
নেপালে কি আরও দুর্যোগ আসছে?
গত ২৬ আগস্ট নেপাল ও তিব্বত সীমান্তে হওয়া ভয়াবহ আকস্মিক বন্যার এক সপ্তাহের বেশি সময় পেরিয়েছে। কিন্তু দুর্যোগের পুরো চিত্র এখনো স্পষ্ট হয়নি। তবে কীভাবে এই দুর্যোগ শুরু হয়েছিল, তা মোটামুটি জানা গেছে।

আমন ধান রোপণ প্রায় শেষ, কিন্তু রাজবাড়ীর কৃষকের স্বস্তি নেই। রোপণের সময় টিএসপি, ডিএপি ও এমওপি সারের জন্য গুনতে হয়েছে অতিরিক্ত দাম। দুশ্চিন্তা ছিল প্রয়োজন অনুযায়ী প্রাপ্যতা নিয়ে। রোপণের পর সেই দুশ্চিন্তা দখল করেছে ইউরিয়া সারের সরবরাহ ঘিরে। নির্ধারিত দামের চেয়ে বেশি দামে সার কিনতে বাধ্য হচ্ছেন কৃষক।
সরকার নির্ধারিত দামে ৫০ কেজির এক বস্তা ইউরিয়ার দাম এক হাজার ৩৫০ টাকা। অর্থাৎ, প্রতি কেজি ২৭ টাকা। কিন্তু তৃণমূলে কৃষকদের তা কিনতে হচ্ছে কেজিতে ৩৫ থেকে ৪০ টাকায়, যা নির্ধারিত দামের চেয়ে সাত থেকে আট টাকা বেশি। শুধু রাজবাড়ীতে নয়, মোটা দাগে সারের বাড়তি দাম ও অব্যবস্থাপনাজনিত সংকটে পড়েছেন সারাদেশের কৃষক।
সারের চাহিদায় মাঠ ও স্থানীয় কৃষি অধিদপ্তরের হিসাবের পার্থক্য, সরবরাহ ব্যবস্থার ত্রুটিপূর্ণ সংস্কার, রাষ্ট্রীয় মজুত নিয়ে বিভ্রান্তিকর চিত্র এবং বদলে যাওয়া কৃষি সংস্কৃতির কারণে সার নিয়ে সারাদেশে অস্থিরতা দেখা গেছে।
রাজবাড়ী জেলার সারের চাহিদা নিয়ে কৃষি বিভাগের হিসাব আর মাঠের বাস্তব চাহিদার মধ্যে বড় ব্যবধানের চিত্র পাওয়া গেছে।
কৃষি বিপণন কর্মকতা নাঈম আহমেদ চরচাকে বলেন, “কৃষি কর্মকর্তারা বৈজ্ঞানিক পদ্ধতিতে যে চাহিদা নিরূপণ করেছেন, তা মানতে নারাজ অনেক কৃষক। কৃষকরা এখনো অন্য চাষির অভিজ্ঞতা ও পরামর্শ, ফার্মেসি থেকে ডাক্তারের পরামর্শ ছাড়া ওষুধ সংগ্রহের মতোই জমির পরিমাণের ভিত্তিতে ডিলারের দেওয়া হিসাব অনুযায়ী সারের পরিমাণ প্রক্ষেপণ করেন। সে কারণে অনেকেই প্রয়োজন অনুযায়ী সার না পাওয়ার অভিযোগ করছেন।”
তবে কৃষি কর্মকর্তার এই কথা মানতে নারাজ কৃষকরা। তাদের দাবি, কৃষি কর্মকর্তাদের সময়মতো পাওয়া যায় না। তাদের অনেকের অভিযোগ, ইউনিয়ন পর্যায়ে উপ-সহকারী কৃষি কর্মকর্তাদের অফিস থাকলেও তারা নিয়মিত সেখানে উপস্থিত থাকেন না। মূলত প্রভাবশালী বা রাজনৈতিকভাবে পরিচিত ব্যক্তিরাই সেবা ও প্রশিক্ষণে এখনো অগ্রাধিকার পাচ্ছে।
তবে দুই পক্ষের সাথে কথা বলে, চাহিদা নিয়ে কোনো পক্ষের দাবিই প্রকৃত দাবি নয় বলে জানান স্থানীয় সাংবাদিক নিরঞ্জন চক্রবর্তী। হিসাবে ডিলারকেন্দ্রিক কারসাজি আছে বলেও মনে করেন তিনি।
প্রকৃত চাহিদার কোনো হিসাব নেই
বলা হচ্ছে, রাজবাড়ীতে টিএসপি সারের চাহিদা ছয় হাজার মেট্রিক টন। কিন্তু বরাদ্দ দেওয়া হয়েছে তিন হাজার মেট্রিক টন। অর্থাৎ, চাহিদার অর্ধেক। ডিএপি ও এমওপির বরাদ্দও একইভাবে চাহিদার তুলনায় প্রায় অর্ধেক বা তারও কম।
কিন্তু এই হিসাব এল কোথা থেকে?
