
সিডও সনদ অনুমোদনে বাংলাদেশের বাধা কোথায়
বাংলাদেশে শরিয়াহ আইন এবং সিডও-র এই আপত্তিগুলোর মধ্যকার বিরোধটি স্পষ্টভাবে নিরসন করা হয়নি, যা নতুন করে ব্যাখ্যার সুযোগ রেখে দেয়।
চরচা ডেস্ক

যুক্তরাষ্ট্রকে যেন তাড়া করে বেড়াচ্ছে ডেটা সেন্টারের ভূত। কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার (এআই) উত্থানকে শক্তি জোগানো কম্পিউটার ভর্তি বিশাল গুদামঘরগুলো এখন যুক্তরাষ্ট্রে প্রায় সব ধরনের অবকাঠামোর চেয়েই কম জনপ্রিয়। এমনকি পারমাণবিক বিদ্যুৎকেন্দ্রের চেয়েও ডেটা সেন্টার কম পছন্দের। এমনটাই বলছে দ্য ইকোনমিস্টে প্রকাশিত এক প্রতিবেদন।
বিভিন্ন কাউন্টি ও অঙ্গরাজ্য ডেটা সেন্টারগুলোর ওপর নানা ধরনের কঠোর বিধিনিষেধ আরোপ করতে, এমনকি পুরোপুরি নিষিদ্ধ করতে তৎপর হয়ে উঠেছে। জুলাইয়ে বিদ্যুতের দামের ওপর ডেটা সেন্টারের প্রভাব সীমিত করার লক্ষ্যে তৈরি ‘রেটপেয়ার প্রোটেকশন অ্যাক্ট’ কংগ্রেসের নিম্ন কক্ষ হাউজ অব রিপ্রেজেন্টেটিভসের কমিটি পর্যায়ও সহজেই পেরিয়ে
গত ৩১ আগস্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প এই উত্তপ্ত বিতর্কে যোগ দেন। এতে মধ্যবর্তী নির্বাচনে কঠিন লড়াইয়ের মুখে থাকা রিপাবলিকানরা উদ্বিগ্ন হয়ে পড়েন। স্থানীয়ভাবে যারা ডেটা সেন্টারের বিরোধিতা করছেন, তারা এসব প্রকল্প বন্ধ করে দিলে ‘শেষ পর্যন্ত পিছিয়ে পড়া ও দরিদ্র’ হয়ে যাবেন বলে সতর্ক করেন ট্রাম্প। তার ভাষায়, তারা ‘সোনার ডিম পাড়া হাঁসটি’ মেরে ফেলবেন।
ডেটা সেন্টারবিরোধী এই প্রতিক্রিয়া যুক্তরাষ্ট্রের প্রচলিত রাজনৈতিক সমীকরণকে এলোমেলো করে দিচ্ছে। একই সঙ্গে এটি আসন্ন নির্বাচনগুলোর চিত্র বদলে দিচ্ছে এবং প্রযুক্তি প্রতিষ্ঠান ও বিনিয়োগকারীদের উদ্বিগ্ন করে তুলছে। তবে এই বিরোধিতা এআইয়ের দ্রুত অগ্রযাত্রা কতটা ধীর করতে পারবে, তা এখনো স্পষ্ট নয়।
ডেটা সেন্টার নিয়ে রাজনীতি কত দ্রুত বদলে গেছে, তা বোঝার জন্য তিনটি ভিন্ন অঙ্গরাজ্যের দিকে তাকানো যেতে পারে- টেক্সাস, ইলিনয় ও পেনসিলভানিয়া।
২০১৯ সালে ইলিনয়ের গভর্নর জে বি প্রিটজকার ডেটা সেন্টার নির্মাণে উৎসাহ দিতে কর প্রণোদনাসহ একটি আইন অনুমোদন করেন। তখন তিনি বলেছিলেন, “আজকের বিশ্বে ডেটা সেন্টার আমাদের অবকাঠামোর জন্য ঠিক ততটাই গুরুত্বপূর্ণ, যতটা গুরুত্বপূর্ণ আমাদের সড়ক, ট্রেন ও স্কুল।”
