহি এবং মানবিক মূল্যবোধ নিশ্চিত করা জরুরি। ভবিষ্যতের সমাজে গুরুত্বপূর্ণ হবে মানুষ ও প্রযুক্তির সম্পর্ক। প্রযুক্তি মানুষের সহায়ক হবে, নাকি মানুষের ওপর নিয়ন্ত্রণ প্রতিষ্ঠা করবে, সেটি নির্ভর করবে মানুষের সিদ্ধান্তের ওপর।
আধুনিক রাষ্ট্র পরিচালনায় প্রযুক্তির ভূমিকা ক্রমেই বৃদ্ধি পাচ্ছে। ডিজিটাল সেবা, তথ্যভিত্তিক সিদ্ধান্ত গ্রহণ এবং দ্রুত যোগাযোগ নাগরিক সেবাকে আরও কার্যকর করতে পারে। একটি স্বচ্ছ ও জবাবদিহিমূলক রাষ্ট্র প্রযুক্তির মাধ্যমে দুর্নীতি কমাতে, সেবা সহজ করতে এবং মানুষের অংশগ্রহণ বাড়াতে পারে। তবে প্রযুক্তি ব্যবহারের ক্ষেত্রে ব্যক্তিগত গোপনীয়তা, তথ্যের নিরাপত্তা এবং নাগরিক অধিকারের সুরক্ষা নিশ্চিত করতে হবে। কারণ প্রযুক্তি শক্তিশালী হলেও রাষ্ট্রের মূল ভিত্তি থাকবে মানুষের আস্থা ও নৈতিকতার ওপর।
বাংলাদেশের মতো বৃহৎ জনগোষ্ঠীর দেশে প্রযুক্তি একটি বড় সুযোগ তৈরি করতে পারে। ডিজিটাল শিক্ষা, কৃষি প্রযুক্তি, স্বাস্থ্যসেবা, উদ্যোক্তা উন্নয়ন এবং তরুণদের প্রযুক্তিগত দক্ষতা দেশের উন্নয়নের নতুন পথ খুলে দিতে পারে। তবে প্রযুক্তির সুফল পেতে হলে প্রয়োজন মানসম্মত শিক্ষা, সবার জন্য প্রযুক্তি ব্যবহারের সুযোগ এবং নিরাপদ ডিজিটাল পরিবেশ। শুধু প্রযুক্তি গ্রহণ করলেই হবে না, প্রযুক্তিকে সঠিকভাবে ব্যবহার করার মতো দক্ষ মানুষ তৈরি করতে হবে।
ভবিষ্যতের সমাজ তাই শুধু প্রযুক্তিনির্ভর হবে না; এটি হবে প্রযুক্তি ও মানবিকতার সমন্বয়ে গঠিত একটি সমাজ। মানুষের সৃজনশীলতা, সহমর্মিতা, নৈতিকতা এবং চিন্তার ক্ষমতাই প্রযুক্তিকে সঠিক পথে পরিচালিত করবে। যে সমাজ প্রযুক্তিকে গ্রহণ করবে, কিন্তু মানবিক মূল্যবোধকে হারাবে না, সেই সমাজই ভবিষ্যতের নেতৃত্ব দেবে।
মানুষ রাষ্ট্রের ভিত্তি। পরিবার তাকে গড়ে তোলে। শিক্ষা তাকে জ্ঞান দেয়। সামাজিক আস্থা ও প্রতিষ্ঠান তাকে সংগঠিত করে। নেতৃত্ব তাকে পথ দেখায়। উন্নয়ন তার সম্ভাবনাকে বাস্তব রূপ দেয়। আর প্রযুক্তি সেই সম্ভাবনাকে বহুগুণ বৃদ্ধি করার শক্তি হিসেবে কাজ করে। কিন্তু প্রযুক্তির চূড়ান্ত উদ্দেশ্য কখনো শুধু দ্রুততা বা দক্ষতা নয়; এর উদ্দেশ্য হওয়া উচিত মানুষের জীবনকে আরও ভালো করা।
কারণ, “প্রযুক্তি ভবিষ্যতের দরজা খুলে দেয়, কিন্তু সেই পথে কোন দিকে এগিয়ে যাব, তা নির্ধারণ করে মানুষের বিবেক।”
প্রযুক্তি ও উদ্ভাবন একটি জাতির উন্নয়নের শক্তিশালী মাধ্যম। তবে এর সঠিক ব্যবহার নিশ্চিত করতে হলে প্রযুক্তিগত দক্ষতার পাশাপাশি নৈতিকতা, মানবিকতা এবং দায়িত্ববোধ অপরিহার্য।
তাহলে প্রশ্ন আসে, আমি কি প্রযুক্তিকে শুধু সুবিধার মাধ্যম হিসেবে দেখি, নাকি এটিকে মানুষের উন্নতি ও সমাজের কল্যাণে ব্যবহারের একটি দায়িত্ব হিসেবেও বিবেচনা করি?