কৃষি বিশেষজ্ঞরা বলছেন, আগের বছরের বিক্রি ও অন্যান্য হিসাব মিলিয়ে ডিলার দিচ্ছে চাহিদার হিসাব। এর সাথে কৃষি জমির বাস্তবতার কোনো সম্পর্ক নেই। আবার কৃষি বিপণন অধিদপ্তর যে তিন হাজার টন বরাদ্দ দিয়েছে, তারও কোনো বৈজ্ঞানিক ভিত্তি নেই। কারণ, জেলার সব জমির মাটি পরীক্ষা ছাড়াই সারাদেশের চাহিদার গড় একটি হিসাব করেই জেলার চাহিদা নির্ধারণ করেছে। এই যে প্রকৃত চাহিদা ও সরবরাহের গরমিল, তা নিয়ে কুড়িগ্রাম, রাজশাহী, সিরাজগঞ্জসহ দেশের বিভিন্ন স্থানে বিক্ষোভ ও সারের ডিলার পয়েন্ট লুটের মতো ঘটনা ঘটেছে।
মাটি পরীক্ষা নিয়েও আছে জটিলতা। খাত সংশ্লিষ্টরা বলছেন, সরকারি ফি মাত্র ৫০ টাকা হলেও ফলাফল পেতে ১৫ থেকে ২০ দিন সময় লাগে। এই দীর্ঘসূত্রতার কারণে কৃষকরা কৃষি অফিসের পরামর্শের বদলে স্থানীয় সার বিক্রেতাদের পরামর্শে অনুমাননির্ভর সার ব্যবহার করছেন, যা মাটির স্বাস্থ্য ও সারের সঠিক ব্যবহারের ক্ষেত্রে দীর্ঘমেয়াদী ঝুঁকি তৈরি করছে।
সরবরাহ ব্যবস্থাপনায় পরিবর্তন হয়েছে?
বিএনপি নেতৃত্বাধীন সরকারের নতুন সার নীতিমালায় সরবরাহ ব্যবস্থায় কাঠামোগত পরিবর্তনের উদ্যোগ নেওয়া হলেও এর বাস্তব প্রয়োগ ও প্রভাব নিয়ে মাঠপর্যায়ে তৈরি হয়েছে অস্থিরতা। আগস্টে জারি করা সংশোধিত নীতিমালা এবং পরে প্রকাশিত সমন্বিত নীতিমালায় বিসিআইসি ও বিএডিসির পৃথক ডিলার ব্যবস্থা বিলুপ্ত করে ইউরিয়া ও নন-ইউরিয়া সার বিক্রিতে একক ডিলার কাঠামো, ইউনিয়ন ও পৌরসভাভিত্তিক ডিলার সংখ্যা নির্ধারণ, সাব-ডিলার ও খুচরা বিক্রেতা ব্যবস্থা পর্যায়ক্রমে বিলুপ্তি, আর্থিক সক্ষমতা ও গুদামসংক্রান্ত কঠোর শর্ত, একই পরিবারের একাধিক সদস্যের ডিলার হওয়ার ওপর নিষেধাজ্ঞা এবং নিয়মিত নবায়নের বিধান রাখা হয়।
কিন্তু বাস্তবতা হচ্ছে বিদ্যমান ডিলারদের বহাল রেখে রাজনৈতিক বিবেচনায় শূন্য পদে নিয়োগ দেওয়া হয়েছে। ফলে নতুন কাঠামো কাগজে সরবরাহ ব্যবস্থাকে কেন্দ্রীভূত ও নিয়ন্ত্রিত করলেও বিদ্যমান স্বার্থসংশ্লিষ্ট গোষ্ঠী ও ডিলার নেটওয়ার্ক একটি অসাধু চক্র গড়ে তুলেছে বলে অভিযোগ করছেন কৃষকরা।
রাজনৈতিক বিবেচনায় নিয়োগপ্রাপ্ত মূল ডিলাররা বেশি লাভের আশায় বরাদ্দকৃত সার সাব-ডিলারদের না দিয়ে অন্য জায়গায় সরিয়ে ফেলছেন বলে বিভিন্ন গণমাধ্যমের খবরে উঠে এসেছে। এমনকি অনেক ডিলারের নিজ ইউনিয়নে কোনো গুদাম বা দোকানই নেই।