টেক্সাসে গ্রেগ অ্যাবট গত বছরও গর্ব করে বলেছিলেন, অঙ্গরাজ্যটি ‘এআই উন্নয়নের কেন্দ্রবিন্দু’। পেনসিলভানিয়ার গভর্নর জশ শাপিরোর অবস্থানও ছিল একই রকম। তিনি বলেছিলেন, “এআই নিয়ে আমরা ইতোমধ্যেই পুরোপুরি এগিয়ে গেছি।”
কিন্তু আগস্টে প্রিটজকারের বক্তব্য ছিল একেবারেই ভিন্ন। সাংবাদিকদের তিনি বলেন, ডেটা সেন্টার ‘বিদ্যুতের দাম বাড়িয়ে দিতে পারে, পানির দাম বাড়াতে পারে কিংবা পরিবেশের জন্য ক্ষতিকর চর্চার’ ঝুঁকি তৈরি করতে পারে। এর আগে জুনে তিনি একতরফাভাবে ২০১৯ সালে চালু করা করছাড়ের জন্য নতুন আবেদন গ্রহণ স্থগিত করেন।
টেক্সাসে অ্যাবট অঙ্গরাজ্যের বিদ্যুৎ সরবরাহকারী প্রতিষ্ঠানগুলোকে বিদ্যুৎ সংযোগ নিতে চাওয়া সব ডেটা সেন্টারের কার্যক্রম পর্যালোচনার নির্দেশ দেন। তার সতর্কতা ছিল, এসব স্থাপনা ‘টেক্সাসের বিদ্যুৎ গ্রিডের নির্ভরযোগ্যতা ও স্থিতিশীলতার জন্য হুমকি তৈরি করতে পারে’।
পেনসিলভানিয়াতেও শাপিরো নিয়ম কঠোর করেছেন। এতে স্থানীয় বিভিন্ন কমিউনিটি ডেটা সেন্টার প্রকল্পে ভেটো দেওয়ার আরও বেশি ক্ষমতা পেয়েছে। একই সঙ্গে গভর্নর নির্বাচনে প্রতিদ্বন্দ্বীকে ডেটা সেন্টারপন্থী হিসেবে আক্রমণ করছেন তিনি। অর্থাৎ, রাজনীতিতে ‘ডেটা সেন্টারপন্থী’ শব্দটিও ক্রমেই নেতিবাচক অর্থে ব্যবহৃত হচ্ছে।
এক বছরের কিছু বেশি সময় আগে কয়েকটি জরিপে দেখা গিয়েছিল, স্থানীয় এলাকায় ডেটা সেন্টার নির্মাণের পক্ষে বেশিরভাগ মানুষ ছিলেন। কিন্তু মার্চের মধ্যেই চিত্র বদলে যায়। গ্যালাপের এক জরিপে দেখা যায়, ৭১ শতাংশ মানুষ ডেটা সেন্টার নির্মাণের বিরোধিতা করছেন। অ্যানেনবার্গের জরিপেও ফেব্রুয়ারি থেকে জুন-জুলাইয়ের মধ্যে ডেটা সেন্টার নির্মাণের পক্ষে মানুষের সমর্থন ১৯ শতাংশ পয়েন্ট কমে যায়। আগস্টের শেষ দিকে ইকোনমিস্ট/ইউগভের এক জরিপে দেখা যায়, ৬৩ শতাংশ মানুষ এর বিরোধী। ভোটারদের সব ধরনের গোষ্ঠীর মধ্যেই ডেটা সেন্টারকে দেশের জন্য খারাপ হিসেবে দেখা হয়েছে।
শিকাগোতে এই পরিবর্তনটি স্পষ্টভাবে দেখা যাচ্ছে। এআইয়ের ব্যাপক প্রসারের অনেক আগে থেকেই শিকাগো ও এর আশপাশে অনেক ডেটা সেন্টার ছিল। যুক্তরাষ্ট্রের ইন্টারনেট অবকাঠামোর গুরুত্বপূর্ণ কেন্দ্রে শহরটির অবস্থান এবং তুলনামূলক কম বিদ্যুতের দাম এ জন্য বড় কারণ। এতদিন এসব নিয়ে খুব বেশি মানুষের আগ্রহ ছিল না।
কিন্তু এখন পরিস্থিতি বদলে গেছে। অঙ্গরাজ্যজুড়ে নতুন ডেটা সেন্টার নির্মাণ ঠেকাতে আয়োজিত জনসভাগুলোতে অনেক মানুষ অংশ নিচ্ছেন। আগস্টে শিকাগোর দক্ষিণাঞ্চলে একটি প্রকল্পের বিরোধিতা করতে কয়েক শ মানুষ জড়ো হন। তবে প্রকল্পটির নির্মাতাদের দাবি, এটি আসলে ডেটা সেন্টার নয়।