প্রযুক্তির সঙ্গে মানুষের সম্পর্কের এই প্রশ্ন আমাদের আরেকটি মৌলিক বিষয়ে নিয়ে যায়, আর তা হলো পরিবেশ। কারণ প্রযুক্তি, উন্নয়ন ও অর্থনৈতিক অগ্রগতি যতই গুরুত্বপূর্ণ হোক, মানুষের বেঁচে থাকার জন্য একটি বাসযোগ্য পৃথিবী অপরিহার্য।
“পৃথিবী আমাদের সম্পত্তি নয়; আমরা পৃথিবীর সাময়িক অভিভাবক। ভবিষ্যৎ প্রজন্মের জন্য একে রক্ষা করা আমাদের দায়িত্ব।”
মানুষের সভ্যতার অগ্রগতি সবসময় প্রকৃতির সঙ্গে সম্পর্কের ওপর নির্ভর করেছে। নদী, মাটি, বন, বায়ু এবং জীববৈচিত্র্য মানুষের জীবন ও অর্থনীতির ভিত্তি তৈরি করেছে। কিন্তু আধুনিক উন্নয়নের পথে এগোতে গিয়ে মানুষ অনেক সময় ভুলে গেছে যে প্রকৃতি শুধু ব্যবহার করার কোনো বস্তু নয়; এটি আমাদের অস্তিত্বের অংশ।
উন্নয়ন, প্রযুক্তি এবং অর্থনৈতিক অগ্রগতি অবশ্যই প্রয়োজন। কিন্তু সেই উন্নয়ন যদি পরিবেশের ভারসাম্য নষ্ট করে, তাহলে তার নেতিবাচক প্রভাব শেষ পর্যন্ত মানুষের জীবনেই ফিরে আসে। তাই ভবিষ্যতের সবচেয়ে বড় চ্যালেঞ্জ হলো, কীভাবে উন্নয়ন ও প্রকৃতির মধ্যে একটি টেকসই ভারসাম্য তৈরি করা যায়।
পরিবেশ কোনো আলাদা বিষয় নয়, এটি মানুষের প্রতিদিনের জীবনের সঙ্গে সরাসরি যুক্ত। আমরা যে বাতাসে শ্বাস নিই, যে পানি পান করি, যে খাদ্য গ্রহণ করি এবং যে ভূমিতে বসবাস করি, সবকিছুই পরিবেশের অংশ। একটি দূষিত পরিবেশ মানুষের স্বাস্থ্য, অর্থনীতি এবং সামাজিক স্থিতিশীলতার ওপর প্রভাব ফেলে। বায়ুদূষণ, পানিদূষণ, বন উজাড় এবং প্রাকৃতিক সম্পদের অতিরিক্ত ব্যবহার শুধু প্রকৃতির ক্ষতি করে না, মানুষের জীবনমানকেও ক্ষতিগ্রস্ত করে। তাই পরিবেশ রক্ষা কোনো বিলাসিতা নয়; এটি মানুষের মৌলিক নিরাপত্তার অংশ।
দীর্ঘদিন ধরে উন্নয়নকে অনেক সময় শুধু অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধির মাধ্যমে পরিমাপ করা হয়েছে। কিন্তু বর্তমান বিশ্ব দেখছে, শুধুমাত্র দ্রুত অর্থনৈতিক বৃদ্ধি একটি সমাজকে দীর্ঘমেয়াদে নিরাপদ রাখতে পারে না। যে উন্নয়ন মানুষের জীবনকে উন্নত করে, কিন্তু একই সঙ্গে প্রকৃতির ভারসাম্য রক্ষা করে, সেটিই টেকসই উন্নয়ন। এর অর্থ হলো, আজকের প্রয়োজন পূরণ করতে হবে, কিন্তু এমনভাবে করতে হবে যাতে আগামী প্রজন্ম তাদের প্রয়োজন পূরণের সুযোগ হারিয়ে না ফেলে।
