রাজধানীর বনানীতে এলিভেটেড এক্সপ্রেসওয়ে থেকে গতকাল শুক্রবার ইসমাইল হোসেনের (৫০) মুখে স্কচটেপ পেঁচানো ও রক্তাক্ত লাশ উদ্ধার করা হয়। হত্যার আগে তার মুখে ঘুষি মারা হয়। তার সাথে থাকা সাড়ে পাঁচ লাখ টাকা ছিনিয়ে নিতে অপহরণ করে নির্যাতন করা হয়েছে। পরে শ্বাসরোধ করে হত্যা করা হয়েছে। এমনটি ধারণা তার পরিবারের।
বনানী থানার কনস্টেবল মোস্তাফিজুর রহমান চরচাকে বলেন, “তার সাথে টাকা ছিল সাড়ে পাঁচ লাখ। তার নিকট থেকে মনে হয় টাকা নিতে চেয়েছে। টাকা না দেওয়ায় মারধর করছে। পরে মুখে টেপ পেঁচিয়ে শ্বাসরোধ করে মারছে। মোবাইল টাকা সব নিয়ে ঘাতক চলে গেছে।”
ইসমাইল হোসেন স্বপরিবারে পাঁচ বছর ধরে গাজীপুর কোনাবাড়িতে ভাড়া থাকতেন। ইসমাইল একটি সুতার কারখানার নিরাপত্তা কর্মকর্তার দায়িত্বে ছিলেন। নয় মাস কোমরের হাড়ের সমস্যার কারণে পরিবারের কথায় চাকরি ছেড়ে দেন। এর আগে নিজ এলাকায় মুদির দোকান দিয়ে লোকসান করে গাজীপুর চলে আসেন।
নিহত ইসমাইলের মেয়ে শারমিন আক্তারের উচ্চ মাধ্যমিক পরীক্ষা শেষ হওয়ার পর বিয়ের কথা শুরু হয়। মেয়ের বিয়ের টাকা জোগাড় করতে চার মাস আগে গ্রামের বাড়ি জামালপুরের জমি বিক্রি করতে গিয়েছিলেন। গত বৃহস্পতিবার জমি বিক্রি করে সাড়ে পাঁচ লাখ টাকা নিয়ে দিবাগত রাত সাড়ে ৩টায় গ্রামের বাড়ি থেকে গাজীপুরের উদ্দেশ্যে রওনা দেন। এর আগে রাত সাড়ে ১১টায় ছেলের সাথে ফোনে এর কিছুক্ষণ পর স্ত্রী ও মেয়ের সাথে ভিডিও কলে কথা হয়।
এসব তথ্য চরচাকে নিশ্চিত করেছেন নিহত ইসমাইলের ছেলে মোহাম্মদ হাসান।
এ ঘটনায় হাসান বাদি হয়ে বনানী থানায় একটি হত্যা মামলা দায়ের করেন। আজ শনিবার বিকেল ৩টায় ময়নাতদন্ত শেষে ইসমাইলের লাশ পরিবারের কাছে হস্তান্তর করা হয়।
বনানী থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা ফরিদুল ইসলাম বলেন, “হত্যাকাণ্ডের রহস্য উদঘাটনে এক্সপ্রেসওয়ের সিসিটিভি ফুটেজ বিশ্লেষণ করা হচ্ছে। ইতোমধ্যে কয়েকটি গাড়ি শনাক্ত করা হয়েছে। এসব গাড়ি আটক করা সম্ভব হলে হত্যার কারণ ও জড়িতদের বিষয়ে গুরুত্বপূর্ণ তথ্য পাওয়া যেতে পারে।”