চলতি বছরের প্রথম আট মাসেই যুক্তরাষ্ট্রের বিভিন্ন কাউন্টিতে ডেটা সেন্টার নির্মাণে নিষেধাজ্ঞা বা এ ধরনের পদক্ষেপ নেওয়ার বিষয়ে ৪০৯টি প্রস্তাব বিবেচনা করা হয়েছে। গত বছর পুরো সময়ে এমন প্রস্তাবের যে সংখ্যা ছিল, এবার তা প্রায় সাত গুণ হয়েছে।
অর্ধডজনেরও বেশি অঙ্গরাজ্যে (যার মধ্যে মধ্যবর্তী নির্বাচনে গুরুত্বপূর্ণ প্রায় সব অঙ্গরাজ্যই রয়েছে) পঞ্চমাংশের বেশি কাউন্টি অন্তত একটি নিষেধাজ্ঞা অনুমোদন করেছে। ডালাসের আইন প্রতিষ্ঠান উইনস্টেডের আইনজীবী টমি ম্যান বলেন, “আইনজীবী হিসেবে আমার ক্যারিয়ারে উন্নয়ন প্রকল্প নিয়ে এত কঠিন পরিস্থিতি আর দেখিনি। এসব প্রকল্পকে ঘিরে মানুষের মধ্যে যে মাত্রার আবেগ তৈরি হয়েছে, এমনটা আগে কখনো দেখিনি।”
ডেটা সেন্টারের কিছু সমর্থক এই বিরোধিতার জন্য বিদেশি শক্তিকে দায়ী করেছেন। প্রেসিডেন্ট ট্রাম্পও মন্তব্য করেছেন, “চীন এর চেয়ে বেশি খুশি আর কিছুতেই হতে পারে না।”
জুনে এআই মডেল তৈরি করা প্রতিষ্ঠান ওপেনএআই জানায়, একটি চীনা প্রতিষ্ঠান যুক্তরাষ্ট্রে ডেটা সেন্টারের প্রতি মানুষের সমর্থন কমানোর উদ্দেশ্যে কিছু ছবি তৈরি করেছে। ২৭ আগস্ট সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম প্ল্যাটফর্ম এক্স জানায়, তারা ২ লাখ বটের একটি চীনা নেটওয়ার্ক শনাক্ত করেছে, যা এসব প্রচারসামগ্রী ছড়িয়ে দিচ্ছিল।
তবে প্রমাণ বলছে, এসব প্রচারের প্রভাব খুবই কম ছিল। ওপেনএআইয়ের বিশ্লেষণ অনুযায়ী, এসব প্রচারের কারণে যুক্তরাষ্ট্রের মানুষের মধ্যে কোনো দৃশ্যমান প্রতিক্রিয়াই তৈরি হয়নি।
মানুষের এই ক্ষোভের আসল কারণ আরও সহজ। অনেক আমেরিকান এআই নিয়ে সন্দিহান। এটি তৈরি করা প্রতিষ্ঠানগুলোর ওপর তাদের আস্থা কম এবং তারা মনে করেন, এ প্রযুক্তি চাকরি কমিয়ে দিতে পারে। তবে একের পর এক জরিপে দেখা যাচ্ছে, ডেটা সেন্টার নিয়ে মানুষের সবচেয়ে বড় উদ্বেগ হলো এর স্থানীয় প্রভাব অথবা তারা যেভাবে সেই প্রভাব কল্পনা করছেন।
ফক্স নিউজের এক সাম্প্রতিক জরিপের বরাত দিয়ে দ্য ইকোনমিস্ট বলেছে, ৭৫ শতাংশ উত্তরদাতা বলেছেন, জ্বালানি ব্যবহার, পানির বিল বৃদ্ধি এবং যানজটের মতো বিষয়গুলোই তাদের এলাকায় ডেটা সেন্টার নির্মাণের বিরোধিতার প্রধান কারণ। মাত্র ১১ শতাংশ সরাসরি এআইকেই এর জন্য দায়ী করেছেন।