জলবায়ু পরিবর্তন বর্তমানে বিশ্বের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ সমস্যা। তাপমাত্রা বৃদ্ধি, সমুদ্রপৃষ্ঠের উচ্চতা বৃদ্ধি, অনিয়মিত আবহাওয়া, অতিরিক্ত বন্যা, খরা এবং প্রাকৃতিক দুর্যোগ মানুষের জীবন ও অর্থনীতিকে প্রভাবিত করছে। বাংলাদেশের মতো নদীমাতৃক ও ঘনবসতিপূর্ণ দেশের জন্য জলবায়ু পরিবর্তনের প্রভাব বিশেষভাবে গুরুত্বপূর্ণ। উপকূলীয় অঞ্চল, কৃষি, পানি সম্পদ এবং মানুষের জীবনযাত্রা এর সঙ্গে গভীরভাবে সম্পর্কিত। তাই জলবায়ু পরিবর্তনের মোকাবিলায় শুধু আন্তর্জাতিক উদ্যোগ নয়, স্থানীয় পর্যায়ে সচেতনতা, পরিকল্পনা এবং প্রস্তুতিও অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।
পরিবেশ রক্ষার ক্ষেত্রেও প্রযুক্তি একটি বড় ভূমিকা রাখতে পারে। নবায়নযোগ্য শক্তি, উন্নত কৃষি প্রযুক্তি, বর্জ্য ব্যবস্থাপনা, পানি সংরক্ষণ এবং পরিবেশবান্ধব শিল্প ভবিষ্যতের গুরুত্বপূর্ণ পথ হতে পারে। তবে প্রযুক্তি একা সমস্যার সমাধান করতে পারবে না। প্রযুক্তির সঠিক ব্যবহার নিশ্চিত করতে হলে মানুষের আচরণ, নীতি এবং মূল্যবোধের পরিবর্তনও প্রয়োজন।
পরিবেশ রক্ষা শুধু সরকার বা বড় প্রতিষ্ঠানের দায়িত্ব নয়। প্রতিটি মানুষের দৈনন্দিন আচরণের সঙ্গে পরিবেশের সম্পর্ক রয়েছে। অপ্রয়োজনীয় অপচয় কমানো, পানি ও বিদ্যুতের সঠিক ব্যবহার, বর্জ্য ব্যবস্থাপনায় সচেতন হওয়া, প্রকৃতির প্রতি সম্মান দেখানো, এসব ছোট ছোট কাজ সম্মিলিতভাবে বড় পরিবর্তন আনতে পারে। একটি পরিবেশবান্ধব সমাজ তৈরি হয় মানুষের অভ্যাসের পরিবর্তনের মাধ্যমে।
বাংলাদেশ পরিবেশগত চ্যালেঞ্জের মুখোমুখি হলেও একই সঙ্গে তার রয়েছে বড় সম্ভাবনা। নদী, কৃষি, জীববৈচিত্র্য এবং মানুষের অভিযোজন ক্ষমতা দেশের গুরুত্বপূর্ণ সম্পদ। প্রয়োজন দীর্ঘমেয়াদি পরিকল্পনা, পরিবেশবান্ধব উন্নয়ন, নগর ব্যবস্থাপনার উন্নতি এবং মানুষের মধ্যে পরিবেশ সচেতনতা বৃদ্ধি। উন্নয়নের পথে এগিয়ে যেতে হবে, কিন্তু প্রকৃতিকে ধ্বংস করে নয়।
একটি সভ্যতার প্রকৃত মূল্যায়ন শুধু তার বর্তমান সাফল্যের মাধ্যমে হয় না; বরং ভবিষ্যৎ প্রজন্মের জন্য সে কী রেখে যাচ্ছে, তার মাধ্যমেও হয়। আমরা যদি আজ প্রকৃতির সীমা অতিক্রম করি, তাহলে আগামী প্রজন্মকে তার মূল্য দিতে হবে। তাই পরিবেশ রক্ষা আসলে ভবিষ্যৎ মানুষের প্রতি একটি নৈতিক দায়িত্ব।