যেমন রাজবাড়ীর এক ডিলার জেলা সদর থেকেই কার্যক্রম চালান। এই ফাঁক গলে মানিকগঞ্জ বা গোপালগঞ্জের মতো এলাকা থেকে (যেখানে বর্তমানে আবাদ নেই) অবৈধভাবে সার এনে রাজবাড়ীতে চড়া দামে বিক্রি করছে বলে নাম প্রকাশ না করার শর্তে স্বীকার করেন একজন ডিলার।
এর পক্ষে যুক্তি হিসেবে তিনি বলেন, “কেজিপ্রতি মাত্র ৫০ পয়সা লাভে সার বিক্রি তাদের জন্য অলাভজনক। আর এ কারণে সরকার নির্ধারিত দামের সাথে বাজারদরের পার্থক্য দেখা যাচ্ছে।”
মজুতের হিসাব নিয়ে সন্দেহ
জাতীয় পর্যায়ে সরকারের দাবি- মোট সার মজুত প্রায় ১৩ লাখ ৬৫ হাজার টন, যা চলতি মৌসুমের চাহিদা মেটাতে যথেষ্ট। তবে টিএসপি, ডিএপি ও এমওপি- এই তিন ধরনের সারের ক্ষেত্রে কৃষি মন্ত্রণালয়েরই হিসাব বলছে মজুত নির্ধারিত নিরাপদ সীমার নিচে।
কৃষি অধিদপ্তরের হিসাবে, দেশে টিএসপি মজুত আছে তিন লাখ ৫৩ হাজার টন (নিরাপদ সীমা চার লাখ টন), ডিএপি মজুত তিন লাখ ৯০ হাজার টন (নিরাপদ সীমা পাঁচ লাখ টন), এমওপি মজুত এক লাখ ৯৬ হাজার টন (নিরাপদ সীমা তিন লাখ টন)।
অর্থাৎ, তারিখভেদে বিভিন্ন গুদামে পরিমাণের এদিক-সেদিক হওয়া সংখ্যায় সামান্য পার্থক্য থাকলেও টিএসপি, ডিএপি ও এমওপি- তিনটিই নিরাপদ মজুত সীমার নিচে বলে দেখা যাচ্ছে। আর এই হিসাব সরকারি।
দেশের সাতটি রাষ্ট্রায়ত্ত সার কারখানার মধ্যে বর্তমানে মাত্র একটি পূর্ণমাত্রায় চালু আছে। বাকি পাঁচটি গ্যাস সংকটে বন্ধ, একটি আংশিক সচল।
বাংলাদেশ কেমিক্যাল ইন্ডাস্ট্রিজ করপোরেশন (বিসিআইসি) ও কৃষি মন্ত্রণালয়ের তথ্য অনুযায়ী, গত অর্থবছরে দেশে সারের মোট চাহিদা ছিল ৬৬ লাখ টন। কিন্তু কারখানাগুলো উৎপাদন করতে পেরেছে মাত্র ১১ লাখ ৬ হাজার টন। অর্থাৎ, চাহিদার মাত্র ১৭ শতাংশ। বাকি ৮৩ শতাংশের বেশি আমদানি করে মেটাতে হয়েছে। কারখানাগুলো পূর্ণ সক্ষমতায় চালাতে দৈনিক প্রায় ১৯৭ মিলিয়ন ঘনফুট গ্যাস দরকার হলেও প্রায়ই মেলে তার তিন ভাগের এক ভাগ।
এই গ্যাস সংকটের পেছনে রয়েছে একাধিক কারণ। দেশীয় গ্যাসক্ষেত্রগুলোর উৎপাদন ধারাবাহিকভাবে কমে আসা, আমদানি করা তরল প্রাকৃতিক গ্যাসের (এলএনজি) একটি ভাসমান টার্মিনালে কারিগরি ত্রুটি এবং মধ্যপ্রাচ্যের চলমান উত্তেজনার কারণে এলএনজি সরবরাহে বিঘ্ন। ফলে সরকার সার কারখানার বদলে বিদ্যুৎ ও অন্যান্য জরুরি খাতে গ্যাস সরিয়ে নিয়েছে, এতে সার উৎপাদন ব্যাহত হয়েছে।