তবে এসব উদ্বেগের অনেকটাই অতিরঞ্জিত হতে পারে। গুগল জানিয়েছে, ২০২৫ সালে তাদের ডেটা সেন্টার ও কার্যালয়গুলো প্রায় ১০ দশমিক ৯ বিলিয়ন গ্যালন (৪১ বিলিয়ন লিটার) পানি ব্যবহার করেছে। প্রতিষ্ঠানটির হিসাবে, যুক্তরাষ্ট্রের দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চলে ৭৩টি গলফ কোর্সে এক বছরে সেচের জন্য যত পানি লাগে, এর পরিমাণ প্রায় সমান।
অ্যামাজন জানিয়েছে, ২০২৫ সালে বিশ্বজুড়ে তাদের ডেটা সেন্টারগুলো ২ দশমিক ৫ বিলিয়ন গ্যালন পানি ব্যবহার করেছে। যদিও এ সময়ে তারা আরও নতুন স্থাপনা যুক্ত করেছে, তবু ২০২৪ সালের তুলনায় পানি ব্যবহার ২ শতাংশ কমেছে।
২০২৩ সালের হিসাবে, ডেটা সেন্টারের বিদ্যুৎ উৎপাদনে ব্যবহৃত পানিও যোগ করলে দেখা যায়, কৃষিখাতে ফসলের সেচে ডেটা সেন্টারের তুলনায় ৭৪ গুণ বেশি পানি ব্যবহার হয়েছে।
বিদ্যুৎ নিয়ে বিতর্ক
ডেটা সেন্টার নিয়ে সবচেয়ে বড় প্রশ্নগুলোর একটি হলো বিদ্যুৎ। যুক্তরাষ্ট্রের সরকারি অর্থায়নে পরিচালিত গবেষণা প্রতিষ্ঠান লরেন্স বার্কলে ন্যাশনাল ল্যাবরেটরির বরাত দিয়ে দ্য ইকোনমিস্টের প্রতিবেদনে বলা হয়, ২০২৩ সালে দেশের মোট বিদ্যুতের ৪ দশমিক ৪ শতাংশ ব্যবহার করেছে ডেটা সেন্টারগুলো। ২০৩০ সালের মধ্যে এই হার ৯ দশমিক ৫ থেকে ১৫ দশমিক ৩ শতাংশ পর্যন্ত হতে পারে।
এতে সাধারণ মানুষের বিদ্যুতের বিল কতটা বাড়বে, তা অবশ্য এখনো পরিষ্কার নয়। পাইকারি বাজারে বিদ্যুতের দাম বাড়ছে। এর প্রভাব শেষ পর্যন্ত সাধারণ পরিবারের ওপরও পড়তে পারে।
তবে হিসাবটা এত সরলও নয়। গবেষণা প্রতিষ্ঠান ইলেকট্রিক পাওয়ার রিসার্চ ইনস্টিটিউট বলছে, ২০১৯ থেকে ২০২৪ সালের মধ্যে ডেটা সেন্টারের সংখ্যা বাড়ার কারণে গড়ে বিদ্যুতের দাম বরং ৬ শতাংশ কমেছে। কারণ, বিদ্যুৎ সরবরাহের অবকাঠামোর নির্দিষ্ট খরচ তখন আরও বেশি গ্রাহকের মধ্যে ভাগ হয়ে গেছে।
সাম্প্রতিক সপ্তাহগুলোতে তিনটি বড় বিদ্যুৎ কোম্পানি জর্জিয়া পাওয়ার, প্যাসিফিক গ্যাস অ্যান্ড ইলেকট্রিক এবং ইন্ডিয়ানা মিশিগান পাওয়ার দ্য ইকোনমিস্টকে বলেছে, ডেটা সেন্টারের কারণে গ্রাহকদের বিল কমতেও পারে।
একই সময়ে ৩০টি অঙ্গরাজ্য বড় বিদ্যুৎ গ্রাহকদের জন্য বিশেষ ‘বড়-লোড’ শুল্ক চালু করেছে বা তা চালুর প্রস্তাব দিয়েছে। এর লক্ষ্য হলো, ডেটা সেন্টারের মতো বড় গ্রাহকেরাই যেন নতুন অবকাঠামো তৈরির খরচের বড় অংশ বহন করে।
তাহলে প্রশ্ন হলো, ডেটা সেন্টার নিয়ে মানুষের মতামত কি এখনো বদলানো সম্ভব?
