বিশ্বসাহিত্য কেন্দ্রের সভাপতি ও প্রধান নির্বাহী অধ্যাপক আবদুল্লাহ আবু সায়ীদ বলেছেন, “বই পড়া কর্মসূচি সারা দেশে ছড়িয়ে দেওয়ার যাত্রায় অনেক কষ্ট হয়েছে, অনেকের সাহায্যও পাওয়া গেছে। ব্যক্তিগত, সামাজিক, বিভিন্ন প্রতিষ্ঠান ও সরকারের পৃষ্ঠপোষকতা পেয়েছি। সরকারের বাইরে যে প্রতিষ্ঠানগুলো বড় সহায়তা দিয়েছে, তার মাঝে একটি প্রতিষ্ঠান বিকাশ।”
দেশের শিক্ষা প্রতিষ্ঠানগুলোতে বইপড়া কর্মসূচি ছড়িয়ে দিতে বিশ্বসাহিত্য কেন্দ্র ও বিকাশের অংশীদারিত্বের ১২ বছর পূর্তি উপলক্ষে গতকাল শুক্রবার রাজধানীতে আয়োজিত সম্মেলনে এক ভিডিও বার্তায় তিনি এসব কথা বলেন।
আজ শনিবার এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে এই তথ্য জানিয়েছে বিকাশ।
বিশ্বসাহিত্য কেন্দ্রের সভাপতি বলেন, “এই ১২ বছরে আমরা বিকাশের কাছ থেকে চার লাখ বই পেয়েছি যা দেশজুড়ে বিভিন্ন শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে দেওয়া হয়েছে। এই চার লাখ বই অন্তত ৩২ লাখ ছেলে-মেয়ে পড়েছে। বিকাশ যদি এই অর্থটা অন্য জায়গায় বিনিয়োগ করতো, তাহলে হয়তো ব্যবসায়ীকভাবে একটু লাভবান হতো। কিন্তু সেটা না করে এখানে করাতে বিকাশ লাভবান হয়েছে কিনা জানি না, কিন্তু জাতি লাভবান হয়েছে।”
তিনি বলেন, “এতো ছোট্ট একটা দেশ, এতো বড় জনসংখ্যা! পৃথিবীর শ্রেষ্ঠ মানুষের পক্ষেও এই দেশকে সমৃদ্ধির দিকে নিয়ে যাওয়া কঠিন, কিন্তু আমরা যদি সবাই চেষ্টা করতে থাকি, যে যার জায়গা থেকে চেষ্টা করি, তাহলে অসম্ভব বলে কিছু নেই।”
বিশ্বসাহিত্য কেন্দ্রের এই লক্ষ্যকে নিজেদের সামাজিক দায়বদ্ধতার অংশ হিসেবে ২০১৪ সাল থেকে টানা ১২ বছর ধরে বইপড়া কর্মসূচির সঙ্গে যুক্ত রয়েছে বিকাশ। বিকাশের সহায়তায় বিতরণ করা বইগুলো প্রায় তিন হাজার শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে পৌঁছেছে, যার মাধ্যমে ৩২ লাখের বেশি শিক্ষার্থী ও পাঠক সরাসরি উপকৃত হয়েছেন।
সম্মেলনে প্রধান অতিথি ছিলেন শিক্ষামন্ত্রী ড. আ ন ম এহছানুল হক মিলন।
অন্যদের মধ্যে উপস্থিত ছিলেন বিকাশের প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা কামাল কাদীর, চিফ এক্সটার্নাল অ্যান্ড করপোরেট অ্যাফেয়ার্স অফিসার মেজর জেনারেল শেখ মো. মনিরুল ইসলাম (অব.) এবং বিশ্বসাহিত্য কেন্দ্রের নির্বাহী পরিচালক খোন্দকার মো. আসাদুজ্জামান।
এছাড়াও, বিভিন্ন বিদ্যালয়ের তিন শতাধিক শিক্ষার্থী ও তাদের শিক্ষকসহ সমাজের বিশিষ্ট ব্যক্তিরা এই সম্মেলনে যোগ দেন।