ইসরায়েলে নিযুক্ত যুক্তরাষ্ট্রের রাষ্ট্রদূত মাইক হাকাবি আজ শনিবার অধিকৃত পশ্চিম তীরের একটি ফিলিস্তিনি শহরে ফিলিস্তিনিদের সঙ্গে সাক্ষাৎ করেছেন। তাদের মধ্যে ছিলেন ইসরায়েলি বসতি স্থাপনকারীদের হাতে নিহত যুক্তরাষ্ট্রের নাগরিকদের পরিবারের সদস্যরাও। শহরটি বারবার বসতি স্থাপনকারীদের হামলার শিকার হয়েছে।
২০২২ সালের শেষ দিকে ইসরায়েলের ইতিহাসে সবচেয়ে কট্টর ডানপন্থী প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহুর জোট সরকার ক্ষমতায় আসার পর পশ্চিম তীরে বসতি স্থাপনকারীদের সহিংসতা উল্লেখযোগ্যভাবে বেড়েছে।
বার্তা সংস্থা রয়টার্স এক প্রতিবেদনে এই তথ্য জানিয়েছে।
শনিবার হাকাবি রামাল্লাহর কাছে অবস্থিত ফিলিস্তিনি শহর তুরমুস আইয়া সফর করেন। এর আশপাশে বেশ কয়েকটি ইসরায়েলি বসতি গড়ে উঠেছে। শহরটির বাসিন্দারা বলছেন, উগ্রপন্থি ইসরায়েলি বসতি স্থাপনকারীদের হয়রানি সেখানে নিত্যদিনের ঘটনা। তারা শহরে ঢুকে বাড়িঘরে ক্ষতিসাধন করছে, কিন্তু তাদের ঠেকানোর ক্ষমতা বাসিন্দাদের নেই।
বৈঠকের আগে সাংবাদিকদের নওয়াফ জাগুল বলেন, “আমাদের অনেকগুলো সমস্যা রয়েছে, যেগুলো আমরা তুলে ধরব।” শহরটির মেয়র ইসরায়েলি বসতি স্থাপনকারীদের অব্যাহত হামলার কথা উল্লেখ করেন।
তিনি বলেন, শহরের বাসিন্দারা তাদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে সহায়তা করার জন্য রাষ্ট্রদূতের কাছে আবেদন করবেন। তার ভাষ্য অনুযায়ী, শহরটির প্রায় ৩ হাজার বাসিন্দার প্রায় ৮০ শতাংশই ফিলিস্তিনি-আমেরিকান।
ব্যাপ্টিস্ট ধর্মযাজক এবং দীর্ঘদিন ধরে ইসরায়েলি বসতিগুলোর সমর্থক হাকাবি সহিংসতায় জড়িত বসতি স্থাপনকারীদের বিচারের আওতায় আনার আহ্বান জানিয়েছেন। তবে তিনি বলেছেন, তার বিশ্বাস, তাদের কর্মকাণ্ড বৃহত্তর বসতি স্থাপনকারী সম্প্রদায়ের একটি সংখ্যালঘু অংশের প্রতিনিধিত্ব করে। পশ্চিম তীরে বসতি স্থাপনকারীর সংখ্যা প্রায় ৭ লাখ ৫০ হাজার। পশ্চিম তীরে ফিলিস্তিনিদের লক্ষ্য করে হামলা চালানোর অভিযোগে অভিযুক্ত ইসরায়েলি বসতি স্থাপনকারীদের খুব কম ক্ষেত্রেই বিচারের মুখোমুখি করা হয়।
রাষ্ট্রদূতের সঙ্গে বৈঠকের আগে তুরমুস আইয়ার বাসিন্দা সামির হাজামা বলেন, “আমরা আশা করছি, এসব আইনভঙ্গকারী বসতি স্থাপনকারীদের বিষয়ে রাষ্ট্রদূত আমাদের জন্য কিছু করবেন।”
২০২৫ সালের জুনে পশ্চিম তীরের অবশিষ্ট কয়েকটি খ্রিস্টান গ্রামের একটি তাইবেহ সফর করেছিলেন হাকাবি। ওই সময় সেখানে একটি গির্জা ভাঙচুর করা হয়েছিল। তখন হাকাবি বলেছিলেন, উপাসনালয়ের অবমাননা একটি সন্ত্রাসী কর্মকাণ্ড ও অপরাধ।
নেতানিয়াহুর সরকার পশ্চিম তীরজুড়ে ইসরায়েলি বসতি সম্প্রসারণেরও তদারকি করেছে। এর ফলে ওই ভূখণ্ডের ওপর ইসরায়েলের নিয়ন্ত্রণ আরও সুদৃঢ় হয়েছে। যদিও এই ভূখণ্ডকে ফিলিস্তিনিরা ভবিষ্যৎ রাষ্ট্রের অংশ হিসেবে দাবি করে আসছে।
আন্তর্জাতিক আইনে পশ্চিম তীরে ইসরায়েলি বসতিগুলো অবৈধ। জাতিসংঘ এবং অধিকাংশ দেশ এই ভূখণ্ডকে অধিকৃত এলাকা হিসেবে বিবেচনা করে। তবে ইসরায়েল সরকার বলে আসছে, এটি অধিকৃত নয়, বরং বিরোধপূর্ণ ভূখণ্ড।