চলতি মাসে ইকেলন ইনসাইটসের এক জরিপে এর একটি ইঙ্গিত পাওয়া গেছে বলে জানায় দ্য ইকোনমিস্ট। জরিপে অংশ নেওয়া মানুষকে যদি বলা হয়, ডেটা সেন্টার নির্মাণের কারণে সম্পত্তি কর কমতে পারে বা স্কুলগুলো বেশি অর্থ পেতে পারে, তাহলে তাদের অনেকেই আগের অবস্থান থেকে সরে আসতে পারেন।
রিপাবলিকান জরিপকারী এবং ইকেলনের প্রধান প্যাট্রিক রাফিনি বলেন, “ডেটা সেন্টার নিয়ে ভোটাররা সমঝোতায় যেতে রাজি।”
শুধু সুবিধার কথা বললেই নয়, টাকার প্রস্তাব দিলেও মানুষের মত বদলাতে পারে। ভার্জিনিয়া বিশ্ববিদ্যালয়ের আরেক জরিপে দেখা গেছে, স্থানীয় এলাকায় ডেটা সেন্টার নির্মাণের পক্ষে সমর্থন জানাতে বেশিরভাগ মানুষ কয়েক হাজার ডলার নিতে রাজি। গ্রহণযোগ্য অর্থের মধ্যম পরিমাণ ছিল ১০ হাজার ডলার।
যুক্তরাষ্ট্রের গড় আকারের একটি কাউন্টির প্রতিটি বাসিন্দাকে ১০ হাজার ডলার করে দিতে হলে খরচ হবে প্রায় ২৪ কোটি ডলার। প্রযুক্তি কোম্পানিগুলোর জন্য এটি খুব বড় অঙ্ক নয়। এরই মধ্যে তারা স্থানীয় জনগোষ্ঠীকে নানা সুবিধা দিয়ে ডেটা সেন্টারের পক্ষে আনার চেষ্টা করছে।
তবু বিরোধিতা থামছে না।
গবেষণা প্রতিষ্ঠান ব্রুকিংস ইনস্টিটিউশনের ড্যারেল ওয়েস্ট মনে করেন, ২০২৮ সালেও একই সমস্যা দেখা যাবে। তার যুক্তি, যেসব গভর্নর এ বছর ডেটা সেন্টার নিয়ে বিতর্ক এড়িয়ে যেতে পারবেন, দুই বছর পর পুনর্নির্বাচনের সময় আবার তাদের এই ইস্যুর মুখোমুখি হতে হবে।
রাজনীতিতেও তৈরি হচ্ছে অস্বস্তি
ডেটা সেন্টার নিয়ে রাজনীতির হিসাবও বেশ অদ্ভুত। ইলিনয়ের ডেমোক্র্যাটদের জন্য বিষয়টি বিশেষভাবে কঠিন হয়ে উঠতে পারে। কারণ, অঙ্গরাজ্যটিতে শ্রমিক ইউনিয়নগুলোর শক্তিশালী প্রভাব রয়েছে। অথচ অনেক ইউনিয়নই ডেটা সেন্টারের পক্ষে।
জুনে গভর্নর জে বি প্রিটজকারের সিদ্ধান্তের পর কয়েকজন ইউনিয়ন নেতা এর তীব্র সমালোচনা করেন। তারা সতর্ক করে বলেন, এই সিদ্ধান্তের কারণে কয়েক বিলিয়ন ডলারের বিনিয়োগ এবং হাজার হাজার ইউনিয়নভুক্ত চাকরি ইন্ডিয়ানা, কেনটাকি ও ওহাইওতে চলে যেতে পারে।
স্থানীয় ইউনিয়ন কর্মকর্তা টিম গিলুলির কথায় বিষয়টি আরও স্পষ্ট। তিনি বলেন, “এই ডেটা সেন্টারগুলো নির্মাণ হবেই! তাহলে এগুলো এখানেই নির্মাণ করা হোক।”
তার যুক্তি, এতে বড় অঙ্কের কর-সুবিধা পাওয়া যাবে, তৈরি হবে ভালো বেতনের নির্মাণকাজের সুযোগ। ডেটা সেন্টার চালু হওয়ার পরও সেখানে ভালো বেতনের চাকরি থাকবে।
