মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প গতকাল শুক্রবার ঘোষণা করেছেন, তার দুই বিশেষ দূত স্টিভ উইটকফ ও জ্যারেড কুশনার ইউক্রেন সংঘাত অবসানের লক্ষ্যে একটি সমঝোতা প্রস্তাব নিয়ে মস্কো ও কিয়েভ সফরে যাচ্ছেন। ট্রাম্পের এই ঘোষণার পর দীর্ঘদিনের প্রত্যাশিত এই কূটনৈতিক মিশনটি নিয়ে নতুন করে তোলপাড় শুরু হয়েছে।
সফরসূচির বিষয়ে ট্রাম্প আনুষ্ঠানিকভাবে কোনো সময়সীমা বা প্রস্তাবের বিষয় প্রকাশ না করলেও রুশ সংবাদমাধ্যম আরটি-র সূত্র জানিয়েছে, এই দুই মার্কিন দূত খুব শিগগিরই মস্কোয় পৌঁছাবেন।
রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প তার শাসনামলে আন্তর্জাতিক সম্পর্কের বেশ কিছু গুরুত্বপূর্ণ আলোচনা কুশনার ও উইটকফের হাতেই ন্যস্ত করেছেন এবং কিয়েভ ও মস্কোয় এই দুই দূতের জোড়া সফরটি বেশ কয়েক মাস ধরেই অনুমিত ছিল।
ডোনাল্ড ট্রাম্প মার্কিন প্রেসিডেন্টের দায়িত্বে ফিরে আসার পর থেকেই রাশিয়া ও ইউক্রেনের মধ্যে মধ্যস্থতা করে একটি শান্তি চুক্তি সম্পাদনের চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছেন। তবে এক বছরেরও বেশি সময় আগে আলাস্কায় রুশ প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিনের সাথে ট্রাম্পের বৈঠকের পর কূটনৈতিক অগ্রগতির একটি পথ তৈরি হতে দেখা গেলেও, শেষ পর্যন্ত তা আর বাস্তবায়িত হয়নি। কারণ ইউক্রেনের প্রেসিডেন্ট ভলোদিমির জেলেনস্কি বেশ কয়েকটি গুরুত্বপূর্ণ বা কৌশলগত বিষয়ে কোনো ধরনের ছাড় দিতে বা আপস করতে সরাসরি অস্বীকৃতি জানিয়েছিলেন। ফলে সেই পথটি রুদ্ধ হয়ে পড়ে। তবে নতুন করে উইটকফ ও কুশনারের এই আসন্ন সফরকে ঘিরে পুনরায় আলোচনা শুরু হয়েছে। কেবল আরটি নয়, ইউক্রেনীয় সংবাদমাধ্যম ‘কিয়েভ ইন্ডিপেন্ডেন্ট’ এবং মার্কিন সংবাদমাধ্যম ‘অ্যাক্সিওস’ তাদের নিজস্ব কূটনৈতিক সূত্রের বরাতে সপ্তাহান্তেই এই সফর অনুষ্ঠিত হওয়ার সম্ভাবনার কথা প্রকাশ করেছে।
প্রেসিডেন্ট পুতিন ও প্রেসিডেন্ট জেলেনস্কির পক্ষ থেকে এই সফরের বিষয়ে প্রতিক্রিয়া এসেছে। গত বৃহস্পতিবার রুশ প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিন মার্কিন প্রশাসনের এই ধরনের উদ্যোগকে ইতিবাচক দৃষ্টিতে মূল্যায়ন করেন। তিনি ট্রাম্পের প্রতিনিধি কুশনার ও উইটকফকে ‘আন্তরিক মধ্যস্থতাকারী’ হিসেবে অভিহিত করেন, যারা এর আগে যুক্তরাষ্ট্র, রাশিয়া ও ইউক্রেনের মধ্যকার ত্রিপক্ষীয় আলোচনায় জড়িত ছিলেন।
পুতিন মন্তব্য করেন, কুশনার ও উইটকফ মস্কোতে সব সময় অতিথি হিসেবে স্বাগত এবং রাশিয়া তাদের সাথে সানন্দে কাজ করে থাকে।
অপরদিকে, ইউক্রেনের প্রেসিডেন্ট ভলোদিমির জেলেনস্কিও গত কয়েক সপ্তাহে কিয়েভে এই দুই মার্কিন দূতের সম্ভাব্য সফর নিয়ে একাধিক প্রকাশ্যে বক্তব্য দিয়েছেন, যার মধ্যে গত বৃহস্পতিবার রাতে দেওয়া বক্তব্যটি ছিল অন্যতম।
লক্ষ্যণীয় বিষয় হলো, ট্রাম্পের বর্তমান মেয়াদে কুশনার ও উইটকফ একাধিকবার মস্কো সফর করলেও এখন পর্যন্ত তারা কিয়েভ সফর করেননি। জেলেনস্কি তার সাম্প্রতিক বক্তব্যে দুই দেশের ক্ষেত্রে মার্কিন প্রতিনিধিদের এই অসম কূটনৈতিক উপস্থিতিকে ইউক্রেনের জন্য অনুচিত ও অন্যায্য বলে ক্ষোভ ও অসন্তোষ প্রকাশ করেছিলেন।
আরটি-র প্রতিবেদনটি ইউক্রেনের সামরিক সংকট ও রণক্ষেত্রের সাম্প্রতিক পরিস্থিতির ওপরও আলোকপাত করেছে। এতে বলা হয়, ইউক্রেন সরকার যুক্তরাষ্ট্রের কাছ থেকে অতিরিক্ত প্যাট্রিয়ট ইন্টারসেপ্টর ক্ষেপণাস্ত্র সরবরাহ নিশ্চিত করতে ব্যর্থ হয়েছে।
প্রতিবেদন অনুযায়ী, ইরানের বিরুদ্ধে ওয়াশিংটনের যুদ্ধের কারণে মার্কিনদের নিজেদেরই এই মূল্যবান দূরপাল্লার অস্ত্রের মজুত আশঙ্কাজনকভাবে হ্রাস পেয়েছে, যার ফলে ইউক্রেনের এই দাবি পূরণ করা সম্ভব হয়নি।
ইউক্রেনের প্রেসিডেন্ট জেলেনস্কি সতর্ক করে জানিয়েছিলেন, শীতকালে রাশিয়ার সম্ভাব্য ক্ষেপণাস্ত্র হামলা প্রতিহত করার জন্য কিয়েভের অন্তত ৩০০টি প্যাট্রিয়ট ক্ষেপণাস্ত্রের প্রয়োজন ছিল।