দেশের চলমান সংকটকে পুঁজি করে কিছু রাজনৈতিক দল ও ব্যক্তি বিভ্রান্তি ছড়িয়ে অরাজকতা সৃষ্টির পাঁয়তারা করছে বলে অভিযোগ করেছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। অরাজকতা সৃষ্টির চেষ্টা করা হলে আইন অনুযায়ী তা কঠোরভাবে নিয়ন্ত্রণ করা হবে বলেও তিনি হুঁশিয়ারি দেন।
আজ শনিবার বিকেলে রাজধানীর কৃষিবিদ ইনস্টিটিউট মিলনায়তনে বিএনপির ৪৮তম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী উপলক্ষে আয়োজিত আলোচনা সভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।
প্রধানমন্ত্রী বলেন, “স্বৈরাচারী আমল বা অন্তর্বর্তী সরকারের কাছ থেকে আমরা যে সমস্যাগুলো ইনহেরিট করেছি, তা সমাধানের চেষ্টা চালাচ্ছি। তবে এসব সংকটকে পুঁজি করে কিছু দল অরাজকতা তৈরির চেষ্টা করছে। জনগণের ভোটে নির্বাচিত সরকার হিসেবে পরিষ্কার বলতে চাই, সবাইকে নিজ নিজ সীমার মধ্যে থাকতে হবে।”
বিদ্যুৎ ও জ্বালানি সংকটে সাধারণ মানুষ ও শিল্পকারখানার মালিকদের সাময়িক কষ্টের জন্য দুঃখ প্রকাশ করে তিনি বলেন, “ভবিষ্যতে যেন দেশকে এমন জ্বালানি সংকটে পড়তে না হয়, সে লক্ষ্যে টেকসই কর্মপরিকল্পনা তৈরি করছে বিএনপি।”
রাজনৈতিক প্রতিপক্ষকে ইঙ্গিত করে প্রধানমন্ত্রী বলেন, ৭১ সাল থেকে শুরু করে স্বৈরাচারী আমল পর্যন্ত একটি গুপ্ত শক্তি একে অপরকে আড়াল ও আশ্রয় দিয়ে আসছে। এখন তারা আবারও অরাজকতা উসকে দিয়ে স্বৈরাচার ফেরানোর চেষ্টা করছে কি না—সেই প্রশ্ন তুলে নেতাকর্মীদের এদের আসল রূপ জনগণের সামনে উন্মোচন করার আহ্বান জানান তিনি।
তারেক রহমান উল্লেখ করেন, ১৯৭৮ সালের ১ সেপ্টেম্বর শহীদ প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমান বিএনপি প্রতিষ্ঠা করেছিলেন। জিয়াউর রহমান ও সাবেক প্রধানমন্ত্রী বেগম খালেদা জিয়া বহুদলীয় গণতন্ত্র, তৈরি পোশাক খাত, রেমিট্যান্স এবং নারী শিক্ষার প্রসারে ঐতিহাসিক অবদান রেখেছেন। ২০২৪ সালের জুলাই-আগস্ট আন্দোলনের সফলতার মূল কৃতিত্ব এ দেশের আমজনতার উল্লেখ করে তিনি বলেন, বিএনপি একটি মানবিক রাষ্ট্র গঠনে বদ্ধপরিকর।
বিএনপির ভারপ্রাপ্ত মহাসচিব রুহুল কবির রিজভীর সভাপতিত্বে ও মৎস্য ও প্রাণিসম্পদ প্রতিমন্ত্রী সুলতান সালাউদ্দিন টুকুর সঞ্চালনায় সভায় দলটির স্থায়ী কমিটির সদস্য মির্জা আব্বাস, গয়েশ্বর চন্দ্র রায়, আমীর খসরু মাহমুদসহ জ্যেষ্ঠ নেতারাভাবে কাজ করছে।”