দেশে সারের সংকট নিরসনে নিজস্ব উৎপাদনকে গুরুত্ব দেওয়া জরুরি বলে মনে করেন বিশেষজ্ঞরা। তাদের মতে, কৃষি খাতে স্থিতিশীলতা আনতে সারের চাহিদা মেটাতে নিজেদের কারখানাগুলোর দিকে নজর না দিলে সংকট বাড়বে বৈ কমবে না।
বাংলাদেশ কৃষি গবেষণা কাউন্সিলের সাবেক সদস্য ও কৃষি অর্থনীতিবিদ জাহাঙ্গীর আলম খান বলেন, “একসময় দেশ নিজের চাহিদার প্রায় ৮০ শতাংশ সার নিজেই উৎপাদন করত। এখন ইউরিয়ার ক্ষেত্রে উল্টো চিত্র। ৮০ শতাংশ আমদানি করতে হয়, মাত্র ২০ শতাংশ দেশে উৎপাদিত হয়, আর সেই পরিমাণও সব সময় অর্জিত হয় না।”
নিজস্ব কারখানা বন্ধ রেখে শত শত কোটি ডলার খরচ করে সার আমদানি করা তার ভাষায় ‘চূড়ান্ত অদূরদর্শিতা’।
যে পরিবর্তন আমলে নেওয়া হয়নি
সময়ে সাথে কৃষি কাঠামোতেও একটি বড় পরিবর্তন ঘটে গেছে, যা প্রশাসনিক তথ্যভাণ্ডারে প্রতিফলিত হয়নি এখনো। বাস্তবতা হচ্ছে, জমির প্রকৃত মালিকরা এখন আর নিজেরা চাষাবাদ করেন না। বরং, ভূমিহীন, প্রান্তিক চাষিরা জমি লিজ নিয়ে চাষ করছেন। কিন্তু কৃষি অফিসের তথ্যভাণ্ডারে এই প্রকৃত চাষিদের কোনো তথ্য নেই। তারা এখনো কেবল জমির মালিকদেরই কৃষক হিসেবে চেনে। ফলে সরকারি সুবিধা ও প্রশিক্ষণ প্রকৃত চাষির কাছে পৌঁছায় না। এমনকি প্রভাবশালী কৃষকরা কৃষি অফিসের স্লিপ নিয়ে ডিলারের কাছে গেলেও চাহিদামতো সার পাচ্ছেন না বলে অভিযোগ করছেন অনেকে। তাদের দাবি, সাধারণ কৃষকদের জন্য সরকারি দরে সার পাওয়ার কোনো নজির এ মৌসুমে পাওয়া যায়নি।
এই সংকটকে বিচ্ছিন্ন কোনো স্থানীয় সমস্যা হিসেবে দেখছে না আন্তর্জাতিক সংস্থাগুলো। বিশ্বব্যাংক চলতি বছরের জুন মাসে বাংলাদেশের জন্য ১১০ কোটি ডলারের জরুরি সহায়তা অনুমোদন করেছে, যার একটি বড় অংশ ৩০ কোটি ডলার নির্দিষ্টভাবে বরাদ্দ করা হয়েছে আমন ও বোরো মৌসুমের জন্য জরুরি সার আমদানিতে।
সংস্থাটির মূল্যায়ন অনুযায়ী, মধ্যপ্রাচ্যের সংঘাত থেকে সৃষ্ট সার ও জ্বালানি বাজারের অস্থিরতা বাংলাদেশের অর্থনীতিতে গভীর আঘাত হেনেছে। এই আঘাতের সবচেয়ে বড় ভুক্তভোগী ক্ষুদ্র কৃষক এবং দরিদ্র ও ঝুঁকিপূর্ণ জনগোষ্ঠী।
বিশ্বব্যাংক বলছে, বাংলাদেশের মোট চাল উৎপাদনের প্রায় ৯০ শতাংশ আসে আমন ও বোরো মৌসুম থেকে, আর দেশের প্রায় অর্ধেক জনগোষ্ঠী কৃষিতে নিয়োজিত। তাই সার সরবরাহে যেকোনো বিঘ্ন কেবল খাদ্য নিরাপত্তা নয়, দারিদ্র্য ও কর্মসংস্থানকেও সরাসরি ঝুঁকিতে ফেলে।
মজুত: কৃষি মন্ত্রণালয় যা বলছে