মানুষ রাষ্ট্রের ভিত্তি। পরিবার মানুষকে গড়ে তোলে। শিক্ষা ও সামাজিক মূল্যবোধ তাকে প্রস্তুত করে। রাষ্ট্র, নেতৃত্ব, অর্থনীতি ও প্রযুক্তি তার সম্ভাবনাকে বিস্তৃত করে। কিন্তু এই সবকিছুর ভিত্তি হলো একটি বাসযোগ্য পৃথিবী। কারণ পৃথিবী নিরাপদ না থাকলে কোনো উন্নয়ন, কোনো প্রযুক্তি বা কোনো অর্থনৈতিক সাফল্য দীর্ঘস্থায়ী হতে পারে না।
“যে উন্নয়ন প্রকৃতিকে রক্ষা করতে পারে না, সে উন্নয়ন শেষ পর্যন্ত মানুষকেও রক্ষা করতে পারে না।”
টেকসই ভবিষ্যৎ নির্মাণের জন্য উন্নয়ন, প্রযুক্তি এবং পরিবেশের মধ্যে ভারসাম্য অপরিহার্য। প্রকৃতি রক্ষা শুধু পরিবেশের বিষয় নয়; এটি মানবসভ্যতার ভবিষ্যৎ রক্ষার বিষয়।
তাহলে আত্মজিজ্ঞাসা হওয়া উচিত, আমার দৈনন্দিন জীবনযাপন কি শুধু আমার বর্তমান সুবিধার কথা চিন্তা করে, নাকি ভবিষ্যৎ প্রজন্মের জন্য একটি ভালো পৃথিবী রেখে যাওয়ার দায়িত্বও বহন করে?
এই প্রশ্ন আমাদের আরেকটি বৃহত্তর বাস্তবতার দিকে নিয়ে যায়। পৃথিবী শুধু আমাদের বসবাসের স্থান নয়, এটি এমন একটি ব্যবস্থা যেখানে দেশ, সমাজ ও মানুষের ভবিষ্যৎ একে অপরের সঙ্গে গভীরভাবে যুক্ত। (আগামী পর্বে সমাপ্য)
লেখক: সাবেক পরিচালক, ফাইজার, সুইডেন। বর্তমানে সু্ইডেনপ্রবাসী। ইমেইল: [email protected]

অবৈধ অভিবাসন এখনো গুরুতর উদ্বেগের বিষয়: শামা ওবায়েদ
শামা ওবায়েদ বলেন, সরকারি সংস্থাগুলো তৃণমূল পর্যায়ে কাজ শুরু করেছে। অবৈধ অভিবাসন বেশি হয়—এমন জেলাগুলো চিহ্নিত করে সমস্যা মোকাবিলায় স্থানীয় প্রশাসনের সঙ্গে সমন্বয় করা হচ্ছে।

ইন্দোনেশিয়ায় অবৈধভাবে প্রবেশের অভিযোগে ৮ বাংলাদেশিসহ ১৬ জন আটক
দুমাই নৌঘাঁটির প্রধান কর্নেল আগুং এন কুসুমাঝি বলেন, রোববার সন্ধ্যায় পানতাই মুতিয়ারা উপকূলের একটি অবৈধ ঘাট দিয়ে ইন্দোনেশীয় ও বাংলাদেশিদের দলটির দেশে প্রবেশের পরিকল্পনার বিষয়ে গোয়েন্দা তথ্য পাওয়া যায়। ওই তথ্যের ভিত্তিতেই অভিযান চালানো হয়।

কুয়ালালামপুরে ক্রীড়া প্রতিমন্ত্রীর সফরসঙ্গী দলের সঙ্গে প্রবাসীদের ফুটসাল ম্যাচ
খেলায় প্রতিমন্ত্রী আমিনুল ইসলামও অংশগ্রহণ করেন। তার দল খেলায় ৩–১ গোলে জয়ী হয়। দলের পক্ষে প্রথম গোলটি করেন আমিনুল ইসলাম নিজে।

অস্ট্রেলিয়ার গোল্ডকোস্টে নটর ডেমিয়ানদের মিলনমেলা
মিলনমেলায় শুধু স্মৃতিচারণ ও আনন্দ-আড্ডাই নয়, নটর ডেম কলেজের শিক্ষার্থীদের নিরাপত্তা ও জরুরি চিকিৎসা সহায়তা নিয়েও একটি গুরুত্বপূর্ণ প্রস্তাব উঠে আসে।