বিরোধিতা বাড়তে থাকায় ডেটা সেন্টার শিল্পের কাজও কঠিন হয়ে পড়ছে। নতুন একটি ডেটা সেন্টার তৈরির সবচেয়ে বড় খরচ হলো কম্পিউটার চিপ। এসব চিপের ওপর বিক্রয় কর ছাড় এখনো টেক্সাসসহ বেশিরভাগ অঙ্গরাজ্যে চালু আছে। তবে অ্যারিজোনা ও ওহাইওর মতো কিছু অঙ্গরাজ্যে এই সুবিধা আপাতত বন্ধ রাখা হয়েছে। পেনসিলভানিয়ার মতো কোথাও আবার শর্তসাপেক্ষে তা দেওয়া হচ্ছে।
এর সঙ্গে স্থানীয় মানুষের বিভিন্ন দাবি মেনে নিতে হলে নতুন ডেটা সেন্টার তৈরির খরচ আরও বাড়বে—এটা প্রায় নিশ্চিত। তারপরও কয়েকটি অঙ্গরাজ্যের প্রভাব অন্যদের তুলনায় অনেক বেশি। শুধু টেক্সাসেই যতগুলো ডেটা সেন্টার নির্মাণাধীন রয়েছে, জর্জিয়া, অ্যারিজোনা ও পেনসিলভানিয়া—এই তিন অঙ্গরাজ্য মিলিয়েও ততগুলো নেই।
তাই ডেটা সেন্টার নির্মাণের বিনিয়োগ হয়তো এমন অঙ্গরাজ্যগুলোতেই চলে যাবে, যেখানে নিয়মকানুন তুলনামূলক সহজ।
কৌশলবিষয়ক প্রতিষ্ঠান ক্যাপস্টোনের জ্বালানি বিশ্লেষক জ্যাক পেইন্টার দ্য ইকোনোমিস্টকে বলেন, “যেসব সম্প্রদায় কর থেকে আয় এবং অন্যান্য সুবিধার বিনিময়ে ডেটা সেন্টারগুলোর সঙ্গে কাজ করতে রাজি, শেষ পর্যন্ত অনেক ডেটা সেন্টার সেখানেই জায়গা করে নেবে।”
প্রেসিডেন্ট ট্রাম্পের ভাষায়, “ডেটাকেই রাজত্ব করতে দিন।”

সিডও সনদ অনুমোদনে বাংলাদেশের বাধা কোথায়
বাংলাদেশে শরিয়াহ আইন এবং সিডও-র এই আপত্তিগুলোর মধ্যকার বিরোধটি স্পষ্টভাবে নিরসন করা হয়নি, যা নতুন করে ব্যাখ্যার সুযোগ রেখে দেয়।

জাপান বদলে দিচ্ছে এশিয়ার প্রতিরক্ষা কাঠামো
এশিয়ার সামরিক ভারসাম্য বদলাচ্ছে। পরিবর্তনের কেন্দ্রে রয়েছে চীন। আর সেই পরিবর্তনের সঙ্গে তাল মিলিয়ে নিজেদের প্রতিরক্ষা কাঠামো নতুন করে সাজাচ্ছে জাপান। দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধ-পরবর্তী সময়ে দীর্ঘ দিন শান্তিবাদী অবস্থান থেকে টোকিও এখন ধীরে ধীরে এমন এক সামরিক সক্ষমতা গড়ে তুলছে।

বাংলাদেশ কি মক্কা প্রতিরক্ষা জোটে যোগ দেবে?
আগস্টের শুরুতে কার্যকর হওয়া ‘মক্কা জয়েন্ট ডিফেন্স এগ্রিমেন্টের’ লক্ষ্য হলো যেকোনো আগ্রাসনের বিরুদ্ধে সম্মিলিত প্রতিরোধ ক্ষমতা আরও শক্তিশালী করা। চুক্তিতে বলা হয়েছে, তিন দেশের যেকোনো একটির ওপর সশস্ত্র হামলা হলে সেটিকে তিন দেশের সবার ওপর হামলা হিসেবে বিবেচনা করা হবে।

সরকারি কর্মীদের বেতন বৃদ্ধি, অর্থনীতিতে বাড়তি চাপের শঙ্কা
সরকার বলছে, দীর্ঘদিন পর বেতন কাঠামো সমন্বয়ের ফলে সরকারি কর্মচারীদের জীবনযাত্রার মান উন্নত হবে। তারা আরও ভালোভাবে দায়িত্ব পালন করতে পারবেন। ঘুষ-দুর্নীতি কমবে। তবে, ব্যবসায়ী ও অর্থনীতিবিদরা বলছেন, এতে অর্থনীতির ওপর বাড়তি চাপ তৈরি হবে।