গত পাঁচ বছরের মধ্যে বর্তমানে সারের সর্বোচ্চ মজুত রয়েছে বলে দাবি কৃষিমন্ত্রী ও সচিবের। বিভিন্ন সময়ে তারা এ নিয়ে বক্তব্য দিয়েছেন। তাদের দাবি, কিছু অসাধু ব্যবসায়ী কৃত্রিম সংকট তৈরি করে বাজার অস্থিতিশীল করে তুলছে এবং এর বিরুদ্ধে জিরো টলারেন্স নীতি নেওয়া হয়েছে।
মন্ত্রণালয়ের তথ্য অনুযায়ী, জুলাই, আগস্ট ও সেপ্টেম্বরের জন্য পর্যাপ্ত মজুত রয়েছে এবং তা অক্টোবর পর্যন্ত চাহিদা মেটাতে সক্ষম। ডিলারদের জবাবদিহিতার আওতায় আনতে এবং কালোবাজারি ঠেকাতে সম্প্রতি একটি সংশোধিত ডিলার নিয়োগ ও বিতরণ নীতিমালা জারি করেছে মন্ত্রণালয়, যাতে প্রতিটি উপজেলায় ন্যূনতম নয়জন ডিলার রাখা, ডিলারদের গুদাম সক্ষমতা নিশ্চিত করা এবং জেলা প্রশাসকের নেতৃত্বে নিয়মিত তদারকি কমিটি গঠনের বিধান রাখা হয়েছে। কিন্তু মাঠের বাস্তবতা নিয়ে আগেই আলোচনা করা হয়েছে।
সিপিডির গবেষণা ফেলো শামীম আলম শিবলী সম্প্রতি বলেছেন, “সরকার জনগণের আতঙ্ক এড়াতে ‘সংকট নেই’ বলে দাবি করলেও সরবরাহ বিঘ্ন ও আমদানি অনিশ্চয়তা বাজারে প্রকৃতপক্ষে একটি কৃত্রিম সংকট তৈরি করেছে।”
অব্যবস্থাপনাতেই সংকট, বলছেন বিশেষজ্ঞরাও
কৃষি অর্থনীতিবিদদের একটি বড় অংশের মূল্যায়ন হলো- বাংলাদেশের সার সংকট প্রকৃত সরবরাহ ঘাটতির কারণে নয়। বরং সরবরাহ ও বিতরণ ব্যবস্থাপনার ত্রুটির সমস্যা।
বাংলাদেশ কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়ের কৃষি অর্থনীতি বিভাগের অধ্যাপক ছাদেকা হক চরচাকে বলেন, “বাংলাদেশে সারের সংকট মূলত প্রকৃত ঘাটতির কারণে নয়। বরং, সরবরাহ শৃঙ্খলের ত্রুটির কারণে সৃষ্ট। অনুমোদিত ডিলারের দোকানে সার নেই বলা হলেও পাশের খুচরা দোকানে বেশি দামে তা পাওয়া যাচ্ছে- এটাই প্রমাণ করে সমস্যাটা বণ্টন ব্যবস্থাপনার, সরবরাহের নয়।”
খাদ্য নিরাপত্তার ঝুঁকি ও বিশেষজ্ঞদের সতর্কতা
সামনের বোরো মৌসুমকে ঘিরে কৃষকের মধ্যে দুশ্চিন্তা তৈরি হয়েছে। চলতি আমন মৌসুম মোটামুটি সামলানো সম্ভব হলেও প্রকৃত পরীক্ষা আসছে আগামী নভেম্বর থেকে এপ্রিল পর্যন্ত বোরো মৌসুমে। ওই সময় বছরের মোট সার চাহিদার ৬০ থেকে ৭০ শতাংশ ব্যবহার হয়। দেশীয় উৎপাদন সীমাবদ্ধতা বিবেচনায় নিয়ে বোরো মৌসুমের আগেই যথেষ্ট পরিমাণ সতর্কতামূলক আমদানি মজুত গড়ে তোলার পরামর্শ দিয়েছেন কৃষি অর্থনীতিবিদরা।
কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের হিসাবে, ২০২৬-২৭ অর্থবছরে দেশে মোট সারের চাহিদা প্রায় ৬৭ থেকে ৬৭ দশমিক সাত লাখ টন, যার সিংহভাগই লাগবে নভেম্বর থেকে এপ্রিল পর্যন্ত বোরো মৌসুমে।
