পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী শামা ওবায়েদ ইসলাম বলেছেন, সরকার প্রবাসী বাংলাদেশি ও রেমিট্যান্স উপার্জনকারীদের অত্যন্ত গুরুত্বের সঙ্গে দেখে। তবে দালালচক্রের মাধ্যমে অবৈধ অভিবাসন এখনো গুরুতর উদ্বেগের বিষয়। বাংলাদেশি অভিবাসীরা অবৈধভাবে এবং বিপজ্জনক পথে ইতালি ও স্পেনে যেতে দালালচক্রের শিকার হচ্ছেন।
এই অভিবাসন মোকাবিলায় আন্তর্জাতিক অভিবাসন সংস্থা (আইওএম) এবং প্রবাসী কল্যাণ ও বৈদেশিক কর্মসংস্থান মন্ত্রণালয়ের সঙ্গে পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় ঘনিষ্ঠভাবে কাজ করছে। প্রথমবারের মতো পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় অবৈধ অভিবাসন ও প্রবাসী বাংলাদেশিদের বিভিন্ন সমস্যা মোকাবিলায় একটি পৃথক মাইগ্রেশন উইং প্রতিষ্ঠা করেছে।
তিনি বলেন, “আমরা এই সমস্যা সমাধানে কাজ করছি এবং বর্তমান প্রধানমন্ত্রী সরাসরি পদক্ষেপ নিয়েছেন।”
আজ শনিবার বেসরকারি গবেষণা প্রতিষ্ঠান সেন্টার ফর নন-রেসিডেন্ট বাংলাদেশি (সেন্টার ফর এনআরবি) আয়োজিত ‘আপকামিং ইউএনজিএ অ্যান্ড ব্র্যান্ডিং অব বাংলাদেশ’ শীর্ষক অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এ কথা বলেন।
বার্তা সংস্থা ইউএনবি এক প্রতিবেদনে এই তথ্য জানিয়েছে।
শামা ওবায়েদ বলেন, আরও কার্যকর কারিগরি প্রশিক্ষণ ও দক্ষতা উন্নয়নের মাধ্যমে দক্ষ কর্মী বিদেশে পাঠানোর ওপরও সরকার গুরুত্ব দিচ্ছে, যার লক্ষ্য নারী-পুরুষ উভয়ের জন্য মর্যাদাপূর্ণ ও বৈধ কর্মসংস্থান নিশ্চিত করা।
অবৈধ অভিবাসন ও দালালচক্রের ঝুঁকি সম্পর্কে সম্ভাব্য অভিবাসীদের সচেতন করতে অনাবাসী বাংলাদেশি সম্প্রদায়ের সহায়তা চান তিনি।
শামা ওবায়েদ বলেন, “সরকারি সংস্থাগুলো তৃণমূল পর্যায়ে কাজ শুরু করেছে। অবৈধ অভিবাসন বেশি হয়—এমন জেলাগুলো চিহ্নিত করে সমস্যা মোকাবিলায় স্থানীয় প্রশাসনের সঙ্গে সমন্বয় করা হচ্ছে।”
সরকার ভিসা অন অ্যারাইভাল-সংক্রান্ত বিধানসহ ভিসা প্রক্রিয়া সহজ করার কাজ করছে এবং সংশোধিত নীতিটি সংসদে উপস্থাপনের কথা রয়েছে বলেও জানান তিনি।
তিনি বলেন, “প্রধানমন্ত্রী যা কিছু করছেন, তার সবকিছুর লক্ষ্য বাংলাদেশকে আরও বিনিয়োগবান্ধব করে তোলা।…বিদেশি বিনিয়োগকারী ও অনাবাসী বাংলাদেশিদের (এনআরবি) জন্য আরও বিনিয়োগবান্ধব পরিবেশ তৈরিতে কাজ করছেন।”
প্রতিমন্ত্রী বলেন, আমরা এমন একটি পরিবেশ তৈরি করতে চাই, যেখানে আমাদের বাংলাদেশিরা বিনিয়োগ করতে দেশে ফিরে আসবেন এবং বিদেশিরাও এখানে বিনিয়োগ করবেন।
তিনি আরও বলেন, “বিভিন্ন সেবার জন্য বিনিয়োগকারীদের যেন একাধিক সরকারি দপ্তরে যেতে না হয়, সে জন্য ডিজিটাল সেবা ও ওয়ান-স্টপ ব্যবস্থার মাধ্যমে বিনিয়োগ প্রক্রিয়া সহজ করার কাজও করছে সরকার।”
ব্যবসা পরিচালনা সহজ করতে নিবন্ধন, কোম্পানির নাম নিবন্ধনসহ অন্য প্রক্রিয়ায় অনলাইন সুবিধা সম্প্রসারণ করা হচ্ছে বলেও জানান শামা।
সেন্টার ফর এনআরবির চেয়ারম্যান এম এস শেকিল চৌধুরী জানান, আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের কাছে বাংলাদেশের ইতিবাচক অগ্রগতি তুলে ধরতে সংগঠনটি তাদের বার্ষিক ‘ওয়ার্ল্ড কনফারেন্স সিরিজ’-এর অংশ হিসেবে এই অনুষ্ঠানের আয়োজন করেছে। তিনি বলেন, এই সিরিজের লক্ষ্য বাংলাদেশের সঙ্গে বৈশ্বিক সম্পৃক্ততা আরও গভীর করা এবং প্রবাসী বাংলাদেশিদের দেশে বিনিয়োগে উৎসাহিত করা ও বৈধ চ্যানেলে তাদের আয় দেশে পাঠাতে উৎসাহ দেওয়া।