চুয়াডাঙ্গা সদর উপজেলা কৃষি অফিস চত্বর থেকে কৃষকদের জন্য বরাদ্দ সার থেকে ৫৪ বস্তা সার গায়েব হওয়ার ঘটনা ঘটেছে। গতকাল রোববার সার বিতরণের সময় বিষয়টি প্রকাশ্যে আসে। এতে কৃষি উপকরণ সংগ্রহ করতে আসা কৃষকদের মধ্যে ক্ষোভ দেখা দেয়।
এ ঘটনায় চুয়াডাঙ্গা সদর থানায় একটি সাধারণ ডায়েরির (জিডি) পাশাপাশি ঘটনা তদন্তে তিন সদস্যের একটি কমিটি গঠন করা হয়েছে।
অতিরিক্ত কৃষি কর্মকর্তা শাহিনুজ্জামানকে প্রধান করে গঠিত কমিটিকে পাঁচ কার্যদিবসের মধ্যে প্রতিবেদন দিতে বলা হয়েছে।
বার্তা সংস্থা ইউএনবি এক প্রতিবেদনে এই তথ্য জানিয়েছে।
কৃষি অফিস সূত্রে জানা গেছে, বাংলাদেশ কৃষি উন্নয়ন করপোরেশনের (বিএডিসি) একটি গুদাম থেকে সার এনে সদর উপজেলা কৃষি অফিস চত্বরে রাখা হয়েছিল।
সেখানে মোট ২ হাজার ৭০০ বস্তা সার মজুত ছিল। এর মধ্যে ১ হাজার ৩৫০ বস্তা ছিল এমওপি ও ডিএপি সার। গত কয়েক দিনে কৃষকদের মধ্যে এসব সার বিতরণ করা হয়।
কয়েকজন কৃষক জানান, সকালে তারা সার নেওয়ার জন্য স্বাক্ষর করেছিলেন। পরে তাদের জানানো হয়, ৫৪ বস্তা সার পাওয়া যাচ্ছে না। তাদের পরদিন এসে বরাদ্দের সার সংগ্রহ করতে বলা হয়।
কৃষকেরা এর প্রতিবাদ করে একই দিন সার সরবরাহের দাবি জানায়। একপর্যায়ে পরিস্থিতি উত্তপ্ত হয়ে ওঠে।
সদর উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা আনিসুর রহমান বলেন, সরবরাহে বিঘ্ন এড়াতে অফিসের অর্থায়নে বাইরে থেকে সার কিনে কৃষকদের মধ্যে বিতরণ করা হয়েছিল।
তিনি বলেন, “বিষয়টি তদন্ত করা হচ্ছে।”
সদর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) তিথি মিত্র বলেন, কৃষি কর্মকর্তা তাকে সার নিখোঁজের বিষয়টি জানিয়েছেন এবং তিনি তাকে পুলিশের কাছে অভিযোগ করতে পরামর্শ দিয়েছেন।
তিনি বলেন, “নিখোঁজ সারগুলোর আসলে কী হয়েছে, তা তদন্তেই বেরিয়ে আসবে।”