কৃষিবিদ ড. সায়লা খন্দকার বলেন, “আমন মৌসুম সামলানো গেলেও আসল পরীক্ষা বোরো মৌসুমে, যেখানে বছরের মোট সার চাহিদার ৬০-৭০ শতাংশ ব্যবহৃত হয়।”
তার মতে, দেশীয় উৎপাদন সীমাবদ্ধতা বিবেচনায় বোরো মৌসুমের আগে প্রায় ৩০-৪০ লাখ টন সারের সতর্কতামূলক আমদানি মজুত গড়ে তোলা প্রয়োজন। তা না হলে আমনের চেয়ে অনেক বড় সংকটের মুখে পড়তে পারে দেশের কৃষি।
বইপড়া কর্মসূচিতে বিকাশ ও বিশ্বসাহিত্য কেন্দ্রের এক যুগের যাত্রা
আইনশৃঙ্খলা নিয়ন্ত্রণে সরকার ব্যর্থ: গণতান্ত্রিক যুক্তফ্রন্ট
সরকার বলছে সারের মজুত আছে, আর কৃষক পাচ্ছে না, সংকট কোথায়
কিছু রাজনৈতিক দল ও ব্যক্তি অরাজকতা সৃষ্টির পাঁয়তারা করছে: প্রধানমন্ত্রী
‘কোনো কালো গাড়িতে তাকে কেউ পিকআপ করেছিল কি না?’

নেপালে কি আরও দুর্যোগ আসছে?
গত ২৬ আগস্ট নেপাল ও তিব্বত সীমান্তে হওয়া ভয়াবহ আকস্মিক বন্যার এক সপ্তাহের বেশি সময় পেরিয়েছে। কিন্তু দুর্যোগের পুরো চিত্র এখনো স্পষ্ট হয়নি। তবে কীভাবে এই দুর্যোগ শুরু হয়েছিল, তা মোটামুটি জানা গেছে।

ট্রাম্পের ভেনেজুয়েলা তেল চুক্তি একটি অবাস্তব ও ত্রুটিপূর্ণ উদ্যোগ
ট্রাম্প প্রশাসন ও ভেনেজুয়েলার মধ্যকার প্রস্তাবিত তেল চুক্তিটিকে কঠোরভাবে পর্যালোচনা করেছে মার্কিন প্রভাবশালী সাময়িকী ফরেন পলিসি। পত্রিকাটির জিওইকোনমিক্স ও জ্বালানি বিষয়ক সিনিয়র স্টাফ রাইটার কিথ জনসন একে অবাস্তব ও ক্রুটিপূর্ণ উদ্যোগ বলে বর্ণনা করেছেন।

চার শতাধিক কারখানা বন্ধ, কোন পথে দেশের পোশাক শিল্প
একটা সময় ছিল যখন বৈশ্বিক তৈরি পোশাক রপ্তানিতে একক দেশ হিসেবে দ্বিতীয় অবস্থানে ছিল বাংলাদেশ। চলতি বছরের এপ্রিলে জানা যায়, ২০২৫ সালে সেই অবস্থান হারিয়েছি আমরা। বাংলাদেশের স্থান দখল করেছে ভিয়েতনাম। এদিকে গতকাল বৃহস্পতিবার জাতীয় সংসদের অধিবেশনে বাণিজ্যমন্ত্রী খন্দকার আব্দুল মুক্তাদির বলেছেন, গত

ডেটা সেন্টার কেন যুক্তরাষ্ট্রের অন্যতম রাজনৈতিক ইস্যু হয়ে উঠল
যুক্তরাষ্ট্রকে যেন তাড়া করে বেড়াচ্ছে ডেটা সেন্টারের ভূত। কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার (এআই) উত্থানকে শক্তি জোগানো কম্পিউটার ভর্তি বিশাল গুদামঘরগুলো এখন যুক্তরাষ্ট্রে প্রায় সব ধরনের অবকাঠামোর চেয়েই কম জনপ্রিয়। এমনকি পারমাণবিক বিদ্যুৎকেন্দ্রের চেয়েও ডেটা সেন্টার কম পছন্দের। এমনটাই বলছে দ্য ইকোনমিস্টে প্